সাইংপ্রা ঝর্ণা

10
ট্রিপ
৪ দিন
খরচ
৬০০০ টাকা
ট্রেকিং গ্রেড

সাইংপ্রা ঝর্ণা (Saingpra Jhorna) বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার অন্তর্গত চিম্বুক রেঞ্জের কির্সতং পাহাড়ের কাছে অবস্থিত একটি বুনো ঝর্ণা। এককথায় বলতে গেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বুনো ঝর্ণাগুলোর মধ্যে একটি। অফ রুটের এই ঝর্ণার সর্বমোট ৪-৫ টি ধাপ রয়েছে। কির্সতং-রুংরাং সামিটের সময় আপনার ট্যুর প্ল্যানে সাইংপ্রা ঝর্ণা যুক্ত করে নিতে পারেন অনায়াসে। সম্পূর্ণ বুনো ট্রেইলে পাহাড়কে অনুভব করতে বাড়তি একটা দিন যুক্ত করে সহজেই দেখে নিতে পারবেন সাইংপ্রা ঝর্ণা। কারন মেনিয়াংক পাড়া থেকে রুংরাং-কির্সতং সামিটের পরে চলে যেতে পারেন খেমচং পাড়া। খেমচং পাড়া থেকে এই ঝর্ণাতে যাওয়ার পথটা যেমন ভয়ানক ঠিক ততটাই সুন্দর। প্রথমেই খাড়া একটা পাহাড় ধরে শুধুই নেমে যাওয়া।এরপরেই শুরু হবে সাইংপ্রা ট্রেইল। ভয়ংকর সব বড় বড় বোল্ডারের পিচ্ছিল সাইংপ্রা ট্রেইল। পিচ্ছিল এই ট্রেইলে পাথরগুলোর উপর ভর করে দাঁড়ানো দায়। একটা সময়ে শুধুই উঠে যাওয়া। উঠতে উঠতে এক সময় সাইংপ্রা ঝর্ণার দেখা মিলবে।

সাইংপ্রা ঝর্ণা যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে আলীকদম যেতে হবে প্রথমে। আলীকদমের সরাসরি বাসের ভাড়া ৮৫০ টাকা। সরাসরি আলীকদমের বাস না পেলে কক্সবাজারের যেকোনো বাসে উঠে চকোরিয়া নামতে হবে। সেখান থেকে আলীকদম। আলীকদম এসে পানবাজার থেকে গাইড ঠিক করতে হবে। গাইডের খরচ খুব বেশি না। দরদাম করে নিতে হবে যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট ফি নেই। সেখান থেকে বাইক বা চান্দের গাড়ি তে করে ১৩ কিলো যেতে হবে। বাইকে জনপ্রতি ২০০ আর চান্দের গাড়ি ২৫০০-৩০০০ টাকা। ১৩ কিলো নেমে দুসরী বাজার যাবেন। সেখান থেকে ট্রেকিং করে মেনকিউ পাড়া যেতে হবে। সেখান থেকে মেনিয়াংক পাড়া। রাতে মেনিয়াংক পাড়ায় থাকতে হবে। যদি পানবাজার থেকে গাইড না পাওয়া যায় তাহলে নিজেরাই মেনিয়াংক পাড়ায় আসতে হবে।

মেনিয়াংক পাড়া থেকে দেড় ঘন্টা হাঁটলেই রুংরাং তং। আর তারপরেই খেমচং পাড়া। খেমচং পাড়া থেকে সাইংপ্রা ঝর্ণার ট্রেক শুরু। যেহেতু পথ দুর্গম এবং অনেক সময়ের ব্যাপার তাই খুব সকালেই ঝর্নার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে যাতে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসা যায়। এরপর আবার আলীকদম হয়ে ঢাকা।

গাইড

কির্সতং যেতে চাইলে গাইড নেয়া বাধ্যতামূলক। আরও গাইডের নাম্বার দরকার হলে আমাদের ফোন ডিরেক্টরি পেইজে যেয়ে সার্চ অপশন ব্যবহার করে খুঁজে নিতে পারেন।

গাইড ফারুক – 01869001454

থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা

রাতে আদীবাসী পাড়াতেই থাকা যাবে। এর জন্য পাড়ার কারবারীর সাথে প্রথমেই কথা বলে নিতে হবে। সাধারণত প্রতিটা পাড়ার কারবারীর বাড়িতেই অতিথীদের থাকার ব্যবস্থা হয়।

সতর্কতা এবং প্রস্তুতি

পাহাড়ি রাস্তায় হাটলে, শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়। আর সব সময় কাছাকাছি পানির সোর্স নাও থাকরে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সাথে রাখতে হবে। সাথে স্যালাইন, গ্লুকোজ থাকলে ভাল। অতি দূর্গম এরিয়া, তাই খাবার সোর্স কম। আপনি চাইলেই দোকান থেকে খাবার কিনে খেতে পারবেন না, সেই অপশন নেই এখানে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার সাথে করে নিয়ে যাওয়া ভাল। ম্যালেরিয়া প্রবণ এরিয়া, তাই ম্যালেরিয়া এর প্রতিষেধক নিয়ে যেতে হবে। অফ রোডে ট্রেকিং করতে হবে। সেক্ষেত্রে লোকাল গাইড নিয়ে নিতে হবে। পাহাড়ী ট্রেইল ধরে হাটা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই একটি ট্রেকিং স্টিক বেশ কাজের জিনিস। রাতে ট্রেক এর জন্য একটি হ্যাডল্যাম্প আদর্শ।

সাইংপ্রা ঝর্না যেহেতু একটু দুর্গম জায়গায় অবস্থিত তাই এই ট্রেকটি সহজের হবে না। প্রতিদিন রোদ বৃষ্টি মাথায় করে ব্যাকপ্যাক কাঁধে ৮/১০ ঘণ্টা করে ট্রেক করতে হবে, ঝামেলা হলে রাতেও ট্রেক করতে হতে পারে। ট্রেকিং এর সময় ভারি খাবার পাওয়া যাবে না এটাও মাথায় রাখতে হবে।

একনজরে দেখে নিন ট্রেকিং এ যেসব জিনিস অবশ্যই সাথে নিতে হবে

  • ব্যাকপ্যাক – অবশ্যই ভালো মানের ট্রেকিং ব্যাগ যা দীর্ঘক্ষণ ট্রেকিংয়েও পিঠ ঘামাবে না এবং কোমড়ের উপরে চাপ সৃষ্টি করবে না। সাথে রেইন কভার কিংবা পলিথিন।
  • ট্রেকিং প্যান্ট এবং ট্রেকিং স্যান্ডেল বা সু।
  • শুকনা খাবার
  • হেড ল্যাম্প
  • গামছা
  • পানির বোতল
  • মশার ওষুধ, স্যালাইন, গ্লুকোজ
  • এন আই ডি কিংবা স্টুডেন্ট আই ডি কার্ডের ফটোকপি ২ টা
×

যেখানে সেখানে পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলবেন না। প্রকৃতিকে নিজের মত থাকতে দিন।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।