সেন্টমার্টিন দ্বীপ

32
ট্রিপ
৩ দিন
খরচ
৬০০০ টাকা

সেন্টমার্টিন দ্বীপ (Siant Martin’s Island), বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ (Coral Island)। সেন্টমার্টিন দ্বীপটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও (Narikel Jinjira) বলা হয়ে থাকে। প্রচলিত আছে অনেক অনেক বছর আগে প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যে এখানে দারুচিনি বোঝাই আরবের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ পানির নীচে থাকা একটি বিশাল পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেঙ্গে পড়ে, যার ফলে জাহাজে থাকা দারুচিনি এই দ্বীপের সবখানে ছড়িয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সেন্ট মার্টিন’স দ্বীপের নাম হয়ে যায় ‘দারুচিনির দ্বীপ’। এখানে হুমায়ুন আহমেদের লেখা ও তৌকির আহমেদের পরিচালনায় দারুচিনির দ্বীপ (Daruchini Dwip) মুভির স্যুটিং হয়েছিল।

সেন্টমার্টিন দ্বীপটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মৌসুমে এখানে প্রতিদিন ৫টি লঞ্চ বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড হতে আসা যাওয়া করে। সেন্ট মার্টিনের আসল মজা একরাত না থাকলে উপভোগ করা সম্ভব নয়। আরো ভাল হয় দুইরাত থাকলে। সেক্ষেত্রে ১টা দিন ছেড়া দ্বীপের (Chera Dwip) জন্য, আরেকটা দিন সেন্টমার্টিনের জন্য বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। প্রতিদিনের পর্যটকরা বিকেলের মধ্যেই ফিরে যায়, তাই বিকেলের পর থেকে দ্বীপে ঘুরে বেরানোর মজাই আলাদা। আর যদি ভরা পূর্ণিমায় যেতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই, রাতের বেলা সেন্ট মার্টিন’স দ্বীপে ঘুরে বাড়াবেন আর বাঁচার ইচ্ছেটা বাড়িয়ে নিবেন।

সেন্টমার্টিনে স্কুবা ডাইভিং ও স্নোরকেলিং

সেন্টমার্টিনের স্বচ্ছ সমুদ্রের নিচে দেখা মিলবে বিচিত্র সব জীবন্ত কোরালের, বহুবর্ণের জলজ উদ্ভিদের। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে অথচ মাত্র মাইলখানেকের ভিতরেই সমুদ্রের নীচে যে বিপুল ঐশ্বর্য্য আছে তা অজানাই থেকে যায় তাদের। কৃত্তিম অক্সিজেন ভর্তি ট্যাঙ্ক নিয়ে পানির গভীরে যখন আপনি যাবেন, আলাদা করে অনুভব করতে পারবেন আপনার এক একটি মুহূর্ত। মাছেদের সাথে সাতার কাটতে কাটতে আপনি ভালোবেসে ফেলবেন অদ্ভুতরকম শান্ত সুন্দর ওই জগতটাকে। আপনার হয়ত আর ফিরতেই ইচ্ছা করবে না। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে স্কুবা ডাইভিং করা যায়।

  • সেন্টমার্টিন থেকে শুধু স্নোরকেলিং ৭০০ টাকা
  • সেন্টমার্টিন থেকে শুধু স্কুবা ডাইভিং ২৫০০ টাকা
  • সেন্টমার্টিন থেকে স্নোরকেলিং ও স্কুবা ডাইভিং ৩০০০ টাকা

স্কুবাডাইভিং ও স্নোরকেলিং এর যোগাযোগ

  • কোরাল ভিউ রিসোর্ট – 01796446653
  • ঢাকা ডাইভার্স ক্লাব – 01711671130
  • ওশেনিক স্কুবা ডাইভিং সার্ভিং- 01711867991

সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়

Time needed: 17 hours.

ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার থেকে বাসে করে টেকনাফ যেতে হবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে নিয়মিত বাস পাওয়া যায় টেকনাফ এর উদ্দেশ্যে। কক্সবাজার থেকে মাইক্রো বাস ভাড়া করেও টেকনাফ যাওয়া যায়।

  1. ঢাকা থেকে বাসে টেকনাফ

    ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদে টেকনাফের বাস পাওয়া যায়। ঈগল, মডার্ন লাইন, এস আলম, শ্যামলী, গ্রীন লাইন ইত্যাদি বাস টেকনাফ যায়। ১০-১৩ ঘণ্টা লাগে পৌঁছাতে। ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার গাড়িতে উঠলে সকালে ৬-৭ টার মধ্য দমদমিয়া জাহাজ ঘাট বা টেকনাফ শহরে নেমে জাহাজ বা ট্রলারে যেতে পারেন। তবে লম্বা বন্ধ থাকলে ঢাকা- চিটাগাং রোড়ে যানজট বেশি হওয়ার কারণে অনেকের পৌছাতে দেরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে জাহাজ মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ সব জাহাজ ৯:৩০ টায় ছেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ট্রলারে করে যাওয়া যায়।

  2. টেকনাফ থেকে জাহাজে সেন্টমার্টিন

    টেকনাফের জাহাজ ঘাটে গিয়ে আপনাকে সী ট্রাকের/শীপের/জাহাজের টিকেট কাটতে হবে। টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনের দুরত্ব ৯ কিমি। উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এখানে। শীত মৌসুমে সাগর শান্ত থাকে তাই এই সময় এখানে যাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ হতে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত গ্রীন লাইনের ওয়াটার বাস, এল সি কুতুবদিয়া, কাজল, কেয়ারী সিন্দবাদ সহ বেশ কয়েকটি জাহাজ বা সী-ট্রাক চলাচল করে। সকাল ৯টা থেকে ১০ টার মধ্যে সকল জাহাজ টেকনাফ জেটি থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং বিকাল ৩ টায় সেন্ট মার্টিন এর জেটি থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্য রওয়ানা করে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বিষয়ক কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর

সেন্টমার্টিন রুটের জাহাজগুলো সাধারনত অক্টোবরের শেষ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলাচল করে। এর পর বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রশাসন একে চলতে দেয় না। তবে যারা বৈরি মৌসুমে এডভেঞ্চার হিসেবে যেতে চান সেন্টমার্টিন তারা ট্রলারে অথবা স্পীড বোটে করে যেতে পারেন। তবে এই যাত্রাটি খুব একটা নিরাপদ নয়। সাধারণত দুর্ঘটনা ঘটে না, তবে ঘটে যেতে পারে। তাই সাবধান। কিন্তু উত্তাল সাগরের প্রকৃত রূপ দেখা কিংবা নির্জন দ্বীপে বসে বৃষ্টিস্নান করার লোভ যারা সামলাতে না পারেন তাদের জন্য ট্রলার ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।

কেয়ারী সিন্দবাদ এর যোগযোগ / ফোন নাম্বারঃ ০১৮১৭২১০৪২১, ০৩৪১-৬২৮১২, ৮১২৫৮৮১

সেন্টমার্টিনে থাকার সেরা কিছু হোটেল/রিসোর্ট এর ভাড়া এবং বুকিং নাম্বার

সেন্টমার্টিন দ্বীপে থাকার জন্যে রয়েছে বেশ কিছু হোটেল এবং রিসোর্ট। এসব রিসোর্টের অনেক গুলোই গড়ে উঠেছে ইকো ট্যুরিজম এর কথা মাথায় রেখে, আবার অনেক হোটেল গড়ে উঠেছে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত কংক্রিটের দালান হয়ে। এখানে তেমনি কিছু হোটেল ও রিসোর্টের খোঁজ দেয়া হলো পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে।

  • হুমায়ুন আহমেদ এর সমুদ্র বিলাস
    অবস্থান: পশ্চিম বীচ
    বুকিং এর জন্য যোগাযোগঃ 01911-920666
  • শায়রি ইকো রিসোর্ট
    অবস্থানঃ গলাচিপা
    ভাড়া – ১৫০০-২৫০০ টাকা
    যোগাযোগ : 01711232917
  • ব্লু মেরিন রিসোর্ট
    অবস্থানঃ জেটির পাশ দিয়ে পশ্চিম বীচে
    ভাড়া – ১৫০০-৫০০০ টাকা
    যোগাযোগ : 01713399001, 01841-399250, 01841-399251
  • অবকাশ পর্যটন লি। পশ্চিম বিচ, ভাড়া ১৫০০-৩০০০
    যোগাযোগ : ০১৭১৬৭৮৯৬৩৪
  • এস কে ডি রিসোর্ট, বিছানাকান্ধি। ভাড়া ১৫০০-৪০০০
    যোগাযোগ : ০১৭৯৭২৬১২৬১
  • কোরাল ব্লু রিসোর্টঃ ০১৭১৩১৯০০১৩, ০১৭১৩১৯০০০৭
  • কিংসুক ইকো রিসোর্ট, গলাচিপা, ভাড়া ১৫০০-৩০০০
    যোগাযোগ : ০১৭৫৩২২২২৮৬
  • সিটিভি রিসোর্ট, পশ্চিম বীচ, ভাড়া ১০০০-৩০০০
    যোগাযোগ :০১৮১৫৬৩২০৩৭
  • ডায়মন্ড সি রিসোর্ট, পশ্চিম বীচ, ভাড়া ১২০০-২৫০০
    যোগাযোগ: ০১৬৭৭৫৭৭৮৯৯
  • ড্রিম নাইট রিসোর্ট, পশ্চিম বীচ, ভাড়া ১৫০০-২৫০০
    যোগাযোগ : ০১৮১২১৫৫০৫০
  • হোটেল স্যান্ড শোর, বাজার এলাকা, ভাড়া ১২০০-২৫০০
  • হোটেল সী ইন, বাজার এলাকা, ভাড়া ১৫০০-২৫০০
    যোগাযোগ : ০১৭২২১০৯৬৭০
  • হোটেল সী ফাইন্ড, পশ্চিম বীচ, ভাড়া ২০০০-৪০০০
    যোগাযোগ: ০১৬২৬১৮২৭২৫
  • ফরহাদ রিসোর্ট, পশ্চিম বীচ, ভাড়া ১২০০-২৫০০
    যোগাযোগ: ০১৯১২৭৬০০১০
  • ব্লু লাগুন রিসোর্ট, পশ্চিম বীচ জেটির পাশে, ভাড়া ১৫০০-৫০০০
    যোগাযোগ : ০১৮১৮৭৪৭৯৪৬
  • কোকোনাট কোরাল রিসোর্ট, বিলাইকান্ধা, ভাড়া ১৫০০-৩০০০
    যোগাযোগ : ০১৭৯০৫০৫০৫০
  • লাবিবা বিলাস রিসোর্ট, ওয়েস্ট বীচ, ভাড়া ৩০০০-১২০০০
    যোগাযগ: ০১৭১৪৬৩৪৭৬২
  • লাইট হাউজ রিসোর্ট, পশ্চিম বীচ, ভাড়া ১৫০০-৩০০০
    যোগাযোগ :০১৮১৯০৩৬৩৬৩
  • নীল দিগন্তে রিসোর্ট, কনা পাড়া, ভাড়া ২০০০-৪০০০
    যোগাযোগ : ০১৭৩০০৫১০০৪
  • মিউজিক ইকো রিসোর্ট, দক্ষিণ প্রান্তে, ভাড়া ২৫০০-৪০০০
    যোগাযোগ : ০১৬১৩৩৩৯৬৯৬
  • পান্না রিসোর্ট, পশ্চিম বীচ, ভাড়া ১৫০০-২৫০০
    যোগাযোগ : ০১৮১৬১৭২৬১৫
  • প্রাসাদ প্যারাডাইজ, উত্তর বীচ, বাজারের নিকটে, ভাড়া ১৫০০-৪০০০
    যোগাযোগ : ০১৭৯৬৮৮০২০৭
  • সীমানা পেরিয়ে, পশ্চিম বীচ, কোণাপাড়া, ভাড়া ১৫০০-৩০০০
    যোগাযোগ : ০১৭৩১৯৬২৬৬২
  • সমুদ্র খানন, পশ্চিম বীচ, নেভী রোড়। ভাড়া ১২০০-২৫০০
    যোগাযোগ : ০১৭১৩৪৮৬৮৬৬
  • সমুদ্র কুটির, পশ্চিম বীচ, কোণাপাড়া। ভাড়া ১৫০০-৩০০০
    যোগাযোগ : ০১৬১৬৫০৩১২৯
  • ব্যাগস বারী রিসোর্ট, পশ্চিম পাড়া, ভাড়া ১০০০-২০০০
    যোগাযোগ : ০১৭৮৭০২২২০

কোথায় খাবেন

এখানে প্রায় সকল আবাসিক হোটেলের রেস্টুরেন্ট আছে, তাই আপনি চাইলে ওখানে খেয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া সব খাবার হোটেলের বাইরে টেবিলে সাজিয়ে রাখা হরেক রকমের জ্যান্ত মাছ থেকে বেছে নিয়ে অর্ডার দিতে পারবেন। রাতের বেলা বার-বি-কিউ করতে পারবেন, মাছ বাছাই করে ওদের বলে দিলে ওরাই করে দিবে আপনাকে।

সেন্টমার্টিনে সাইকেল ভাড়া কত?

দ্বীপের কয়েক জায়গা বিশেষ করে পশ্চিম বীচ থেকে সাইকেল ভাড়া নেওয়া যায় ঘন্টা প্রতি ৬০-৮০ টাকায়। বীচ ধরে ঘুরতে পারবেন মনের সাধ মিটিয়ে।

সেন্টমার্টিনে বিদ্যুৎ কতক্ষন থাকে?

সেন্ট মার্টিনে পিডিবি বা পল্লী-বিদ্যুত এর সংযোগ নাই। পুরোটাই জেনারেটর নির্ভর। রিসোর্ট-হোটেলগুলো সন্ধ্যা থেকে সাধারণত রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত জেনারেটর চালায়। দিনের বেলায় পানির পাম্প ছাড়ার জন্য কিছুটা সময় চালু রাখতে পারে। শীতকালে ফ্যান লাগে না বলে দিনে কারেন্টের অভাব টের পাওয়াও যায় না। সমস্যা হয় মোবাইল, ক্যামেরা ল্যাপটপ এসব চার্জ করা নিয়ে । রাতের বেলা জেটি অর্থাত জাহাজ ঘাটে সারি সারি রেস্টুরেন্টের আলো-ঝলমলে পরিবেশে মনেই হয় না দ্বীপে কারেন্ট নাই। এরা অনেক রাত অবধি জেনারেটর চালু রাখে।

হেঁটে কিংবা সাইকেল চালিয়ে ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়া যাবে?

ভাটার সময় হেঁটে কিংবা সাইকেল চালিয়ে ছেঁড়া দ্বীপ যাওয়া সম্ভব।

সেন্টমার্টিন ঘুরতে যাওয়ার জন্যে কিছু টিপস
  • সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকেই, কেয়ারীসহ বেশ কিছু ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে যেতে পারেন।
  • নভেম্বর থেকে মার্চ পযন্ত মাত্র ৪ মাস জাহাজ চলে। অন্য সময় যেতে হলে ট্রলারে করে যেতে হবে।
  • সেন্টমার্টিনে এখন অনেক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ আছে তাই থাকার জায়গার অভাব হয় না।
  • সাশ্রয়ী দামে থাকতে শুক্রবার-শনিবার দ্বীপে না যাওয়াই ভালো।
  • দ্বীপে সবকিছু বাইরে থেকে যায়, তাই খাবার খরচ তুলনামূলক বেশি।
  • তিনদিনে জনপ্রতি খরচ হবে ৫-৬ হাজার টাকা। দলবল বড় করে আরো কমে ৩-সাড়ে ৩ হাজার টাকায় ঘুরে আসা যায়।
×

যেখানে সেখানে পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলবেন না। প্রকৃতিকে নিজের মত থাকতে দিন।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন কি গার্লফ্রেন্ড নিয়ে যাওয়া কি নিরাপদ হবে ? শুনেছি রাস্তায় নাকি পুলিশ, সেনাবাহিনী চ্যাক হয়। আর তারা নাকি কাপল দেখলে খুব ঝামেলা করে??

    1. কাপল নিয়ে কোন ইস্যু হবার কথা নয়। রাস্তায় চেক হয় তবে সেটা রোহিঙ্গা ইস্যু, মাদক ইস্যুতে।

  2. সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় ১১ টি Danger Zone আছে। কাজেই সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সবাই সাবধান থাকবেন।

  3. আমার দেখা মতে অপুর্ব সুন্দর একটি জায়গা, নীল পানি ঘেরা একটি দ্বীপ- যেখানকার মানুষ অসম্ভব ভালো। চুরি ডাকাতির রেকর্ড প্রায় নেই। সারারাত ঘুরতে পারবেন নির্ভয়ে, নির্জনে।

  4. নীল জল এত সুন্দর হতে পারে তার ধারনার বাইরে ছিল। রাতে আকাশ ভর্তি তারা, পাশেই সমুদ্রের প্রকট গর্জন শুনে কতবার যে মনে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছি তার হিসেব নেই। নিজেকে প্রচণ্ড সৌভাগ্যবতী মনে হচ্ছিল যে এত বেশী সুন্দর এর মাঝে আমি আছি এই সময়ে👌

  5. যদি কেউ যেতে চান তবে পূর্ণিমা এর সময় যাবেন। বাংলাদেশ এর অস্বাভাবিক সৌন্দর্য অখানেই। আর সমুদ্র এর গর্জন রাতেই বুঝা যায় কতটা তীব্র হতে পারে।

  6. ভাল লাগলো আপনার এই তথ্য নির্ভর সাইটের জন্য।

  7. সেন্ট মার্টন’স-এ খাওয়া ও থাকার সুবিধা কেমন?
    কখনও যাইনি তাই জানতে চাচ্ছি।

    1. এখানে প্রায় সকল আবাসিক হোটেলের রেস্টুরেন্ট আছে, তাই আপনি চাইলে আপনার থাকবার হোটেলেই খাবার অর্ডার করে দিতে পারবেন, চাইলে রুম সার্ভিসও পাবেন। এ ছাড়া সব খাবার হোটেলের বাইরে টেবিলে সাজিয়ে রাখা হরেক রকমের জ্যান্ত মাছ থেকে বেছে নিয়ে অর্ডার দিতে পারবেন। রাতের বেলা বার-বি-কিউ করতে পারবেন, মাছ বাছাই করে ওদের বলে দিলে ওরাই করে দিবে আপনাকে। মাছের দাম কম নয় কিন্তু খুব বেশীও নয়। এছাড়া একা থাকতে গেলে সিজনে ১৫০০-৪০০০ টাকায় রুম পাবেন, যা অফসিজনে ৩০০-১৫০০ টাকায় পেয়ে যাবেন। গ্রুপ করে গেলে অনেক কমে যাবে এক্ষেত্রে, কারন অনেক হোটেলের একরুমে ৩-৪ জন থাকা যায়। আবার অনেক রিসোর্টে টেন্ট এর ব্যবস্থাও আছে 🙂

  8. সেন্ট মার্টিন’স এ ৩ দিন থাকলে পয়সা উসুল হবে কিন্তু এর কম থাকলে আফসুস হবে।

  9. ছেড়া দ্বীপ অবশ্যই যাবেন এবং যেতে হবে সকাল এর দিকে। স্পিড বোট এ সময় কম লাগে, রিজার্ভ গেলে ১৫০০ টাকা এর মত পড়বে।