রুদ্রকর মঠ, শরীয়তপুর। ছবি: Radman Siddiki, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
পদ্মা ও মেঘনার কোলে, হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামে নামকরণ করা শরীয়তপুর ঢাকা বিভাগের এক নদীবেষ্টিত জেলা (উইকিপিডিয়া)। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত এই জেলায় পড়ায় ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ এখন অনেক সহজ। রুদ্রকর মঠ, কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি, রাম সাধুর আশ্রম, চিশতিনগর দরবার শরীফ আর সুরেশ্বর দরবার শরীফ মিলিয়ে শরীয়তপুর একদিনের বা সপ্তাহান্তের ভ্রমণের দারুণ গন্তব্য।
এই পোস্টে শরীয়তপুর যাওয়ার উপায় (বাস, লঞ্চ), জেলার ভেতরে চলাচল, কোথায় থাকবেন, কি খাবেন, কোন জায়গাগুলো ঘুরবেন, কখন যাবেন এবং জরুরি যোগাযোগ নম্বর একসঙ্গে তুলে ধরা হলো।
বিঃদ্রঃ এই লেখার ভাড়া, রুম ভাড়া ও সময়সূচি ২০২৪-২০২৬ সালে প্রকাশিত সূত্র থেকে নেওয়া আনুমানিক তথ্য; প্রতিটি সংখ্যার পাশে সাল বা সূত্র দেওয়া আছে। যাওয়ার আগে কাউন্টার, লঞ্চ, হোটেল বা অফিশিয়াল সাইটে মিলিয়ে নিন।
| বিভাগ | ঢাকা |
| আয়তন | প্রায় ১,১৭৪ বর্গকিমি (সূত্রভেদে ১,১০২–১,২৭২ বর্গকিমি) |
| জনসংখ্যা | ১২,৯৪,৫৬২ (আদমশুমারি ২০২২) |
| উপজেলা | ৬টি: শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, গোসাইরহাট |
| জেলা হিসেবে যাত্রা | ১ মার্চ ১৯৮৪ (মহকুমা ১৯৭৯) |
| প্রধান নদী | পদ্মা, মেঘনা, পালং, জয়ন্তী, কীর্তিনাশা, ধর্মগঞ্জ |
| নামকরণ | হাজী শরীয়ত উল্লাহ |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ৭২–৭৩ কিমি |
সূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলা উইকিপিডিয়া, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন, unseenbd। জেলা তথ্য বাতায়নে আয়তন ১,২৭২ বর্গকিমি ও জনসংখ্যা ১২.৯৪ লক্ষ দেখানো আছে; ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় আয়তন ১,১০২.৪৫ বর্গকিমি ও জনসংখ্যা ১২,৯৪,৫৬২ (বিবিএস ২০২২)।
পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা–শরীয়তপুর সরাসরি বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়; জেলা শহর থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৭১–৭৩ কিমি (জাগো নিউজ, প্রথম আলো, unseenbd)। বাস ছাড়ে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কদমতলী ও গুলিস্তান থেকে; সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত সার্ভিস চলে (ভ্রমণপ্রিয়, প্রথম আলো)।
| ধরন | আনুমানিক ভাড়া | নোট |
|---|---|---|
| বিআরটিএ নির্ধারিত (৫১ আসন) | ২৪৫ টাকা | সায়েদাবাদ–শরীয়তপুর, পদ্মা সেতু–জাজিরা হয়ে ৭৩ কিমি, টোলসহ (unseenbd, সেপ্টেম্বর ২০২৬) |
| বিআরটিএ নির্ধারিত (৪০ আসন) | ৩১২ টাকা | একই রুট (unseenbd) |
| বিআরটিএ হার (প্রথম আলো ২০২৪) | ২৭৭ টাকা | এপ্রিল ২০২৪-এর প্রতিবেদন (প্রথম আলো) |
| বাস মালিক সমিতির সাধারণ ভাড়া | প্রায় ২৫০ টাকা | সাধারণ দিনে (প্রথম আলো, এপ্রিল ২০২৪) |
| কোম্পানিভিত্তিক আনুমানিক | ২০০–৩০০ টাকা | শরীয়তপুর পরিবহণ, সুপার, ফেম, গ্লোরি, বিআরটিসি ইত্যাদি (ভ্রমণপ্রিয়) |
ভাড়ার সূত্রে অমিল আছে: unseenbd-এ বিআরটিএ চার্ট অনুযায়ী ২৪৫/৩১২ টাকা, আর প্রথম আলো-তে ২৭৭ টাকা উল্লেখ। কাউন্টারে বর্তমান ভাড়া জেনে নিন। ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া (৫০০–৬০০ টাকা) আদায়ের খবর পাওয়া গেছে (প্রথম আলো); সেটি অস্থায়ী চাপের ফল, নির্ধারিত হার নয়।
| কাউন্টার/স্ট্যান্ড | বাস | সময়সূচি (আনুমানিক, ভ্রমণপ্রিয়) |
|---|---|---|
| যাত্রাবাড়ী | শরীয়তপুর পরিবহণ, সুপার পরিবহণ, ফেম পরিবহণ | সকাল ৬টা–রাত ১০টা |
| সায়েদাবাদ | গ্লোরি এক্সপ্রেস | সকাল ৯:৩০সহ দিনে কয়েকটি ট্রিপ; ডামুড্যা–গোসাইরহাট–নড়িয়া হয়ে |
| কদমতলী | শরীয়তপুর পরিবহণ | টিকিট মেলে |
| গুলিস্তান | বিআরটিসি, ইলিশ, আনন্দ, গাংচিল, গ্রেট বিক্রমপুর, গোধূলি | প্রায় প্রতি ১৫ মিনিট পরপর |
সূত্র: ভ্রমণপ্রিয় (২০২৬)। কাউন্টারের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ ফোন নম্বরের তালিকা পাইনি; টার্মিনালে গিয়ে বা অনলাইন টিকিট সাইটে (যেমন Shohoz) মিলিয়ে নিন। জেলা তথ্য বাতায়নের পুরনো পরিবহন-পাতা পদ্মা সেতুর আগের (মাওয়া ঘাট) তথ্য, তাই সেটিকে বর্তমান রুটের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।
পদ্মা সেতুর পর বেশির ভাগ যাত্রী সড়কপথে যান; সাধারণ দিনে নিয়মিত লঞ্চ চলে কি না নিশ্চিত করা যায়নি (unseenbd)। ঈদুল ফিতর ২০২৬-এ এমভি ইমাম হাসান-৫ বছিলা–সদরঘাট–শরীয়তপুর রুটে বিশেষ ট্রিপ দিয়েছে। মে ২০২৬-এর সরকারি ভাড়াসূচিতে ঢাকা–আঙ্গারিয়া রুটের সর্বোচ্চ ডেক ভাড়া আনুমানিক:
| ঘাট | দূরত্ব | আনুমানিক ডেক ভাড়া (২০২৬, unseenbd) |
|---|---|---|
| সুরেশ্বর | ৬৩ কিমি | প্রায় ২০০ টাকা |
| নড়িয়া | ৭৩ কিমি | প্রায় ২৩১ টাকা |
| শরীয়তপুর | ৮৪ কিমি | প্রায় ২৬৬ টাকা |
| আঙ্গারিয়া | ১০৩ কিমি | প্রায় ৩২৫ টাকা |
সূত্র: unseenbd। লঞ্চে যেতে চাইলে সদরঘাটে বর্তমান সময়সূচি ও ভাড়া জেনে নিন।
শরীয়তপুর জেলায় সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশন নেই (unseenbd)। জেলায় বিমানবন্দরও নেই; ঢাকা থেকে সড়কপথেই সবচেয়ে সহজ।
শরীয়তপুর শহর থেকে জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাটে লোকাল বাস, সিএনজি ও অটোরিকশা চলে। শহরের ভেতরে রিকশা, ইজিবাইক ও টমটম সহজলভ্য। রুদ্রকর মঠ জেলা শহর থেকে প্রায় ৫ কিমি; মনোহরদী/রুদ্রকর এলাকায় নামলেই পাওয়া যায়। কার্তিকপুর, রাম সাধুর আশ্রম ও চিশতিনগর দরবার শরীফের দিকে নড়িয়া–ভেদরগঞ্জ রুটের বাস বা অটো নিতে হয়; চিশতিনগর পণ্ডিতসার এলাকায়। এসব স্থানীয় ভাড়ার নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তালিকা পাইনি, তাই আগে দরদাম করে নিন।
জেলা শহর ও উপজেলা সদরে কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস আছে। তবে ২০২৫-২০২৬ সালের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ রুম ভাড়া ও যাচাইকৃত ফোন নম্বরের তালিকা পাওয়া যায়নি; পুরনো ডিরেক্টরিতে কিছু নাম থাকলেও সেগুলো হালনাগাদ নয় বলে এখানে উল্লেখ করা হলো না। রাত্রিযাপন করতে চাইলে পৌঁছে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে হোটেল দেখে নিন, অথবা আগে থেকে পরিচিত কারও মাধ্যমে বুক করুন। একদিনের ভ্রমণে ঢাকা থেকে সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় ফেরাও যায়।
পদ্মা–মেঘনার জেলা বলে নদীর তাজা মাছ স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও বাজারে সহজে মেলে। শহরের ভাত-তরকারি হোটেলে সাধারণ বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট রেস্তোরাঁর নাম ও দামের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তালিকা পাইনি, তাই এখানে কোনো রেস্তোরাঁর নাম বা দাম দেওয়া হয়নি; পৌঁছে দেখে অর্ডার করুন।
আদর বেপারীতে শরীয়তপুরের যেসব জায়গা নিয়ে বিস্তারিত লেখা আছে:
| স্থান | উপজেলা | কেন যাবেন |
|---|---|---|
| রুদ্রকর মঠ | সদর (রুদ্রকর) | প্রাচীন হিন্দু মঠ/মন্দির, শহর থেকে প্রায় ৫ কিমি |
| কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি | নড়িয়া | ঐতিহাসিক চৌধুরী বাড়ি, ধ্বংসাবশেষ ও কারুকাজ |
| রাম সাধুর আশ্রম | নড়িয়া (ডিঙ্গামানিক) | শতবর্ষী আশ্রম, রামঠাকুরের জন্মভিটা |
| চিশতিনগর দরবার শরীফ | নড়িয়া (পণ্ডিতসার) | চিশতিয়া তরিকার খানকা, হযরত শাহ সুফি সৈয়দ গোলাম মাওলা হোসাইনী চিশতী (রহ.) |
এছাড়া সুরেশ্বর দরবার শরীফ, পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত ও পদ্মার চর ঘুরে দেখতে পারেন (বাংলা উইকিপিডিয়া)। জেলার সব গাইড একসঙ্গে: শরীয়তপুর লোকেশন পেজ।
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চের শুকনো মৌসুম ঘোরার জন্য সবচেয়ে ভালো; তাপমাত্রা সহনীয় থাকে। গ্রীষ্মে গরম বেশি হতে পারে, আর বর্ষায় (জুন-সেপ্টেম্বর) নদীবেষ্টিত এলাকায় যাতায়াত কঠিন হতে পারে। গড় তাপমাত্রা প্রায় ১২–৩৫°C ও বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২,১০৫ মিমি বলে বাংলা উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ আছে (বাংলা উইকিপিডিয়া; তথ্যসূত্র প্রয়োজন চিহ্নিত)।
| সেবা | নম্বর |
|---|---|
| জাতীয় জরুরি সেবা (পুলিশ, ফায়ার, অ্যাম্বুলেন্স) | 999 |
| শরীয়তপুর জেলা/জেনারেল হাসপাতাল | 01701-248219 (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) |
| পালং মডেল থানা / সদর (ওসি) | 01320-100374 (জুডিশিয়ারি শরীয়তপুর) |
| জাজিরা থানা (ওসি) | 01320-100426 |
| নড়িয়া থানা (ওসি) | 01320-100400 |
| ভেদরগঞ্জ থানা (ওসি) | 0132100452 (সূত্রে এভাবে; নিশ্চিত করে নিন) |
| ডামুড্যা থানা (ওসি) | 01320-100478 |
| গোসাইরহাট থানা (ওসি) | 01320-100504 |
| সখিপুর থানা (ওসি) | 01320-100530 |
| পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা (ওসি) | 01320-100624 |
থানার নম্বরের সূত্র: জুডিশিয়ারি শরীয়তপুর। হাসপাতালের নম্বর: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (নভেম্বর ২০২৬ হালনাগাদ)। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদলালে নম্বর বদলাতে পারে।
সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ৭২–৭৩ কিমি।
২০২৬ সালের বিআরটিএ চার্ট অনুযায়ী নন-এসি বাসে প্রায় ২৪৫ টাকা (৫১ আসন) থেকে ৩১২ টাকা (৪০ আসন); অন্য সূত্রে ২৫০–২৭৭ টাকাও উল্লেখ আছে। কাউন্টারে মিলিয়ে নিন।
যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কদমতলী ও গুলিস্তান থেকে; সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত সার্ভিস আছে।
না, জেলায় সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশন নেই।
রুদ্রকর মঠ, কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি, রাম সাধুর আশ্রম, চিশতিনগর দরবার শরীফ; চাইলে সুরেশ্বর দরবার শরীফ ও পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত।
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ; বর্ষায় নদীবেষ্টিত এলাকায় যাতায়াত কঠিন হতে পারে।
Leave a Comment