পুছুম ঝর্ণা, বড়লেখা, মৌলভীবাজার

পুছুম ঝর্না

জন
Reading Time ৪ মিনিটস

বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাথারিয়া পাহাড়ের গহীনে অবস্থিত পুছুম ঝর্না (Puchum Waterfall)। মূলধারার পর্যটকদের কোলাহলমুক্ত, গহীন অরণ্য ও পাথুরে ঝিরিপথ পেরিয়ে পৌঁছানোর কারণে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও ট্রেকারদের কাছে এটি এক অনন্য রোমাঞ্চকর গন্তব্য।

পুছুম ঝর্নার আকর্ষণ

  • বুনো ও আদিম রূপ: চারপাশে ঘন জঙ্গল, লতাপাতা এবং খাঁড়া পাথুরে পাহাড়ের মাঝে অবিকল প্রাকৃতিক পরিবেশে এর অবস্থান।
  • ট্রেকিং ট্রেইল: ঝিরিপথ, বড় বড় পিচ্ছিল পাথর এবং পাহাড়ি ঢাল বেয়ে এগিয়ে যাওয়ার চমৎকার ট্র্যাকিং অভিজ্ঞতা।
  • শান্ত ও নির্জন পরিবেশ: মাধবকুণ্ডের মতো জনপ্রিয় ঝর্নাগুলোর মতো এখানে লোকসমাগম থাকে না বললেই চলে।

ভ্রমণের সেরা সময়

  • সেরা সময়: বর্ষাকাল এবং বর্ষা পরবর্তী সময় (জুন থেকে অক্টোবর)। এই সময়ে ঝর্না তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায় এবং পানির প্রবাহ সবচেয়ে সুন্দর থাকে।
  • শীত বা শুকনো মৌসুমে: পাহাড়ি ঝিরি শুকিয়ে যায় এবং ঝর্নায় পানির প্রবাহ খুব কম থাকে, তাই ট্রেকিংয়ের সৌন্দর্য পাওয়া যায় না।

পুছুম ঝর্না কিভাবে যাবেন

ক. ঢাকা থেকে বড়লেখা / জুড়ী:

ট্রেনে: ঢাকার কমলাপুর থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী বা উপবন এক্সপ্রেসে উঠে কুলাউড়া জংশনে নামুন। কুলাউড়া স্টেশন থেকে সিএনজি বা লোকালে জুড়ী বা বড়লেখা সদরে চলে আসুন (সময় লাগবে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট)।

বাসে: ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা মহাখালী থেকে বড়লেখাগামী সরাসরি বাস (যেমন: শ্যামলী, রূপসী বাংলা, এনা) পাওয়া যায়। সরাসরি বড়লেখা বা জুড়ী বাসস্ট্যান্ডে নামতে পারেন।

খ. সিলেট শহর থেকে:

সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে বড়লেখা বা জুড়ীগামী বাস অথবা লোকাল সিএনজিতে করে বড়লেখা পৌঁছাতে পারবেন (সময় লাগবে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা)।

গ. কুলাউড়া জংশন/বড়লেখা থেকে পুছুম ট্রেইল ও ঝর্না:

কুলাউড়া জংশনে থেকে ৪০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে দক্ষিণভাগ। দক্ষিণভাগ থেকে সিএনজিতে সমনভাগ হাসপাতালের সামনে। তার পর গাইড নিয়ে হাঁটাপথে পাথারিয়া ভ্রমণ।

বড়লেখা থেকে ২০০ টাকার মতো ভাড়ায় সিএনজি রিজার্ভ করে যাওয়া যায় সমনভাগ হাসপাতালের সামনে। এরপর যথারীতি গাইড নিয়ে হাঁটা শুরু। ঘন জঙ্গল ও ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে পুছুম ঝর্নায় পৌঁছাতে সাধারণত ১.৫ থেকে ২.৫ ঘণ্টা (হাঁটার গতির ওপর নির্ভর করে) সময় লাগে।

আনুমানিক ট্যুর প্ল্যান (১ দিন / ডে-ট্যুর)

Time needed: 1 day

ডে-ট্যুর

  1. সকাল ০৭:০০ – ০৮:০

    বড়লেখা বা জুড়ী সদরে সকালের নাস্তা সেরে হালকা শুকনা খাবার ও পানি কিনে নেওয়া।

  2. সকাল ০৮:৩০

    সিএনজি নিয়ে ট্রেইল শুরুর পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওনা।

  3. সকাল ০৯:৩০

    স্থানীয় গাইড সাথে নিয়ে ট্রেইলে প্রবেশ ও ট্রেকিং শুরু।

  4. সকাল ১১:৩০ – ১২:০০

    পুছুম ঝর্নায় পৌঁছানো, জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ এবং গোসল।

  5. দুপুর ০১:৩০

    ফেরার উদ্দেশ্যে উল্টো পথে হাঁটা শুরু।

  6. বিকাল ০৩:৩০

    লোকালয়ে ফিরে এসে দুপুরের খাবার গ্রহণ।

  7. বিকাল ৪:৩০

    সময় থাকলে বিকেলে কাছাকাছি হাকালুকি হাওর বা কোনো চা-বাগানে সূর্যাস্ত দেখা যেতে পারে।

থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা

খাবার: ট্রেইলে কোনো দোকান বা খাবার পাওয়া যায় না। জুড়ী বা বড়লেখা সদর থেকে প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার, খেজুর, গ্লুকোজ/স্যালাইন ও পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যেতে হবে।

থাকা: বড়লেখা বা জুড়ী বাজারে সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। ভালো মানের হোটেল বা রিসোর্টে থাকতে চাইলে কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল অথবা সিলেট শহরে রাত্রিযাপন করা সুবিধাজনক।

বাজেট ধারণা

আনুমানিক খরচ (একজনের জন্য)

এক দিনের ট্রিপের জন্য সম্ভাব্য খরচের বিবরণ

খাতআনুমানিক খরচ
ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া (বাস/নন-এসি ট্রেন)৮০০ – ১২০০ টাকা
লোকাল সিএনজি যাতায়াত (শেয়ার বেসিসে)৩০০ – ৫০০ টাকা
লোকাল গাইড ফি (পুরো গ্রুপের জন্য)৬০০ – ১০০০ টাকা
খাবার ও অন্যান্য৫০০ – ৮০০ টাকা
একজনের সম্ভাব্য খরচ (দিনের ট্রিপ)২,০০০ – ৩,০০০ টাকা
জরুরি ট্রাভেল টিপস ও সতর্কতা
  1. লোকাল গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক: বনের ভেতরের পথ গোলকধাঁধার মতো এবং পথ পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে। তাই স্থানীয় পরিচিত কাউকে গাইড হিসেবে সঙ্গে নিন।
  2. গ্রিপযুক্ত জুতো: ঝিরিপথ ও পাথর অত্যন্ত পিচ্ছিল থাকে। ভালো গ্রিপযুক্ত ট্রেকিং জুতো বা প্লাস্টিক/রাবারের খাঁজকাটা স্যান্ডেল পরুন।
  3. জোঁক ও পোকা-মাকড় থেকে সাবধান: বর্ষায় পাথারিয়ার জঙ্গলে প্রচুর জোঁক থাকে। সাথে অবশ্যই লবণ, গুল বা সরিষার তেল রাখুন। ফুল হাতা টি-শার্ট ও ফুল ট্রাউজার পরা ভালো।
  4. ইলেকট্রনিক্স সুরক্ষা: ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ বা পলিথিন সাথে রাখুন, যেন বৃষ্টি বা পানির ছিটায় ফোন ও ক্যামেরা নষ্ট না হয়।
  5. শারীরিক সক্ষমতা: শিশু, বয়োবৃদ্ধ বা যাদের পাহাড়ি হাঁটায় সমস্যা আছে, তাদের এই ট্রেইলে না যাওয়াই শ্রেয়।
  6. পরিবেশ ও স্থানীয়দের সম্মান: স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষতি করবেন না। পাহাড়ে কোনো ধরনের প্লাস্টিক, পলিথিন বা অপচনশীল বর্জ্য ফেলে আসবেন না।

গন্তব্য

The New Samanbhag Hospital, বড়লেখা, বাংলাদেশ

পথ ও দিকনির্দেশ দেখতে ম্যাপ খুলুন।

গুগল ম্যাপে দেখুন