ট্যাগ

Kerala

৩টি লেখা

Browse

এই ট্যাগের লেখা

একই বিষয়ের সব গাইড একসাথে।

মুন্নার

মুন্নার (Munnar) শহরটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ মিটার উচ্চতায় কেরালায় অবস্থিত একটি শৈলশহর। মুন্নার শহরটি ছিল তদানীন্তন…

About

পরিচিতি

কেরালা নামের উৎপত্তির বিশেষ কোন তথ্য নেই। তবুও বলা যায় মালয়ালম শব্দ “কেরা” এবং “লাম” থেকে যার অর্থ “নারকেল” এবং “দেশ/ভূমি”, অর্থাৎ নারকেলের দেশ বা ভূমি। প্রায় ৩৯ হাজার বর্গ কিঃমিঃ আয়তনের এই পুরো প্রদেশ জুড়েই প্রকৃতি সাজিয়ে রেখেছে তার রুপের পসরা, যেখানে কার্পণ্যের বিন্দুমাত্র খুঁজে পাওয়াটাও বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝে জমাট বাঁধা লেকের নীল পানিতে প্যাডেল নৌকায় ভাসতে ভাসতে, তরঙ্গের মত সাজানো চা-বাগানের সবুজ গালিচায় হাত বুলিয়ে হেঁটে বেড়াতে, ব্যাকওয়াটারের ধীরস্থির পানিতে ভাসমান বাড়ির বারান্দা থেকে সামনের উন্মুক্ত জলরাশির বিশালতায় উদাসীন হয়ে, ঘন গাছ-গাছালীতে আচ্ছাদিত বনে আলো-আঁধারির অদ্ভুত গা ছমছমে পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে আবার কখনোবা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় চলতে চলতে হটাৎই অভিমানে পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা মেঘের শুভ্রতায় হারিয়ে অথবা কয়েকশো ফুট উঁচু গিরিখাত থেকে প্রবল ক্রোধ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া পানির তোড়ে সৃষ্ট অতিদানবীয় ঝর্নার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষুদ্রতা অনুধাবনে, কিংবা গোধূলির শেষ বেলায় ফোর্টের বাঁধানো বেঞ্চিতে উন্মত্ত আরব সাগরের প্রলাপ শুনতে শুনতে আপনি নিজেই সেই বাড়াবাড়ি নামকরণের কারনটা উপলব্ধি করতে পারবেন। প্রকৃতির এত এত বৈচিত্র্যময়তার উদার নিদর্শন আপনাকে বেধে ফেলবে সম্মোহনীর মায়াজালে।

আয়তনের হিসাবে কিংবা ম্যাপের সাইজ দেখে কেরালাকে ছোট মনে করার কোন কারণ নেই কেননা পুরো কেরালাকে ভালোভাবে দেখতে চাইলে অন্ততপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগবে। তবে সময় এবং বাজেট কিংবা পৃথক স্বল্পতায় যারা ৫-৬ দিনে ট্যুর শেষ করতে চান তারা মূলত মুন্নার, ত্রিসুর, থেক্কাডি, আলেপ্পি, এরনাকুলাম, কন্যাকুমারীকে ঘিরে তাদের ট্যুর প্লান সাজান। পাহাড়, নদী, সাগর আর জঙ্গলের অসাধারণ কম্বো প্যাকেজের কেরালা ঘোরার খরচটাও কিন্তু সাধ্যের ভেতরেই। কেরালায় ৫/৬ রাত থাকা-খাওয়া ও ঘুরাঘুরিসহ ঢাকা-ঢাকার পুরোটাই সেরে ফেলা সম্ভব ১৫-২০ হাজার টাকার ভেতরে যদি কলকাতা-কেরালার ভ্রমণ মাধ্যম হয় ট্রেন। 

কিভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে কেরালা যেতে চাইলে প্রথমেই যেতে হবে কোচি অথবা এর্ণাকুলাম শহরে যা রেলপথে প্রায় ২৪০০ কিমি আর আকাশপথে ১৯০০ কিমি। কোচি ও এর্ণাকুলাম যমজ শহর। ট্রেনে নামতে হবে এর্ণাকুলাম ষ্টেশনে। সময় লাগবে প্রায় আটচল্লিশ ঘণ্টা। সেটা পঞ্চান্ন/ষাটও হতে পারে। আর আকাশপথে সময় লাগার কথা সাড়ে তিনঘণ্টা কিন্তু যেহেতু মাঝখানে ব্যাঙ্গালোরে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে প্লেন পাল্টে কোচির প্লেন ধরতে হয় তাই সাকুল্যে সময় লাগে প্রায় সাত ঘণ্টা।