কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নে, ভারতের আসাম সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত সোনাহাট স্থলবন্দর। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দেশের ১৮তম স্থলবন্দর হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিদিন ভারত থেকে পাথর আর কয়লাবোঝাই ট্রাকের সারি এই বন্দরে ঢোকে।
📌 কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন? ঢাকা থেকে বাস-ট্রেনের সময় ও ভাড়া, থাকার হোটেল, স্থানীয় খাবার আর জরুরি নম্বর একসঙ্গে পাবেন আমাদের কুড়িগ্রাম ভ্রমণ তথ্য পোস্টে।
বন্দরে যাওয়ার পথেই পড়ে দুধকুমার নদীর ওপর ১৮৮৭ সালে ব্রিটিশদের তৈরি লোহার রেলসেতু, যা স্থানীয়ভাবে পাটেশ্বরী সেতু নামেও পরিচিত। সীমান্তের গ্রামীণ জীবন, চওড়া দুধকুমার নদী আর শতবর্ষী সেতু মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে জায়গাটি ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
এক নজরে সোনাহাট স্থলবন্দর
| অবস্থান | বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়ন, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা, কুড়িগ্রাম |
| ভারতীয় অংশ | আসামের ধুবড়ি জেলার গোলকগঞ্জ এলাকা |
| চালু | ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ (দেশের ১৮তম স্থলবন্দর) |
| আয়তন | ১৪.৬৮ একর |
| প্রধান আমদানি পণ্য | পাথর ও কয়লা |
| ইমিগ্রেশন | নেই; যাত্রী পারাপার হয় না |
| কুড়িগ্রাম শহর থেকে দূরত্ব | সড়কপথে প্রায় ৫০ কিমি |
| কাছের ঐতিহাসিক স্থাপনা | দুধকুমার নদীর ওপর সোনাহাট (পাটেশ্বরী) রেলসেতু, ১৮৮৭ |
সোনাহাট স্থলবন্দর ও সেতুর ইতিহাস
ব্রিটিশ আমলে নদীতীরবর্তী সোনাহাট ছিল একটি বাণিজ্যকেন্দ্র এবং আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম পথ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এই পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর এখানকার শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয় এবং ২০১৩ সালে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০১৮ সালের জুনে বন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
১৮৮৭-৮৮ সালে ব্রিটিশরা সৈন্য ও রসদ পরিবহনের জন্য লালমনিরহাট থেকে মোগলহাট, ভূরুঙ্গামারী ও পাটেশ্বরী হয়ে আসামের গোলকগঞ্জ পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ বানায়, যা গুয়াহাটির দিকে যেত। এই পথেরই অংশ দুধকুমার নদীর ওপর প্রায় ১,২০০ ফুট (৩৬৬ মিটার) লম্বা সোনাহাট রেলসেতু। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী দেশভাগের পর এই পথের কিছু অংশ ভারতে আর কিছু অংশ পূর্ব পাকিস্তানে পড়ে; পরে লাইনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং আজ ভূরুঙ্গামারী অংশে কোনো ট্রেন চলে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর চলাচল ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ভেঙে দেন। পরে মেরামত করে এর ওপর পাটাতন বসিয়ে সেতুটিকে সড়কসেতু হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দর: কি কি দেখবেন
সোনাহাট (পাটেশ্বরী) রেলসেতু
ভূরুঙ্গামারী সদর থেকে প্রায় ৬ কিমি পূর্বে দুধকুমার নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলের এই লোহার সেতুই এখানকার মূল আকর্ষণ। পুরোনো স্টিলের কাঠামো আর নিচে বয়ে চলা নদী ছবি তোলার জন্য চমৎকার।
দুধকুমার নদী
শীতে নদীর পানি কমে চর জেগে ওঠে, আর বিকেলে নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত দেখার মতো। শীতকালে অনেকে এখানে পিকনিক করতে আসেন।
স্থলবন্দর এলাকা
বন্দরের সামনে পাথরবোঝাই ট্রাকের সারি, স্টকইয়ার্ড আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা সীমান্ত বাণিজ্যের একটা জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।
পাটেশ্বরী বাজার ও সীমান্তের গ্রাম
সেতুর কাছেই পাটেশ্বরী বাজার, যেখানে একসময় রেলস্টেশন ছিল। আশপাশের সবুজ গ্রাম আর সীমান্তঘেঁষা জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখা যায়।
বন্দরে কি ঢোকা যায়?
সোনাহাট শুধু পণ্য আমদানির বন্দর; এখানে ইমিগ্রেশন চালু নেই, তাই পাসপোর্ট-ভিসা থাকলেও এই পথে ভারতে যাওয়া যায় না (বণিক বার্তা, প্রথম আলো)। বন্দরের ভেতরের অংশ (ওয়্যারহাউস, স্টকইয়ার্ড) কর্মস্থল, তাই সাধারণ দর্শনার্থীদের ভেতরে ঢোকার আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। বাইরে থেকে বন্দর এলাকা দেখা যায়, তবে শূন্যরেখার কাছে যাওয়া বা বিজিবি চৌকির ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন।
সেতুর বর্তমান অবস্থা: দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পুরোনো সেতুটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ, এর আনুষ্ঠানিক আয়ু শেষ হয়েছে ২০০১ সালে, এবং কয়েক মাসে পাটাতন বারবার ভেঙে যানচলাচল বন্ধ হয়েছে। পাশেই দুধকুমারের ওপর নতুন কংক্রিট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। হেঁটে সেতুতে ওঠার আগে সাবধান থাকুন এবং ভারী যানবাহনের পাশে দাঁড়াবেন না।
সোনাহাট স্থলবন্দর কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে কুড়িগ্রাম ও ভূরুঙ্গামারী
ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, আসাদগেট, শ্যামলী ও টেকনিক্যাল এলাকা থেকে নাবিল, হানিফ, শ্যামলী ও এনাসহ কয়েকটি কোম্পানির বাস কুড়িগ্রাম যায়; নাবিলের কিছু বাস সরাসরি ভূরুঙ্গামারী পর্যন্ত যায় (নাবিল অনলাইন বুকিং). বেশিরভাগ বাস রাতে ছাড়ে, পৌঁছাতে সাধারণত ৯-১০ ঘণ্টা লাগে।
| বাস | ধরন | আনুমানিক ভাড়া (২০২৬) | কাউন্টার ফোন |
|---|---|---|---|
| নাবিল পরিবহন | নন-এসি | ৯৫০ টাকা | গাবতলী 01869-811011, কল্যাণপুর 01869-811013, কুড়িগ্রাম 01864-114447 |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | নন-এসি | ৯৫০ টাকা | কাউন্টারে জেনে নিন |
| শ্যামলী পরিবহন | নন-এসি | ৯৫০ টাকা | কাউন্টারে জেনে নিন |
| এনা ট্রান্সপোর্ট | নন-এসি | ৯০০ টাকা | কাউন্টারে জেনে নিন |
| নাবিল / এনা | এসি (ইকোনমি) | প্রায় ১,১০০ টাকা | কাউন্টারে জেনে নিন |
ঢাকা থেকে ট্রেনে কুড়িগ্রাম
কমলাপুর থেকে আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস (৭৯৭/৭৯৮) সরাসরি কুড়িগ্রাম যায়। টিকিট কাটতে হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট সাইট বা Rail Sheba অ্যাপে।
| ট্রেন | ছাড়ে | পৌঁছায় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| ৭৯৭ ঢাকা → কুড়িগ্রাম | রাত ৮:০০ | ভোর ৫:১০ | মঙ্গলবার |
| ৭৯৮ কুড়িগ্রাম → ঢাকা | সকাল ৭:১০ | বিকেল ৫:০৫ | মঙ্গলবার |
| শ্রেণি | আনুমানিক ভাড়া (২০২৬) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬৮৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,৩১১ টাকা |
| এসি সিট | ১,৫৭০ টাকা |
| এসি বার্থ | ২,৩৫৮ টাকা |
ট্রেনটি বিমানবন্দর, নাটোর, সান্তাহার, জয়পুরহাট, পার্বতীপুর, রংপুর ও কাউনিয়া হয়ে যায়। কিছু পুরোনো সূত্রে রাত ৮:৪৫-এর সময়সূচি ও বুধবার বন্ধের কথা আছে, তাই টিকিট কাটার সময় ই-টিকিট সাইটে সময় ও বন্ধের দিন অবশ্যই মিলিয়ে নিন।
কুড়িগ্রাম থেকে ভূরুঙ্গামারী
কুড়িগ্রাম শহর থেকে নাগেশ্বরী হয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদর প্রায় ৪০ কিমি; লোকাল বাসে প্রায় ১-১.৫ ঘণ্টা লাগে। সিএনজিও পাওয়া যায়। এই অংশের নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত ভাড়া পাইনি, তাই উঠার আগে ভাড়া জেনে নিন।
ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট
ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট স্থলবন্দর প্রায় ১৩-১৫ কিমি। অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি বা মাদারগঞ্জগামী বাসে গেলে প্রথমে দুধকুমার নদীর সোনাহাট সেতু, তারপর সেতু পার হয়ে স্থলবন্দর। ভাড়া আগে দরদাম করে নিন।
এক দিনের সোনাহাট ট্যুর প্ল্যান
সময় দরকার: 1 day
এক দিনে সোনাহাট সেতু, দুধকুমার নদী ও সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকা ঘুরে দেখতে এই প্ল্যানটি অনুসরণ করতে পারেন।
- রাতে
ঢাকা থেকে রওনা:
রাতের বাসে বা রাত ৮টার কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে (মঙ্গলবার বন্ধ) কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিন। - সকাল
ভূরুঙ্গামারী:
কুড়িগ্রাম থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে ভূরুঙ্গামারী পৌঁছে নাশতা সেরে নিন। - দুপুরের আগে
সোনাহাট সেতু ও দুধকুমার:
অটোরিকশায় সেতুতে গিয়ে নদী ও ব্রিটিশ আমলের সেতু ঘুরে দেখুন। - দুপুর
স্থলবন্দর এলাকা:
সেতু পার হয়ে বন্দর এলাকা বাইরে থেকে দেখে নিন, সীমান্ত নিয়মগুলো মেনে চলুন। - বিকেল
নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত:
দুধকুমারের পাড়ে বিকেল কাটিয়ে ভূরুঙ্গামারী ফিরুন। - রাত
ঢাকায় ফেরা:
কুড়িগ্রাম বা ভূরুঙ্গামারী থেকে রাতের বাসে ঢাকায় ফিরুন, অথবা কুড়িগ্রামে রাত থেকে পরদিন সকাল ৭:১০-এর ট্রেন ধরুন।
সোনাহাট ভ্রমণ
কখন গেলে ঘুরতে ভালো লাগবে
সারা বছর যাওয়া যায়, তবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শুষ্ক মৌসুমে নদী, সেতু আর সীমান্ত এলাকা ঘোরা সবচেয়ে আরামদায়ক।
- জানু — শীতকাল
- ফেব — শীতকাল
- মার্চ — গ্রীষ্মকাল
- এপ্রি — গ্রীষ্মকাল
- মে — গ্রীষ্মকাল
- জুন — গ্রীষ্মকাল
- জুল — বর্ষাকাল
- আগ — বর্ষাকাল
- সেপ্টে — বর্ষাকাল
- অক্টো — বর্ষাকাল
- নভে — শীতকাল
- ডিসে — শীতকাল
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
শীতকাল
- শুকনো আবহাওয়া, যাতায়াত সহজ
- নদীতে চর জাগে, পিকনিকের মৌসুম
- ভোরে কুয়াশা, রোদে ঘোরা আরামদায়ক
মার্চ–জুন
গ্রীষ্মকাল
- দুপুরে রোদ ও গরম বেশি
- সকাল বা বিকেলে ঘুরুন
- পানি ও টুপি সঙ্গে রাখুন
জুলাই–অক্টোবর
বর্ষাকাল
- দুধকুমার ভরা ও স্রোতস্বিনী
- উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি থাকে
- রওনার আগে আবহাওয়া ও রাস্তার খবর নিন
কোথায় থাকবেন ও কোথায় খাবেন
সোনাহাটে পর্যটকদের থাকার মতো হোটেল নেই। ভূরুঙ্গামারীতে থাকার ব্যবস্থা সীমিত, সেখানে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোই সবচেয়ে কাছের বিকল্প। কুড়িগ্রাম জেলা শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে, শহর থেকে সোনাহাট সড়কপথে প্রায় ৫০ কিমি।
| নাম | ধরন | অবস্থান | আনুমানিক ভাড়া (প্রতি রাত) | যোগাযোগ |
|---|---|---|---|---|
| ভূরুঙ্গামারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো | সরকারি ডাকবাংলো | ভূরুঙ্গামারী সদর | এসি ৬০০ টাকা, নন-এসি ২০০ টাকা (বেসরকারি অতিথি) | কেয়ারটেকার 01719-709307 |
| ESDF গেস্ট হাউস | মাঝারি মানের গেস্ট হাউস | দাশেরহাট, কুড়িগ্রাম সদর | ১,২০০–২,৫৫০ টাকা (নাশতাসহ) | 01735-423102 |
| হোটেল স্মৃতি | বাজেট আবাসিক | আরকে রোড, বাস টার্মিনালের কাছে, কুড়িগ্রাম | ৮০০ টাকা থেকে | 01716-350239 |
| নূরজাহান আবাসিক হোটেল | মাঝারি মানের (সব কক্ষ এসি) | আরকে রোড, কুড়িগ্রাম | ২,০০০–৫,০০০ টাকা (২০১৯ সালের তথ্য) | 01978-569298 |
| হোটেল জুমরাহ প্যালেস | আবাসিক (এসি কক্ষ) | আর কে রোড, কুড়িগ্রাম | ফোনে জেনে নিন | 01331-587399 |
| হোটেল রয়্যাল প্যালেস | আবাসিক (এসি কক্ষ) | দাদা মোড়, বাজার রোড, কুড়িগ্রাম | ফোনে জেনে নিন | 01312-699000 |
ভাড়া ও খালি কক্ষ মৌসুম অনুযায়ী বদলায়; যাওয়ার আগে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে বুকিং দিন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। কুড়িগ্রামের পাশের নাগেশ্বরী উপজেলাতেও কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে।
কোথায় খাবেন: বন্দর ও সেতু এলাকায় ছোট চা-নাশতার দোকান আছে; দুপুরের ভাত-মাছ ভূরুঙ্গামারী বাজারের হোটেলে খাওয়াই সুবিধাজনক।
ভ্রমণের আগে জরুরি টিপস
- জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন: সীমান্ত এলাকায় বিজিবি পরিচয় জানতে চাইতে পারে।
- শূন্যরেখায় যাবেন না: আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার বা কাঁটাতারের কাছে যাবেন না, এবং বিজিবির নির্দেশ মেনে চলুন।
- ছবি তোলায় সাবধান: বিজিবি চৌকি, সীমান্ত স্থাপনা বা বন্দরের সংরক্ষিত অংশের ছবি তুলবেন না।
- সেতুতে সতর্কতা: পুরোনো সেতুর পাটাতন জরাজীর্ণ; ট্রাক চলার সময় পাশে দাঁড়াবেন না।
- দিনের আলোয় ফিরুন: সন্ধ্যার পর সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি না করাই ভালো।
- এখান দিয়ে ভারতে যাওয়া যায় না: ইমিগ্রেশন নেই; ভারতে যেতে লালমনিরহাটের বুড়িমারী বন্দর ব্যবহার করতে হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দর: আশেপাশে যা দেখবেন
সোনাহাট ঘুরে কুড়িগ্রাম ও পাশের লালমনিরহাটের এই দর্শনীয় স্থানগুলোও দেখে আসতে পারেন।
নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি
দূরত্ব একই অঞ্চলে
কুড়িগ্রাম জেলায়
ভেতরবন্দ জমিদার বাড়ি
কুড়িগ্রামের পুরোনো জমিদার বাড়ি
দূরত্ব একই অঞ্চলে
কুড়িগ্রাম জেলায়
উলিপুর মুন্সিবাড়ী
উলিপুরের দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ি
দূরত্ব একই অঞ্চলে
কুড়িগ্রাম জেলায়
অচিন গাছ
রাজারহাটের রহস্যময় প্রাচীন গাছ
দূরত্ব একই অঞ্চলে
কুড়িগ্রাম জেলায়
তুষভান্ডার জমিদার বাড়ি
কালীগঞ্জের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি
দূরত্ব একই অঞ্চলে
লালমনিরহাট জেলায়
নিদারিয়া মসজিদ
মোগল আমলের প্রাচীন মসজিদ
দূরত্ব একই অঞ্চলে
লালমনিরহাট জেলায়
তিস্তা ব্যারেজ
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের ব্যারেজ
দূরত্ব একই অঞ্চলে
লালমনিরহাট জেলায়
তিন বিঘা করিডোর
দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলের করিডোর
দূরত্ব একই অঞ্চলে
লালমনিরহাট জেলায়
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নে, ভারতের আসাম সীমান্তে।
২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দেশের ১৮তম স্থলবন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয়; ২০১৮ সালের জুনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
বর্তমানে মূলত ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি হয়।
না, এখানে ইমিগ্রেশন চালু নেই। যাত্রী পারাপার হয় না।
১৮৮৭ সালে ব্রিটিশরা লালমনিরহাট–গোলকগঞ্জ রেলপথের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদীর ওপর সেতুটি তৈরি করে; এখন এটি সড়কসেতু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাসে (নন-এসি প্রায় ৯০০-৯৫০ টাকা) বা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে (শোভন চেয়ার প্রায় ৬৮৫ টাকা) কুড়িগ্রাম, সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে ভূরুঙ্গামারী, তারপর অটোরিকশায় সোনাহাট। ভাড়া ২০২৬ সালের আনুমানিক।
সবচেয়ে কাছে ভূরুঙ্গামারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো (কেয়ারটেকার 01719-709307)। এছাড়া কুড়িগ্রাম শহরে বাজেট থেকে মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল আছে।
ব্রিটিশ আমলের রেলসেতু, দুধকুমারের বিস্তার আর সীমান্ত বাণিজ্যের ব্যস্ততা একসঙ্গে দেখতে চাইলে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে সোনাহাট স্থলবন্দর তালিকায় রাখুন, আর সীমান্তের নিয়ম মেনে দায়িত্বশীল পর্যটক হোন।
আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক, এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।