বাং ক্রুত

ভালো লেগেছে
0

বাং ক্রুত (Bang Krut), এটি ব্যাংককের দক্ষিনে হুয়া হিন ডিস্ট্রিক্ট পার হয়ে আরো দুই ঘন্টা গেলে আন্দামান সাগরের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত। সাদা বালুর সমুদ্রতট, সবুজ ঘেরা সমতল আর পাহাড় ঘেঁষা এমন মোহনীয় স্থান থাইল্যান্ডে কমই আছে। একটানা লম্বা একটি বিচ বাং সাফান (Bang Saphan) এবং বাং ক্রুতকে সংযুক্ত করেছে। উপকূল ঘেঁষে বিস্তৃত নারিকেলের বাগান আর সেই সাথে স্থানীয় শৈলীতে গড়া কাঠের ঘরবাড়ি দিয়ে সাজানো মোহনীয় রিসোর্ট গুলো সত্যিকার অর্থেই আপনার ভালো লাগা কে বাড়িয়ে তুলবে। প্রকৃতি আর নির্জনতা প্রেমিক টুরিস্ট দের জন্য এটি আদর্শ একটি জায়গা। যেহেতু এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তেমন করে কোন কিছু গড়ে ওঠেনি তাই থাইল্যান্ডের গ্রামীণ স্বাদটি পুরোপুরি পাবেন। আর স্থানীয় মানুষজনের আতিথিয়তার তুলনা নেই।

সুবিশাল বিস্তৃত সমুদ্রের জল রাশির সাথে সাদা বালুর বীচ আর তার সাথে গভীর সবুজের মিলন মেলা। শুধু এই সৌন্দর্যে অবগাহন করে আপনি দুটো দিন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবেন। এর বাইরে এখানে দুটি থাই বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। দুটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত ফলে আপনি যখনই উপরে যাবেন সেখান থেকে পুরো এলাকা প্লাস সমুদ্রের ভিউ পাবেন। সূর্যোদয় সূর্যাস্ত কিংবা বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করে তুলবে। নারিকেল তেল কিভাবে বানায় এটা জানার যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে আশেপাশের যেকোনো একটি বাগানের কারখানাটিতে ঢুকে পড়ুন। ও হ্যাঁ অবশ্যই পারমিশন নিয়ে নিবেন। আপনি যদি একটু বেশি অ্যাডভেঞ্চারাস হন তাহলে স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে তাদের সাথে রাতের বেলার সমুদ্রে মাছ ধরার যাত্রায় যোগ দিতে পারেন। এটা আপনার জন্য নিঃসন্দেহে একটা অতুলনীয় অভিজ্ঞতা হবে। ও আরেকটি কথা, এখানে অগুনতি নারিকেল গাছ থাকলেও আমরা কাউকে ডাব বিক্রি করতে দেখি নি সে ক্ষেত্রে আপনারা রিসোর্টের মালিকের সাথে কথা বলবেন এবং উনি রাজি হলে আপনার হাতে দা এর মত কিছু একটা ধরিয়ে দিয়ে বলবে নিজে ডাব পেড়ে কেটে খেয়ে নিন। উল্লেখ্য এসব বাগানের অনেক নারিকেল গাছ এই আপনার হাতের নাগালের মধ্যে ডাব ধরে থাকবে তাই আপনাকে কষ্ট করে গাছ বেয়ে উপরে উঠতে হবে না। মাটিতে দাঁড়িয়ে ডাব কেটে নিতে পারবেন গাছ থেকে।

বাং ক্রুত অপেক্ষাকৃত উন্নত বাং সাফান এর থেকে। রেস্টুরেন্ট কিংবা রেসোর্ট সুবিধাও অপেক্ষাকৃত ভালো বাং ক্রুত এ। বাং ক্রুত থেকে বাং সাফান গাড়িতে ৩০ মিনিটের রাস্তা।

কিভাবে যাবেন

ব্যাংকক থেকে বাং সাফান যাওয়ার দুইটি উপায় আছে। প্রথম উপায়টি হচ্ছে দূরপাল্লার বাস সার্ভিস কিংবা ভিআইপি মিনিভ্যান সার্ভিস। এর জন্য আপনাকে নর্দান বাস টার্মিনাল মো চিৎ কিংবা সাউদার্ন বাস টার্মিনাল সাই তাই মাই তে যেতে হবে। সেখান থেকে বাং ক্রুত এর বাস কিংবা মিনিবাস পেয়ে যাবেন ভাড়া ২২০ থাই বাথ থেকে ৩০০ থাই বাথের মধ্যে। তবে সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা হবে যদি আপনি ট্রেনে করে সেখানে যান। ব্যাংকক রেলওয়ে স্টেশন থেকে দিনে রাতে মিলিয়ে মোট আটটি ট্রেন চলাচল করে। ভ্রমণের সময় কাল মোটামুটি ভাবে ৮ ঘন্টা। ফাস্ট ক্লাস কম্পার্টমেন্টে স্লিপিং চেয়ার ভ্রমণের ভাড়া ট্রেন ভেদে ৪৫০ থেকে ৭৫০ থাই বাথ।

লোকাল ট্রান্সপোর্ট হিসেবে এখানে ট্যাক্সি পাওয়া যায় না কিন্তু অনেক মোটরসাইকেল পাবেন যারা ভাড়ায় চলাচল করে। সেই সাথে এখানে যারা ব্যক্তিগত গাড়ি চালায় তাদের কাছ থেকেও অনায়াসে লিফট নিতে পারবেন। ও আরেকটি বাহন আছে যেটি আমাদের যন্ত্র চালিত রিক্সা আর ভ্যানের সংমিশ্রণে তৈরি করা।

থাকা নিয়ে চিন্তা করছেন?

বিচের কাছে এসে রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকুন, আপনার চলতি পথেই একটির পর একটি নারিকেল বাগান শোভিত রিসোর্ট এর মত দেখতে পাবেন। এগুলো আদতে কোন বড় মাপের রিসোর্ট নয়, বরং স্থানীয়ভাবেই বাগানের তত্ত্বাবধায়করা ভাড়া দিয়ে থাকেন। অধিকাংশই কটেজ টাইপ কাঠ দিয়ে তৈরি করা কিন্তু আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা এখানে পাবেন (ঠান্ডা গরম পানি এয়ারকন্ডিশন ইত্যাদি)। প্রতি রাতের জন্য ভাড়া ৫০০ থেকে ১০০০ থাই বাথ এর মধ্যে পড়বে কটেজের আকার এবং সুযোগ-সুবিধা ভেদে।

খাওয়া দাওয়া

খাবার দাবার নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। বিচের পাশে আপনি পেয়ে যাবেন সি ফুড রেস্টুরেন্ট যেগুলো আপনি অর্ডার করার পরেই আপনাকে টাটকা খাবার তৈরি করে পরিবেশন করবে। এদের মধ্যে কেউ কেউ আপনাকে বিচের বালির উপরে বসে লাঞ্চ কিংবা ডিনার করার ব্যবস্থা করে দেবে কোন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই। সি ফুড খেতে না চাইলে কাছাকাছির মধ্যে থাই খাবারের রেস্টুরেন্ট পাবেন সেই সাথে স্থানীয়দের তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের খাবার পাবেন। আর সেভেন ইলেভেন শপ তো আছেই।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।