সুন্দরবন

ভালো লেগেছে
3
ট্রিপ
৩ দিন
খরচ
১০০০০ টাকা

সুন্দরবন (Sundarbans) পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, UNESCO World Heritage Site. শহরের কোলাহলে আপনি যখন অনেকটাই একঘেয়েমি, ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবন থেকে। কথায় আছে “Talk to the forest because the forest always talks to you”। পুরো বনটিতে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, ছোট ছোট নদী, খাল-বিল, কাদাযুক্ত চর। নিজ চোখে খোলা পরিবেশেই দেখতে পাবেন বাঘ, হরিন, কুমির, বানর, অজগর সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপ।

সুন্দরবন ট্যুরে যা যা দেখবেন

হাড়বাড়িয়া – এখানে প্রচুর বানর দেখতে পাবেন সেই সাথে সুন্দরী গাছ।

জামতলা সি বিচ – ভোরে শিপ থেকে নেমে ৩০ মিনিটের মত নির্জন বনের ভিতর ট্রেকিং করে যেতে হবে এই সি বিচে।বনের ভিতর চোখে পড়বে বাঘের পায়ের ছাপ। ২০১৮ সালের বাঘশুমারীর রিপোর্ট অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আনুমানিক ১১৪ টি। ভাগ্য খুব বেশী ভাল না হলে বাঘের দেখা পাওয়াটা দুষ্কর। বিচে এসেই শুরুতেই যেটা নজরে আসবে সেটা হল সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। যদিও সেটা এর সৌন্দর্যকে কোনভাবে ঢাকতে পারেনি। মনে হবে “Sometimes disaster brings it’s inner beauty”

কটকা অভয়ারণ্য – হাড়বাড়িয়া থেকে অনেকটা ন্যাচারাল লাগবে এই জায়গাটিতে। প্রচুর হরিণ দেখতে পাবেন এখানে। দল বেধে আসে এরা। চাইলে গাছের ডাল ভেঙে ওদের খাওয়াতে পারবেন। সেই সাথে দেখবেন বানর, বানরদের ফল খাওয়াতে পারেন। এখানে কোন প্রকার প্লাস্টিক সদৃশ বস্তু, বিস্কিটের প্যাকেট ফেলবেন না।

হিরণ পয়েন্ট – হিরণ পয়েন্ট যাওয়ার পথে দুপাশে কুমির দেখতে পাবেন। নেভি ক্যাম্প থাকার কারনে জায়গাটা ভালই উন্নত কিন্তু এইখানে ন্যাচারাল ভাবটা খুব কম।

দুবলার চর – নানা প্রজাতির মাছ – কাকড়া, শুটকির জন্যে দুবলার চর এর খ্যাতি আছে বেশ। বিকাল- সন্ধ্যার দিকে এখানে বাজার বসে, সেটি দেখে আসতে পারেন।

করমজল – অনেকটাই চিড়িয়াখানার ফ্লেভার। প্রথেই নজরে আসবে সুন্দরবনের ম্যাপ। কুমির, হরিণ দেখতে পাবেন। হরিণদের খাবার কিনে খাওয়াতে পারবেন। বন্দি অবস্থায় এদের দেখতে অনেকেরই ভাল নাও লাগতে পারে।

যেভাবে যাবেন

যারা সুন্দরবনের সকল স্পট ঘুরতে চান এবং গহীন বনের নদীতে রাত্রি যাপন করতে চান, তাঁরা ঢাকা থেকে ভালমানের ট্রেভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে তাদের প্যাকেজগুলো (ঢাকা টু সুন্দরবন) নিতে পারেন। এক্ষেত্রে প্যাকেজ খরচ জনপ্রতি ১০,০০০ থেকে শুরু। অথবা খুলনা যেয়ে শিপের প্যাকেজ নিতে পারেন সেক্ষেত্রে জনপ্রতি ৭৫০০ থেকে শুরু। প্যাকেজ গুলোতে সব কিছুই ইনক্লুড, খাবারও থাকবে ব্যুফে সিস্টেমে। শিপের মধ্যে MV Flamingo, MV Rainbow,MV Oboshor এই গুলো দেখতে পারেন।

আর যারা সল্প খরচে ট্যুর দিতে চান, সেক্ষেত্রে খুলনা থেকে ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে ২/৩ টা স্পটে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে বনে রাত্রি যাপনের কোনো সুযোগ নেই। সকাল সকাল ট্রেকিং করে বিচে যাবারও সুযোগ নেই।

সতর্কতাঃ গহীন বনে অবশ্যই গার্ডের আশে পাশেই থাকবেন। বন্যপ্রাণী হাত দিয়ে না ধরাই ভাল। বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর এমন কোন কাজ করবেন না। বিদেশি পর্যটকদের সাথে ডিসেন্ট বিহেভ করুণ, যে কোন ধরণের ট্রল করা থেকে বিরত থাকুন। আর অবশ্যই বনের ভিতর অপচনশীল কোন বস্তু ফেলবেন না।
×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।