আনারসের হাট, জলছত্র

Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

পুরো মধুপুর জুড়েই আনারসের প্রচুর চাষ হয়। মধুপুরের অরুণখোলা, ষোলাকুঁড়ি, আউশনাড়া ইউনিয়নে আনারসের সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। এসব এলাকায় চাষ হওয়া আনারসের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় আনারস হল জলডুগি। এছাড়া বর্তমান সময়ে জায়ান্টকিউ আনারস চাষেও ঝুঁকেছেন এ এলাকার চাষীরা। আনারসের বাগান দেখার আগে দেখতে হবে আনারসের হাট । এ এলাকার সবচেয়ে বড় হাটের নাম জলছত্র। ভরা মৌসুমে এ হাট ২৫ মাইলের মোড় থেকে অন্যদিকে পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে।

সাত সকালেই সরগরম হয়ে যায় মধুপুরের আনারসের হাট যা জলছত্র হাট নামে পরিচিত। প্রত্যুষে হাটুরের দল হাজির হয়ে যায় জলছত্র বাজারে। কেউ বাইসাইকেলে ঝুলিয়ে, কেউ ঘোড়ার গাড়িতে, কেউ পিকআপ ভ্যানে করে ঠেলে-ঠুলে নিয়ে আসছে আনারস। ২৫ মাইল থেকে সাইকেলে করে বের হয়ে আসছে ভ্যানবোঝাই আনারস, অরুণখোলার দিক থেকে ঘোড়ার গাড়ি করে আসছে আনারস। ষোলাকুঁড়ি থেকে সাইকেলের দুই পাশে আনারস ঝুলিয়ে সাইকেল হাতে টেনে নিয়ে আসছে। দূর-দূরান্ত থেকে জড়ো হওয়া পাইকাররা দুই পা চালিয়ে রাস্তার মুখে ঘিরে ধরছে বিক্রেতাদের। যদি কম দামে সবার আগেই কিনে ফেলা যায়, সে আশায়। শালবনঘেঁষে দূর-দূরান্তের গ্রামের বাগান থেকে হাটুরের দল ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশা-ভ্যানে ‘রসে টইটম্বুর গাছপাকা’ আনারস নিয়ে ঝড়ো হয় জলছত্রের হাটে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা আসে আনারস কিনতে। সকাল ৮টা নাগাদ কানায় কানায় পূর্ণ হাট। এখানে-ওখানে স্তূপ করে রাখা আনারস। দূরের পাইকাররা কিনছে আর পিকআপে বোঝাই করে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিকভাবে আষাঢ়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শ্রাবণের শেষান্তে আনারস পাকার মৌসুম। তবে সারা বছরই অল্প-স্বল্প আনারস বাজারে পাওয়া যায়। গারো বাজার, মধুপুর বাজার ও ২৫ মাইল বাজারে আনারসের বেচাকেনা হলেও জলছত্র বাজারের পাশঘেঁষে ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে বসে আনারসের সবচেয়ে বড় হাট। এছাড়া এ হাটে সারা বছরই প্রচুর কলা বেচাকেনা হয়। মৌসুমভেদে আখ, কাঁঠাল, আম, জলপাই, কামরাঙ্গাও প্রচুর মিলে।

বাজার দেখা শেষ করে যেতে পারেন আনারসের বাগানের দিকে। এখানে মধুপুরের শালবন লাগোয়া গ্রামগুলোতে শুধুই আনারসের বাগান। এ সময়ে বাগানগুলোতে পাকা আনারসের আধিক্য। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের এসব আনারসের বাগানে বেড়াতে ভালো লাগবে।

কখন যাবেন আনারসের বাজারেঃ

প্রাকৃতিকভাবে আষাঢ়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শ্রাবণের শেষ অবধি আনারসের ভরা মৌসুম। প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও মঙ্গলবার হাট বসে মধুপুরের জলছত্রে।

কীভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে মধুপুর যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। ঢাকার মহাখালি বাস স্টেশন থেকে বিনিময় ও শুভেচ্ছা পরিবহনের বাস যায় মধুপুর। এছাড়া মহাখালী থেকে যেকোনো বাসে চড়ে টাঙ্গাইল সদরে এসে সেখান থেকেও সহজেই মধুপুর আসতে পারেন। মধুপুর সদর থেকে অটো রিকশা ভাড়া করে আসতে হবে জলছত্র বাজার।

কোথায় থাকবেনঃ

দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায় মধুপুরের আনারসের হাট থেকে। তবে আপনি যদি মধুপুরে রাত্রিযাপন করতে চান সেক্ষেত্রে মধুপুর উপজেলা সদরে আবাসিক হোটেল হল-হোটেল আদিত্য, হোটেল সৈকত, হোটেল ড্রিম টাচ ইত্যাদিতে অবস্থান করতে পারেন। এসব হোটেলে ২শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় কক্ষ আছে। এছাড়া মধুপুরের কাছাকাছি থাকার ভালো জায়গা ধনবাড়ি নবাব প্যালেস বাংলো।

এছাড়া পূর্বানুমতি নিয়ে বনবিভাগের কোনো বিশ্রামাগারে থাকতে পারলে আপনার ভ্রমণ পরিপূর্ণ হবে। জাতীয় এ উদ্যানের ভেতরে জলই, মহুয়া, বকুল, চুনিয়া কটেজ ছাড়াও দোখলা বন বিশ্রামাগারে রাত যাপন করতে সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর ০১৯১৪৫১৭২৫৬) অথবা টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কার্যালয় (০৯২১-৬৩৫২৪) থেকে অনুমতি নিয়ে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending