লাসুবন গিরিখাত

6

লাসুবন গিরিখাত (Lasubon Canyon) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রাচীন গিরিখাত। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের ঘন জঙ্গলবেষ্ঠিত পাহাড়ি এলাকা এটি। খাসি ভাষায়, লাসুবন শব্দের অর্থ পাহাড়ি ফুল বা জংলি ফুল। লাসুবন গিরিখাত অফিসিয়াল নাম হলেও শ্রীমঙ্গল গিরিখাত নামেই স্থানীয়রা চিনে বেশী। ছোট-বড় অনেকগুলো পাথুরে ছড়া আছে এই গিরিখাতে। এই এলাকায় ইতিমধ্যে বড় তিনটি গিরিখাত সম্প্রতি নজরে এসেছে সবার। স্থানীয় খাসি ভাষায় ক্রেম ক্লু, ক্রেম কেরি ও ক্রেম উল্কা নামে বড় তিন গিরিখাত পর্যটকদের কাছে মূল আকর্ষন হতে পারে।

লাসুবন গিরিখাত গুলোর কোনটা এক কিলোমিটার, আবার কোনটা এর চেয়ে কম। এই গিরিখাতগুলোতে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিচে নামলে হঠাৎ যদি উপর থেকে পানি নামে তাহলে উপরে ওঠার কোন পথ থাকে না। কিছু কিছু জায়গা আছে খাড়া পাথরের পাহাড়। আর এতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গিরিখাত এলাকাটি পড়েছে স্থানীয় নাহার খাসিয়া পুঞ্জির ভেতরে। লাংগুলিয়া ছড়া নামের একটি পাহাড়ি ছড়া ধরে পুরো এলাকাটি ঘুরে আসা যায়। এই লাংগুলিয়া ছড়াটি ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ বেয়ে মিশেছে শ্রীমঙ্গলের বিলাস ছড়ায়। সাপের মতো আঁকাবাঁকা ছড়ার সাথে মিশেছে আরও প্রায় শ’খানেক ছোট-বড় পাথুরে ছড়া। এর মধ্যে কয়েকটি গিরিখাত রয়েছে। পাহাড় থেকে শ’পাঁচেক ফুট নিচে এসব গিরিখাত কোথাও বড় আবার কোথাও সরু। বৃষ্টি নেই, তবুও অনবরত টুপ টুপ করে পানির বড় বড় ফোঁটা পাথরের গা থেকে নিচে পড়ছে। সূর্যের আলো এখানে লুকোচুরি খেলে। একেবারে নিচের বা ভেতরের অংশে সূর্যের আলো পৌঁছানোর সুযোগ নেই। স্থানীয়রা এটিকে উল্কা বলে ডাকেন। রয়েছে ছোট ছোট ঝিরিধারায় অবিরাম জলের শব্দ। তবে বর্যা মৌসুমে পানির প্রবাহ বেশি থাকে পাহাড়ের বুক বেয়ে নেমে আসা এসব ছোট ঝিরিগুলোতে।

লাসুবন গিরিখাত যাওয়ার উপায়

লাসুবন গিরিখাত যেতে হলে প্রথমেই আপনাকে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যেতে হবে। ঢাকা থেকে সরাসরি রেল কিংবা সড়ক পথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সপ্তাহের মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, প্রতিদিন দুপুর ১২টায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টায় কালনী এক্সপ্রেস, বুধবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল অথবা কুলাউড়া নামা যায়।

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের ভাড়া শোভন ২শ’ টাকা। শোভন চেয়ার ২৪০ টাকা, প্রথম চেয়ার ৩২০ টাকা, প্রথম শ্রেণি বার্থ ৪৮০ টাকা, স্নিগ্ধা ৪৬০ টাকা, এসি সিট ৫৫২ টাকা, এসি বার্থ ৮২৮ টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি ট্রেনে যাওয়া যায় মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল কিংবা কুলাউড়া। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন দুটিতে নামা যায়।

শ্রীমঙ্গল থেকে থেকে শনিবার ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত ১১টা ২৪ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ঢাকা থেকে বাসে শ্রীমঙ্গল

ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় শ্রীমঙ্গল। ভাড়া সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা।

শ্রীমঙ্গল থেকে লাসুবন গিরিখাত

শ্রীমঙ্গল থেকে প্রথমে জীপ বা মোটরসাইকেল নিয়ে সিন্দুরখান যেতে হবে। সিন্দুরখান পৌছে হরিণছড়া চা বাগান এর কাছে যেয়ে স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে পথ। চাইলে কাউকে সাথে নিয়ে নিতে পারেন গাইড হিসেবে। তারপর পায়ে হেঁটে কয়েক কিলোমিটার যেতে হয়। এই হাঁটার পথটি পুরোটাই পাহাড়ি ছড়া ও খাড়া পাহাড়-টিলাবেষ্টিত।

কোথায় থাকবেন

শ্রীমঙ্গল চা জাদুঘর এর সাথেই রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন টি রিসোর্ট। আর যদি টি-রিসোর্ট ছাড়া শ্রীমঙ্গলে অন্য কোথাও থাকতে চান, সেক্ষেত্রে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের জায়গা ভানুগাছ সড়কে টি-রিসোর্ট (ফোনঃ ০১৭১২৯১৬০০১ )। অন্যান্য থাকার জায়গার মধ্যে আছে —

  • হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান (পাঁচ তারকা) – ০১৫৫২-৬৮৩৪৫৪
  • রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (০১৯৩৮-৩০৫৭০৬)
  • টি টাউন রেস্ট হাউস, হোটেল প্লাজা (৮৬২৬৫২৫, ০১৭১১-৩৩২৬০৫)
  • বি.টি.আর.আই – ০৮৬২৬-৭১২২৫ ইত্যাদি।

এসব হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া ৫শ’ টাকা থেকে ৫ হাজার ৫শ’ টাকা। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে চমৎকার দুটি রিসোর্ট হল নিসর্গ নিরব ইকো রিসোর্ট (০১৭১৫০৪১২০৭) এবং নিসর্গ লিচিবাড়ি ইকো রির্সোট (০১৭১৬৯৩৯৫৪০)

এছাড়া কম খরচে রাত্রি যাপনের জন্য শ্রীমঙ্গলে হোটেল মেরিনা, টি হাউজ রেস্ট হাউজ, প্যারাডাইস লজ, হোটেল মহসিন প্লাজা, হোটেল আল রহমানের মতো বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে।

যেহেতু এটি দুর্গম এলাকা, কাজেই এখানে যাওয়াটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া চা বাগান সংর‌ক্ষিত এলাকা হওয়ায় চা বাগান কর্তৃপক্ষ/প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এখানে পর্যটকদের আসা উচিৎ হবে না।
×

যেখানে সেখানে পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলবেন না। প্রকৃতিকে নিজের মত থাকতে দিন।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।