ওয়াং-পা ঝর্ণা

ভালো লেগেছে
2

ওয়াং-পা ঝর্ণা (Wang Pa Waterfall) বান্দরবানের গহীনে অবস্থিত একটি পাগল করা ঝর্ণা যা এখনও লোক চক্ষুর আঁড়ালেই রয়ে গেছে। লোক চক্ষুর আঁড়ালে বলার কারন হল যত মানুষ দামতুয়া ঝর্না দেখেছে, তার চেয়ে অনেক কম মানুষ এই ওয়াং-পা ঝর্ণায় গিয়েছে বা এর সম্বন্ধে জেনেছে। অনেকেই শুধু দামতুয়া দেখে চলে আসে। অথচ দামতুয়ার কাছাকাছিই এই ঝর্ণাটি। দামতুয়া ঝর্ণা দেখে ফিরে আসার সময় দেখে নিতে পারেন লুকায়িত এই ওয়াং-পাকে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল নেমে বাস অথবা চাঁদের গাড়ি করে আলীকদম বাস ষ্টেশন নামবেন। লোকাল বাসে গেলে ৭০ টাকা ভাড়া পড়বে। ষ্টেশন থেকে রিক্সা বা টমটম যোগে পানবাজার চলে যাবেন। পানবাজার থেকে ভাড়া চলিত বাইক ও চাদের গাড়ি পাওয়া যাবে৷ সেখান থেকে ১৭ কি.মি. এলাকা থেকে গাইড নিয়ে দামতুয়া রওনা দিবেন। ১০ কি.মি. এলাকায় সেনা ক্যাম্প আছে ওখানে সবার নাম এন্ট্রি করে যেতে হবে সাথে অবশ্যই ভোটার আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

২য় রুটঃ ঢাকা থেকে ডিরেক্ট আলিকদমের বাসেও যেতে পারেন (হানিফ প্রেফারেবল) (ভাড়াঃ ৮৫০ টাকা নন এসি)। আলিকদম গিয়ে পৌছাবেন নরমালি অ্যারাউন্ড ৮-৩০ থেকে ৯-০০। তারপরে সেখানে নাস্তা করে চান্দের গাড়িতে করে ১৭ কিলোমিটার নামক জায়গায় যেতে হবে। সেখান থেকে গাইড ঠিক করে হাটা শুরু করবেন দামতুয়ার উদ্দেশ্যে। মোটামুটি ২ঃ৩০-৩ ঘন্টা নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পৌছাবেন কাংখিত দামতুয়া ঝর্ণায়।

দামতুয়া ঝর্না দেখে ফেরত আসার সময় একটি পাড়া পরবে, যার নাম মেম্বার পাড়া। এই পাড়া ফেলে হাতের ডানে একটি সরু রাস্তা পাহাড়ের নিচের দিকে নেমে গেছে আর এই রাস্তা ধরে গেলেই দেখা মিলবে ওয়াং-পা ঝর্ণার। দামতুয়া থেকে ঘন্টা দেড়েক হাঁটার পর দেখা মিলবে ওয়াং-পার। প্রায় ৮০ ডিগ্রী খাঁড়া দেওয়ালে উঠে ঝর্নার সামনে যেতে হবে। সাথে দড়ি থাকলে সহজেই যাওয়া যাবে। বড় খাঁড়া দেওয়াল বেয়ে প্রচন্ড বেগে পানি পড়ছে ওয়াং-পার। পানি পড়ার শব্দে মুখরিত হয়ে আছে চারপাশ। তার গঠনশৈলী এনে দিয়েছে তাকে অন্য মাত্রার এক রুপ। যে রুপ অন্য কোন ঝর্নার সাথে চাইলেও মিলাতে পারবেন না। দেওয়ালে হেলান দিয়ে ইচ্ছেমত ভিজিয়ে নিতে পারবেন নিজেকে।

সাথে যা যা থাকতে হবে

  • ভোটার আইডি কার্ড (1st priority)
  • অন্যথায় কলেজ/ভার্সিটি আই,ডি,কার্ড বা জন্মসনদ/পাসপোর্ট এর ফটোকপি
  • যথেষ্ট পরিমান পলিথিন
  • ট্রেক করার উপযোগী জুতা/সেন্ডেল

থাকার ব্যবস্থা

আলীকদম বাজারে তিনটি থাকার হোটেল রয়েছে। আলীকদম গেস্ট হাউজ, হোটেল দামতুয়া, হোটেল আলীকদম। ভাড়া ৬০০- ২০০০ টাকার মধ্যে। অবশ্যই রুম নেওয়ার আগে ভাড়ার ব্যাপারে কথা বলে নিবেন।

এছাড়া আলিকদমে এসে সোজা চলে যেতে পারেন শৈলকুঠির রিসোর্টে। যোগাযোগ নাম্বার – 01820403355 (হাসান মাহমুদ, মালিক, শৈলকুঠি)

খাওয়া-দাওয়া

আলীকদম বাজারে মোটামুটি সবকিছুই পাবেন। এছাড়া দুপুর বা রাতের খাবারের জন্য বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল রয়েছে।

গাইড

আদুপাড়াতে গাইড সমিতি আছে। গাইড ভাড়া পড়বে ১০০০ টাকা। টীম মেম্বার কোন ব্যাপার না, কিন্তু গাইডকে ১০০০ টাকা দিতেই হবে, এটা ফিক্সড। ১৭ কিমি এলাকার দোকাঙ্গুলোর কাছ থেকেও গাইড নিতে পারবেন। খরচ একই।

নেদুই দা – 01557398635

কিছু টিপস

  • বান্দরবানের আলীকদম থেকে এই ঝর্নায় যেতে হয়। দামতুয়া ঝর্না দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে গেলে, একই সাথে এটি দেখে আসতে পারবেন। সেক্ষেত্রে গাইডকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। কিন্তু গাইড নেওয়ার সময় অবশ্যই তাকে ওয়াং-পার কথা বলে নিবেন।
  • সাথে বড় দড়ি রাখুন, তাহলে ঝর্নার কাছে যেতে কষ্ট হবে না। না হয় খাঁড়া দেওয়াল আপনার বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
  • এই ঝর্না দেখার জন্য বর্ষাকালই বেস্ট। তবে বর্ষায় গেলে ট্রেইলটিতে জোঁক পাবেন, তাই সাথে লবন রাখতে পারেন।
  • মাঝখানে কোন দোকান-পাট নেই, তাই ট্রেকিংয়ের সময় সাথে শুকনো খাবার এবং পানি রাখুন।
  • এই ঝর্নায় পর্যটকের আনাগোনা কম। তাই এখনও অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। দয়াকরে ঘুরতে গিয়ে কেউ ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসবেন না।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।