- সবুজ প্রকৃতি
- ঝর্ণা পূর্ণ প্রাণবন্ত
- রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে
- পাহাড়ি ঢল ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি
জামরুম ঝর্না (Jamrum Jhorna) বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার গভীর অরণ্যে লুকিয়ে থাকা একটি বিস্ময়কর, বহু-ধাপের জলপ্রপাত। অনেকেই এটিকে থানচির ঝর্না ভাবেন, কিন্তু আসলে এটি আলীকদম রুটে পড়ে — যদিও পাহাড়ি ভূগোলে দুই উপজেলার ট্রেইল একে অন্যের সাথে জড়িয়ে আছে।
এটি সাধারণ পর্যটকের গন্তব্য নয়। এটি অভিজ্ঞ ট্রেকারদের রুট, এবং প্রায় সবসময়ই পালংখিয়াং, লাদমেরাগ ও থানকোয়াইন ঝর্নার সাথে একই ট্রিপে ঘোরা হয়।
কাঠিন্যের মাত্রা: কঠিন।
প্রয়োজনীয় সময়: আলীকদম থেকে ন্যূনতম ৩–৪ দিন (রাউন্ড ট্রিপ)
ঢাকা থেকে হানিফ, শ্যামলী ও অন্যান্য পরিবহনে সরাসরি আলীকদমের বাস আছে। নন-এসি ভাড়া প্রায় ৮৫০–৯০০ টাকা। রাতের বাসে উঠলে ভোরে পৌঁছে যাবেন। এছাড়া কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে চকরিয়া নেমে, সেখান থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা চাঁদের গাড়িতে আলীকদম পানবাজার (সময় ১.৫–২ ঘণ্টা)।
এখানেই সকালের নাশতা সেরে নিন, গাইড ঠিক করুন, শুকনো খাবার-ওষুধ কিনে নিন এবং প্রশাসনিক অনুমতির কাজ শেষ করুন। এর পরে আর কোনো দোকান বা নেটওয়ার্ক পাবেন না।
গাইডের পছন্দ অনুযায়ী দুটি প্রধান রুট:
| রুট | পথ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| রুট ১ (১৩ কিলো থেকে) | আলীকদম-থানচি সড়কের ১৩ কিলো পয়েন্টে চাঁদের গাড়িতে নামা | সরাসরি পাহাড় বেয়ে নামা, বেশি খাড়া |
| রুট ২ (আমতলী থেকে) | আমতলী ঘাট → ইঞ্জিন নৌকায় তৈন খাল ধরে ~২ ঘণ্টা → দুছড়ী বাজার | অসাধারণ নৈসর্গিক, তুলনামূলক আরামদায়ক |
এখান থেকেই মূল ট্রেকিং। তৈন খালের বুক চিরে, পিচ্ছিল পাথর ও ঘন জঙ্গল পেরিয়ে ২–৩ ঘণ্টার হাঁটা। রাতে পালংখিয়াংয়ের কাছের আদিবাসী পাড়ায় থাকা।
পরদিন সকালে আরও গভীরে যাত্রা। প্রথমে লাদমেরাগ ঝর্না, তারপর বাঁশবন, অন্ধকার পিচ্ছিল ট্রেইল ও খাড়া গিরিখাত পেরিয়ে অবশেষে জামরুম ঝর্ণা। তবে সব সিজনে লাদমেরাগে/ল্যাদমেরাগে পানি থাকে না, তাই পানি না থাকলে ওটা স্কিপ করতে পারবেন।
আপনার ট্যুর, তাই প্ল্যানও আপনার। আমরা জাস্ট সম্ভাব্য রুট প্ল্যান দিলাম। আপনি আপনার গাইডের সাথে আলাপ করে রুট অ্যান্ড আইটেনারি ফাইনাল করে নিবেন।
ঢাকা → আলীকদমের বাসে যাত্রা
আলীকদম পৌঁছে অনুমতি ও গাইড ঠিক → আমতলী/১৩ কিলো → দুছড়ী → পালংখিয়াং → পাড়ায় রাত যাপন
পালংখিয়াং → লাদমেরাগ → জামরুম ঝর্না → ফিরে পাড়ায় রাত যাপন
থানকোয়াইন ঝর্না (ঐচ্ছিক) → দুছড়ী → আলীকদম → রাতের বাসে ঢাকা
ঢাকা পৌঁছানো
থাকার জায়গা: এই এলাকায় থাকতে হবে ত্রিপুরা বা মুরং পাড়ার মাচাং ঘর/জুমঘরে — কাঠের মাচার ওপর তৈরি ঘর। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০–৩০০ টাকার মধ্যে, তবে এটি এলাকা ও পাড়ার ওপর নির্ভর করে। চাইলে তাঁবুও নিতে পারেন।
খাওয়া: গাইডকে আগেই বলে রাখলে পাড়ার আদিবাসী পরিবার জুমের চাল, পাহাড়ি মুরগি, ডাল ও মৌসুমি সবজি রান্না করে দেন। প্রতি বেলা ১৫০–২৫০ টাকা।
সাথে অবশ্যই রাখবেন: খেজুর, কিসমিস, বাদাম, চকলেট, বিস্কুট, স্যালাইন ও গ্লুকোজ — ট্রেইলে এগুলোই আপনার জ্বালানি।
| খাত | খরচ |
|---|---|
| ঢাকা–আলীকদম–ঢাকা বাস | ১,৭০০–২,০০০ টাকা |
| লোকাল যাতায়াত (চাঁদের গাড়ি/নৌকা) | ৮০০–১,২০০ টাকা |
| গাইড ফি (দিনপ্রতি ১০০০–১৫০০ টাকা, দলে ভাগ) | ৬০০–৯০০ টাকা |
| থাকা (২–৩ রাত) | ৪০০–৭০০ টাকা |
| খাওয়া | ১,০০০–১,৫০০ টাকা |
| মোট | ~৫,০০০–৬,৫০০ টাকা |
দল বড় হলে গাইড ও গাড়ি ভাড়া ভাগ হয়ে জনপ্রতি খরচ অনেক কমে আসে। তবে সাথে অতিরিক্ত ১,০০০–১,৫০০ টাকা বাফার রাখুন।
বান্দরবান সারা বছরই সুন্দর, তবে কিছু ঋতুতে প্রকৃতি আরও মনোরম হয়ে ওঠে।
বর্ষার পরপর ঝর্নায় ভরপুর পানি থাকে, আকাশ পরিষ্কার আর খালের পানিও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জামরুমের সৌন্দর্য টিকে আছে কারণ সেখানে মানুষ কম যায়। আপনার যাওয়াটা যেন সেই সৌন্দর্যের ক্ষতি না করে:
Leave a Comment