চোখের সমস্যায় অবশ্যই চেন্নাই এর শংকর নেত্রালয় হাসপাতাল

যুক্ত করা হয়েছে

অনেকে চিকিৎসার জন্য চেন্নাই কিংবা ভেলোর যেয়ে চিকিৎসা করাতে চান অ্যাপোলো হাসপাতাল, সিএমসি হাসপাতাল এবং শংকর নেত্রালয়তে। তাদের জন্যে এই পোস্ট।

শংকর নেত্রালয়

তামিল নাড়ু রাজ্যের আয়তন ১ লক্ষ ৩০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং লোক সংখ্যা ৭ কোটি ৫০ লাখের মতো আর জেলা ৩২ টি তার মধ্যে চেন্নাই সিটি হচ্ছে রাজধানী (পুরাতন মাদ্রাজ)। এখানে শীত নেই, সারা বছর প্রায় একই রকম। আয়তনে প্রায় বাংলাদেশের সমান। চেন্নাই সিটি একটি ব্যস্ত শহর কারণ এখানে আছে অ্যাপোলো মেইন হাসপাতাল এবং ১ কি.মি. দুরেই আছে চোখের নাম করা Sankara Nethralaya হাসপাতাল। চোখের চিকিৎসার জন্য Sankara Nethralaya ই সব চেয়ে ভালো এশিয়া মহাদেশের মধ্যে। এখানে এক চোখের জন্য প্রায় ১২০+ ডাক্তার আছে যারা খুবই অভিজ্ঞ এবং চোখের ডিপার্টমেন্টই আছে ২২ টি।

আর আশেপাশে গড়ে উঠেছে ১৫০ এর মত আবাসিক হোটেল। এখানে বাজার, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, ঔষধের দোকান ও ট্যুরস এজেন্ট আছে প্রচুর পরিমাণে। আর তাই প্রতি বছর ১ মিলিয়নের ও বেশি সংখ্যক রোগী আসে শুধু বাংলাদেশ ও কলকাতা থেকে এই স্থানে। আর অন্যদেশ থেকেও প্রচুর আসে যেমন ওমান, কুয়েত, তুরস্ক, শ্রীলংকা, দুবাই ইত্যাদি।

চোখের হাসপাতাল আর আ্যপোলোর জন্যই মুলত চেন্নাই (মাদ্রাজ) সিটি চরম ভাবে বিখ্যাত এবং ব্যস্ত শহর। এখানকার ৯০% মানুষ ইংরেজিতে চরম ভাবে দক্ষ। ইংরেজি ভাষা যেন তাদের মায়ের ভাষার মত আর নিজেদের তামিল ভাষাকে খুব ভালবাসে। হিন্দিকে তেমন পছন্দ করে না। চিকিৎসা ক্ষেত্রে, গাড়ি উৎপাদনে, টেম্পলের জন্য আর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আধুনিকতার জন্য চেন্নাই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়া শিক্ষা দিক্ষায়ও কয়েক ধাপ এগিয়ে আছে। চেন্নাই সিটিতে জ্যাম নেই বললেই চলে কারণ এখানের রাজ্য সরকার জনগণ ও সরকারের সাথে অন্য রকম একটা সম্পর্ক তৈরি করে নিয়েছে। সিটিতে সরকারি বাস ছাড়া প্রাইভেট বাস চলে না। সরকারি বাসের ভাড়া ও কম এবং বাস স্টপ ছাড়া কোথাও থামে না এবং উঠেও না। আপনি যদি ৬ কি.মি. যাত্রা করেন সেক্ষেত্রে বাস ভাড়া মাত্র ৫ রুপি এবং টিকিট ও দিবে আপনাকে।

চেন্নাই সিটির একটু বাইরে Marina Sea Beach আছে যা শহর এর কাছাকাছি। আ্যপোলো এবং সংকরনেত্রালয় হাসপাতাল থেকে মাত্র ৬ কি.মি. দূরে এই সী বীচ যেখানে প্রতি রবিবার ২০ হাজার এর বেশি লোকের সমাগম হয়ে থাকে তবে কিছুটা নোংরা।

আর চেন্নাই থেকে ১৩৩ কি.মি. দূরে আর একটা হাসপাতাল আছে সেটাও চরম ভাবে বিখ্যাত। CMC ( Christain Medical Collage Hospital) এই হাসপাতালটি মুলত ভেলর সিটিতে অবস্থিত যা তামিল নাড়ুর একটা জেলা। এই হাসপাতালে ও প্রচুর রোগি আসে যেমন প্রতি বছর ২ মিলিয়ন এর উপরে আসে শুধু এই CMC হাসপাতালে কারণ এখানে ১২২ টা ডিপার্টমেন্ট আছে যা এশিয়ার কোন হাসপাতালে আছে কিনা সন্দেহ। এখানে খরচ খুব কম কিন্তু ভিড়ের কারনে সময় লাগে বেশ।

প্রায় ৩ মিলিয়ন লোকজন প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য আসেন এই চেন্নাইতে। চেন্নাই থেকে তারপর ভেলরে যেতে হয় যা ১৩৩ কি.মি. দূরে। ভেলরে যেতে ট্রেন ও বাস দুই ভাবে যেতে পারবেন। সময় লাগে ২:৩০ ঘণ্টার মত। “কোয়েমবেডু” হচ্ছে বাস স্ট্যান্ড এর নাম। ১০৫ রুপি করে ভাড়া। আর ট্রেনে করে যেতে চাইলে চেন্নাই ট্রেন থেকে নেমে পাশেই লোকাল ট্রেনের প্লাটফর্ম ও লাল বিল্ডিং আছে ওখান থেকে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে টিকিট কাউন্টার। ওখান থেকে ৭০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে নিবেন। সময় ২:৪৫ মি লাগবে ভেলরে পৌঁছাতে। ট্রেন থেকে নেমে অটো নিয়ে সরাসরি CMC হাসপাতাল গেট।

চোখের চিকিৎসার জন্যে ভারতের বিখ্যাত কয়েকটি হাসপাতালের মধ্যে সংকর নেত্রলয় অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে যারা যান তাদের উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দুতেও থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি। আমি গত ডিসেম্বারে আম্মুকে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে এলাম সংকর নেত্রালয়াতে। আমি যাওয়ার আগে অনেক ইনফরমেশন খুঁজেছি সংকর নেত্রালয় নিয়ে। খুব একটা কিছু পাইনি। বলা উচিত কিছুই পাইনি। অনেকেই এখানে আসেন কিন্তু ইনফরমেশন শেয়ার না করার কারণে বাকিরা কিছুই জানতে পারেন না। কিভাবে আসতে হয়, ডাক্তার দেখাতে হয়, থাকতে হয়, কেমন তাদের সার্ভিস, খরচপাতিইবা কেমন লাগে? তাই আমি এই লেকায় চেষ্টা করবো সংকর নেত্রলয়া সম্পুর্ণ ভাবে সবার নিকট তুলে ধরতে।

প্রথমেই হাসপাতাল সর্ম্পকে কিছু জেনে নেওয়া যাক। দক্ষিণ ভারতে চোখের জন্য যে কয়টি হাসপাতাল আছে তার মধ্যে আরভিন্দ হাসপাতাল আর সংকর নেত্রালয় প্রধান। শংকর নেত্রালয় মেইন ব্রাঞ্চটি তামিনাডু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের কলেজ রোডের উপর। এটি মেডিক্যাল রিসার্স ইনিস্টিটিউট নামে পরিচিত। চেন্নাইয়ে এটি ছাড়াও সংকরের আরো পাচটি ব্রাঞ্চ আছে। একটি কলকাতাতেও আছে। কলকাতারটি নিয়ে আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই। আমি সরাসরি চেন্নাই গিয়েছিলাম।

ডাক্তার এর এপওয়েনমেন্ট (Doctor’s Appointment)

শুরুতেই আসি ডাক্তারের এপওয়েনমেন্ট নিয়ে। আমি বেশ কয়েকটি হাসপাতালের মেইল করি আম্মুর চোখের সমস্যার ট্রিটমেন্টের জন্য। খুব বেশি রিপ্লাই পাই নি । কিন্তু শংকর নেত্রালয় আমার প্রতিটি মেইলের রিপ্লাই করেছে। এরা অনলাইনে খুবই একটিভ। তাই ভিসার জন্য যে এপওয়েনমেন্ট লাগবে সেটা জাস্ট একটা মেইলেই পেয়ে যাবেন।

এখানে যাওয়ার আগে অবশ্যই দেশ থেকে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে যাওয়ার চেষ্ট করবেন। কারণ এপয়েনমেন্ট নিয়ে গেলে অযথা বসে থাকতে হবে না। আর যদি আগাম এপয়েনমেন্ট নাও পান তাতেও খুব একটা সমস্যা হবে না। সেখানে গিয়ে খুব সকালে রেজিস্ট্রেশন করে ডাক্তারের সিরিয়াল দিলে ঐ দিনেই ডাক্তার দেখানো সম্ভব। তবে কোন মেজর সমস্যার ক্ষেত্রে এবং সিনিয়র ডাক্তার দেখাতে হলে আগে থেকে এপয়েনমেন্ট নিয়ে যাওয়া মাস্ট।

কিভাবে এপয়েনমেন্ট নিবেন?

খুবই সহজ কাজ। সংকর নেত্রনালয় এর সাইটে গেলেই উপরের ডান পাশে এপয়েনমেন্ট অপশন দেখতে পাবেন। সেটাতে ঢুকলেই একটি ফরম আসবে। প্রয়োজনীয় সব ইনফরশেন সেখানে ফিলাপ করবেন। এক জায়গায় আপনার বর্তমান সমস্যার কথা লিখবেন ছোট করে। আর এই ফরমেই নিচের দিকে দেখবেন ডাক্তার এবং ব্রাঞ্চ সিলেক্ট করার অপশন আছে। আপনার পছন্দ মত ডাক্তার এবং ব্রাঞ্চ সিলেক্ট করে দিবেন। আর কবে এপয়েনমেন্ট চান সেই টেনটেটিভ ডেট টাও দিয়ে দিবেন। সব ফিলাপ করা হয়ে গেলে সাবমিট করে দিন। পরের দিনেই ফিরতি মেইলে আশা করি আপনার এপয়েনমেন্ট পেয়ে যাবেন। সেই এপয়েনমেন্ট দিয়েই আপনি মেডিক্যাল ভিসার জন্য এপ্লাই করতে পারবেন।

এপয়েনমেন্ট হয়ে গেলে ভিসা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে চলে যাবেন চেন্নাই।

শংকর নেত্রালয় হাসপাতালে এপয়েন্টমেন্ট নেবার লিংক
(Get appointment at Sankara Nethralaya Hospital)

রেজিস্ট্রেশন

নির্ধারিত দিনে সময়মত চলে যাবেন সংকরে। আমার আগে এপয়েন্টমেন্ট করা ছিল তাই সহজ হয়েছে। লম্বা কোনো লাইন ধরতে হয়নি, অযথা বসেও থাকতে হয় নি। আর এপয়েন্টমেন্ট করা না থাকলে আপনাকে খুব সকালে যেতে হবে। সারাদিনই লেগে যাবে ডাক্তার দেখাতে। আর এপয়েন্টমেন্ট আগে থেকে থাকলে সবমিলিয়ে ৩-৪ ঘন্টা লাগবে।

দেশ থেকেই আপনার এপয়েনমেন্টের মেইলের প্রিন্ট করিয়ে নিয়ে যাবেন। প্রথম কাজই হলো হাসপাতালে ঢুকে রিসিপশনে প্রিন্ট কপিটি দেখানো। ওরা রুগীর জন্য একটি পাশ আর এটেন্ডিকে একটি পাশ দিবে। মনে রাখবেন একজন রুগির সাথে শুধু একজন এটেন্ডি এলাউড। পাশ নিয়ে চলে যাবেন নির্ধারিত ডাক্তার যে ফ্লোরে বসেন সেখানে। সেখানেও একটা রিসিপশন থাকবে। ওদের বলবেন যে আপনি প্রথমবার এসছেন আর অমুক ডাক্তারের এপয়েনমেন্ট করা আছে। তখন ওরা আপনাকে একটা ফরম দিবে। রেজিস্ট্রেশন ফরম। প্রয়োজনীয় ইনফরশেন ফিলাপ করুন। পাসপোর্টটা সাথে রাখতে হবে।

ফরম ফিল আপ করা হয়ে গেলে রিসিপশনে জমা দিলেই ওরা ডাটাবেজে এন্ট্রি করে নিবে সব। তারপর রিসিপিশনে ডাক্তারের ভিসিট জমা দিয়ে স্লিপ নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে সিরিয়ালের জন্য।

চেকাপ এবং ডাক্তার দেখানো

এবার আসি ডাক্তার দেখনো প্রসিডিওর নিয়ে। প্রথমে একটা বেসিক চেকআপ করে চোখের। আম্মুকে নিয়ে আমি ঢুকেছিলাম এক ডাক্তারের রুমে ঐ চেকআপগুলো করাতে। ডাক্তার প্রায় ২ ঘন্টা টাইম নিয়ে বেসিক চেকআপ করেন। পুরুনো সব হিস্ট্রি, চলমান ওষুধ সব কিছু তাদের ডাটাবেজে এন্ট্রি দেয়। এতো সময় নিয়ে আর যত্ন করে সব কিছু করেছে যে আমি খুবই ইম্প্রেসড। রুগিও খুশি। যদিও আমার আম্মু কথাবার্তা খুব একটা বুজতে পারেন নাই। এরপর চলে গেলাম মেইন ডাক্তারের রুমে। তিনি সব কিছু দেখলেন। পুরুনো সব কিছু ঘেটে।

ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টা আসে সেইটা হলো ভাষা। আমি বাংলা ইংলিশ ছাড়া কিছু জানি না। কিন্তু কোন সমস্যা নাই। ডাক্তার থেকে শুরু করে হাসপাতালের মোটামোটি সবাই ইংলিশ জানেন। আর কেউ যদি হিন্দিতে কথাবার্তা বলতে পারেন তাহলেও প্রব্লেম নাই। ইংলিশ, হিন্দি, তামিল এই তিন ল্যাঙ্গুয়েজ এখানে চলে। আমি ইংলিশ দিয়ে কাজ চালিয়েছি। কেউ চাইলে হিন্দিতেও কথা বলতে পারেন।

আম্মুর কেসটা একটু ডিফারেন্ট হওয়ায় ঐ ডাক্তার আরো ২ জনকে নিয়ে ডিস্কাস করেছেন অনেকক্ষন। এর মাঝে যা যা জানবার আমার কাছ থেকে জেনে নিয়েছেন। আমি ম্যাডিকেল টার্মগুলো বুজতে না পারলেও বাকি সব কথা বার্তাই বুঝেছি। প্রায় ১ ঘন্টার উপরে আম্মুকে দেখলেন উনি। তারপর কিছু টেস্ট করতে দিলেন। আর আম্মুর প্রব্লেমটা থাইরয়েড থেকে হওয়ায় একজন থাইরয়েড ডাক্তারের কাছে রেফার করলেন। টেস্ট শেষে থাইরয়েডের ডাক্তারকে দেখিয়ে সব কিছু নিয়ে আবার উনার কাছে যেতে বলেন।

প্রথম দিন সংকরের অভিজ্ঞতা ছিল এটুকুই। চোখের কিছু টেস্ট করানো জন্য পরের দিনের এপয়েনমেন্ট নিয়ে ফিরেছিলাম হোটেলে। পরের দিন ২ টা টেস্ট ছিল চোখের। একটা ফিফথ ফ্লোরে ছিল। লোকটা বাংলা জানে। এই প্রথম কাওকে পেয়েছিলাম যে সংকরে বাংলায় কথা বলেছিল আমাদের সাথে।

টেস্ট গুলা শেষে গেলাম ডাক্তারের কাছে। উনি সব দেখে নতুন আরেকজনের কাছে যেতে বললেন। উনি নাকি ডাবল ভিশন এর জন্য স্পেশালিষ্ট। উনার এপওয়েনমেন্ট নিয়ে ঐ দিনের মত ফিরতে হল। নির্ধারিত দিনে সকাল সকাল গিয়েছিলাম ডাবল ভিশন স্পেশালিস্ট কে দেখাতে। সম্ভবত উনার বাড়ি কলকাতা। কারণ খুব সুন্দর বাংলা জানেন। আম্মু উনার সাথে কথা বলে খুবই খুশি। এই প্রথম চেন্নাইয়ের কোন ডাক্তারের সাথে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারলেন। আর ডাক্তারও অনেকক্ষন আম্মুর চোখ দেখলেন। উপর, নিচ, ডান, বাম করালেন। শেষমেশ সল্যুশন হিসেবে প্রিজমগ্লাস আর প্রোস্টেড গ্লাস দিলেন। কোন মেডিসিন লিখলেন না। ঐটা রেখে দিলেন আসল ডাক্তারের জন্য।

অবশেষে থাইরয়েডের ডাক্তার দেখিয়ে, সব টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে যখন গেলাম মেইন ডাক্তারের কাছে তখনও উনি অনেক সময় নিয়ে দেখলেন। কার সাথে যেন ডিসকাস করলেন কিছু বিষয়। তারপর আমাকে সবকিছু বুঝিয়ে বললেন। কি করতে হবে, কি করা যাবে না। সব। কয়েকটা মেডিসিন দিয়ে বিদায় দিলেন আর বললেন ৬ মাস পরে আবার যেতে।

আম্মুর পুরো ট্রিটমেন্ট প্রসিডিওরটা শেয়ার করার পিছনে কারণ হলো আমি বুঝাতে চাইছি যে উনারা কত সময় নিয়ে যত্ন করে এক এক জন ‍রুগী দেখেন। যে যেই পার্ট টুকুর জন্য স্পেশালিস্ট সে শুধু ঐ পার্ট টুকুই দেখেন। সব মিলিয়ে একটা কম্বাইন্ড চিকিৎসা তারা দিয়ে থাকেন।

চিকিৎসা ব্যয়

হাসপাতালের প্রতিটা রুমই ডোনেট করা, প্রতিটা ল্যাবও। কে কোন রুমটা, কোন ল্যাবটা ডোনেট করেছেন তার নাম সুন্দর করে দরজায় লিখা আছে। মূলতঃ সংকর নেত্রালয় একটি ননপ্রফিটেবল অর্গানিজেশন। তাই চিকিৎসা খরচ খুবই কম। আমি একবার ডাক্তার দেখিয়েছি ৫০০ রুপি ভিসিট নিয়েছে মাত্র। এর মাঝেই সব চোখের চেকআপ করেছে। এন্ড নেক্সট এপয়েনমেন্টও ফ্রি ফিক্স করে দিয়েছে। পরের বার দিতে হয়েছে ১০০ মাত্র। চোখের কিছু স্পেশালাইজড টেস্ট আছে। যে গুলো এই হাসপাতালেই হয়। কিন্তু সেগুলোর জন্য আলাদা পে করতে হয়। ২ টা এরকম টেস্ট ছিল আম্মুর। একটা ছিল ২৫০ রুপি। আরেকটা ১২৫০ রুপি। এর বাইরে আর তেমন কোন খরচপাতি নাই।

মেডিসিন ও চশমা কোথায় কিনবেন?

মেডিসিন কোথায় কিনবেন সেইটা একটা প্রশ্ন আসতে পারে। সব মেডিসিনই সংকরের পাশের ফার্মেসিতেই মিলবে। তবে না পেলে অবশ্যই এপোলোতে পাবেন। ফুল কোর্স কিনে নেয়াই ভালো। কারণ আমাদের পক্ষে বারবার যাওয়া পসিবল না। আর এপোলোর ফার্মেসি থেকে কিনতে না চাইলে স্টারলিং রোডে চলে যান। সংকর থেকে ৪০ রুপির মত অটো ভাড়া নিবে। ওখানে অনেক ফার্মেসি আছে। তবে বাস্তব কথা হলো এরা এইসব নিয়ে কেউ বাটপারি করে না। আমি ২-৩ টা ফার্মেসি ঘুরে দাম যাচাই করে মেডিসিন কিনি। আশ্চর্য জনক হলেও সত্য যে সবাই সেইম রেট দিয়েছেন। ৫০ পয়সারও এদিকসেদিক নেই। তাই ঠকার চিন্তা নেই চেন্নাইয়ে। আর চশমা সংকরের নিচ তলায় একটা শপ আছে সেইখান থেকে নিতে পারেন।