দামতুয়া / তুক অ / লামোনই ঝর্ণা

ভালো লেগেছে
3

দামতুয়া (Damtua Waterfall) ঝর্ণাটি পার্বত্য বান্দরবান জেলার আলীকদমে অবস্থিত যা অনেকের কাছে ডামতুয়া/তুক অ/লামোনই ঝর্ণা নামেও পরিচিত। ঝর্ণার নাম সাধারনত বেশীর ভাগই ঝিরির নাম অনুসারে হয়। ঝর্ণাটি যে ঝিরিতে তার নাম ব্যাঙ ঝিরি। যেহেতু মুরং এলাকায় অবস্থান তাই তাদের ভাষায় ব্যাঙ কে “তুক” বলে আর ঝিরিকে “অ” বলে। দামতুয়া অর্থ হলো এর খাড়া আকৃতির জন্য এর দেয়াল বেয়ে উপরে ব্যাঙ বা মাছ উঠতে পারেনা। আর ওয়াজ্ঞাপারাগ অর্থ পাহাড়/উচুঁ স্থান থেকে পানি পড়া। তাই তারা এক কথায় তুক অ ডামতুয়া ওয়াজ্ঞাপারাগ সহ উনাদের ভাষায় মিলিয়ে সংক্ষেপে আরো কিছু নামই বলে। তবে আমরা বেশীর ভাগই ঝর্নাকে, ঝর্না (মাতৃ ভাষার কারনে) ও সাইতার (বম এলাকায় বেশী আনাগোনার কারনে) বলে থাকি। তাই তাদের নামেই “তুক অ” ঝর্ণা বলতে পারি। আর এখানে দুই দিক থেকে পানি পড়ার কারনে ঝর্ণা সহ খোলা স্থানটিতে চাঁদের আলোতে অন্য রকম সৌন্দর্যের অবতরনের কারনে একে স্থানীয় মুরং ভাষায় “লামোনই” ঝর্ণা (লামো= চাঁদ ও নই= আলো) বলে।

যাওয়ার উপযুক্ত সময়

বছরের যে কোন সময় দামতুয়া ঝর্ণায় যাওয়া যায়। তবে ঝর্ণায় যেহেতু পানি বেশী থাকে বর্ষাকালে এবং বর্ষার পরের সময়টুকুতে, তাই এই সময়েই যাওয়া ভালো। তবে অতি বৃষ্টি হলে যাবার পথ অনেক কঠিন হয়ে যায়। সেই বিষয়ও আপনার বিবেচনায় থাকতে হবে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সরাসরি আলীকদমের বাস আছে, ভাড়াঃ ৮৫০ টাকা নন এসি। সব ধরনের বাসের মধ্যে হানিফটাই ভালো বেশী। আলীকদম গিয়ে পৌছাবেন সকাল ৮-৩০ থেকে ৯-০০ টার দিকে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকোরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল নেমে বাস অথবা চাঁদের গাড়ি করে আলীকদম বাস ষ্টেশন যেতে পারেন। ঢাকা থেকে চকরিয়া বাস ভাড়া শ্রেণিভেদে ৭৫০ থেকে ১৫০০ টাকা। যাবার সময় বাসের সুপারভাইজারকে চকরিয়া বাজারে নামিয়ে দিতে বললে আপনাকে নামিয়ে দিবে। চকরিয়া নেমে সেখানের নতুন বাস টার্মিনাল থেকে আলীকদম যাবার লোকাল বাস পাওয়া যায়। লোকাল বাসে গেলে ৭০ টাকা ভাড়া পড়বে। ষ্টেশন থেকে রিক্সা বা টমটম যোগে পানবাজার চলে যাবেন। পানবাজার থেকে ভাড়া চলিত বাইক ও চাদের গাড়ি পাওয়া যাবে৷

আলীকদম থেকে দামতুয়া ঝর্ণা

আলীকদমে এসে আলীকদমের পানবাজার থেকে আপনাকে বাইক ভাড়া করে যেতে হবে আলীকদম-থানচি রাস্তার ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টের আদুপাড়াতে। এক বাইকে ২ জন করে বসা যাবে, জনপ্রতি ভাড়া লাগবে ২৫০-৩০০ টাকা। ভাড়ার বিষয়ে আপনাকে দরদাম করে নিতে হবে। অথবা আপনারা একসাথে বেশি মানুষ থাকলে আলীকদম থেকে চান্দের গাড়ী/জীপ ভাড়া করে নিতে পারবেন। আলীকদম থেকে যাবার পথে ১০ কিলোমিটার পৌছানোর পর সেখানের আর্মি ক্যাম্পে হাজিরা দিতে হবে। সেখানে সবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও ফোন নাম্বার দিয়ে নাম এন্ট্রি করে সামনে যাবার জন্যে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। আর মনে রাখতে হবে আপনাকে অবশ্যই সেইদিনই ট্রেকিং শেষ করে বিকেল ৫ টার আগে এই ১০ কিলো আর্মি ক্যাম্পে ফিরে এসে রিপোর্ট করতে হবে। তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিৎ। ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টে আদুপাড়া নামের একটা গ্রাম আছে সেখানে নেমে আপনাকে ট্রেকিং শুরু করতে হবে। আদুপাড়া থেকে ঘুরে ফিরে আসতে প্রায় ৬ ঘণ্টার মত লাগবে। তবে ট্রেকিং শুরু আগে আপনার প্রয়োজনীয় কিছুর দরকার হলে সেখানের ছোট স্থানীয় দোকান কিনে নিতে পারেন। আর দুপুরে খাবারের জন্যে আগে থেকেই সাথে করে শুকনো খাবার নিয়ে নিতে হবে। ঝর্ণায় যাবার জন্যে আপনার গাইডের প্রয়োজন হবে। আদুপাড়া থেকে আপনি সারাদিনের জন্যে গাইড ঠিক করে নিতে পারবেন। আপনাকে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আবার ফিরে আসার জন্যে গাইড ফি হিসবে নির্ধারিত ১,০০০ টাকা দিতে হবে।

দামতুয়া ঝর্না দেখে ফেরত আসার সময় একটি পাড়া পরবে, যার নাম মেম্বার পাড়া। এই পাড়া ফেলে হাতের ডানে একটি সরু রাস্তা পাহাড়ের নিচের দিকে নেমে গেছে আর এই রাস্তা ধরে গেলেই দেখা মিলবে ওয়াং-পা ঝর্ণার। কি কি দেখবেন তা গাইডের সাথে আগেই আলাপ করে নিবেন।

সাথে যা যা থাকতে হবে

  • ভোটার আইডি কার্ড (1st priority)
  • অন্যথায় কলেজ/ভার্সিটি আই,ডি,কার্ড বা জন্মসনদ/পাসপোর্ট এর ফটোকপি
  • যথেষ্ট পরিমান পলিথিন
  • ট্রেকিং এর জন্যে ভালো গ্রীপের স্যান্ডেল/জুতা ব্যবহার করুন।

থাকার ব্যবস্থা

আলীকদম বাজারে তিনটি থাকার হোটেল রয়েছে। আলীকদম গেস্ট হাউজ, হোটেল দামতুয়া, হোটেল আলীকদম। ভাড়া ৬০০- ২০০০ টাকার মধ্যে। অবশ্যই রুম নেওয়ার আগে ভাড়ার ব্যাপারে কথা বলে নিবেন। এছাড়া আলীকদমে ফিরে সোজা চলে যেতে পারেন শৈলকুঠির রিসোর্টে। যোগাযোগ নাম্বার –
01820403355 (হাসান মাহমুদ ভাই, মালিক, শৈলকুঠির রিসোর্ট)

খাওয়া-দাওয়া

আলীকদমে বা আলীকদমের পানবাজারে খাওয়ার জন্যে মোটামুটি মানের বেশ কিছু হোটেল আছে। সেখানে দেশীয় খাবারের ব্যবস্থা আছে, অল্প খরচে খেয়ে নিতে পারবেন। সকালে খেয়ে রওনা দিবেন এবং যাবার সময় শুকনা খাবার নিয়ে যেতে হবে। দামতুয়ার আশে পাশে কোন হোটেল বা দোকান নেই। ফিরে এসে আলীকদম বাজার থেকে খেতে পারবেন অথবা শৈলকুঠির থেকে খেতে পারবেন (খাবারের মুল্য তুলনামূলক বেশি হলেও খাবারের মান বেশ ভালো)।

গাইড

আদুপাড়াতে গাইড সমিতি আছে। গাইড ভাড়া পড়বে ১০০০ টাকা। টীম মেম্বার কোন ব্যাপার না, কিন্তু গাইডকে ১০০০ টাকা দিতেই হবে, এটা ফিক্সড। ১৭ কিমি এলাকার দোকাঙ্গুলোর কাছ থেকেও গাইড নিতে পারবেন। খরচ একই।

প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও ভ্রমণ টিপস

  • ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা অতি দুর্গম। যাঁরা পাহাড়ি পরিবেশে হাঁটতে পারেননা তারা সেখানে না গেলেই ভালো।
  • যেহেতু বেশ বড় ট্রেকিং ট্রেইল, তাই আপনার ব্যাকপ্যাকের ওজন যত কম রাখা যায় ততই ভালো।
  • নিজের সাথে শুকনো খাবার, স্যালাইন, পানি ও কিছু প্রাথমিক ঔষুধ সাথে রাখবেন অবশ্যই।
  • পথে জোঁক থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন। লম্বা মোজা পরে থাকলে জোঁক কম ধরবে।
  • শিশু, বয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সেখানে না নেওয়াই ভালো।
  • যে কোন ভাড়ার জন্যে দরদাম করে নিবেন।
  • পাহাড়ী পথে বা ঝিরিতে হাঁটার সময় সাবধান থাকবেন।
  • সময়ের দিকে খেয়াল রাখবেন।
  • স্থানীয় আদীবাসী মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
  • দলগত ভাবে ভ্রমণ করলে ভ্রমণ খরচ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. আমি আসলে ভ্রমনের নেশায় আক্রান্ত … লেখাটি পড়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আল্লাহ্‌ বাচালে খুব শীঘ্রই যাবো এখানে … … তবে খরচটা জানতে পারলে ভালো হতো

  2. হেঁটে হেঁটে যত ক্লান্তিই অাপনার উপর ভর করুক না কেন কথা দিচ্ছি এই ঝর্ণা আপনার সকল ক্লান্তি এক নিমিষেই দূর করে দিবে, অাপনাকে পুরো সতেজ করে দেবে। এই ঝর্ণায় প্রচুর পানি আছে। এছাড়া যাওয়ার পথে কয়েকটা ঝিরিপথ পার হতে হয়। এই ঝিরিপথ গুলোও অাপনাকে মুগ্ধ করবে এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।