হাম হাম ঝর্ণা

ভালো লেগেছে
7
ট্রিপ
২ দিন
খরচ
২০০০ টাকা
ট্রেকিং এর কাঠিন্যতা
মধ্যম

হাম হাম কিংবা হামহাম বা চিতা ঝর্ণা (Hum Hum Waterfall), বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকে একে হাম্মাম ঝর্না বলে ডাকে। লোকচক্ষুর অন্তরালে দীর্ঘদিন নিজের মহিমা লুকিয়ে রেখেছিল এই জলপ্রপাত। দূর্গম পথ আর লোকালয়ের বেশ বাইরে থাকার কারনে এতদিন এই জলপ্রপাতটি কারও চোখে পড়েনি। টলমলে স্বচ্ছ পানির ধারা গড়িয়ে পড়ছে শক্ত পাথরের মতো পাহাড়ের শরীর লেপটে। নির্জন, শান্ত পাহাড়ের প্রায় দেড় শ’ ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়া স্রোতধারার কলকল শব্দ বয়ে যাচ্ছে সমতলে। নাম না জানা লতাপাতা, গুল্ম, বাঁশবন, বুনোফুল ও ফলের গাছ আগলে রেখেছে পরম মমতায় সৃষ্টির বিস্ময় এই ঝর্ণাটিকে। যে বুনো ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না সহজে।

Hum Hum Jhorna
ঝিরি পথ

কখন যাবেন

ঝর্ণার যৌবন হলো বর্ষাকাল। বর্ষাকালে প্রচন্ড ব্যাপ্তিতে জলধারা গড়িয়ে পড়ে। শীতে তা কমে যেয়ে মাত্র একটি ঝর্ণাধারায় এসে ঠেকে।

হাম হাম ঝর্ণা কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যেতে হবে। ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। দুপুর ২টায় প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১১৫ টাকা থেকে ৭৬৫ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল সোয়া ৮টায় ছাড়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় ছাড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৪০ টাকা থেকে ৯৪৩ টাকা।

ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, আরামবাগ থেকে হানিফ, শ্যামলী, মামুন, ইউনিক ইত্যাদি পরিবহনে অথবা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সিলেটগামী ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল এসে নামতে হবে। শ্যামলী পরিবহণ-০২-৭৫৪০৯৯৩,০২৭৫৫০০৭১। সোহাগ পরিবহণ-০২-৯৩৪৪৪৭৭, ০১৭১১-৬১২৪৩৩। সৌদিয়া -০১৯১৯-৬৫৪৮৫৮,০১৯১৯-৬৫৪৮৬১।

শ্রীমঙ্গল নেমে হোটেল নিয়ে নিলে ভাল করবেন। যদি রাতের গাড়ীতে আসেন তবে শ্রীমঙ্গল থেকে নাস্তা করে ৯ টার মধ্যে রওনা দিবেন। আর যদি দিনের গাড়ীতে রওনা হন তবে রাতে হোটেলে থেকে ভোরে হামহাম ঝর্ণা চলে যাবেন এবং পথে কুড়মা বাজারে নাস্তা সেরে নিবেন। শ্রীমঙ্গল হোটেলের আশেপাশে অনেক সিন.এন.জি পাবেন, আপনাকে শ্রীমঙ্গল থেকে যেতে হবে কলাবন পাড়া, ওদের হামহাম যাব বললেই হবে। আপ ডাউন ১৫০০ টাকার মতো নিবে। কলাবন পাড়া পৌছে ওখানে চা শ্রমিক রাই গাইড হিসেবে যায়, ২০০/৩০০ টাকা নিবে গাউড। গহীন এবং পাহাড়ি বনের ভেতরে প্রায় আড়াই ঘন্টা হাটতে হবে, বনের প্রায় সাড়ে ৭ কিলো ভেতরে হাম হাম। উচু পাহারে উঠতে হবে, তাই সাবধান থাকতে হবে। সাথে অবশ্যই লাঠি নিবেন ওখান থেকে, ৫ টাকা নেবে। লবন বা গুল নিবেন জোকের জন্যে। আসা যাওয়া নিয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা হাটতে হবে।

কোথায় থাকবেন

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের জায়গা ভানুগাছ সড়কে টি-রিসোর্ট (ফোনঃ ০১৭১২-৯১৬০০১ )। অন্যান্য থাকার জায়গার মধ্যে আছে— হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান (পাঁচ তারকা) – ০১৫৫২-৬৮৩৪৫৪, রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (০১৯৩৮-৩০৫৭০৬), টি টাউন রেস্ট হাউস, হোটেল প্লাজা (৮৬২৬৫২৫, ০১৭১১-৩৩২৬০৫), বি.টি.আর.আই – ০৮৬২৬-৭১২২৫ ইত্যাদি। এসব হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া ৫শ’ টাকা থেকে ৫ হাজার ৫শ’ টাকা।

এছাড়া শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে চমৎকার দুটি রিসোর্ট হল নিসর্গ নিরব ইকো রিসোর্ট (০১৭১৫০৪১২০৭) এবং নিসর্গ লিচিবাড়ি ইকো রির্সোট (০১৭১৬৯৩৯৫৪০)।

এছাড়াও কমদামি কিছু হোটেলও আছে যেখানে থাকতে পারেন, খরচ পরবে ৫০০/৮০০ টাকা। তবে হামহাম ঝর্না এলাকার আশেপাশে থাকার মতো তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তবে নিজেকে যদি মানিয়ে নিতে পারেন তাহলে তৈলংবাড়ী কিংবা কলাবন পাড়াতে আদিবাসীদের ঘরে থাকতে পারেন।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. এক কথায় এডভেঞ্চার প্রেমিদের জন্য অসাধারণ একটি যায়গা যা নিজে না দেখলে বুঝা যাবে না

  2. হামহাম জলপ্রপাতে যাওয়া শুধুমাত্র ভ্রমণ হিসাবে বলা যাবে না। এই ভ্রমণ আপনাকে একটি দারুণ অ্যাডভেঞ্চারের অভিজ্ঞতা দেবে! রোমাঞ্চপ্রেমী মানুষের জন্য এর থেকে আদর্শ স্থান বোধহয় আমাদের দেশে খুব কমই আছে! আর হামহামের সৌন্দর্য? এককথায়- ভয়ংকর সুন্দর!

  3. পাহাড় পথে না গিয়ে ঝিরি পথে যাওয়া উত্তম যদি বৃষ্টি না থাকে। ঝিরিপথ অনেক সুন্দর এবং সময় কিছুটা বেশি লাগলেও কষ্ট কম।

  4. ট্রেকিং আহামরি তেমন কঠিন না৷ জোক নিয়ে যা একটু সাবধানী হতে হবে ৷

  5. যারা ট্রাকিং ভালবাসেন তাদের জন্য হামহাম উত্তম যায়গা। আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু, পিচ্ছিল ঝিরিঝিরি পথে পোকার ঝিরঝির শব্দ, জোকের অত্যাচার কিংবা সাপের দেখা পাওয়া কিংবা পিচ্ছিল পথে ধপাস ধপাস পরে যাওয়া সব মিলিয়ে এক অন্যরকম এডভেঞ্চার। প্রায় ৩ ঘন্টার দুর্গম পথ পারি দিয়ে অবশেষে যখন সেই কাঙ্ক্ষিত ঝরনায় পৌছাবেন তখন চিৎকার দিয়ে শুধু একটা কথাই মুখ দিয়ে বের হবে -অসাধারণ।

    যাওয়ার পূর্বে পর্যাপ্ত তথ্য নিয়ে বের হওয়া উচিত। আর মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি অবশ্যই অবশ্যই জরুরি। আমরা ৫ জনের গ্রুপ গিয়েছিলাম। এতই ক্লান্ত ছিলাম যে অর্ধেক পথ যেতে না যেতেই ফিরে আসার উপক্রম হলো। কিন্তু জয় করার স্পৃহা নিয়ে এগিয়ে গেলাম আমরা। কোন রকম আছড়ে -পিছড়ে পৌছাই আমরা। পর্যাপ্ত পানি ও খাবার সাথে করে নিতেই হবে। অর্ধেক পথ পারি দিতেই আমারা ৩ লিটার পানি সাবাড় করে দেই। বাকিটা পথ পানি ছাড়াই এগোতে হয়েছে। আসার পথে বোতলে করে ঝরনার পানি নিয়েছি। তাই অবশ্যই অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি নিতে হবে, খাবার স্যালাইন নিলে আরো ভাল হয়।