জিন্দা পার্ক

ভালো লেগেছে
22
ট্রিপ
১ দিন
খরচ
৩০০ টাকা

গন্তব্য যদি হয় খানিকটা দূরে, আর হাতে যদি থাকে সারা দিনের সময়, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্ক (Zinda Park) থেকে। ঢাকাতে সময় কাটানোর মতো অনেক পার্ক আছে,তবে নোংরামি ও অশ্লীলতার কারনে পার্কগুলোতে যেতে এখন মানুষের ভয় করে৷ ঢাকার যানযট, কোলাহল থেকে কিছুক্ষনের জন্য মুক্তি পেতে হলে ঘুড়ে আসা উচিত জিন্দা পার্ক থেকে৷ অসাধারন স্থাপত্যশৈলীর ব্যাবহার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পার্কটিতে৷ পার্কটি কোন সরকারি উদ্যাগের ফসল নয়। আবার কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নির্মাণও নয়। পার্কটি তৈরী হয়েছে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রাণান্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে। এলাকার ৫০০০ সদস্য নিয়ে “অগ্রপথিক পল্লী সমিতি” ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। এ দীর্ঘ ৩৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ত্যাগের ফসল এই পার্কটি। এ রকম মহাউদ্দেশ্য, এত লোকের সক্রিয় অংশগ্রহন এবং ত্যাগ স্বীকারের উদাহারণ খুব কমই দেখা যায়। অপস ক্যাবিনেট, অপস সংসদ এবং অপস কমিশন নামে পার্কটিতে ৩টি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। বর্তমানে জিন্দা গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রাম ও বলা হয়৷

জিন্দা পার্ক এর অবস্থান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। প্রায় ১০০ বিঘা জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা জিন্দা পার্কে রয়েছে একটি কমিউনিটি স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী বিশিষ্ট একটি লাইব্রেরি, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, রয়েছে একটি রেস্তোরা। ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশী গাছ-গাছালী আছে পার্কটিতে। গাছের এই সমারোহ এর পরিবেশকে করেছে শান্তিময় সবুজ, কলকাকলীতে মুখর করেছে অসংখ্য পাখীরা। শীতল আবেশ এনেছে ৫ টি সুবিশাল লেক। তাই গরম যতই হোক পার্কের পরিবেশ আপনাকে দেবে শান্তির ছোঁয়া।

ফ্যামিলি পিকনিকের জন্য জিন্দা পার্ক এখন বেশ পরিচিত জায়গা। কাঠের ব্রিজ পার হয়ে দিঘির মাঝামাঝি তৈরি করা বাঁশের টি রুমে বসে প্রিয়জনের সঙ্গে এক কাপ চা কিংবা জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকার সময়গুলো দারুণ উপভোগ করবেন। সঙ্গে গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। বাড়ি ফেরার জন্য পার্কের সামনেই পাবেন গাড়ি, সিএনজি। আর হ্যাঁ, পিকনিক করতে চাইলে দু-তিন দিন আগেই যোগাযোগ করুন। পিকনিকের খাবারের ব্যবস্থা পার্ক কর্তৃপক্ষই করে।

টিকেট মূল্য

প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিজন ১০০ টাকা। ছোট বাচ্চাদের ৫০টাকা। খাবার নিয়ে প্রবেশ করলে টিকিটের মুল্য হবে ১২৫টাকা। এছাড়া লাইব্রেরিতে প্রবেশমুল্য ১০ টাকা এবং পুকুরে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে পারেন, খরচ পড়বে ৩০ মিনিট ২০০ টাকা।

পার্কিং খরচ

পার্কিং খরচ গাড়ি ভেদে ৫০/- থেকে ১০০ টাকা।

জিন্দা পার্ক যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে জিন্দা পার্ক এর দূরত্ব ৩৭ কিঃ মিঃ। ঢাকার যেখানেই থাকুন না কেন প্রথমেই চলে যান কুড়িল বিশ্বরোড। কুড়িলের বিআরটিসি বাস কাউন্টার থেকে কাঞ্চন ব্রিজের টিকিট কেটে নামতে হবে কাঞ্চন ব্রিজ। এ পর্যন্ত ভাড়া পড়বে ২৫ টাকা। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে জিন্দা পার্ক বাইপাসে যেতে লেগুনা বা অটোতো গুনতে হবে ২০-৩০ টাকা। বাইপাসে নেমে ডিরেকশন অনুযায়ী হেটেই পৌছাতে পারবেন পার্কের গেট পর্যন্ত। তবে রিক্সায় গেলে ভাড়া পড়বে ৮০-১০০ টাকা। রিক্সা করে সরাসরি পার্কের গেটে চলে যেতে পারবেন।

ফেরার সময় একইভাবে অটো বা রিক্সায় কাঞ্চন ব্রীজ চলে আস্তে হবে। সেখান থেকে বিআরটিসি বাসে কুড়িল বিশ্বরোড। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ১৫ মিনিট পর পর বাস পাবেন।

এছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সিএনজি নিয়েও সরাসরি পার্কে যাওয়া যায়, ভাড়া ৪০০ টাকা।

খাওয়া দাওয়া এর ব্যবস্থা

খাওয়ার জন্য পার্ক এর ভিতর মহুয়া স্ন্যাকস অ্যান্ড মহুয়া ফুডস রেস্টুরেন্ট আছে। এখানে বিভিন্ন রকম দেশীয় খাবার পাওয়া যায়, যার প্যাকেজ মূল্য জনপ্রতি ২২০ টাকা থেকে ৬৭০ টাকা। পিকনিক এর জন্যও এখানে খাবার অর্ডার দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনের অন্তত একদিন পূর্বে অর্ডার নিশ্চিত করতে হবে। যোগাযোগ: 01715025083, 01716260908

জিন্দা পার্কে খাবারের মূল্য তালিকা
জিন্দা পার্কে খাবারের মূল্য তালিকা

এছাড়া জিন্দা পার্ক থেকে বের হয়ে পার্কের ঠিক সামনের রাস্তায় অবস্থিত “নাহার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে” খাওয়া দাওয়া সারতে পারেন। জনপ্রতি ১৫০/- থেকে ২০০/- বেশ ভালো মানের লাঞ্চ করতে পারবেন।

তবে পার্কে ঘুরা শেষে ৩০০ ফিট এসে খেলে ভালো হয়। ৩০০ ফিটে খাওয়া ভালো এবং খরচও কম হবে। তবে বাহিরে থেকে খাবার নিয়ে পার্কে যেতে চাইলে অতিরিক্ত ২৫/- জন প্রতি দিতে হবে।

থাকার ব্যবস্থা

জিন্দা পার্ক এ ঘুরতে ঘুরতে যদি কখনও মনে হয় যে রাতে থেকে যেতে পারলে মন্দ হতো না, সেক্ষেত্রেও কোন চিন্তার কারন নেই। কারন রাতে থাকার জন্যে আছে মহুয়া গেস্ট হাউজ।

জিন্দা পার্কের যোগাযোগের ঠিকানা

ওয়েবসাইটঃ http://zindapark.com
ই-মেইলঃ shahin.swd007@gmail.com
ফোনঃ +৮৮০ ১৭১৬২৬০৯০৮, +৮৮০ ১৭১৫০২৫০৮৩, +৮৮০ ১৮১৬০৭০৩৭৭

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

  • 217
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    217
    Shares
দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. পড়ে ভাল লাগল। আশা আছে শিগগিরই একবার যাব

  2. Ticket price BDT 100 is unworthy.A personcharged me 50 tk for car par!

  3. Entry fee is high.There are so many stray dogs roaming inside the park.

  4. ঢাকার যানজট আর কোলাহল ছাড়িয়ে নিস্তব্ধ সবুজের মাঝে কান পেতে শুনুন পাখির কলতান যেখানে রয়েছে প্রকৃতি আর স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব সমন্বয়।

  5. আসলে পার্কটির নাম কেন জিন্দা পার্ক এটা পার্কে না গেলে কখনো বোঝা যাবেনা। পার্কের প্রত্যেকটা জিনিসই যেন জীবন্ত, আপনি পার্কে ঢোকার পর একেক জায়গায় একেক রকম অনুভূতি পাবেন। ভিতরে অনেক প্রজাতির গাছপালা থাকার কারণে পার্কের পরিবেশ হয়ে উঠেছে মনোরম আর ভিতরের লাইব্রেরী, স্কুল, মসজিদ, মাটির ঘরের ডিজাইন ছিল দেখার মত।

    যারা ঢাকায় অক্সিজেনের চাইতে কার্বন ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইড বেশি গ্রহণ করেন, যারা সারাদিন কোলাহলের ভিতর থাকেন তাদের জন্য বুক ভরে শ্বাস নেয়ার আর কোলাহল মুক্ত থাকার পারফেক্ট জায়গা এটি। পরিবার নিয়ে আসার জন্য একদম আদর্শ জায়গা, আদর্শ জায়গা বললাম এই কারণেই কারণ এখনকার পার্কগুলোতে গেলেই দেখা যায় নোংরামি কিন্তু এই পার্ক ১০০% হালাল এবং পরিবেশ উৎকৃষ্ট।

    ভিতরে খাওয়ার জন্য একটা হোটেল আছে কিন্তু খরচ অনেক বেশি। বাইর থেকেও খাবার নিয়ে যেতে পারেন তবে এর জন্য আলাদা করে ২৫ টাকা দিতে হবে। মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রো পার্কিং এর সুব্যবস্থা আছে পার্কের বাইরেই।

  6. খুবই সুন্দর একটি জায়গা আড্ডা প্রেমী, খাদ্য প্রেমি, ভ্রমন প্রেমী মানুষ গুলোর জন্য। ভিতরে খুব সুন্দর ভাবে সাজানো গুছানো প্রত্যেকটি স্থাপনা। স্কুল,খেলার মাঠ, মসজিদ, লাইব্রেরী, গেস্ট হাউস, লেক,গাছ ঘর। কোনো কিছুরই কমতি ছিলোনা পার্ক এর ভিতরে। সারাদিন রিলেক্স এ কাটানোর মত একটা জায়গা। ৪,৫ জনের গ্রুপ এ গেলে বেশি মজা।

  7. সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশ মুগ্ধ করবে। যারা একদিনের ট্যুর পছন্দ করেন তাঁদের উপযোগী বেড়ানোর জায়গা।

  8. আমি পরিবার নিয়ে গিয়েছিলাম। ১০০ টাকার টিকেটের তুলনায় তেমন কোন সার্ভিস বা সুবিধা নেই। লেকের পাড়ে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চের সুবিধা। ভাসমান সেতুটাও নাজুক। আমরা থাকা অবস্থায় আইল্যান্ডের কাছটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো।

    বাচ্চাদের জন্যে খেলার তেমন কিছু চোখে পড়েনি, একটা দোলনা দেখেছিলাম। এগুলো বাড়ানো উচিত বলে মনে হয়েছে।

  9. সুন্দর, তবে ঢাকার বাহিরে এ ধরনের জায়গায় ১০০ টাকা একটু বেশিই হয়ে যায়।

  10. Place is good for visit but 100 taka ticket price for this place is too high. You can’t spend so much time here, i think it’s only for 2-3 hrs.

  11. It’s an excellent place for family hangout.

  12. খুবই নিরিবিলি এবং মনোরোম পরিবেশে সারাটা দিন কাটানোর মত একটি জায়গা। চারদিকের কৃত্রিম লেক বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে পার্কটির শোভা। লেকের মাঝখানে সুসজ্জিত বাংলোটি আরও দারুন।

  13. পরিবার পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্যে অসাধারন একটা জায়গা।

  14. কম খরচ এবং কম সময়ের মধ্যে ঘুরে আসার জন্য পারফেক্ট জায়গা। আমার মত যারা শহুরে পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত তাদের যায়গাটা ভালো লাগবে।