আলাদীন’স পার্ক (Aladin’s Park) ঢাকার ধামরাই উপজেলায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্র। শহরের কোলাহল আর যানজট থেকে দূরে, সবুজ প্রকৃতির মাঝে প্রায় ৪০ বিঘা জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই পার্ক, রিসোর্ট ও ওয়াটার পার্ক। এক দিনের ছুটিতে পরিবার, বন্ধু বা অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে ঘুরে আসার জন্য এটি ঢাকার কাছের একটি পরিচিত গন্তব্য।
একই জায়গায় এখানে পাবেন রাইড, ওয়াটার পার্ক, পিকনিক স্পট, কনভেনশন হল এবং রাত কাটানোর জন্য রিসোর্ট বা কটেজ। তাই এটি শুধু একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নয়, বরং একটি “ডে-আউট ও ওভারনাইট” প্যাকেজ গন্তব্য।
পার্কটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের সিতি পল্লী বাজার এলাকায় অবস্থিত।
পার্কটি মূলত তিনটি অংশে ভাগ করে ভাবা যায়: ড্রাই পার্ক (রাইড), ওয়াটার ওয়ার্ল্ড এবং রিসোর্ট ও ইভেন্ট স্পেস।
বড় ও ছোট, দুই বয়সের জন্যই বিভিন্ন রাইড রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
গরমের দিনে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে। এখানে রয়েছে পুল ওয়েভ, স্লিপার স্লাইড এবং বাচ্চাদের জন্য তিনটি আলাদা পুল। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক চেঞ্জিং রুম ও লকারের ব্যবস্থা আছে, ফলে পরিবার নিয়ে গেলে অসুবিধা কম হয়।
রাত কাটানোর জন্য নন-এসি ও এসি কটেজ বা রুম পাওয়া যায়। এছাড়া বড় পিকনিক স্পট এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কনভেনশন হল আছে, যা কর্পোরেট ট্যুর, স্কুল পিকনিক, জন্মদিন বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য উপযোগী।
আলাদীন’স পার্কে সময়ভেদে বিভিন্ন প্যাকেজ চালু থাকে। সাম্প্রতিক একটি ভ্রমণ-গাইড অনুযায়ী (২০২৫ সালের শেষ দিকে হালনাগাদ করা) প্রচলিত প্যাকেজগুলো ছিল:
| প্যাকেজ | মূল্য (জনপ্রতি) |
|---|---|
| এন্ট্রি + ওয়াটার পার্ক | ৪০০ টাকা |
| এন্ট্রি + ওয়াটার পার্ক + অল রাইড | ৭০০ টাকা |
| রিসোর্ট (নন-এসি) | ৩,৫০০ টাকা |
| রিসোর্ট (এসি) | ৪,৫০০ বা ৫,৫০০ টাকা |
গুরুত্বপূর্ণ: টিকিটের দাম ঈদ, শুক্রবার-শনিবার, শীত মৌসুম ও বিশেষ অফারে পরিবর্তন হতে পারে। পুরোনো কিছু ব্লগে ২০০, ৩০০ বা ৬৫০ টাকার মতো ভিন্ন দাম দেখা যায়, যা এখন নাও চলতে পারে। যাওয়ার আগে অবশ্যই ফোন করে বা ফেসবুক পেজে চূড়ান্ত দাম ও প্যাকেজ নিশ্চিত করে নিন।
গুলিস্তান ও গাবতলী থেকে ধামরাইগামী বাস পাওয়া যায়। ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা বাস স্ট্যান্ডে নেমে লোকাল অটো, সিএনজি বা ইজিবাইকে সিতি পল্লী বাজার সংলগ্ন আলাদীন’স পার্কে পৌঁছানো যায়।
সাভার থানা স্টেশন রোড থেকে সাভার নামা বাজার, বংশী নদীর নতুন ব্রিজ পার হয়ে সিতি পল্লী ও কুল্লা ইউনিয়নের দিকে গেলে আলাদীন’স পার্কে পৌঁছানো যায়। মূল সড়ক থেকে এই অংশটুকু প্রায় ৫.৫ কিলোমিটার।
দলবেঁধে গেলে মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার সবচেয়ে সুবিধাজনক। সকাল সকাল রওনা দিলে যানজট এড়ানো যায় এবং পার্কে বেশি সময় কাটানো যায়।
আলাদীন’স পার্কে যাওয়ার পথে বা পরে সময় থাকলে আশপাশের কিছু জায়গাও ঘুরে দেখতে পারেন:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায়ও আলাদীন’স পার্কের একটি শাখা রয়েছে। সেখানকার প্যাকেজ ও যোগাযোগ নম্বর ধামরাই শাখা থেকে আলাদা, তাই ভুল শাখায় ফোন বা বুকিং না করতে সতর্ক থাকুন।
ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের সিতি পল্লী বাজার এলাকায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কাছে।
প্যাকেজভেদে দাম ভিন্ন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এন্ট্রি ও ওয়াটার পার্কের প্যাকেজ ৪০০ টাকা এবং ওয়াটার পার্কসহ সব রাইডের প্যাকেজ ৭০০ টাকা ছিল। যাওয়ার আগে চূড়ান্ত দাম নিশ্চিত করুন।
হ্যাঁ, এখানে নন-এসি ও এসি কটেজ বা রুম রয়েছে।
গুলিস্তান বা গাবতলী থেকে ধামরাইগামী বাসে ঢুলিভিটা বাস স্ট্যান্ডে নেমে অটো, সিএনজি বা ইজিবাইকে সিতি পল্লী বাজারে যেতে হবে। নিজস্ব গাড়িতে গেলে সাভার হয়েও যাওয়া যায়।
হ্যাঁ, কিডি রাইডস জোন, টয় ট্রেন এবং ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে বাচ্চাদের জন্য তিনটি আলাদা পুল রয়েছে।
হ্যাঁ, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক চেঞ্জিং রুম এবং লকার আছে।
আলাদীন’স পার্ক ঢাকার কাছেই এক দিনে ঘুরে আসার মতো একটি সাশ্রয়ী ও পরিবারবান্ধব গন্তব্য। রাইড, ওয়াটার পার্ক, পিকনিক ও রিসোর্ট, সব একই জায়গায় পাওয়ায় এটি ছুটির দিনের পরিকল্পনায় একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। ভ্রমণের আগে টিকিটের দাম ও সময়সূচি যাচাই করে নিলে আপনার দিনটি আরও আনন্দদায়ক হবে।
Leave a Comment