ঢাকা

WOWZA ইলিউশন মিউজিয়াম

WOWZA ঢাকার মিরপুর-১২ এলাকায় অবস্থিত একটি ইনডোর ইলিউশন ও ইমারসিভ বিনোদন মিউজিয়াম। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম ইলিউশন মিউজিয়াম হিসেবে পরিচয় দেয়। এখানে দর্শনার্থীরা শুধু দেখেন না, চোখের ধাঁধাঁ, আয়নার খেলা ও আলো-মাধ্যাকর্ষণের বিভ্রমের ভেতর দিয়ে নিজেরাই অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠেন। পরিবার, শিক্ষার্থী, বন্ধুদল ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।

কি কি এক্টিভিটি করতে পারবেন WOWZA তে?

WOWZA-এর অভিজ্ঞতা সাধারণত প্রায় ৬০ মিনিটের একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ যাত্রা। এখানে ২০টিরও বেশি আকর্ষণ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

  • ভোর্টেক্স টানেল (Vortex Tunnel): ঘূর্ণায়মান আলোর বিশাল বেলনাকার সুড়ঙ্গ। ভেতরে দাঁড়ালে বা হাঁটলে মনে হবে মাটি সরে যাচ্ছে বা শূন্যে ভাসছেন।
  • ইনফিনিটি রুম ও মিরর ম্যাজ (Infinity Room & Mirror Maze): চারদিকে আয়নায় মোড়া ঘর, যেখানে শূন্যে ভাসমান অসংখ্য আলোর গোলক প্রতিফলনে অন্তহীন জগতের মতো দেখায়।
  • টিল্ট রুম (Tilt Room): কাত করে তৈরি ঘর, যেখানে ঝুঁকে দাঁড়ালেও পড়ে যাবেন না বলে মনে হয় এবং বল যেন উঁচু দিকে গড়িয়ে ওঠে।
  • অ্যামেস রুম (Ames Room): এক কোণে দাঁড়ালে কাউকে বড়, আরেক কোণে দাঁড়ালে ছোট দেখায়। ছবি তোলার জন্য দারুণ জায়গা।
  • থ্রিডি আর্ট ও পারস্পেক্টিভ আর্ট (3D & Perspective Art): দেয়ালের ত্রিমাত্রিক ছবির সামনে দাঁড়ালে মনে হবে আপনিও ছবির অংশ হয়ে গেছেন।
  • ক্যামোফ্লেজ রুম (Camouflage Room): রং ও নকশার মাধ্যমে চোখকে ধোঁকা দেওয়ার আরেকটি ঘর।
  • ডিজিটাল ওয়ান্ডারল্যান্ড (Digital Wonderland): মেঝেতে পা রাখলে পায়ের নিচে ভার্চুয়াল ফুল ফুটে ওঠে।
  • গেমস জোন (Games Zone): অতিবেগুনি (UV) আলো ও নিয়ন রঙে সাজানো জায়গা, যেখানে ইন্টারঅ্যাক্টিভ খেলার সুযোগ আছে।

কয়েকটি রুমের জন্য বয়সভিত্তিক নির্দেশনা থাকতে পারে, তাই ছোট শিশুদের নিয়ে গেলে প্রবেশের আগে কর্মীদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

টিকিট ও প্রবেশমূল্য

সাধারণ প্রবেশমূল্য প্রতি জনের জন্য ৫০০ টাকা। টিকিট কেনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো wowzabd.com থেকে আগে অনলাইনে বুক করা। অনলাইনে বুক করলে নির্দিষ্ট সময়স্লট নিশ্চিত হয় এবং কাউন্টারের লম্বা লাইন এড়ানো যায়। সপ্তাহান্তে কাউন্টারের লাইন ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া জন্মদিন, স্কুল ট্রিপ ও কর্পোরেট ইভেন্টের জন্য আলাদা বুকিংয়ের সুযোগও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষ ছাড়ের ক্ষেত্রে:

  • পরিবার: ৬ জন বা তার বেশি সদস্যের পরিবার ওয়েবসাইটের “Family visits” অপশনে অনলাইনে বুক করলে পুরো প্যাকেজে ১৫% ছাড় পাওয়া যায়।
  • স্কুল গ্রুপ: ২০ জন বা তার বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ৩৫% পর্যন্ত ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। সঠিক মূল্য হেল্পলাইনে জেনে নিন।

বয়স ও শিশুদের নিয়ম: ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য জায়গাটি উপযোগী বলে জানানো হয়েছে। ১২ বছরের নিচের শিশুদের সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক থাকা বাধ্যতামূলক। ৩ বছরের নিচের শিশুদের প্রবেশের নিয়ম নিয়ে বিভিন্ন উৎসে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, তাই বুকিংয়ের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।

টিকিটের শর্ত: টিকিট শুধু বুক করা নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়স্লটে একবারের প্রবেশের জন্য বৈধ এবং অনুমোদন ছাড়া অন্যকে হস্তান্তর করা যায় না। দেরিতে পৌঁছালে ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রবেশের অনুমতি মিলতে পারে, তবে স্লট মিস হলে টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।

স্লট বদল: তারিখ বা সময় বদলাতে চাইলে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে আবেদন করতে হবে। এটি প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে, এবং দিন বা সময়ভেদে দামের পার্থক্য প্রযোজ্য হতে পারে।

রিফান্ড নীতি

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিফান্ড পাওয়া যায়:

  • একই পেমেন্ট দুবার কাটা হলে
  • পেমেন্টে প্রযুক্তিগত ত্রুটি হলে
  • সম্পূর্ণ দিন বন্ধ থাকলে বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ইভেন্ট বাতিল হলে

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিফান্ড পাওয়া যায় না:

  • মন বদলালে বা না গেলে (no-show)
  • দেরিতে পৌঁছে স্লট মিস করলে
  • ভুল বুকিং তথ্য দিলে
  • কয়েকটি আকর্ষণ সাময়িক বন্ধ থাকলে
  • বৃষ্টি বা গরমের কারণে, কারণ ভেতরটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ইনডোর

মারাত্মক দুর্যোগ, আগুন বা সরকারি নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতিতে বন্ধ হলে পুনরায় সময় নির্ধারণ, ক্রেডিট ভাউচার বা রিফান্ডের বিকল্প দেওয়া হতে পারে। অনুমোদিত রিফান্ড সাধারণত ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত বা গ্রুপ অনুষ্ঠান বাতিল করতে হলে লিখিতভাবে জানাতে হবে, এবং অগ্রিম জমা সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

সময়সূচি

WOWZA সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ঘুরে দেখার জন্য সাধারণত ৬০ মিনিট যথেষ্ট, তবে ধীরে ঘুরলে এবং ছবি তুললে ৯০ মিনিট পর্যন্ত লাগতে পারে। সপ্তাহান্তে ভিড় বেশি হতে পারে, তাই কর্মদিবসের স্লট বেছে নিলে তুলনামূলক আরামে ঘোরা সম্ভব। বুক করার আগে ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সময়সূচি ও দিনভিত্তিক এভেইলেবেলিটি দেখে নিন।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হলো ঢাকা মেট্রোরেল (MRT লাইন-৬)। মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট, আগারগাঁও বা উত্তরা, যেকোনো স্টেশন থেকে উঠে পল্লবী স্টেশনে নামতে হবে। স্টেশন থেকে বের হয়ে সিএনজি বা রিকশায় অল্প সময়ের মধ্যেই মিরপুর-১২ এলাকায় পৌঁছানো যায়।

বাসে যেতে চাইলে মিরপুর-১২ বাসস্ট্যান্ডে নামাটা সুবিধাজনক হবে, কারণ মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ হয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন লোকাল বাস এ এলাকায় যায়। রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ বা সিএনজিতেও যাওয়া যায়, তবে মিরপুরের সড়কে যানজট থাকতে পারে, তাই হাতে বাড়তি সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো। যাওয়ার আগে গুগল ম্যাপে ঠিকানা দিয়ে রুট দেখে নিলে সুবিধা হবে।

যোগাযোগ

  • ওয়েবসাইট: wowzabd.com (টিকিট বুকিং, FAQ ও বিশেষ অনুষ্ঠানের তথ্য)
  • হেল্পলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ: +880 1347514931 (প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা)
  • ইমেইল: info@wowzabd.com
  • ঠিকানা: লেভেল ৪, হাজী কুদরত আলী মোল্লা মার্কেট, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২১৬

দিকনির্দেশনা, বুকিং পরিবর্তন বা রিফান্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকলে হেল্পলাইনে কল দেওয়া বা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে জেনে নিবেন দয়া করে।

ভ্রমণের কিছু টিপস
  • অনলাইনে টিকিট কেটে বুকিং নিশ্চিতকরণের মেসেজ বা ইমেইল ফোনে সংরক্ষণ করুন।
  • আরামদায়ক পোশাক ও হালকা জুতা পরুন, কারণ ভোর্টেক্স টানেল ও টিল্ট রুমে শরীরের ভারসাম্য সামলাতে হয়।
  • ছবি ও ভিডিও তোলা এখানে উৎসাহিত করা হয়, তাই ফোনের চার্জ ও স্টোরেজ পর্যাপ্ত রাখুন।
  • মাথা ঘোরা বা ভার্টিগোর সমস্যা থাকলে ঝুঁকি না নিয়ে কর্মীদের পরামর্শ নিন। ছোট শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাদের দিকে সবসময় নজর রাখুন।
  • স্লটের সময়ের অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে পৌঁছান, যাতে প্রবেশে দেরি না হয়।
  • মিরপুরের ব্যস্ত সড়কে যানজটের কথা মাথায় রেখে আগেভাগে বের হোন।

টিকিটের দাম, সময়সূচি বা নীতিমালা যেকোনো সময় বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা হেল্পলাইনে যাচাই করে নেওয়া ভালো। আপনার একটি আনন্দময় দিন কাটুক এই প্রত্যাশায়, হ্যাপি ট্রাভেলিং!

Leave a Comment
Share
জায়গার ধরন: বিনোদন পার্ক