কেওক্রাডং

21
ট্রিপ
৩ দিন
খরচ
৫২০০ টাকা
ট্রেকিং গ্রেড

কেওক্রাডং (Keokradong) বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যা বাংলাদেশের বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। কেওক্রাডং এর উচ্চতা ৩১৭২ ফুট। এক সময় এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ছিল। যদিও আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সাকাহাফং বা মদক তুং। সাদা মেঘে ঢাকা থাকায় দূর থেকে কেওক্রাডংয়ের চূড়াকে ধোয়াটে মনে হয়। বাতাসের ঝাপটায় দাঁড়ানো দায়। বৃষ্টি–বাতাস-মেঘ সময় সময় দখল নেয় চূড়ার আশপাশ।

কেওক্রাডং যাওয়ার উপায়

কেওক্রাডং যেতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে বান্দরবান। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি ছেড়ে যায়। যেমন শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন- এর যেকোনো একটি বাসে চড়ে আপনি বান্দরবানের যেতে পারেন। রাত ১০ টায় অথবা সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে এসব বাস বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নন এসি বাসে জন প্রতি ভাড়া ৫৫০ টাকা। এসি ৯৫০ টাকা।

ট্রেক সারসংক্ষেপ
  • উচ্চতাঃ ৩১৭২ ফুট
  • ট্রিপ সময়কালঃ ৩-৪ ঘন্টা
  • বেইসক্যাম্পঃ বগালেক
  • সেরা সময়ঃ আগস্ট থেকে নভেম্বর

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে পারেন। বদ্দারহাট থেকে বান্দারবানের উদ্দেশে পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের বাস যায়। এসব বাসে জনপ্রতি ২২০টাকা ভাড়া রাখা হয়।

বান্দরবান শহর থেকে ১৫ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে রুমা বাজার যাওয়ার বাসস্ট্যান্ড। প্রথম বাস সকাল ৮ টায়। প্রথম বাসটাই ধরার চেষ্টা করবেন। ভাড়া ১১০ টাকা। সময় লাগবে ২.৫ থেকে ৩ ঘন্টা। রুমা বাজার নেমে গাইডের সাথে আর্মি ক্যাম্পে সব দরকারি কাগজপত্রের কাজ শেষ করবেন। আর্মি ক্যাম্পের কাজ শেষে ল্যান্ডক্রুজার জিপ/চান্দের গাড়ি নিয়ে বগালেক যেতে হবে। ল্যান্ড ক্রুজারে ধারন ক্ষমতা ৭/৮ জন। ভাড়া ১৮০০ টাকা। চান্দের গাড়ির ভাড়া ২০০০ টাকা, ১৪/১৫ জনের মত যেতে পারবেন।

বগালেকে আর্মি ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিয়ে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে। স্যালাইন, শুকনা খাবার, পানি নিয়ে নিবেন। প্রায় ৮/৯ কিমি হাইক এবং বগালেক থেকে কেওক্রাডং এর এলিভেশন ডিফারেন্স প্রায় ২০০০ ফিট। হাটার উপর ডিপেন্ড করে ৪ ঘন্টার আশেপাশে সময় লাগবে কেওক্রাডং পৌছাতে।

Time needed: 3 days.

  1. ঢাকা থেকে বান্দরবান

    রাতের বাসে ঢাকা থেকে বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে যাত্রা।

  2. বান্দরবান থেকে বগা লেক

    সকালে বান্দরবান নেমে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে নিন। নাস্তা শেষ করে জীপ নিয়ে বান্দরবান থেকে রূমা বাজার এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু। রুমা বাজার পৌঁছে গাইডের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে চান্দের গাড়ি করে বগালেক চলে যাবেন। এদিন মূলত বগা লেকে রিলাক্স করে কাটিয়ে দিন।

  3. বগা লেক থেকে কেওক্রাডং

    খুব সকালে উঠে নাস্তা সেরে ৭ টার মধ্যে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন। এইদিন মূলত ৪-৫ ঘন্টা পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটতে হবে। পথ চলতে চিংড়ি ঝর্ণা এবং ঝিরি পথ এর দেখা মিলবে। উঁচু নিচু পাহাড় পারি দিয়ে দুপুরের মধ্যে পৌঁছে যাবেন কেওক্রাডং। এদিন কেওক্রাডং এ রিলাক্স করে কাটিয়ে দিন।

  4. কেওক্রাডং থেকে বান্দরবান

    সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিন। দার্জেলিং পাড়ায় পৌঁছে সকালের নাস্তা সেরে বগা লেক চলে যান। বগালেকে যাত্রা বিরতি দিয়ে রুমা পৌঁছে লাঞ্চ সেরে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিন। রাতের বাসে বান্দরবান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন।

কেওক্রাডং থাকার কটেজ এবং বুকিং

কেওক্রাডং পাহাড়ে রাতে থাকার জন্যে কটেজ আছে। এছাড়াও কেওক্রাডং যাওয়ার পথে দার্জিলিং পাড়াতেও রাত্রি যাপনের জন্যে কটেজ রয়েছে। নিচে কেওক্রাডং এর কটেজের ভাড়ার তালিকা এবং ফোন নাম্বার দেয়া হলো –

  • কেওক্রাডং টুরিস্ট মোটেল – এই কটেজটি কেওক্রাডং এর চূড়ায় অবস্থিত। এখান থেকে পাহড়ের ভ্যালির অসাধারন ভিউ এর জন্যে এর বুকিং এর জন্যে রীতিমত সংগ্রাম করতে হয়। গন রুমের এসব কটেজে থাকতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত যা পর্যটকদের ভিড়ের উপর নির্ভর করে। কটেজের বুকিং এর জন্যেঃ +৮৮০১৮৮০৩২০৯৩১। এখানে খাবার ব্যবস্থাও আছে। প্রতিজন খাবারের খরচ পড়বে ১৩০-১৫০ টাকা যাতে থাকবে ডিম-ভাত, সাথে যে কোন ভর্তা এবং ডাল। পাহাড়ি মুরগি থাকে যদি অর্ডার করে নিন আগেই। এখানে পানির অনেক সংকট। হাত মুখ ধুয়ার পানি ফ্রিতে পেলেও গোসল করার জন্য আপনাকে ৫০ টাকা প্রতি বালতি পানি কিনে ব্যাবহার করতে হবে।
  • ক্লাউড হিল এগ্রো রিসোর্ট – এই কটেজটি দার্জেলিং পাড়ায় অবস্থিত। এখানে থাকতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ১৩০-১৫০ টাকা প্রতি রাত। বুকিং এর জন্যে যোগাযোগ করতে চাইলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে হবে – +৮৮০১৮৬৩১১০৬২৩+৮৮০১৫৩১৭০১৬৫৫। এখানেও খাবারের ব্যবস্থা আছে। প্রতিজন খাবারের খরচ পড়বে ১২০-১৩০ টাকা যাতে থাকবে ডিম-ভাত, সাথে যে কোন ভর্তা এবং ডাল।

এছাড়া যারা কেওক্রাডং এ রাত্রি যাপন করতে চান না তাঁরা বিকেলে ফিরে বগা লেক এ রাত্রি যাপন করতে পাবেন। এছাড়া গাইডই আপনার জন্য কটেজ ঠিক করে দিবে। ভাড়া জনপ্রতি ১২০-১৫০ টাকা। বিভিন্ন কটেজ আছে এখানে একতলা দু তলা। তবে সিয়াম দিদির কটেজের ভালো নাম ডাক আছে।

কোথায় খাবেন

আপনি যে কটেজে থাকবেন সেখানেই খেতে পারেন। অথবা গাইডকে বললে মুরগীর ব্যবস্থা করে দিবে চাইলে নিজেরাও রান্না করতে পারেন। খাবার জনপ্রতি তারা নেই ১০০-১২০ টাকা। বগালেক ছাড়াও আপনি কেওক্রাডং এ দুপুরে খেতে পারবেন খাবারের নিয়ম মান দাম একই বগালেকের মত। এছাড়া বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাবার পথে কয়েকটা পাড়া পাবেন সেখানেও কিছু খাবারের দোকান পাবেন যেমন চা , কলা, রুটি ও পাহাড়ি ফল পেপে, কমলা খেতে পারবেন।

কেওক্রাডং এর পাদদেশে দার্জিলিং পাড়ায় পোছাতে প্রায় বিকাল হয় সেখানে আইরিন দিদির হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন। অসাধারন রান্না আর আতিথেয়তা পাবেন। কি খাবেন তা গাইডকে আগে থেকে বলে রাখবেন, গাইড দিদির সাথে কথা বলে সব ঠিক করে রাখবে।

কেওক্রাডং ভ্রমন খরচ

★ ঢাকা থেকে বান্দরবন, নন এসি বাস = ৬২০ টাকা

১ম দিন:(বান্দরবন থেকে রুমা থেকে বগালেক যাবার দিন)

  • বান্দরবনে সকালের নাস্তা = ৫০ টাকা (পরটা+ সবজি/ডাল)
  • বান্দরবন থেকে রুমাবাজার = ৪০০০/৮ = ৫০০ টাকা ( চান্দেরগাড়ি) অথবা ১২০ টাকা (বাসে)
    বাস/চান্দের গাড়িতে যেতে সময় লাগে: ৩ ঘন্টা
  • রুমাতে দুপুরের খাবার = ১০০ টাকা (ভাত+মাছ/মুরগি+২ ধরনের ভর্তা/ভাজি+ডাল)
  • রুমাবাজার থেকে কমলাবাজার = ২৫০০/৮ = ৩১২ টাকা (চান্দেরগাড়ি রিজার্ভ ) অথবা ২০০ টাকা (চান্দেরগাড়ি লোকাল)
    চান্দের গাড়িতে যেতে সময় লাগে: ১.৩০ মিনিট
  • বগালেকে রাতের খাবার = ১২০ টাকা (ভাত+ডিম+সবজি+ডাল)
  • বগালেকে থাকা = ১৫০ টাকা

২য় দিন:(বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাবার দিন)

  • বগালেকে নাস্তা = ১২০ টাকা (খিচুরি+ডিম ভাজি+আলু ভর্তা+ডাল+পিয়াজের ভর্তা)
  • কেওক্রাডং এ দুপুরের খাবার = ১৩০ টাকা (ভাত+ডিম+ডাল+ভর্তা)
  • কেওক্রাডং এ রাতের খাবার = ১৩০ টাকা (ভাত+ডিম+ডাল+ভর্তা)
  • কেওক্রাডং থাকা = ২০০ টাকা

৩য় দিন: (কেওক্রাডং থেকে ফেরার পথে)

  • দার্জিলিং পাড়ায় হালকা নাস্তা=৪০ টাকা
  • কমলাবাজার থেকে রুমাবাজার = ২৫০০/৮ = ৩১২ টাকা (চান্দেরগাড়ি রিজার্ভ ) অথবা ২০০ টাকা (চান্দেরগাড়ি লোকাল)
    চান্দের গাড়িতে যেতে সময় লাগে: ১.৩০ মিনিট
  • রুমাতে দুপুরের খাবার = ১০০ টাকা (ভাত+মাছ/মুরগি+২ ধরনের ভর্তা/ভাজি+ডাল)
  • রুমাবাজার থেকে বান্দরবন = ৪০০০/৮ = ৫০০ টাকা ( চান্দেরগাড়ি) অথবা ১২০ টাকা (বাসে)
    বাস/চান্দের গাড়িতে যেতে সময় লাগে: ৩ ঘন্টা
  • বান্দরবনে রাতের খাবার = ২০০ টাকা (ভাত+ ডাল+মুরগি+ভর্তা আমরা এই বেলা ইচ্ছা করে বেশি খরচ করে তাজিংডং হোটেল এ খাই তাই খরচটা বেশি আসে)
  • এছাড়া, গাইড খরচ ৬০০ টাকা প্রতি গ্রুপের জন্যে।
  • এর সাথে আপনাদের কাগজপত্রের ফটোকপির জন্যে অল্প কিছু খরচ হবে।

★ বান্দরবন থেকে ঢাকা = ৬২০ টাকা

এছাড়া বান্দরবান থেকে চান্দের গাড়িতে সরাসরি বগালেক যাওয়া আসা, মাঝে একদিন বিরতিতে আপনাকে গুনতে হবে ১২০০০ থেকে ১৪০০০ টাকা।

কেওক্রাডং এর গাইড ও চান্দের গাড়ির নাম্বার

গাইড খরচ বগালেক পর্যন্ত ১৫০০ টাকা, কেওক্রাডং পর্যন্ত ২৬০০ টাকা। সাথে তাদের থাকা খাওয়ার খরচ আপনাকে দিতে হবে। বগালেক একরাত আর কেওক্রাডং একরাত গাইডের খাওয়া বাদে ২৬০০ টাকা দেওয়া লাগবে।

অনুমতি কোথা থেকে নিতে হবে

কেওক্রাডং যেতে হলে আপনাকে অনুমতি নিতে হবে ৫ জায়গা থেকে –

  • রুমা বাজার গিয়েই সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ফরম পূরন করে অনুমতি নিতে হবে
  • রুমা বাজার পুলিশ ফাড়ি থেকে অনুমতি নিতে হবে
  • বগালেকে যাবার সময় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে
  • কেওক্রাডং যাবার আগে বগালেকের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আবারো অনুমতি নিতে হবে
  • কেওক্রাডং গিয়ে আবারো ওখানকার সেনাবাহিনীর কাছে থেকে অনুমতি নিতে হবে।
  • ফেরত আসার সময় আবার একই স্থানে গিয়ে সাক্ষর দিয়ে আসতে হবে।

তবে চিন্তার কিছু নেই। এ সকল কাজগুলো আপনার গাইড করবে। আপনি শুধু নিজের নাম, ফোন নাম্বার আর সাক্ষর দিবেন।

কিছু দরকারি তথ্য

  • রুমা বাজারে থাকার জন্য কিছু হোটেল আছে, তবে দিনের মধ্যেই বগালেক চলে যাওয়া উচিত, রুমা বাজারে অবশ্যই বিকাল ৪ টার মধ্যে পৌছাতে হবে, ৪ টার পরে সেনাবাহিনী আর নতুন কোন চান্দের গাড়ি বগা লেক এর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার অনুমতি দেয় না। রুমা বাজার থেকে চান্দের গাড়িতে ৪ ঘণ্টা লাগে বগা লেক যেতে।
  • নিয়ম অনুযায়ী রুমা বাজার থেকে পাহাড়ে কোথাও বেড়াতে যেতে হলে আপনাকে গাইড নিতে হবে। বাজারে গাইড সমিতি আছে তাদের কাছে গেলেই গাইড পাবেন। গাইডকে সাথে নিয়ে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি তথ্য নিবন্ধন করতে হবে। বড় দল গেলে আগে থেকে একটি কাগজে সবার নাম, ঠিকানা, পেশা, ফোন নম্বর ও বাসায় যোগাযোগের নম্বর সহ একটি তালিকা আগে থেকে প্রস্তুত করে নিয়ে যেতে পারেন।
  • বান্দরাবন থেকে রুমা উপজেলা সদরে যেতে খরচ হবে জন প্রতি ১১০/- অথবা পুরো জীপ ভাড়া করলে ৩০০০-৪০০০/- আর রুমা থেকে বগালেক যেতে জনপ্রতি ৮০-১০০/- অথবা পুরো জীপ ভাড়া করলে ২২০০-২৫০০/- পর্যন্ত।
  • শীতকালে গাড়ি নিয়েই কেওক্রাডং চলে যাওয়া যায় কিন্তু বর্ষায় পায়ে হেটে যেতে হবে।

দেশের সর্বোচ্চ পর্বত চূড়া গুলোর মধ্যে কেওক্রাডং এখনো পর্যটকদের আকর্ষনের শীর্ষে রয়েছে এর কিছু ব্যাতিক্রমি বৈশিষ্টের জন্যঃ

  • সহজ আরোহন (বগালেক থেকে ৩-৪ ঘন্টার সহজ ট্রেকে চূড়ায় পৌছানো যায়)।
  • কেওক্রাডং এর চূড়া থেকে দেশের বেশিরভাগ হাজার মিটার চূড়াই দেখা যায়।
  • প্রশসনের অনুমতি, প্রশস্ত জায়গা, কটেজে খাওয়া-দাওয়া ও রাত্রি যাপনের সুবিধা।
  • খুব ভোরে মেঘের মেলায় নিজেকে হারিয়ে আবার নিজেকেই অন্যভাবে খুজে পাওয়া।
×

যেখানে সেখানে পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলবেন না। প্রকৃতিকে নিজের মত থাকতে দিন।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. সব পড়ে মনে হল কেউক্রাডং একটি স্বপ্নের ভুবন।

  2. Called him but found he is from Manikganj. Please correct the number of Ali or delete it.

  3. শীতের সময় গেলে কষ্ট কম হবে জোক থাকবে না, রাস্তা ও ভাল থাকবে তবে ঝর্ণা পাবেন না, শীতে ঝর্ণা শুকায় যাই,মেঘের সৌন্দর্য কম থাকবে। এক কথা বর্ষার সময় পাহাড়-ঝর্ণা যৌবন ধারণ করে। তবে বর্ষার সমই ট্রকিং বিপদ জনক এবং অতি কষ্টকর।

  4. super.

  5. বাংলাদেশে যে সকল পাহাড় চুড়া আছে তার মধ্যে কেওকারাডং ভ্রমন তুলনামুলক ভাবে সহজ ও নিরাপদ। তাছাড়া চুড়াটির মুল বৈশিষ্ট্য এখান থেকে আমাদের দেশের সকল উচু উচু পাহাড়ের সাক্ষাৎ মেলে খুব সহজেই। ৩১৭২ ফিটের চুড়াটির উপর থেকে পাখির চোখে সকল দিগন্ত রেখা পরিষ্কার ভাবে দেখা যায়।

  6. কেউ যদি আমায় জিজ্ঞেস করে সব থেকে বেশি কষ্ট কোথায় হয়েছে?
    – কেওক্রাডং ♥
    সবথেকে বেশি শীত কোথায় লেগেছে?
    -কেওক্রাডং ♥
    সবথেকে বেশি বাতাস কোথায় পেয়েছ?
    -কেওক্রাডং ♥
    সবথেকে বেশি তারা কোথায় দেখেছ?
    -কেওক্রাডং ♥
    সবথেকে বেশি সৌন্দর্য কোথায় দেখেছ?
    -কেওক্রাডং ♥
    মন কেড়ে নিয়েছে কে?
    -কেওক্রাডং ♥

    পৃথীবি এতসুন্দর হতে পারে হয়ত ৩১৭২ ফুট উপরে না উঠলে বুঝা যেত না, সূর্যাদয় ছিল সব থেকে অপূর্ব দৃশ্য! বন্ধু ভোরে ডাকলে উঠিনি কিন্তু সে যখন কটেজের দরজা খুলে দিল, যে মায়াবী আলো প্রবেশ করে সেটা চোখে লাগা মাত্র লাফ দিয়ে উঠে পড়ি! জীবণের শ্রেষ্ঠ সকালটা হয়ত সেখানেই কাটিয়ে এসেছি! ভোর এত সুন্দর হতে পারে, না দেখলে প্রকাশ করা সম্ভব না। কুয়াশা আর মেঘে ঢাকা পাহাড় আর আকাশ যেন শিল্পীর তুলেতে আকা, নাহ এরচেয়ে বেশি মনোরম মনে হয়! বিশ্বাস হচ্ছিল না ব্যাপারগুলো ♥ আর সূর্যাস্তের সময় আস্তে আস্তে সূর্য্য টা যেন পাহাড়ের কূল বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে.. অপূর্ব ♥

    না দেখলে বুঝানো সম্ভব নয়, আর রাতের আকাশ ভরা রাতার মেলা মায়াবী কল্পনার জগতে নিয়ে যায় ♥ এত তারা থাকতে পারে আগে বুঝিনি, রাত ১০ টায় আকাশ ভরা তারা দিকে তাকিয়ে আছি আর সাথে ঝোড়ো বাতাসে থড়থড় করে কাঁপছি! বেস্ট ♥ জীবণটাকে তখন অনেক বেশি সুন্দর মনে হয় ♥

    বেঁচে থাকুক কেওক্রাডং এর সৌন্দর্য, পাহাড়ের মায়াবী রুপ ♥