নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
শীতকাল ও মেলার মৌসুম
- শীতের শেষে তিন দিনের ঐতিহ্যবাহী মেলা ও উৎসব
- আশ্রম ও আশপাশের জমিদার বাড়ি ঘোরার সেরা আবহাওয়া
- পদ্মার পাড় ও গ্রামীণ পথঘাট শুকনো থাকে
ছবি: হিন্দুস নিউজ
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নে অবস্থিত শতবর্ষী আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রাম সাধুর আশ্রম (Ram Sadhur Ashram)। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে এটি শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবামন্দির (ডিঙ্গামানিক ধাম) এবং শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জন্মস্থান ও আশ্রম নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত। সবুজ গাছপালা, প্রাচীন পুকুর, শতবর্ষী তমাল ও অশোক বৃক্ষ এবং শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে ঘেরা এই আশ্রমটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থান।
শত বছরের পুরনো এই আশ্রম প্রাঙ্গণটি উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক শ্রীশ্রী রামঠাকুর (রামচন্দ্র চক্রবর্তী), তাঁর যমজ ভ্রাতা সাধক শ্রীশ্রী লক্ষ্মণ ঠাকুর এবং পিতা-পিতামহের সাধনপীঠ ও পৈতৃক ভিটা। পাশাপাশি ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের সাধক গোলক চন্দ্র সার্বভৌম ও শ্রীযুক্ত কালীকিশোর স্মৃতিরত্ন মহাশয়ের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই পুণ্যভূমির সাথে। প্রতি বছর শীতের শেষে এবং গুরুপূর্ণিমা ও বাৎসরিক উৎসবে এই আশ্রমকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী বিশাল মেলা ও কীর্তন মহোৎসব বসে।
| অবস্থান | ডিঙ্গামানিক গ্রাম, ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন, নড়িয়া উপজেলা, শরীয়তপুর–৮০২৪ |
| জায়গার ধরন | ঐতিহাসিক আশ্রম, মন্দির ও আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান |
| পরিচিত নাম | রাম সাধুর আশ্রম, শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবামন্দির, রামঠাকুরের আশ্রম |
| প্রতিষ্ঠাকাল | জন্মভিটা ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ; আশ্রম প্রতিষ্ঠা ১৩৪৯ বঙ্গাব্দের আষাঢ়ী গুরুপূর্ণিমা (১৯৪২–৪৩ খ্রিস্টাব্দ) |
| খোলার সময় | প্রতিদিন ভোর ৫:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত |
| প্রধান উৎসব ও মেলা | শীতের শেষে তিন দিনের বাৎসরিক মেলা, মাঘী পূর্ণিমা ও আষাঢ়ী গুরুপূর্ণিমা |
| প্রবেশমূল্য | কোনো টিকিট লাগে না (সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত) |
| যোগাযোগ | +৮৮০১৭১৮-৯৪১৯৭৯ (সেবামন্দির কার্যালয়) |
আশ্রম প্রাঙ্গণের মূল আকর্ষণ সুউচ্চ ও কারুকার্যময় শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবামন্দির এবং গর্ভমন্দির (জন্মঘর)—যেখানে শ্রীশ্রী রামঠাকুর ও লক্ষ্মণ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মন্দিরের পশ্চিম পাশের ভবনে সাধক লক্ষ্মণ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কক্ষ এবং ভেতরবাড়ির পূর্ব অংশে প্রাচীন শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ বিগ্রহের মন্দির ও দুর্গামণ্ডপ রয়েছে।
মা কালী মন্দিরের ঠিক বিপরীতে রয়েছে স্মৃতিমন্দির কমপ্লেক্স, যেখানে ঠাকুর পরিবারের সদস্য এবং গুরু পরিবারের চারজন প্রয়াত মোহন্ত মহারাজের সমাধি ও স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষিত আছে। জলাশয়ের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে একটি প্রাচীন দোতলা ভবন, যার ছাদের ঘরে বসে একসময় সাধনা ও পূজা-অর্চনা করা হতো।
আশ্রমের উত্তর দিকে রয়েছে বিশাল জলাশয়সহ তিনটি প্রাচীন বাঁধানো পুকুর এবং ফলের বাগান। দুর্গামণ্ডপের পূর্ব পাশে লক্ষ্মণ ঠাকুরের নিজ হাতে রোপণ করা শতবর্ষী তমাল বৃক্ষ এবং বাড়ির প্রবেশপথের উত্তরে বিশাল শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট প্রাচীন অশোক বৃক্ষ ও পঞ্চবটী সাধনবন পুরো প্রাঙ্গণকে এক অপূর্ব প্রশান্তিময় পরিবেশ দিয়েছে।
প্রতি বছর শীতের শেষে (মাঘ-ফাল্গুন মাসে) এই আশ্রমকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা ও মহোৎসব বসে। এ সময় দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে, নামসংকীর্তন চলে এবং দুপুরে ভক্ত ও অতিথিদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
তৎকালীন ফরিদপুর জেলার (বর্তমান শরীয়তপুর) নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামে ১৮৬০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি (১২৬৬ বঙ্গাব্দের ২১ মাঘ) পিতা রাধামাধব চক্রবর্তী ও মাতা কমলা দেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন আধ্যাত্মিক সাধক শ্রীশ্রী রামঠাকুর ও তাঁর যমজ ভাই লক্ষ্মণ ঠাকুর। পরবর্তীতে ১৩৪৯ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসের গুরুপূর্ণিমা তিথিতে ঠাকুরের অনুমতিক্রমে তাঁদের জন্মভিটার বহির্বাটিতে প্রথমে টালির ছাউনির ঘরে এই আশ্রমের যাত্রা শুরু হয়।
এরপর ভক্তদের উদ্যোগে এখানে সুউচ্চ মন্দির, স্মৃতিমন্দির ও ৬টি প্রশস্ত যাত্রীনিবাস (গেস্টহাউজ) নির্মিত হয়। স্থানীয় ইতিহাসে ডিঙ্গামানিকের এই পুণ্যভূমি সাধক গোলক চন্দ্র সার্বভৌম ও পণ্ডিত কালীকিশোর স্মৃতিরত্ন মহাশয়ের স্মৃতিধন্য ‘রাম সাধুর আশ্রম’ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে।
রাম সাধুর আশ্রম বা সত্যনারায়ণ সেবামন্দির প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা ফি লাগে না। এটি একটি সক্রিয় ধর্মীয় উপাসনালয় ও সাধনপীঠ হওয়ায় ভেতরে প্রবেশের সময় শালীন পোশাক পরিধান করুন, মূল মন্দিরে জুতা খুলে প্রবেশ করুন এবং নীরবতা ও পবিত্রতা বজায় রাখুন।
দুপুরে আশ্রমে ভোগ-প্রসাদ গ্রহণ করতে চাইলে বা আশ্রমের যাত্রীনিবাসে রাত্রিযাপন করতে চাইলে আগে থেকেই সেবামন্দির কার্যালয়ে (০১৭১৮-৯৪১৯৭৯) ফোন করে জানিয়ে রাখা ভালো।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যাতায়াত অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে সড়কপথে নড়িয়া ও শরীয়তপুরের দূরত্ব মাত্র ৭০–৭৫ কিলোমিটার; পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা।
শরীয়তপুর জেলায় সরাসরি কোনো রেলস্টেশন নেই। তবে কেউ ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা জংশন বা শিবচর (পাচ্চর) সংলগ্ন স্টেশনে নেমে (সুন্দরবন, রূপসী বাংলা বা মধুমতি এক্সপ্রেসে ভাঙ্গা পর্যন্ত সময় লাগে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট, শোভন চেয়ার ভাড়া ২১০–২২৫ টাকা) সেখান থেকে বাস বা অটোরিকশায় জাজিরা–নড়িয়া হয়ে ডিঙ্গামানিক যেতে পারেন।
এ ছাড়া নদীপথ পছন্দ করলে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সুরেশ্বর, নড়িয়া বা ওয়াপদা ঘাটগামী লঞ্চে (ডেক ভাড়া ২০০–২৫০ টাকা) সরাসরি সুরেশ্বর বা নড়িয়া ঘাটে নেমে অটোরিকশায় ১৫–২০ মিনিটে রাম সাধুর আশ্রমে পৌঁছানো যায়।
চট্টগ্রাম থেকে দুটি সুবিধাজনক উপায়ে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আসা যায়:
ঢাকা থেকে নড়িয়াগামী বাসে চড়লে সরাসরি নড়িয়া বাজার, ভোজেশ্বর বাজার অথবা ডিঙ্গামানিক মোড়ে নামুন। নড়িয়া উপজেলা সদর থেকে ডিঙ্গামানিক রাম সাধুর আশ্রমের দূরত্ব মাত্র ৪–৫ কিলোমিটার; ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইকে জনপ্রতি ২০–৩০ টাকা (রিজার্ভ ৮০–১০০ টাকা) ভাড়ায় ১৫ মিনিটেই আশ্রমের গেটে পৌঁছানো যায়। আর শরীয়তপুর জেলা সদর (প্রেমতলা/মনোহর বাজার) থেকে দূরত্ব প্রায় ১২–১৪ কিলোমিটার; অটোরিকশায় ভোজেশ্বর হয়ে ৩০–৩৫ মিনিটে আশ্রমে যাওয়া যায়।
সময় দরকার: 8 hours
ঢাকা থেকে এক দিনে নড়িয়ার রাম সাধুর আশ্রম, কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি, ভোজেশ্বর শিবলিঙ্গ এবং রুদ্রকর মঠ ঘুরে আসতে এই রুট প্ল্যানটি অনুসরণ করতে পারেন।
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে নড়িয়া পৌঁছান:
সকালে যাত্রাবাড়ী বা গুলিস্তান থেকে শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস বা গ্লোরি এক্সপ্রেস বাসে রওনা হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে সকাল ৯:৩০টার মধ্যে নড়িয়া বা ভোজেশ্বর বাজারে নামুন।
ডিঙ্গামানিক রাম সাধুর আশ্রম পরিদর্শন:
অটোরিকশা নিয়ে ডিঙ্গামানিক গ্রামে রাম সাধুর আশ্রমে (সত্যনারায়ণ সেবামন্দির) যান। দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে গর্ভমন্দির, জন্মঘর, স্মৃতিমন্দির, শতবর্ষী তমাল-অশোক বৃক্ষ, পঞ্চবটী বন ও প্রাচীন দিঘিগুলো ঘুরে দেখুন।
পাশের কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি, ঘড়িসার মঠ ও সুরেশ্বর দর্শন:
ডিঙ্গামানিকের পাশেই কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) ও ঘড়িসার মঠ দেখে নিন। চাইলে কাছেই পদ্মা তীরের সুরেশ্বর দরবার শরীফ ও ভোজেশ্বরের বৃহৎ কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ দেখে দুপুরে নড়িয়া বা শরীয়তপুর সদরে খাবার সেরে নিন।
রুদ্রকর মঠ ও ধানুকা মনসা বাড়ি দেখে ঢাকায় ফেরা:
বিকেলে শরীয়তপুর সদরের ঐতিহাসিক রুদ্রকর মঠ ও ৬০০ বছরের পুরনো ধানুকা মনসা বাড়ি ঘুরে দেখে সন্ধ্যার বাসে মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকায় ফিরে আসুন।
ডিঙ্গামানিক ও শরীয়তপুর ভ্রমণ
রাম সাধুর আশ্রম সারা বছরই খোলা থাকে। তবে শীতকালের শেষভাগে অনুষ্ঠিত তিন দিনের মেলা এবং নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের আরামদায়ক আবহাওয়া ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
মার্চ–জুন
জুলাই–অক্টোবর
ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের দূরত্ব কম হওয়ায় এবং আশ্রমে প্রবেশের কোনো টিকিট না থাকায় মাত্র ৮০০ থেকে ১,৩০০ টাকায় এক দিনে খুব সুন্দরভাবে ঘুরে আসা যায়:
| খরচের খাত | বিবরণ | আনুমানিক খরচ (জনপ্রতি) |
|---|---|---|
| ঢাকা–নড়িয়া/শরীয়তপুর বাস ভাড়া | যাওয়া ও আসা (২৪০–৩০০ টাকা × ২) | ৪৮০–৬০০ টাকা |
| লোকাল অটোরিকশা / ইজিবাইক ভাড়া | নড়িয়া–ডিঙ্গামানিক–কার্তিকপুর–শরীয়তপুর সদর | ১২০–২৫০ টাকা |
| আশ্রমে প্রবেশ ফি | সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত | ফ্রি (০ টাকা) |
| দুপুরের খাবার ও নাস্তা | স্থানীয় হোটেল বা আশ্রমের প্রসাদ ও মিষ্টি | ২০০–৪০০ টাকা |
| মোট (এক দিনের ট্রিপ) | ঢাকা থেকে জনপ্রতি সর্বমোট | ৮০০–১,২৫০ টাকা |
ঢাকা থেকে মাত্র দেড়–দুই ঘণ্টার পথ হওয়ায় দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা সবচেয়ে সুবিধাজনক। তবে দূর থেকে আসা ভক্ত ও পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য আশ্রম প্রাঙ্গণ ও শরীয়তপুর শহরে বেশ কিছু ব্যবস্থা রয়েছে:
কোথায় ও কী খাবেন: আশ্রমে পূজা ও বিশেষ তিথিতে ভক্তদের জন্য অন্নপ্রসাদ (ভোগ)-এর ব্যবস্থা থাকে। এ ছাড়া নড়িয়া বাজার, ভোজেশ্বর বাজার, সুরেশ্বর ঘাট ও শরীয়তপুর সদরে ভাত, পদ্মা নদীর তাজা ইলিশ ও দেশি মাছের বেশ কিছু খাবারের হোটেল রয়েছে। শরীয়তপুর গেলে এখানকার ঐতিহ্যবাহী বিবিখানা পিঠা এবং ঘড়িসার ও ডামুড্যার বিখ্যাত রসগোল্লা ও মালাইকারি মিষ্টি অবশ্যই চেখে দেখবেন।
ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নে রাম সাধুর আশ্রম দেখে খুব অল্প সময়েই নড়িয়া ও শরীয়তপুর সদরের এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে আসতে পারবেন।
ডিঙ্গামানিকের পাশেই কার্তিকপুর গ্রামে অবস্থিত দুইশো বছরের পুরনো চৌধুরী বাড়ি
দূরত্ব ২–৩ কিমি
(ডিঙ্গামানিক আশ্রম থেকে)
নড়িয়ার প্রাচীন ঘড়িসার মঠ ও ভোজেশ্বরের উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ
দূরত্ব ৩–৬ কিমি
(ডিঙ্গামানিক আশ্রম থেকে)
নড়িয়ার সুরেশ্বরে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত প্রখ্যাত সুফি দরবার শরীফ ও লঞ্চঘাট
দূরত্ব ৬–৭ কিমি
(ডিঙ্গামানিক আশ্রম থেকে)
নবাব আলীবর্দী খাঁর আমলে নির্মিত সুউচ্চ ও কারুকার্যময় প্রাচীন মঠ
দূরত্ব ১২–১৪ কিমি
(ডিঙ্গামানিক আশ্রম থেকে)
শরীয়তপুর সদরে অবস্থিত প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি ও মন্দির
দূরত্ব ১৪–১৬ কিমি
(ডিঙ্গামানিক আশ্রম থেকে)
একই ট্রিপে রাম সাধুর আশ্রমের সাথে নড়িয়ার কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি এবং শরীয়তপুর সদরের রুদ্রকর মঠ ঘুরে দেখলে শরীয়তপুরের প্রধান ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একদিনেই দেখা হয়ে যাবে।
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ডিঙ্গামানিক গ্রামে রাম সাধুর আশ্রম অবস্থিত। এটি শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবামন্দির বা রামঠাকুরের জন্মস্থান ও আশ্রম নামেও পরিচিত।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ বা গুলিস্তান থেকে পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস বা গ্লোরি এক্সপ্রেস বাসে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় নড়িয়া বা ভোজেশ্বর বাজারে নামুন (ভাড়া ২২০–২৮০ টাকা)। সেখান থেকে অটোরিকশায় ২০–৩০ টাকা ভাড়ায় ডিঙ্গামানিক রাম সাধুর আশ্রমে যাওয়া যায়।
প্রতি বছর শীতের শেষে (মাঘ–ফাল্গুন মাসে) এই আশ্রমকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলা ও মহোৎসব বসে। এ ছাড়া আষাঢ়ী গুরুপূর্ণিমায় আশ্রমের প্রতিষ্ঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
আশ্রমটি প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য খোলা থাকে। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা ফি লাগে না।
এখানে শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবামন্দির, রামঠাকুরের জন্মঘর (গর্ভমন্দির), লক্ষ্মণ ঠাকুরের মন্দির, স্মৃতিমন্দির কমপ্লেক্স, প্রাচীন দোতলা ভবন, শতবর্ষী তমাল ও অশোক বৃক্ষ, পঞ্চবটী সাধনবন এবং তিনটি প্রাচীন পুকুর দেখার সুযোগ রয়েছে।
হ্যাঁ, দূর থেকে আগত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য আশ্রম প্রাঙ্গণে ৬টি যাত্রীনিবাস (গেস্টহাউজ) রয়েছে। থাকার জন্য আগে থেকে আশ্রম কর্তৃপক্ষের (+৮৮০১৭১৮-৯৪১৯৭৯) সাথে যোগাযোগ করে অনুমতি নিতে হয়। এ ছাড়া শরীয়তপুর শহরে আবাসিক হোটেল রয়েছে।
হ্যাঁ, ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সুরেশ্বর বা নড়িয়াগামী লঞ্চে চড়ে সুরেশ্বর/নড়িয়া ঘাটে নেমে অটোরিকশায় ১৫–২০ মিনিটে ডিঙ্গামানিক রাম সাধুর আশ্রমে যাওয়া যায়। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর বাসে যাওয়াই সবচেয়ে দ্রুত।
আশ্রম থেকে মাত্র ২–৩ কিলোমিটারের মধ্যে কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি ও ঘড়িসার মঠ, ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ভোজেশ্বর শিবলিঙ্গ ও সুরেশ্বর দরবার শরীফ এবং ১২–১৫ কিলোমিটারের মধ্যে শরীয়তপুর সদরের রুদ্রকর মঠ ও ধানুকা মনসা বাড়ি অবস্থিত।
Leave a Comment