Photo: Arjit Chowdhury / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0
বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার — প্রায় ১২০ কিলোমিটার বিস্তৃত। একপাশে বঙ্গোপসাগরের গর্জন, অন্যপাশে সবুজ পাহাড় আর জেলেদের জীবন — এই পথে পায়ে হেঁটে হাইকিং করা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা অ্যাডভেঞ্চার অভিজ্ঞতা।
কক্সবাজার বিচ হাইকিং মানে শুধু সৈকতে হাঁটা নয়। এটা কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৩–৪ দিনের একটাই লম্বা যাত্রা। এই গাইডে রুটের প্রতিদিনের ভাগ, দূরত্ব, যাওয়া ও ফেরার খরচ, থাকা-খাওয়া, ক্যাম্পিং আর নিরাপত্তার সব তথ্য একসাথে দেওয়া হলো। সব দাম ২০২৫–২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। যাওয়ার আগে একবার মিলিয়ে নিন।
মেরিন ড্রাইভ সড়কটি কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার লম্বা। সৈকত ধরে হাঁটলে বাঁক আর খালের কারণে পথ আরও কিছুটা বাড়ে। নিচের দূরত্বগুলো কক্সবাজার শহর থেকে আনুমানিক হিসাব।
| পয়েন্ট | কলাতলী থেকে দূরত্ব (আনুমানিক) | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| কলাতলী / লাবণী | ০ কিমি | হাইকের শুরু |
| হিমছড়ি | ৯–১২ কিমি | পাহাড়, ঝরনা, ভিউপয়েন্ট |
| রেজু খাল | হিমছড়ি ও ইনানীর মাঝে | বড় খাল, মেরিন ড্রাইভের ব্রিজ |
| ইনানী | ২২–২৮ কিমি | প্রবাল পাথরের সৈকত |
| পাটুয়ারটেক | ইনানীর কয়েক কিমি দক্ষিণে | পাথুরে সৈকত |
| শামলাপুর (বাহারছড়া) | টেকনাফের পথে | বড় জেলেপল্লী ও মাছঘাট |
| শীলখালী, কচ্ছপিয়া | শামলাপুরের দক্ষিণে | নির্জন সৈকত |
| টেকনাফ সৈকত / শাহপরীর দ্বীপ | প্রায় ৮০–৯০ কিমি | হাইকের শেষ |
দূরত্ব: ৮০–১০০ কিমি | সময়: ৩–৪ দিন | সেরা সময়: নভেম্বর–মার্চ | কাঠিন্য: মাঝারি থেকে কঠিন
কলাতলী সৈকত থেকে শুরু করে হিমছড়ি → ইনানী → পাটুয়ারটেক → শামলাপুর → মনখালী হয়ে টেকনাফ জিরো পয়েন্টে শেষ হওয়া এই ট্রেকটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এপিক বিচ ট্রেক। পুরো পথ জুড়ে নির্জন সৈকত, প্রবাল পাথর, ঝরনা আর জেলেপল্লীর আসল রূপ একসাথে উপভোগ করা যায়। মেরিন ড্রাইভ সড়ক সমান্তরালে থাকায় যেকোনো জায়গা থেকে সিএনজি বা জিপে উঠে বিরতি নেওয়ার সুযোগ সবসময় আছে।
শুরু ও শেষ: শুরু কলাতলী বা লাবণী পয়েন্ট থেকে। শেষ টেকনাফ সৈকতে, চাইলে আরও এগিয়ে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত। উল্টো দিক থেকেও হাঁটা যায়। ভ্রমণ বাংলাদেশ ক্লাব ২০০৮ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছর টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এই হাইক আয়োজন করে।
কাঠিন্য: পথে পাহাড় নেই, কিন্তু বালুতে টানা হাঁটা পায়ে চাপ দেয়। কোনো দিন ৩০ কিমি পর্যন্ত হাঁটতে হয়। ২০১৭ সালে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৫৫ জনের দলে মাত্র ৩৬ জন শেষ করতে পেরেছিলেন। তাই আগে থেকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন।
দিনে ২০–৩০ কিমি হাঁটার লক্ষ্য রাখুন। নিচে কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত একটা সম্ভাব্য ভাগ দেওয়া হলো। দূরত্বগুলো আনুমানিক।
সময় লাগবে: 4 days
কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত কক্সবাজার বিচ হাইকিং-এর ৪ দিনের সম্ভাব্য প্ল্যান। দূরত্ব আনুমানিক, জোয়ার-ভাটা ও দলের গতি অনুযায়ী বদলাতে পারে।
কলাতলী → হিমছড়ি → রেজু খাল → ইনানী (প্রায় ২২–২৮ কিমি):
সকালে কলাতলী বা লাবণী থেকে দক্ষিণে হাঁটা শুরু করুন। প্রায় ৯–১২ কিমি পর হিমছড়ি। চাইলে টিকিট কেটে (২০২৫ সালে জনপ্রতি ৩৫–৪০ টাকা) পাহাড়চূড়া থেকে দৃশ্য দেখে নিন। এরপর রেজু খাল। খালটি বড়, তাই জোয়ারে সাঁতরে বা হেঁটে পার হবেন না। মেরিন ড্রাইভের রেজু খাল ব্রিজ দিয়ে পার হন। বিকেলে ইনানী পৌঁছান। রাত ইনানীর গেস্টহাউস বা রিসোর্টে। হিমছড়ি আর ইনানীতে দোকান ও খাবার পাওয়া যায়।
ইনানী → পাটুয়ারটেক → শামলাপুর (প্রায় ২০–২৫ কিমি):
ভাটার সময় ইনানী আর পাটুয়ারটেকের প্রবাল পাথরের সৈকত ধরে হাঁটুন। পাথর পিচ্ছিল ও ধারালো, সাবধানে পা ফেলুন। এরপর লম্বা নির্জন সৈকত। মাঝে ছোট খাল পড়লে ভাটার অপেক্ষা করুন বা মেরিন ড্রাইভে উঠে ব্রিজ দিয়ে পার হন। শামলাপুর বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় জেলেপল্লী ও মাছঘাট। এখানে বাজার, খাবারের হোটেল আর পানি পাওয়া যায়। রাত শামলাপুরে স্থানীয় থাকার জায়গায়, অথবা স্থানীয়দের অনুমতি নিয়ে জেলেপল্লীর কাছে তাঁবুতে।
শামলাপুর → শীলখালী → কচ্ছপিয়া → টেকনাফ সৈকত (প্রায় ২৫–৩৫ কিমি):
সবচেয়ে লম্বা দিন। খুব ভোরে শুরু করুন। শীলখালী আর কচ্ছপিয়ার দিকটা নির্জন। দোকান কম, তাই শামলাপুর থেকে পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার নিন। সন্ধ্যার আগেই টেকনাফ সৈকতে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। এই অংশে রাতে সৈকতে ক্যাম্প না করে টেকনাফ শহরের হোটেলে থাকুন।
টেকনাফ সৈকত → শাহপরীর দ্বীপ, তারপর ঢাকা ফেরা:
সকালে টেকনাফ সৈকত থেকে শাহপরীর দ্বীপের দিকে শেষ অংশটা হাঁটতে পারেন, অথবা সিএনজিতে যেতে পারেন। এই এলাকা মিয়ানমার সীমান্তের কাছে, বিজিবি চেকপোস্ট আছে। পরিচয়পত্র দেখান, নির্দেশনা মানুন। দুপুর বা বিকেলে টেকনাফ ফিরে সরাসরি ঢাকার বাস ধরুন। অথবা বাসে কক্সবাজার গিয়ে ট্রেন বা বিমানে ঢাকা ফিরুন।
কক্সবাজার বিচ হাইকিং শুরু করতে আগে কক্সবাজার শহরে পৌঁছাতে হবে। বাস, ট্রেন আর বিমান তিনভাবেই যাওয়া যায়।
সায়েদাবাদ, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও কলাবাগান থেকে বাস ছাড়ে। যাত্রায় ৮–১০ ঘণ্টা লাগে। গ্রীন লাইন, হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন পরিবহন, এস আলম এই রুটে চলে।
কমলাপুর থেকে দুটি সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন আছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস রাতে ছাড়ে, সকালে পৌঁছায়। পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল ৬:১৫-তে ছাড়ে, দুপুরে পৌঁছায়। যাত্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টার মতো লাগে। সময়সূচি ও বন্ধের দিন বিস্তারিত দেখুন: কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকেট মূল্য ও সময়সূচি।
| শ্রেণি | ভাড়া (২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে, আনুমানিক) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | প্রায় ৬৯৫–৭৫০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,৪৪৯ টাকা |
| এসি সিট | ১,৭৪০ টাকা |
| এসি বার্থ (শুধু কক্সবাজার এক্সপ্রেসে) | ২,৬৫৬ টাকা |
টিকিট অনলাইনে রেলের ই-টিকিটিং সাইট থেকে কাটা যায়। শীতে টিকিট দ্রুত শেষ হয়, তাই আগেভাগে কাটুন।
বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার আর এয়ার অ্যাস্ট্রা ঢাকা–কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালায়। যাত্রা প্রায় ১ ঘণ্টা। একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া আনুমানিক ৪,০০০–৪,৫০০ টাকা। মৌসুম আর সময়ভেদে ৮,০০০–৯,০০০ টাকা বা তার বেশিও হয়।
কক্সবাজার বিচ হাইকিং শেষ হয় টেকনাফে। টেকনাফে বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন নেই। তাই ফেরার দুটো উপায় আছে।
নিচের হিসাব জনপ্রতি, ২০২৫–২০২৬ সালের আনুমানিক দাম ধরে। মৌসুম, দরদাম আর দলের আকারে খরচ বদলায়।
যাওয়া: ঢাকা → কক্সবাজার (একমুখী)
| মাধ্যম | ভাড়া (আনুমানিক) |
|---|---|
| নন-এসি বাস | ৮০০–১,২০০ টাকা |
| এসি বাস / স্লিপার | ১,৪০০–২,৫০০ টাকা |
| ট্রেন (শোভন চেয়ার) | ৬৯৫–৭৫০ টাকা |
| ট্রেন (স্নিগ্ধা / এসি সিট / এসি বার্থ) | ১,৪৪৯–২,৬৫৬ টাকা |
| বিমান | ৪,০০০–৯,০০০ টাকা |
ফেরা: টেকনাফ → ঢাকা (একমুখী)
| মাধ্যম | ভাড়া (আনুমানিক) |
|---|---|
| সরাসরি নন-এসি বাস | ১,০৫০–১,৩০০ টাকা |
| সরাসরি এসি বাস / স্লিপার | ১,৪০০–২,৫০০ টাকা |
| টেকনাফ → কক্সবাজার বাস + শোভন চেয়ার ট্রেন | প্রায় ৮০০–১,০০০ টাকা |
| টেকনাফ → কক্সবাজার বাস + স্নিগ্ধা/এসি ট্রেন | প্রায় ১,৫৫০–২,৯০০ টাকা |
| টেকনাফ → কক্সবাজার বাস + বিমান | প্রায় ৪,১০০–৯,২৫০ টাকা |
কক্সবাজার শহরে সব বাজেটের হোটেল আছে। কলাতলীতে বাজেট রুম অফ-সিজনে কম দামে পাওয়া যায়, শীতে দাম বাড়ে। ভালো মানের সাশ্রয়ী হোটেলের তালিকা পাবেন এখানে: কক্সবাজারের বাজেট থ্রি স্টার হোটেল।
সৈকতের চা-স্টল আর ছোট হোটেলে ভাত-মাছ পাওয়া যায়। সাধারণ খাবারে দিনে জনপ্রতি আনুমানিক ৫০০–১,৫০০ টাকা লাগে। সামুদ্রিক মাছের বড় পদ বা রেস্তোরাঁয় খেলে খরচ বাড়ে। ডাব আর পানি কিনতে আলাদা বাজেট রাখুন।
| খাত | বাজেট | মিড-রেঞ্জ |
|---|---|---|
| যাওয়া (ঢাকা → কক্সবাজার) | ৭০০–১,২০০ (শোভন ট্রেন/নন-এসি বাস) | ১,৪৫০–৯,০০০ (স্নিগ্ধা/এসি বাস/বিমান) |
| ফেরা (টেকনাফ → ঢাকা) | ১,০৫০–১,৩০০ (সরাসরি নন-এসি বাস) | ১,৪০০–৯,২৫০ (এসি বাস, অথবা কক্সবাজার হয়ে বিমান) |
| থাকা (৩ রাত, শেয়ার রুম বা তাঁবু) | ১,০০০–৩,০০০ | ৪,৫০০–৯,০০০ |
| খাবার (৩–৪ দিন) | ১,৫০০–২,৫০০ | ৩,০০০–৫,০০০ |
| লোকাল যাতায়াত ও এন্ট্রি | ৫০০–১,০০০ | ১,৫০০–৩,০০০ |
| মোট (জনপ্রতি) | প্রায় ৫,০০০–৯,০০০ টাকা | প্রায় ১২,০০০–৩৫,০০০ টাকা |
বিচ হাইকিংয়ের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর মধ্যে। তাঁবু সবসময় উচ্চ জোয়ারের রেখার উপরে স্থাপন করুন, যাতে রাতে জোয়ারের পানি তাঁবু পর্যন্ত না আসে। কোস্টগার্ড চেকপোস্ট বা জেলেপল্লীর কাছাকাছি ক্যাম্প করলে নিরাপত্তা বেশি থাকে। রাতের সৈকতে তারাভরা আকাশ, ঢেউয়ের শব্দ আর ভোরের সূর্যোদয় — এই অভিজ্ঞতা কোনো হোটেলের ঘরে পাওয়া সম্ভব নয়।
ক্যাম্প করার আগে স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ বা কাছের চেকপোস্টে জানিয়ে রাখুন। টেকনাফ ও শামলাপুর এলাকায় সম্প্রতি অপহরণের ঘটনা নিয়ে খবর এসেছে। তাই এই অংশে নির্জন সৈকতে রাত না কাটিয়ে হোটেলে থাকাই নিরাপদ। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অনুমতি ছাড়া ঢোকা যায় না, ওদিকে যাবেন না।
পুরো পথে বেশ কিছু সৈকত-সংলগ্ন চা-স্টল ও ছোট রেস্তোরাঁ পাওয়া যায়, যেখানে তাজা সামুদ্রিক মাছ, ডাব ও পাহাড়ি কলা পাওয়া যায়। তবে জনশূন্য এলাকায় দীর্ঘ পথ পড়তে পারে, তাই ব্যাকপ্যাকে পর্যাপ্ত মজুদ রাখা জরুরি।
কক্সবাজারে সাধারণ সতর্কতার আরও তথ্য পাবেন আমাদের কক্সবাজার ভ্রমণের সতর্কতা লেখায়।
কক্সবাজার বিচ হাইকিংয়ের সেরা সময় নভেম্বর থেকে মার্চ। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক, তবে ভিড় আর হোটেলের দাম দুটোই বেশি। এপ্রিল-মে খুব গরম। জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষা আর উত্তাল সাগরের কারণে লম্বা হাইক এড়িয়ে চলুন।
টেকনাফ পৌঁছানোর পর ফেরি ধরে সেন্টমার্টিন দ্বীপ যেতে ভুলবেন না — বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যেখানে স্বচ্ছ নীল পানি ও রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশ আপনার পুরো অ্যাডভেঞ্চারের সোনালি সমাপ্তি ঘটাবে। তবে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সরকারি নিয়ম ও সময়সীমা প্রতি মৌসুমে বদলায়, যাওয়ার আগে জেনে নিন।
কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০–১০০ কিমি হাঁটতে সাধারণত ৩–৪ দিন লাগে। দিনে ২০–৩০ কিমি হাঁটতে হয়।
ঢাকা থেকে যাওয়া আর টেকনাফ থেকে ফেরাসহ ৩–৪ দিনের বাজেট ট্রিপে জনপ্রতি আনুমানিক ৫,০০০–৯,০০০ টাকা। মিড-রেঞ্জে আনুমানিক ১২,০০০–৩৫,০০০ টাকা। এটা ২০২৫–২০২৬ সালের হিসাব।
টেকনাফ থেকে সরাসরি বাস আছে। নন-এসি আনুমানিক ১,০৫০–১,৩০০ টাকা, এসি ও স্লিপার আনুমানিক ১,৪০০–২,৫০০ টাকা। ট্রেন বা বিমানে ফিরতে হলে আগে বাসে কক্সবাজার যেতে হবে, কারণ টেকনাফে রেলস্টেশন বা বিমানবন্দর নেই।
সাধারণ ভাগে প্রথম রাত ইনানী, দ্বিতীয় রাত শামলাপুর আর তৃতীয় রাত টেকনাফ শহরে। ইনানী ও টেকনাফে হোটেল আছে। শামলাপুরে স্থানীয় থাকার জায়গা বা অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পিং করা যায়।
হ্যাঁ। রেজু খালসহ কয়েকটি খাল সাগরে মিশেছে। জোয়ারে এগুলো গভীর হয়। ভাটার সময় পার হন, নয়তো মেরিন ড্রাইভের ব্রিজ ব্যবহার করুন।
জেলেপল্লী বা চেকপোস্টের কাছে, উচ্চ জোয়ারের রেখার ওপরে আর দলবদ্ধভাবে ক্যাম্প করুন। টেকনাফ-শামলাপুরের নির্জন অংশে রাতে না থাকাই ভালো।
নভেম্বর থেকে মার্চ সবচেয়ে ভালো। কম ভিড়ের জন্য নভেম্বরের শেষ বা মার্চ বেছে নিন। মেরিন ড্রাইভ ও টেকনাফের চেকপোস্টের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
কক্সবাজার বিচ হাইকিং শুধু একটি ট্রেক নয় — এটি সমুদ্র, পাহাড়, মানুষ আর প্রকৃতির সাথে এক অসাধারণ সংলাপ। একবার হেঁটে দেখলে বুঝবেন, এই অভিজ্ঞতা আজীবনের সঞ্চয়।
ফিচারড ছবি: Arjit Chowdhury
Leave a Comment