ময়মনসিংহ

মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি

জমিদারি-আমলের ভাঙা প্রাসাদ আর দুইশ বছরের মিষ্টি—দুটোই একসঙ্গে পেতে চাইলে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি ঘুরে আসুন। আটআনী রাজবাড়ি নামে পরিচিত এই চত্বর এখন অনেকটাই ভগ্নপ্রায়, তবু সিংহ দরজা, মন্দির আর দ্বিতল ভবনের কাঠামো দেখে পুরনো আমলের আন্দাজ মেলে। বের হওয়ার মুখে রাজবাড়ির পাশের গোপাল পালের মণ্ডা না খেলে ঘোরা অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

বাড়িটি ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে, মুক্তাগাছা উপজেলা সদরে। মনে রাখবেন, শহরের শশী লজ আলাদা বাড়ি—সেটিও এই বংশেরই, কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীরে শহরের ভেতরে। মুক্তাগাছায় যা দেখবেন সেটি আটআনী জমিদার বাড়ি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৯৩ সাল থেকে এটি দেখভাল করে; সংরক্ষিত স্থাপনা হলেও সংস্কার শেষ হয়নি, তাই ভেঙে পড়া দেয়ালে উঠবেন না, অফিস চলা ভবনে ঢুকবেন না।

ভ্রমণের দরকারি তথ্য এক নজরে

অবস্থানমুক্তাগাছা উপজেলা সদর, ময়মনসিংহ (শহর থেকে প্রায় ১৭ কিমি পশ্চিমে)
জায়গার ধরনজমিদার বাড়ি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন
পরিচিত নামআটআনী জমিদার বাড়ি, মুক্তাগাছা রাজবাড়ী
বর্তমান অবস্থাপ্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত স্থাপনা; বেশিরভাগ অংশ ভগ্নপ্রায়
খোলার সময়সাধারণত রোববার বন্ধ, সোমবার বিকেল; অন্য দিন সকাল ৯টা–বিকেল ৫টা
ঘুরতে সময় রাখুনপ্রায় ১–দেড় ঘণ্টা; মণ্ডা ধরলে আধা দিন
প্রবেশমূল্যসামান্য টিকিট লাগতে পারে; দাম গেটে জেনে নিন

কি কি দেখবেন

সিংহ দরজা, মন্দির ও নাটমন্দির

চত্বরে ঢোকার মুখে বিশাল সিংহ দরজা। প্রবেশপথের কাছেই রাজরাজেশ্বরী মন্দির। ভেতরে নাটমন্দির বা রঙ্গমহল—জমিদারদের আমলে এখানে নাটক-সংগীত হতো, আর একসময় ঘূর্ণায়মান মঞ্চ ছিল বলে স্থানীয়ভাবে শোনা যায়। সরোদশিল্পী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ একাধিকবার এই রাজবাড়িতে এসেছেন। মন্দিরের কারুকাজ ও দরজার গাঁথুনি এখনও চোখে পড়ে, যদিও অনেক অলংকরণ ক্ষয়ে গেছে।

দ্বিতল প্রাসাদ ও ভেতরের অংশ

লোহা-কাঠের দ্বিতল ভবনটিই চোখ টানে। মেঝের অনেকটাই আর নেই, দাঁড়িয়ে আছে মূল কাঠামো—দূর থেকে দেখুন, সিঁড়ি বা ভাঙা ছাদে উঠবেন না। রাজকোষাগার (তোষাখানা) ও অন্দরমহলের কিছু অংশও চেনা যায়। চত্বরের শেষ দিকের একটি পুকুর প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। পুরো এলাকা একসময় প্রায় ১০০ একর জুড়ে ছিল বলে স্থানীয় বিবরণে পাওয়া যায়; আজ তার বড় অংশে শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও নবারুণ বিদ্যানিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠান চলে। অফিস চলাকালে সেসব ভবনে ঢোকার সুযোগ নেই—দর্শনার্থীদের জন্য খোলা প্রাসাদ, মন্দির ও নাটমন্দির এলাকাই ঘুরে দেখুন।

জমিদার বাড়ি সম্পর্কে একটু জেনে নিন

মুক্তাগাছার পুরনো নাম ছিল বিনোদবাড়ী। জনশ্রুতি অনুযায়ী, জমিদাররা এলে মুক্তারাম কর্মকার নামে একজন পিতলের গাছা (প্রদীপদানি) উপহার দেন; সেই মুক্তা আর গাছা মিলিয়ে এলাকার নাম হয় মুক্তাগাছা। জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন বগুড়ার শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী, ১৭২৭ সালে। তিনি মুর্শিদাবাদের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কাজ করতেন এবং আলাপসিং পরগণার বন্দোবস্ত পান। বর্তমান মুক্তাগাছার বেশিরভাগই সেই পরগণার ভেতরে পড়ত।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর শ্রীকৃষ্ণের চার ছেলে—রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম—বগুড়া ছেড়ে আলাপসিংয়ে আসেন। ব্রহ্মপুত্রের শাখা আয়মান নদীর তীরে নৌকা ভিড়িয়ে তাঁরা বসতি গড়েন; চারদিকে তখন অরণ্য আর জলা। ১৭৫০–৬০ সালের দিকে আটআনী অঞ্চলে এই জমিদার বাড়ি গড়ে ওঠে। পরে জমিদারি ভাগ হয় বড় হিস্যা, মধ্যম হিস্যা, ছোট হিস্যা, আটআনী ও দড়ি চারিআনী নামে। আজ যে রাজবাড়ি দর্শনার্থী দেখেন, সেটি হররামের বংশের আটআনী বাড়ি; এই শাখার জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরীর নাম এলাকায় এখনও শোনা যায়।

বংশের প্রধান শাখার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী ও তাঁর পালকপুত্র মহারাজা শশীকান্ত ময়মনসিংহ শহরে শশী লজ বানান। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেই বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১৯০৫ সালে নতুন করে গড়া হয়। জমিদারি প্রথা তুলে দেওয়ার পর, ১৯৫০ সালের দিকে জমিদাররা মুক্তাগাছার বাড়ি ছাড়েন। স্থানীয়রা বলেন, এরপর এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় দরজা-জানালাসহ অনেক জিনিস লুট হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে দায়িত্ব নেয় এবং সাইটটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে চিহ্নিত করে। সংস্কার শুরু হয় ২০১২ সালে, চলে ২০১৭ পর্যন্ত, তারপর অর্থের অভাবে থেমে যায়—প্রায় অর্ধেক অংশ তখনও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। ২০২৩ সালে অধিদপ্তর নতুন সংস্কার প্রস্তাব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছিল; পুরো চত্বর এখনও ভগ্নপ্রায়, তবে প্রতিদিন, বিশেষ করে শুক্রবার, দর্শনার্থী আসেন।

যাওয়ার আগে জেনে রাখুন

প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী রোববার সাইট বন্ধ থাকে, সোমবার বিকেলের দিকে এবং অন্যান্য দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ছুটির দিনের সময় বদলাতে পারে, যাওয়ার আগে মিলিয়ে নিন। টিকিটের দাম নির্দিষ্ট করে প্রকাশিত হয় না; গেটে সামান্য ফি লাগতে পারে। কর্মীর সংখ্যা কম, তাই নিজের খেয়াল রাখুন—ধূমপান করা যায় না, দেয়ালে লিখবেন না, ভাঙা কাঠামোয় উঠবেন না। ছায়া, পানি ও আরামদায়ক জুতা সঙ্গে রাখুন। শুক্রবার ভিড় বেশি হয়।

একই দিনে শহরে শশী লজ দেখতে চাইলে আলাদা করে সময় রাখুন। সেটিও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জাদুঘর, সাধারণত রোববার বন্ধ। উঠোনের বিখ্যাত শুক্রের (ভেনাস) মূর্তিটি ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ভেঙে ফেলা হয়; মাথা এখনও উদ্ধার হয়নি এবং পুনর্নির্মাণ শেষ হয়নি। মূর্তি দেখার আশায় গেলে হতাশ হবেন—বাড়িটি নিজেই ঘোরার যোগ্য।

মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ

সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১২০–১২৫ কিলোমিটার। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ভালুকা হয়ে ময়মনসিংহের মাসকান্দা টার্মিনাল; সময় লাগে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। সাম্প্রতিক তালিকায় এই পথে সৌখিন ও ইউনাইটেড পরিবহনের নাম পাওয়া যায়। একসময়ের পরিচিত এনা পরিবহনের গেটলক সার্ভিস ২০২৪ সালের আগস্টে বন্ধ হয়, তাই এনা ধরে টিকিট খুঁজবেন না। বিআরটিএর সেপ্টেম্বর ২০২৬ তালিকায় নন-এসি ভাড়া ৫১ আসনের বাসে ২৭৮ টাকা, ৪০ আসনের বাসে ৩৫৫ টাকা। এসির ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না—পরিবহনভেদে বদলায়, কাউন্টারে জেনে নিন। নন-এসি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ছাড়ে; ফেরার শেষ বাস সাধারণত রাত নয়টার দিকে।

ট্রেনে কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহ যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগে। তিস্তা এক্সপ্রেস (৭০৭) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে, সাধারণত সোমবার বন্ধ। জামালপুর এক্সপ্রেস (৭৯৯) সকাল ১০টায়, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৫) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে, যমুনা এক্সপ্রেস (৭৪৫) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৩) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে এবং হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৭) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ে। ফেরার জন্য বিকেলের তিস্তা (ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ৫টা ৬ মিনিট) বা সন্ধ্যার অগ্নিবীণা (প্রায় ৭টা ৪৮ মিনিট) এক দিনের ট্যুরে সুবিধাজনক। সাপ্তাহিক বন্ধ ও সময় বদলাতে পারে—যাওয়ার আগে রেল শেভা অ্যাপে মিলিয়ে আগেই টিকিট কাটুন।

আসনের শ্রেণিঢাকা–ময়মনসিংহ ট্রেনের ভাড়া
শোভন১২০ টাকা
শোভন চেয়ার১৪৫ টাকা
প্রথম শ্রেণি (সিট)২২৫ টাকা
স্নিগ্ধা২৭৬ টাকা
এসি সিট৩৩৪ টাকা
এসি বার্থ৫৫১ টাকা
ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা

ময়মনসিংহ শহর বা মাসকান্দা থেকে মুক্তাগাছাগামী লোকাল বাস, সিএনজি বা অটো নিন। দূরত্ব প্রায় ১৬–১৭ কিলোমিটার, সময় লাগে ৪০–৫০ মিনিট। ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল সড়কের সংযোগ থেকে উপজেলা সদরের দিকে এক কিলোমিটারের মতো। মুক্তাগাছা বাজারে নেমে কলেজ রোড ধরে হেঁটে বা রিকশায় রাজবাড়ি চলে যাবেন—গোপাল পালের মণ্ডার দোকান রাজবাড়ির পূর্ব পাশে, জগৎ কিশোর রোডে।

সিএনজি রিজার্ভ করলে শেয়ার না রিজার্ভ, কোথায় নামাবে এবং ফেরার ভাড়া একসঙ্গে ঠিক করুন। একই দিনে ঢাকা ফিরতে চাইলে সকালের ট্রেন বা ভোরের বাস ধরুন, আর ফেরার শেষ সময় আগে থেকে জেনে রাখুন।

এক দিনের সহজ ট্যুর প্ল্যান

  1. সকালে রওনা হয়ে ময়মনসিংহ নামুন

    তিস্তা এক্সপ্রেস বা ভোরের বাসে বের হলে বেলা সাড়ে দশটা–এগারোটার মধ্যে ময়মনসিংহ পৌঁছানো যায়। স্টেশন বা মাসকান্দা থেকে মুক্তাগাছার গাড়ি সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করুন।

  2. কলেজ রোড ধরে রাজবাড়িতে ঢুকুন

    বাজারে নেমে জগৎ কিশোর রোড বা কলেজ রোড ধরে সিংহ দরজা খুঁজুন। গোপাল পালের দোকান পথের চিহ্ন—রাজবাড়ি তার পাশেই। রোববার গেলে সাইট বন্ধ থাকতে পারে।

  3. দরজা, মন্দির, নাটমন্দির ও প্রাসাদ দেখুন

    দেড় ঘণ্টার মধ্যে মূল অংশ ঘুরে আসা যায়। ভাঙা সিঁড়ি বা ছাদে উঠবেন না, অফিস চলা ভবনে ঢুকবেন না। ছবি তুলতে চাইলে কর্মীদের কথা মেনে চলুন।

  4. মণ্ডা খেয়ে ফেরার গাড়ি ধরুন

    পাশের আসল গোপাল পালের দোকান থেকে মণ্ডা কিনে নিন—অন্য কোথাও এঁদের শাখা নেই। তারপর ময়মনসিংহ ফিরে বিকেলের তিস্তা, সন্ধ্যার অগ্নিবীণা বা বাস ধরুন। সময় থাকলে শশী লজ ঘুরে আসতে পারেন।

মুক্তাগাছা ভ্রমণ

কখন গেলে ঘুরতে ভালো লাগবে

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ঘুরতে সবচেয়ে আরাম, আর এই সময়েই খেজুরের গুড়ের বিশেষ মণ্ডা মেলে। বর্ষায় ধ্বংসাবশেষ পিচ্ছিল হয়—জুতা ও সময় দুটোই মেপে নিন।

  1. জানু — শীতের আরামদায়ক সময়
  2. ফেব — শীতের আরামদায়ক সময়
  3. মার্চ — গরমের সময়
  4. এপ্রি — গরমের সময়
  5. মে — গরমের সময়
  6. জুন — বর্ষার সময়
  7. জুল — বর্ষার সময়
  8. আগ — বর্ষার সময়
  9. সেপ্টে — বর্ষার সময়
  10. অক্টো — বর্ষার সময়
  11. নভে — শীতের আরামদায়ক সময়
  12. ডিসে — শীতের আরামদায়ক সময়
★ সেরা সময়

নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি

শীতের আরামদায়ক সময়

  • হাঁটতে আরাম, রোদ নরম
  • খেজুরের গুড়ের মণ্ডার মৌসুম
  • সকালের কুয়াশায় ট্রেন-বাস দেরি করতে পারে

মার্চ–মে

গরমের সময়

  • রোদ কড়া, ছায়া কম
  • পানি ও ছাতা সঙ্গে রাখুন
  • দুপুরে বিরতি দিয়ে বিকেলের দিকে ঘুরুন

জুন–অক্টোবর

বর্ষার সময়

  • সবুজ চত্বর সুন্দর, পথ পিচ্ছিল
  • ভাঙা মেঝেতে পা ফেলুন সাবধানে
  • বৃষ্টির সময় খোলা অংশে আশ্রয় কম

সময় বাড়তি থাকলে ময়মনসিংহ শহরে ফিরে ব্রহ্মপুত্রের পাড় ধরে একটু হাঁটুন। শশী লজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল বা নদীর ঘাট—যেকোনো একটিই এক দিনের প্ল্যানে ঠিক রাখুন, সবকটি জুড়তে গেলে ফেরার ট্রেন ফস্কে যেতে পারে।

খাওয়া, থাকা ও ছোট কিছু টিপস

মুক্তাগাছায় রাত থাকার ভালো ব্যবস্থা সীমিত। দিনের ট্যুরেই ঘুরে আসা যায়; রাত কাটাতে চাইলে ময়মনসিংহ শহরের হোটেল সুবিধাজনক। নিচে কয়েকটি পরিচিত জায়গার নাম, ধরন ও যোগাযোগ দেওয়া হলো—ভাড়া বদলায়, ফোনে জেনে বুকিং দিন।

  • হোটেল আমির ইন্টারন্যাশনাল — মাঝারি; ৪৬/এ পলিকা শপিং সেন্টার, স্টেশন রোড; ফোন: ০১৭১১-১৬৭৯৪৮
  • হোটেল মুস্তাফিজ ইন্টারন্যাশনাল — মাঝারি; ৬/৩ (বি) গঙ্গাদাস গুহ রোড, টাউন হল ও ফায়ার সার্ভিসের মাঝে; ফোন: ০৯১-৬৩৮৭০, ০১৭১৫-১৩৩৫০৭
  • সিলভার ক্যাসেল রিসোর্ট — রিসোর্ট, সুইমিংপুল; ৩৩৭/২ ঢোলাদিয়া (তালতলা), ব্রহ্মপুত্র তীর; ফোন: ০১৩৩২-৫২৩৬৩৬, ০১৮১০-০৩৫০০৫
  • ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস — সরকারি আবাস, ব্রহ্মপুত্র তীরে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পূর্ব দিকে; আগে থেকে অনুমতি নিন; ফোন: ০২৯৯৬৬৬৫৭২৩, ০১৭৩৩-৩৭৩৩০৬

খাওয়ার নামে মুক্তাগাছার প্রথম কথা মণ্ডা। ১৮২৪ সালে রামগোপাল পাল (গোপাল পাল) ছানা আর চিনির এই মিষ্টি বানিয়ে মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীকে দেন। জমিদার মুগ্ধ হয়ে অতিথি আপ্যায়নে মণ্ডা রাখতে বলেন, ব্যবসা বাড়াতে সাহায্যও করেন—পরিবারের পুস্তিকা ও পরের প্রতিবেদনে এই কথাই আছে। আজ পঞ্চম প্রজন্ম, রামেন্দ্রনাথ পাল অ্যান্ড ব্রাদার্স, সেই দোকান চালায়। দেশের আর কোথাও এঁদের শাখা নেই। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তাগাছার মণ্ডা জিআই স্বীকৃতি পায়।

  • গোপাল পালের মণ্ডার দোকান — রাজবাড়ির পূর্বে, জগৎ কিশোর রোড / কলেজ রোড। চিনির মণ্ডা কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা, নভেম্বর থেকে মার্চ খেজুরের গুড়ের মণ্ডা ৮০০ টাকা; এক কেজিতে ২০টি। দাম বদলাতে পারে। ফোন: ০১৭১১-৭০৭৯০৯। ট্রেডমার্ক দেখে কিনুন।
  • মুক্তাগাছা বাজার — ভাত-মাছের সাধারণ হোটেল; দুপুরের খাবার এখানেই সারতে পারবেন।
  • প্রেসক্লাব ক্যান্টিন, ময়মনসিংহ — মোরগ পোলাও এখানকার পরিচিত আইটেম।
  • হোটেল ধানসিঁড়ি ও হোটেল সারিন্দা — ময়মনসিংহ শহরের পরিচিত খাবারের জায়গা।

দোকানের ভেতরে গোপাল পালের একটি পুরনো কাঠের মূর্তি আছে—স্থানীয় কাঠমিস্ত্রির কাজ বলে শোনা যায়। দূরে নিয়ে যেতে চাইলে শুকনো প্যাকেট চান। রাজবাড়িতে আবর্জনা ফেলবেন না; ঐতিহাসিক চত্বর যতটা ভাঙা, ততটাই যেন আর নোংরা না হয়।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি কোথায়?

ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা সদরে, শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে। কলেজ রোডে, গোপাল পালের মণ্ডার দোকানের পাশে।

এটি কি শশী লজ?

না। শশী লজ ময়মনসিংহ শহরে, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে—একই আচার্য চৌধুরী বংশের শহুরে প্রাসাদ। মুক্তাগাছায় যা দেখবেন সেটি আটআনী জমিদার বাড়ি।

বাড়িটি কি এখনও আছে?

আছে, তবে বেশিরভাগ অংশ ভগ্নপ্রায়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৯৩ সাল থেকে দেখভাল করে। ২০১২–১৭ সালের সংস্কার শেষ হয়নি। দর্শনার্থীরা সিংহ দরজা, মন্দির, নাটমন্দির ও দ্বিতল কাঠামো দেখতে পারেন।

কখন খোলা থাকে, টিকিট লাগে?

সাধারণত রোববার বন্ধ, সোমবার বিকেল এবং অন্য দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। সামান্য প্রবেশ টিকিট লাগতে পারে; সময় ও দাম গেটে মিলিয়ে নিন।

ঢাকা থেকে কীভাবে যাবেন?

মহাখালী থেকে বাসে মাসকান্দা (নন-এসি ২৭৮–৩৫৫ টাকা, আড়াই–সাড়ে তিন ঘণ্টা), অথবা কমলাপুর থেকে তিস্তা, অগ্নিবীণা, যমুনা বা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। সেখান থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে মুক্তাগাছা, আর ৪০–৫০ মিনিট।

ঘুরতে কত সময় রাখবেন?

রাজবাড়ির খোলা অংশের জন্য ১–দেড় ঘণ্টা। মণ্ডা ও আসা-যাওয়া মিলিয়ে ঢাকা থেকে এক দিনের ট্যুর।

মণ্ডা কোথায় পাবেন, দাম কত?

রাজবাড়ির পাশে গোপাল পালের আসল দোকানে। অন্য কোথাও শাখা নেই। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিনির মণ্ডা কেজি ৭০০ টাকা, গুড়ের মণ্ডা ৮০০ টাকা। ২০২৪ সালে এটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

রাত কাটাবেন কোথায়?

মুক্তাগাছায় ভালো হোটেল কম। ময়মনসিংহ শহরের হোটেল আমির ইন্টারন্যাশনাল, মুস্তাফিজ ইন্টারন্যাশনাল বা সিলভার ক্যাসেল রিসোর্টে থাকুন। সার্কিট হাউসে অনুমতি লাগে।

Leave a Comment
Share