পুটনী আইল্যান্ড

ভালো লেগেছে
0

পুটনী আইল্যান্ড (Putni Island) বাংলাদেশের খুলনা জেলাতে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা স্থানীয়দের কাছে দ্বীপচর নামেও পরিচিত। সুন্দরবনের ভিতর প্রকৃতির অপার এক লীলাভূমি এই পুটনী দ্বীপ। একপাশে গহীন জঙ্গল আর অন্যপাশে সমুদ্র সৈকতের মতো বিস্তীর্ণ এলাকা আর ঠিক মাঝখানে খালগুলোর ধারে ঘন সবুজ ঘাসের প্রান্তর। চোখ জুড়ানো এবং মন ভুলানো দৃশ্য যাকে বলে। সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায় দ্বীপ পুটনী। জোয়ারের সময় পুরো এলাকা ভাসমান থাকে আর ভাটার সময় ধু ধু বালুচর। ভোরের সূর্যটা একদম চোখের সামনে আবার বিকেলের পর সূর্য অস্ত যায় বঙ্গোপসাগরের মোহনায়। অন্য দেশে প্রাইভেট আইল্যান্ড বা হলিউডে বিভিন্ন সারভাইভাল মুভিতে চর বা দ্বীপ দেখে থাকেন, ঠিক সেরকম একটি জায়গা পুটনী আইল্যান্ড।

জেনে রাখা ভালো – এখানে খুব একটা মানুষ যান না। যান না জেলেরাও। কারণ, সুন্দরবনে কিছু কিছু এলাকা আছে যেখানে মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা। সেখানে, জাল ফেলা দুরে থাক প্রবেশ করায় নিষিদ্ধ।

তবে এখানে কাঁকড়ার আধিক্য থাকায় অনেকেই কাকড়া আহরণ করতে যেয়ে থাকেন। আর এখানকার গহীণ জঙ্গলে যেমন পরিমাণে হরিণ রয়েছে থিক তেমনি এখানকার খালগুলোতেও রয়েছে প্রচুর মাছ। এক কথায় হরিণ আর মাছের অভয়ারণ্য মূলত পুটনী আইল্যান্ড। তবে এই দ্বীপে কোনো বাঘ নেই বলে জানা গেছে।

যাওয়ার উপায়

দুবলার চর হয়ে পুটনী দ্বীপ যাওয়া যায় আবার হিরণ পয়েন্ট দিয়েও যাওয়া যায়। অর্থাৎ বাগেরহাটের মংলা থেকে ট্রলার নিয়ে হিরণ পয়েন্ট অথবা দুবলার চর হয়ে যেতে পারেন পুটনী আইল্যান্ডে। দ্বীপটিতে যেতে আপনাকে সবার আগে, বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। আপনি মংলার বন বিভাগের অফিস অথবা হিরন পয়েন্টের বন বিভাগের অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে রওনা করতে হবে।

যেহেতু দ্বীপটি চর জাগা দ্বীপ, তাই বড় লঞ্চে যাওয়া সম্ভব না। তাই, ট্রলারই ভরসা। ট্রলার পাওয়াটা একটু কষ্টসাধ্য, কারন জেলে বা ট্রলার চালকদের কাছে এই রুটটা অনেকটাই অচেনা। তাই, মংলায় গিয়ে বিভিন্ন ট্রলার চালকদের সাথে কথা বলে অভিজ্ঞ ও চেনা জানা চালক দেখে ট্রলার নিতে হবে।

বর্ষাকালে না যাওয়া ভাল কারণ, আবহাওয়া বৈরী থাকে। আর ক্যাম্পিংয়ের জন্য ততো পারফেক্ট না, কারণ রাতে যখন জোয়ার ওঠে, পুরো সবুজ প্রান্তরগুলো ডুবে যেতে পারে। তাই, ট্রলারেই খাওয়া-ঘুম-থাকা। ট্রলার ভাড়া নিয়েই মাঝিদের সাথে কথা বলে আইডিয়া নিয়ে, বাজার সদাই করে, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি-ওষুধ নিয়ে উঠে পড়বেন ট্রলারে। তারপরই শুরু দু:সাহসিক অভিযান।

থাকার ব্যবস্থা

রাতে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পিং করে থাকার চেষ্টা করা যেতে পারে কিন্তু জোয়ারের পানি উঠতে পারবে না এমন জায়গায় নিশ্চিত হয়ে টেন্ট পিচ করতে হবে। এছাড়া ট্রলারে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় সহজেই। সেক্ষেত্রে মংলা থেকেই পর্যাপ্ত পরিমান খাবার দাবারের জন্যে প্রয়োজনীয় পরিমান কেনাকাটা করে ট্রলারে উঠতে হবে।

ছবি এবং কন্টেন্ট সহযোগিতায়ঃ মনিরুল ইসলাম
×

পৃথিবীটা আমাদের এবং এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দ্বায়িত্বও আমাদের। সুতরাং আসুন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে আমরা সবাই বিরত থাকি ও পরিবেশটা সুন্দর রাখি।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।