আগারগাঁও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর (Agargaon Archaeological Museum) যেন ঢাকার বুকেই হাজার বছরের ইতিহাসের এক অনন্য সংকলন। যাঁরা মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বা উয়ারী-বটেশ্বর সরাসরি যেতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ বিকল্প গন্তব্য।
জাদুঘরটি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ সালে উদ্বোধন করা হয়। এটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পরিচালনা করে। জাদুঘরটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলায় অবস্থিত। এখানে বাংলাদেশের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ঔপনিবেশিক আমল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একসঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়েছে।
জাদুঘরে বিভিন্ন সময়ের অনেক দুর্লভ ভাস্কর্য ও মূর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ম–৯ম শতকের বৌদ্ধ দেবী তারার মূর্তি অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া ১০ম–১১শ শতকের সুন্দর কারুকাজ করা বিষ্ণু মূর্তিটিও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।
এখানে খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতক থেকে ১২শ শতক পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের মৃৎপাত্র ও ধাতব পাত্র সংরক্ষিত আছে। পাশাপাশি পোড়ামাটির সিলমোহর, পোড়ামাটির বল, প্রাচীন অলংকার এবং সেই সময়ের মানুষের ব্যবহার করা নানা জিনিসও দেখা যায়।
জাদুঘরে বিভিন্ন যুগের অনেক প্রাচীন মুদ্রা সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া প্রাচীন শিলালিপির প্রতিকৃতি এবং ঔপনিবেশিক সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনও এখানে দেখা যায়।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল থেকে পাওয়া অনেক নিদর্শন এখানে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার মহাস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর এবং নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর থেকে পাওয়া নিদর্শন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব নিদর্শন আমাদের দেশের প্রাচীন ইতিহাস ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।
জাদুঘরটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজে বোঝার মতো করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে বিভিন্ন নিদর্শন ও প্রত্নস্থল সম্পর্কে তথ্য জানা যায়। এছাড়া সুন্দর আলোকসজ্জার কারণে প্রতিটি নিদর্শন আরও স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে দেখা যায়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| খোলার সময় | সকাল ৯:০০ – বিকেল ৫:০০ |
| সাপ্তাহিক বন্ধ | সরকারি ছুটির দিনসমূহ প্রতি সপ্তাহের রবিবার ও সোমবার জাদুঘরটির সকল প্রদর্শনী গ্যালারি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। |
| প্রবেশ মূল্য | সাধারণের জন্য প্রবেশ টিকিট মূল্য ২০ টাকা। |
পরামর্শ: যেহেতু এটি একটি নতুন সরকারি জাদুঘর, ভ্রমণের আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাথে ফোনে বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সময়সূচি ও প্রবেশ মূল্য নিশ্চিত করে নিন।
ঢাকা মেট্রোরেলে চড়ে আগারগাঁও স্টেশন-এ নামুন। স্টেশন থেকে হেঁটে বা রিকশায় মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে প্রত্নতত্ত্ব ভবন।
মিরপুর, ফার্মগেট বা মতিঝিল থেকে বাস অথবা সিএনজিতে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস কিংবা পরিকল্পনা কমিশন মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশায় অথবা হেঁটে সহজেই গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে।
একই দিনে আগারগাঁওয়ে একাধিক স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে:
| দর্শক শ্রেণি | কারণ |
|---|---|
| শিক্ষার্থী | ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান |
| গবেষক | দুর্লভ প্রত্নসম্পদ সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ |
| পর্যটক | বাংলাদেশের সভ্যতার ইতিহাস একনজরে দেখা |
| পরিবার | শিশুদের ইতিহাসের সাথে পরিচয় করানোর সুযোগ |
| ইতিহাসপ্রেমী | হাজার বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উপভোগ |
একটি জাতির শিকড় সন্ধান করতে হলে তার মাটির গভীরে যেতে হয়। আগারগাঁও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর সেই যাত্রাকে ঢাকার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
Leave a Comment