সোনারগাঁও যাদুঘর

ভালো লেগেছে
4

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনটি সোনারগাঁও যাদুঘর হিসেবেই পরিচিত। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে। রুপগঞ্জ ও সোনারগাঁও এক সময় মসলিনের জন্য জগত বিখ্যাত ছিল। মসলিনের বিকল্প জামদানি শাড়ি তাঁতিদের সরাসরি তৈরি করতে দেখা যাবে কারুপল্লীর রুপসী কাজীপাড়ার বিসিক পল্লীতে। এখানে দেখার মতো রয়েছে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যাদুঘর এবং ফাউন্ডেশন চত্বর।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন সোনারগাঁ। এখানে ১৯৭৫ সালে স্থাপিত হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। পানাম নগরের সর্দার বাড়িতে স্থানান্তরের মাধ্যমে সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর হিসেবে এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু গ্যালারি, রয়েছে কারুপল্লী, লোকজমঞ্চ, লাইব্রেরি ও ডকুমেনটেশন সেন্টার। ফাউন্ডেশন চত্বরে রয়েছে জয়নুলের সংগ্রাম ভাস্কর্য, শিল্পাচার্যের আবক্ষ ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আদলে আবক্ষ ভাস্কর্য, টিকেট কেটে মাছ ধরার সুবিধাসহ আরও রয়েছে ফুলগাছ লতাপাতায় সবুজের সমারোহের মাঝে খালের মধ্যে ময়ূরপঙ্খি নৌকায় ওঠার চমৎকার সুযোগ।

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (Sonargaon Folk Art and Craft Museum) থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গোয়ালদী গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানাম নগর। প্রাচীন এ নগরীর ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান এখানে। পানাম নগরের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক পানাম পুল। যারা যাদুঘর দেখতে আসেন, তারা সাধারণত একটি বারের জন্য হলেও ঘুরে যান পানাম নগরীতে। এছাড়া এর কাছাকাছি রয়েছে আগ্রার তাজমহলের আদলে বানানো বাংলার তাজমহল

খোলা-বন্ধের সময়সূচীঃ সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার।

টিকেট মূল্য

কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা আর বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার গুলিস্তান এর স্টেডিয়াম এর সামনে থেকে সোনারগাঁও গামী অনেক বাস আছে, যেমন – বোরাক,দোয়েল। ভাড়া নিবে ৪৫-৬০ টাকা। স্পেশাল বাস গুলো ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে যায় তাই ভাড়া একটু বেশি হলেও সময় কম লাগে। বাসে করে সোনারগাঁ মুরগা বা মোগড়া পাড়া স্টেশনে নেমে রিক্সা অথবা সিএনজি করে সোনারগাঁ জাদুঘরের গেইটের সামনে চলে যাবেন। ভাড়া নিবে রিক্সা ২০-৩০ টাকা আর সিএনজি জনপ্রতি ১০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

ঢাকার আশে পাশে হবার কারনে আপনি দিনে যেয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন, তাই ওখানে থাকার চিন্তা না করলেও হবে। এরপরও যদি আপনি নারায়নগঞ্জে রাত্রিযাপন করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে নারায়নগঞ্জ সদরে এসে হোটেল নিতে হবে। এই লিঙ্কে কিছু নারায়নগঞ্জে থাকার হোটেলের ঠিকানা পাবেন।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. জায়গাটা অসাধারণ সাজানো গোছানো এবং ঘুরে বেড়ানোর জন্য যথেষ্ট খোলামেলা। যেহেতু শীতের আমেজ চলে আসছে তাই দলবেধে পিকনিকের জন্য আদর্শ জায়গা। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবাস্থা বেশ ভালো ভিতরেই ছোট একটা পুলিশ ফারী রয়েছে এবং জায়গটা বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন।

  2. যদি আপনিও আমার মতো বাজেট ট্রাভেলার হন তবে বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে যাওয়াটাই শ্রেয়। জাদুঘরের বাউন্ডারির ভেতরে ঢুকলেই যে কোন কিছুর দামই দুই থেকে পাঁচগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। আর আপনি যদি বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে যেতে না পারেন তবে গুলিস্তান থেকে খাবার কিনে বাসে চেপে বসুন। পকেট বাঁচবে।আর ভেতরে বসে খাবার খাওয়ার যথেষ্ট জায়গা আছে।