বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাথারিয়া পাহাড়ের গহীনে অবস্থিত পুছুম ঝর্না (Puchum Waterfall)। মূলধারার পর্যটকদের কোলাহলমুক্ত, গহীন অরণ্য ও পাথুরে ঝিরিপথ পেরিয়ে পৌঁছানোর কারণে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও ট্রেকারদের কাছে এটি এক অনন্য রোমাঞ্চকর গন্তব্য।
ট্রেনে: ঢাকার কমলাপুর থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী বা উপবন এক্সপ্রেসে উঠে কুলাউড়া জংশনে নামুন। কুলাউড়া স্টেশন থেকে সিএনজি বা লোকালে জুড়ী বা বড়লেখা সদরে চলে আসুন (সময় লাগবে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট)।
বাসে: ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা মহাখালী থেকে বড়লেখাগামী সরাসরি বাস (যেমন: শ্যামলী, রূপসী বাংলা, এনা) পাওয়া যায়। সরাসরি বড়লেখা বা জুড়ী বাসস্ট্যান্ডে নামতে পারেন।
সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে বড়লেখা বা জুড়ীগামী বাস অথবা লোকাল সিএনজিতে করে বড়লেখা পৌঁছাতে পারবেন (সময় লাগবে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা)।
কুলাউড়া জংশনে থেকে ৪০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে দক্ষিণভাগ। দক্ষিণভাগ থেকে সিএনজিতে সমনভাগ হাসপাতালের সামনে। তার পর গাইড নিয়ে হাঁটাপথে পাথারিয়া ভ্রমণ।
বড়লেখা থেকে ২০০ টাকার মতো ভাড়ায় সিএনজি রিজার্ভ করে যাওয়া যায় সমনভাগ হাসপাতালের সামনে। এরপর যথারীতি গাইড নিয়ে হাঁটা শুরু। ঘন জঙ্গল ও ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে পুছুম ঝর্নায় পৌঁছাতে সাধারণত ১.৫ থেকে ২.৫ ঘণ্টা (হাঁটার গতির ওপর নির্ভর করে) সময় লাগে।
Time needed: 1 day
ডে-ট্যুর
বড়লেখা বা জুড়ী সদরে সকালের নাস্তা সেরে হালকা শুকনা খাবার ও পানি কিনে নেওয়া।
সিএনজি নিয়ে ট্রেইল শুরুর পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওনা।
স্থানীয় গাইড সাথে নিয়ে ট্রেইলে প্রবেশ ও ট্রেকিং শুরু।
পুছুম ঝর্নায় পৌঁছানো, জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ এবং গোসল।
ফেরার উদ্দেশ্যে উল্টো পথে হাঁটা শুরু।
লোকালয়ে ফিরে এসে দুপুরের খাবার গ্রহণ।
সময় থাকলে বিকেলে কাছাকাছি হাকালুকি হাওর বা কোনো চা-বাগানে সূর্যাস্ত দেখা যেতে পারে।
খাবার: ট্রেইলে কোনো দোকান বা খাবার পাওয়া যায় না। জুড়ী বা বড়লেখা সদর থেকে প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার, খেজুর, গ্লুকোজ/স্যালাইন ও পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যেতে হবে।
থাকা: বড়লেখা বা জুড়ী বাজারে সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। ভালো মানের হোটেল বা রিসোর্টে থাকতে চাইলে কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল অথবা সিলেট শহরে রাত্রিযাপন করা সুবিধাজনক।
এক দিনের ট্রিপের জন্য সম্ভাব্য খরচের বিবরণ
Leave a Comment