পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশনের সারি, ২০১৫। এটি প্রতীকী ছবি, কোনো অফিসিয়াল ভিসা কেন্দ্রের নয়। ছবি: Biswarup Ganguly / Wikimedia Commons, CC BY 3.0 (ক্রপ করা)
চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলে বাংলাদেশিদের ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসা নিতে হয়। এই গাইডে কোন কাগজ লাগবে, ফি কত, কীভাবে আবেদন জমা দেবেন, পাসপোর্ট কীভাবে তুলবেন আর ভারতে পৌঁছে কী করবেন, সব এক জায়গায় দেওয়া হলো। ২০২৭ সালের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম বা ফি এখনো ঘোষণা হয়নি। নিচের সব তথ্য বর্তমান (নভেম্বর ২০২৬) নিয়ম অনুযায়ী। নিয়ম বদলালে HCI ও IVAC-এর নোটিশই চূড়ান্ত। মনে রাখবেন, এই গাইড হাসপাতালের চিঠি, অফিসিয়াল আবেদন বা ভিসা কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়। ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কর্তৃপক্ষের।
সব তথ্য নেওয়া হয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকা (HCI), IVAC বাংলাদেশ, ভারত সরকারের ভিসা পোর্টাল ও ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের (BoI) প্রকাশিত পেজ ও নথি থেকে।
এই লেখায় যা থাকছে:
| বিষয় | বর্তমান তথ্য (নভেম্বর ২০২৬) |
|---|---|
| রোগীর ভিসা | মেডিকেল ভিসা M-1 (আয়ুষ চিকিৎসার জন্য M-3) |
| সঙ্গীর ভিসা | মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা M-2 (আয়ুষে M-4)। বাংলাদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ ৩ জন |
| ভারত সরকারের ভিসা ফি | বাংলাদেশিদের জন্য নেই (ফ্রি) |
| IVAC ভিসা প্রসেসিং ফি | প্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা (সব চার্জসহ, অফেরতযোগ্য), ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর |
| কোথায় আবেদন | অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে IVAC-এ সশরীরে জমা (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট) |
| প্রসেসিং সময় | অফিসিয়াল কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা নেই |
| ভিসার মেয়াদ ও এন্ট্রি | দূতাবাস যা দেবে, ভিসা স্টিকারে লেখা থাকে |
ভারতের নতুন ভিসা কাঠামোতে মেডিকেল ভিসার চারটি উপ-ক্যাটাগরি আছে (IVAC-এর “Kind of Visas & Documents” পেজ অনুযায়ী):
BoI-এর “Medical Treatment in India” পেজে স্পষ্ট বলা আছে, বাংলাদেশি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ জন মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা পেতে পারেন। (অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য এই সংখ্যা ২ জন।) তবে হাসপাতালগুলো নিজেদের নিয়মে আরও কম অ্যাটেনডেন্ট রাখতে বলতে পারে। যেমন, কোনো কোনো হাসপাতালের চিঠিতে মাত্র ১–২ জনের নাম দেওয়া হয়। তাই হাসপাতালের চিঠিতে কতজন অ্যাটেনডেন্টের নাম আছে, তা আগে দেখে নিন।
রোগী ও অ্যাটেনডেন্টের সম্পর্ক প্রমাণের নির্দিষ্ট কোনো কাগজের নাম অফিসিয়াল তালিকায় নেই। তবে হাসপাতালের চিঠিতে অ্যাটেনডেন্টের নাম থাকা, আর NID, জন্মনিবন্ধন বা কাবিননামার কপি সঙ্গে রাখলে কাজে আসে। এগুলো অফিসিয়াল কন্ডিশন নয়, পরামর্শ।
অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র লাগবে (HCI ঢাকা, আগস্ট ২০২৬-এর তালিকা)। দাতার কাগজপত্রও আলাদাভাবে লাগে। কী কী লাগবে, তা হাসপাতালের ট্রান্সপ্লান্ট কো-অর্ডিনেটরের কাছ থেকে জেনে নিন।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় হাইকমিশনার ২৫ জুন ২০২৬ জানিয়েছেন যে ২৮ জুন ২০২৬ থেকে সব ধরনের ভিসার আবেদন আবার নেওয়া হচ্ছে। জরুরি মেডিকেল ভিসাও মানবিক বিবেচনায় দেওয়া চলবে। কিন্তু ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখেও IVAC-এর হোমপেজে একটি পুরোনো “Advisory 1” দেখা যাচ্ছে। সেখানে লেখা, জরুরি মেডিকেল ও জরুরি প্রয়োজনের ভিসার জন্য সীমিত সংখ্যক অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। তাই আবেদনের আগে appointment.ivacbd.com-এ গিয়ে দেখুন কোন তারিখে স্লট খালি আছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এখানে দুটি অফিসিয়াল উৎসের তথ্য আলাদা, তাই সাবধানে পড়ুন:
তাই e-Visa পোর্টালে বাংলাদেশ থেকে সত্যিই আবেদন করা যাচ্ছে কি না, তা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। কোনো ওয়েবসাইট বা এজেন্ট “অনলাইনে e-Medical ভিসা” করে দেওয়ার কথা বললে শুধু ভারত সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল indianvisaonline.gov.in/evisa ব্যবহার করুন। ভুয়া e-Visa ওয়েবসাইট নিয়ে HCI ঢাকা আগেই সতর্ক করেছে। নিশ্চিত না হলে IVAC-এর নিয়মিত পদ্ধতিতেই আবেদন করুন।
নিচের তালিকাটি HCI ঢাকার “Visa Documents: Category-wise” (আগস্ট ২০২৬) আর IVAC-এর মেডিকেল ভিসা পেজ মিলিয়ে তৈরি। “আবশ্যিক” মানে অফিসিয়াল তালিকায় আছে, “শর্তসাপেক্ষ” মানে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে লাগে, আর “পরামর্শ” মানে আমাদের সুপারিশ (অফিসিয়াল শর্ত নয়)। HCI জানিয়েছে, এই তালিকা চূড়ান্ত নয়, তারা আরও কাগজ চাইতে পারে।
| কাগজ | ধরন | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| মূল পাসপোর্ট | আবশ্যিক | আবেদন জমার দিন থেকে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ, অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা। পাসপোর্টের ২ ও ৩ নম্বর পাতার কপি। |
| সব পুরোনো পাসপোর্ট | আবশ্যিক | না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ ধরা হয়। হারালে GD-র কপি দিন। |
| ছবি | আবশ্যিক | সাম্প্রতিক ২x২ ইঞ্চি রঙিন ছবি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরো মুখ। অনলাইন ফর্মেও আপলোড করতে হয়। |
| NID বা জন্মনিবন্ধনের কপি | আবশ্যিক | যেটি প্রযোজ্য। জন্মতারিখ ও জন্মস্থান পাসপোর্টের সঙ্গে মিলতে হবে। |
| বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ | আবশ্যিক | বিদ্যুৎ, গ্যাস বা ল্যান্ডফোন বিলের কপি। ফর্মে লেখা ঠিকানা বিলের সঙ্গে মিলতে হবে। |
| আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ | আবশ্যিক (যেকোনো একটি) | গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অথবা ২০০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ডলার এনডোর্সমেন্ট (৩ মাসের বেশি পুরোনো নয়), অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি ও ডিপোজিট স্টেটমেন্ট। |
| পেশার প্রমাণ | আবশ্যিক (প্রযোজ্যটি) | সরকারি চাকরিজীবী: GO কপি। বেসরকারি চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার সার্টিফিকেট। ব্যবসায়ী: সরকারি নিবন্ধন বা ট্রেড লাইসেন্স, ইংরেজিতে না হলে ইংরেজি অনুবাদসহ। ছাত্র: প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড। অবসরপ্রাপ্ত: অবসরের কাগজ। |
| অনলাইন আবেদন ফর্মের প্রিন্ট | আবশ্যিক | BGD দিয়ে শুরু হওয়া রেজিস্ট্রেশন বা ওয়েব ফাইল নম্বরসহ, স্বাক্ষর করা। |
| Visa Undertaking Form | আবশ্যিক | IVAC-এর “Other Forms” থেকে নির্ধারিত ফরম্যাট ডাউনলোড করুন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে বাবা-মা দুজনের স্বাক্ষর লাগবে। |
| মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট কপি | শর্তসাপেক্ষ | মুক্তিযোদ্ধা আবেদনকারীর জন্য |
| Defence Personnel ফর্ম | শর্তসাপেক্ষ | বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক, আধাসামরিক বা পুলিশ সদস্যের জন্য |
| কাগজ | ধরন | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| বাংলাদেশি ডাক্তারের মেডিকেল কাগজ ও রিপোর্ট | আবশ্যিক | রোগের বিবরণসহ স্থানীয় ডাক্তারের কাগজ ও পরীক্ষার রিপোর্ট। IVAC অনুযায়ী মূল কাগজ। প্রথমবার চিকিৎসার জন্য গেলে বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশও দিতে হয়। |
| ভারতের হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার | আবশ্যিক | সরকারি হাসপাতাল, অথবা ICMR, NABH, MCI বা CGHS স্বীকৃত হাসপাতালের চিঠি। IVAC অনুযায়ী চিঠিতে নির্দিষ্ট তারিখ থাকতে হবে। |
| ইনভাইটেশন লেটারের কপি | আবশ্যিক | হাসপাতালের দেওয়া মেডিকেল ইনভাইটেশন লেটার |
| ভারতে চলমান চিকিৎসার সুপারিশ | শর্তসাপেক্ষ | আগে থেকে ভারতে চিকিৎসা চললে, সেখানকার ডাক্তারের সুপারিশ বা ফলো-আপের চিঠি |
| ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট | শর্তসাপেক্ষ | ভর্তি বা দীর্ঘ চিকিৎসার ক্ষেত্রে চাওয়া হতে পারে |
| আইন মন্ত্রণালয় ও MOFA-র ছাড়পত্র | শর্তসাপেক্ষ | অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে |
| হাসপাতালের খরচের হিসাব (estimate) | পরামর্শ | অফিসিয়াল তালিকায় নেই, তবে আর্থিক পরিকল্পনা আর প্রশ্নের উত্তর দিতে কাজে আসে |
IVAC-এর সাধারণ “Kind of Visas & Documents” পেজে আর্থিক প্রমাণ হিসেবে লেখা আছে গত ৩ মাসের স্টেটমেন্ট, অথবা ১৫০ ডলারের এনডোর্সমেন্ট (১ মাসের বেশি পুরোনো নয়)। কিন্তু HCI ঢাকার আগস্ট ২০২৬-এর মেডিকেল ভিসার তালিকায় আছে ৬ মাসের স্টেটমেন্ট, অথবা ২০০ ডলার (৩ মাসের মধ্যে)। নিরাপদ থাকতে কড়া শর্তগুলোই মানুন: ৬ মাসের স্টেটমেন্ট দিন, আর এনডোর্সমেন্ট করালে অন্তত ২০০ ডলারের এবং ১ মাসের মধ্যে করান। মনে রাখবেন, ভুয়া ডলার এনডোর্সমেন্ট বা ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়।
অফিসিয়াল তালিকায় ইংরেজি অনুবাদের কথা স্পষ্ট বলা আছে শুধু ব্যবসার নিবন্ধনের কাগজের ক্ষেত্রে। বাংলা মেডিকেল রিপোর্ট বা অন্য কাগজের ইংরেজি অনুবাদ সঙ্গে রাখা কাজে আসে, তবে এটি পরামর্শ, অফিসিয়াল শর্ত নয়।
মেডিকেল ভিসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ভারতের হাসপাতালের চিঠি। IVAC-এর পরামর্শ অনুযায়ী, যে হাসপাতালের নামে ভিসা দেওয়া হয়, শুধু সেখানেই চিকিৎসা নিতে হবে। FRRO-র অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল বদলালে ভিসার নিয়ম ভঙ্গ হয়, আর ভবিষ্যতে ভারতে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
হাসপাতালভিত্তিক বিস্তারিত গাইড: অ্যাপোলো হাসপাতাল চেন্নাই, সিএমসি ভেলোর ও টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মুম্বাই।
বাংলাদেশিদের নিয়মিত ভিসার ফর্ম পূরণ করতে হয় indianvisa-bangladesh.nic.in/visa ঠিকানায় (IVAC-এর “How To Fill Application” পেজ অনুযায়ী)। ফর্ম পূরণের সময় খেয়াল রাখুন:
| কেন্দ্র | ঠিকানা | আবেদন জমা | পাসপোর্ট ফেরত |
|---|---|---|---|
| IVAC ঢাকা (JFP) | যমুনা ফিউচার পার্ক, ফ্লোর G1, সাউথ কোর্ট, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ | সকাল ৯টা–বিকেল ৩টা (বাংলাদেশি পাসপোর্ট) | সকাল ১০টা–বিকেল ৪টা |
| IVAC চট্টগ্রাম | ১৮৭২, সিডিএ অ্যাভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, সিটি সেন্টার, ২য় তলা | সকাল ৯টা–দুপুর ১টা | বিকেল ৩টা–৫টা |
| IVAC রাজশাহী | মরিয়ম আলী টাওয়ার, পুরাতন বিলসিমলা, গ্রেটার রোড, বর্ণালী মোড় | সকাল ৯টা–দুপুর ২টা | বিকেল ৩টা–৫টা |
| IVAC খুলনা | রাহাত সেন্টার, ৭১ সৈয়দ আলী হোসেন সড়ক, ছোট বয়রা | সকাল ৯টা–দুপুর ১:৩০টা | বিকেল ৩টা–৪টা |
| IVAC সিলেট | রহিম টাওয়ার, সুবহানীঘাট, বিশ্বরোড | সকাল ৯টা থেকে (IVAC সাইটে শেষ সময় “11:00 PM” লেখা, সম্ভবত ভুল; নিশ্চিত হয়ে নিন) | দুপুর ২টা–৪টা |
IVAC-এর জেলাভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী মোটামুটি এভাবে জমা দেওয়া হয় (বিস্তারিত তালিকা IVAC সাইটে):
একটি সমস্যা হলো, IVAC-এর অন্য একটি নির্দেশনায় কিছু জেলার জন্য আলাদা মিশনের কথা বলা আছে (যেমন ময়মনসিংহের জন্য ঢাকা)। ফর্মে মিশন বেছে নেওয়ার আগে IVAC-এর বর্তমান জেলা তালিকা দেখে নিন।
| খরচ | পরিমাণ | উৎস ও তারিখ |
|---|---|---|
| ভারত সরকারের ভিসা ফি | ০ (বাংলাদেশিদের জন্য ফ্রি) | IVAC “Visa Fees – For Bangladeshi Nationals”; HCI-র Advisory 3 |
| IVAC ভিসা প্রসেসিং ফি | প্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা, সব চার্জসহ, অফেরতযোগ্য | IVAC নোটিশ, ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর |
| অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা দ্রুত ভিসার জন্য বাড়তি টাকা | নেই। কেউ চাইলে তা প্রতারণা। | IVAC Advisory 3 |
উদাহরণ: রোগী আর ২ জন অ্যাটেনডেন্ট মিলে ৩টি আবেদন, তাই প্রসেসিং ফি ৩ x ১,৫০০ = ৪,৫০০ টাকা। রোগী আর ৩ জন অ্যাটেনডেন্ট হলে ৪ x ১,৫০০ = ৬,০০০ টাকা। ছবি তোলা, প্রিন্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ডলার এনডোর্সমেন্টের খরচ আলাদা, আর এগুলো অফিসিয়াল ফির অংশ নয়।
ফি কোন মাধ্যমে দেওয়া যায় (কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি), তা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাইটে পেমেন্টের সময় দেখানো হয়। আমরা আলাদাভাবে যাচাই করতে পারিনি। ভিসা না পেলেও প্রসেসিং ফি ফেরত দেওয়া হয় না।
IVAC জানিয়েছে, জরুরি মেডিকেল প্রয়োজনের জন্য সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট রাখা হয়েছে। দ্রুত ভিসার জন্য কোনো অফিসিয়াল “এক্সপ্রেস ফি” নেই। জরুরি অবস্থার প্রমাণ হিসেবে হাসপাতালের চিঠিতে চিকিৎসার জরুরি তারিখ, আর স্থানীয় ডাক্তারের লেখা রোগের গুরুত্ব সঙ্গে রাখুন। তবে ভিসা কত দ্রুত দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত HCI-র।
HCI ঢাকা ও IVAC-এর তালিকা অনুযায়ী নিচের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে:
জমা দেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন (IVAC-এর চেকলিস্ট):
IVAC-এর নোটিশ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে বিদেশিরা ভারতে পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে অনলাইনে Disembarkation Card (e-Arrival Card) জমা দিতে পারেন। এটি করা যায় boi.gov.in, indianvisaonline.gov.in অথবা “Indian Visa Su-Swagatam” অ্যাপে। নোটিশে বলা হয়েছিল, কাগজের কার্ড আরও ৬ মাস বা পরবর্তী নোটিশ পর্যন্ত চলবে। এখন কাগজের কার্ড চলছে কি না, যাত্রার আগে দেখে নিন। ভিসা থাকলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা প্রবেশ আটকাতে পারেন, বা চাইলে মেডিকেল পরীক্ষা করাতে পারেন।
এ বিষয়ে অফিসিয়াল উৎসগুলোর তথ্য পুরোপুরি এক নয়:
তাই আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, তা জানতে ভিসা স্টিকারে লেখা নির্দেশনা দেখুন, অথবা e-FRRO পোর্টালে বা হাসপাতালের আন্তর্জাতিক রোগী বিভাগে জিজ্ঞেস করুন। মনে রাখবেন, নিবন্ধন না করলে বা দেরি করলে জরিমানা হতে পারে, আর ভবিষ্যতে ভিসা পেতে সমস্যা হতে পারে।
ভারত সরকার বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কোনো ভিসা ফি নেয় না। তবে IVAC প্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা প্রসেসিং ফি নেয় (সব চার্জসহ, অফেরতযোগ্য), যা ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর।
ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের নিয়মে বাংলাদেশি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ জন মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা পেতে পারেন। প্রত্যেককে আলাদা আবেদন করতে হবে, আর হাসপাতালের নিয়মও মানতে হবে।
HCI বা IVAC কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা দেয় না। পাসপোর্ট ফেরতের তারিখ জমার রসিদে লেখা থাকে।
e-Visa পোর্টালের ফি তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও HCI ঢাকা ও IVAC এখনো নিয়মিত পদ্ধতিতে IVAC-এ জমা দেওয়ার কথাই বলে। আমরা e-Medical ভিসা চালুর কোনো অফিসিয়াল ঘোষণা যাচাই করতে পারিনি, তাই নিশ্চিত না হলে নিয়মিত পদ্ধতিতেই আবেদন করুন।
FRRO-র অনুমতি ছাড়া নয়। অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল বদলালে ভিসার নিয়ম ভঙ্গ হয়, আর ভবিষ্যতে ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
আরও পড়ুন: ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
দ্রষ্টব্য: এই লেখার তথ্য ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত HCI ঢাকা, IVAC বাংলাদেশ, ভারত সরকারের ভিসা পোর্টাল ও ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে নেওয়া। ২০২৭ সালের জন্য আলাদা নিয়ম বা ফি এখনো ঘোষণা হয়নি। নিয়ম, ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের অবস্থা যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই HCI ঢাকা, IVAC ও আপনার হাসপাতালের কাছ থেকে যাচাই করে নিন। এই গাইড অফিসিয়াল নির্দেশনা বা আইনি পরামর্শের বিকল্প নয়, আর ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের।
Leave a Comment