সোনাকান্দা কেল্লা

3
ট্রিপ
১ দিন
খরচ
৭০০ টাকা

সোনাকান্দা দুর্গ (Sonakanda Fort) মুঘল আমলে নির্মিত একটি জল দুর্গ। এটি ১৬৫০ সালের দিকে তৎকালীন বাংলার সুবাদার মীর জুমলা কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এটি নারায়ণগঞ্জে জেলার বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষা নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত। সপ্তদশ শতকে ঢাকা শহরকে বাহিরের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে যে তিনটি জল দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল সোনাকান্দা দুর্গ তারমধ্যে অন্যতম। ডে ট্রিপের জন্যে আদর্শ একটা জায়গা।

সোনাকান্দা কেল্লা মোঘল আমলে তৈরি করা একটি জলদূর্গ। ১৬৫০ সালের দিকে মোঘল আমলে যখন মীর জুমলা বাংলার সুবাদার ছিলেন তৎকালীন সময়ে সমৃদ্ধ শহর ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকাকে নদী পথে আগত মগ ও পর্তুগিজ শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করতে ও জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষ্যা করার জন্য নদীর তীরে ৩টি দূর্গ তৈরি করা হয়। এই তিনটি দূর্গকে “জলদূর্গ” বলা হতো। ৩টি জলদূর্গের ২টি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ে। একটি শীতলক্ষ্যার পশ্চিম পাড়ে হাজীগঞ্জ দুর্গ, আরেকটি শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে সোনাকান্দা দুর্গ এবং অন্যটি মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর দুর্গ

চতুর্ভুজাকৃতির সোনাকান্দা দূর্গটি চারপাশে মজবুত উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা। দূর্গের ভিতরে নিরাপদে থেকে দেয়ালের মধ্য দিয়ে গোলা নিক্ষেপের জন্য বহুসংখ্যক প্রশস্ত-অপ্রশস্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র আছে। সেগুলি দিয়ে বন্দুক এবং হালকা কামান ব্যবহার কর যেতো। দূর্গের চার কোনায় অষ্টভুজা-কৃতির চারটি বুরুজ রয়েছে। দূর্গের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে এর পশ্চিম অংশে উঁচু বিশাল গোলাকার কামান প্ল্যাটফর্ম। অনেকগুলি বড়বড় সিঁড়ি টপকে উঠতে হয় প্ল্যাটফর্মে। দূর্গের পশ্চিম দিক দিয়েই বয়ে যেতো শীতলক্ষ্যা নদী। তাই এই পশ্চিমমুখী কামান প্ল্যাটফর্মের উঁচু মঞ্চে শক্তিশালী কামান স্থাপন করা ছিল নদীপথে আগত জলদস্যুদের ঠেকাতে।দূর্গের উত্তর পাশের প্রাচীরে উত্তরমুখী একটি মজবুত প্রবেশ তোরণ রয়েছে। এটিই দূর্গের একমাত্র প্রবেশ তোরণ। প্রবেশদ্বারটি একটি আয়তাকার তোরণ কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এই দুর্গ নির্মাণের তারিখ সম্বলিত কোন শিলালিপি পাওয়া যায় নি তবে ঐতিহাসিকদের মতে এটি ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ খৃষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।

জিপিএস কোঅর্ডিনেশন: 23°36’25.0″N 90°30’43.5″E

সোনাকান্দা দুর্গ ও সোনাকান্দা নাম নিয়ে লোক সমাজে দু’টি চমৎকার মর্মস্পর্শী জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

প্রথম জনশ্রুতিটা হচ্ছে, বার ভূঁইয়াদের অধিপতি ঈশা খাঁ বিক্রমপুরের জমিদার কেদার রায়ের বিধবা কন্যা সোনাবিবিকে জোরপূর্বক বিয়ে করে এই দুর্গে নিয়ে আসেন। বিষয়টা মেনে নিতে পারেননি সোনাবিবি। তিনি নীরবে নিভৃতে দুর্গে বসে রাত-দিন কাঁদতে থাকেন। সেই থেকে দুর্গের নামকরণ হয় সোনাকান্দা।

দ্বিতীয় জনশ্রুতিটা হচ্ছে, রাজা কেদার রায়ের মেয়ে স্বর্ণময়ী এসেছিলেন লাঙ্গলবন্দে পুণ্যস্নান করতে। একদল ডাকাত স্বর্ণময়ীর বজরায় হানা দেয়। প্রচুর স্বর্ণালংকারসহ স্বর্ণময়ীকে অপহরণ করে। পরে ঈশা খাঁ তাঁকে উদ্ধার করে কেদার রায়ের কাছে ফেরত পাঠাতে চান। কিন্তু মুসলমানের তাঁবুতে রাত কাটানোয় জাত গেছে এ অভিযোগে কেদার রায় স্বর্ণময়ীকে আর ফেরত নেননি। এ খবর শুনে স্বর্ণময়ী কেল্লার তাঁবুতে দিনের পর দিন কেঁদে কেঁদে কাটিয়েছেন। আর তাই এর নাম হয় সোনার কান্দা বা সোনাকান্দা।

সোনাকান্দা দূর্গ যাওয়ার উপায়

ঢাকা এর গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জগামী উৎসব, বন্ধন, হিমাচল, শীতল বাসে করে সোজা চাষাড়া চলে যান। নন এসি বাসে ভাড়া ৩৬ টাকা এবং এসি বাসে ভাড়া পড়বে ৫৫ টাকা। সেখান থেকে একটু সামনে এগিয়ে অটো স্ট্যান্ড থেকে ৫ টাকা দিয়ে নবিগঞ্জ ৫ নং ঘাট/হাজিগঞ্জ কেল্লা। হাজিগঞ্জ দূর্গ দেখে ৫ নং খেয়াঘাট পার হয়ে নিন, ভাড়া ৫ টাকা জনপ্রতি। তারপরে রিকশা রিজার্ভ নিয়ে চলে যেতে পারেন সোনাকান্দা দুর্গে। অথবা ১০ টাকা জনপ্রতি দিয়ে ১ নং খেয়াঘাট, সেখান থেকে জন প্রতি ১০ টাকা দিয়ে ওটোতে সোজা সোনাকান্দা কেল্লা। রিক্সা রিজার্ভ নিলে ভাড়া পড়বে ৪০ টাকা।

ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর এর নারায়ণগঞ্জ শহরতলী প্লাটফর্ম থেকে ট্রেনে করে চাষাড়া স্টেশন। ভাড়া ১৫ টাকা। চাষাড়া থেকে রিক্সা করে হাজীগঞ্জ ফায়ার স্টেশন/নবীগঞ্জ ঘাট/কেল্লার কথা বললে নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে উপরের মতো করে চলে যেতে পারবেন।

আরেকটি উপায় হলো, ঢাকা থেকে বাসে মদনপুর, মদনপুর থেকে শেয়ার সিএনজি বা ইজি বাইকে নবীগঞ্জ হয়ে সোনাকান্দা দূর্গ।

কোথায় থাকবেন

ঢাকার খুব কাছে হোয়ার কারনে এক দিনের মধ্যেই সোনাকান্দা কেল্লা ঘুরে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে রাতে থাকার জন্যে আপনার কোন চিন্তা করতে হবে না। তবে যারা দূর থেকে যাবেন তাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদরে থাকার বেশ ভালো ব্যবস্থা আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – হোটেল মেহরান, হোটেল সোনালি, হোটেল নারায়ণগঞ্জ, হোটেল সুগন্ধা, হোটেল সুরমা ও হোটেল রুপায়ন ইত্যাদি।

এছাড়া আরও দর্শনীয় স্থানগুলো

সোনারগাঁ লোক শিল্প জাদুঘরপানাম নগরসোনারগাঁ তাজমহলজিন্দা পার্কবারদীর লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি, সুবর্ণ গ্রাম পার্ক রিসোর্ট, বন্দরপাড়া মসজিদ, হাজীগঞ্জ দুর্গ, গোয়ালপাড়া হুসেন শহার মসজিদ, কিল্লারপুলে বিবি মরিয়মের মাজার প্রভৃতি।

×

করোনার প্রাদুর্ভাব বেরে যাওয়ায় অনেক ট্যুরিষ্ট প্লেস গুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই সেখানে ভ্রমণের প্ল্যান করলে আগে থেকে ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে যাবেন।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।