ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসা ২০২৬–২০২৭

চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলে বাংলাদেশিদের ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসা নিতে হয়। এই গাইডে কোন কাগজ লাগবে, ফি কত, কীভাবে আবেদন জমা দেবেন, পাসপোর্ট কীভাবে তুলবেন আর ভারতে পৌঁছে কী করবেন, সব এক জায়গায় দেওয়া হলো। ২০২৭ সালের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম বা ফি এখনো ঘোষণা হয়নি। নিচের সব তথ্য বর্তমান (নভেম্বর ২০২৬) নিয়ম অনুযায়ী। নিয়ম বদলালে HCI ও IVAC-এর নোটিশই চূড়ান্ত। মনে রাখবেন, এই গাইড হাসপাতালের চিঠি, অফিসিয়াল আবেদন বা ভিসা কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়। ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কর্তৃপক্ষের।

সব তথ্য নেওয়া হয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকা (HCI), IVAC বাংলাদেশ, ভারত সরকারের ভিসা পোর্টাল ও ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের (BoI) প্রকাশিত পেজ ও নথি থেকে।

এই লেখায় যা থাকছে:

এক নজরে ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসা (বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য)
বিষয়বর্তমান তথ্য (নভেম্বর ২০২৬)
রোগীর ভিসামেডিকেল ভিসা M-1 (আয়ুষ চিকিৎসার জন্য M-3)
সঙ্গীর ভিসামেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা M-2 (আয়ুষে M-4)। বাংলাদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ ৩ জন
ভারত সরকারের ভিসা ফিবাংলাদেশিদের জন্য নেই (ফ্রি)
IVAC ভিসা প্রসেসিং ফিপ্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা (সব চার্জসহ, অফেরতযোগ্য), ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর
কোথায় আবেদনঅনলাইনে ফর্ম পূরণ করে IVAC-এ সশরীরে জমা (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট)
প্রসেসিং সময়অফিসিয়াল কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা নেই
ভিসার মেয়াদ ও এন্ট্রিদূতাবাস যা দেবে, ভিসা স্টিকারে লেখা থাকে

মেডিকেল ভিসার ধরন: M-1, M-2 ও অ্যাটেনডেন্টের নিয়ম

ভারতের নতুন ভিসা কাঠামোতে মেডিকেল ভিসার চারটি উপ-ক্যাটাগরি আছে (IVAC-এর “Kind of Visas & Documents” পেজ অনুযায়ী):

  • M-1: রোগীর জন্য, আধুনিক (অ্যালোপ্যাথিক) চিকিৎসা
  • M-2: M-1 রোগীর সঙ্গে যাওয়া অ্যাটেনডেন্ট
  • M-3: আয়ুর্বেদ, যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি, ইউনানি, সিদ্ধা বা হোমিওপ্যাথি (আয়ুষ) চিকিৎসার জন্য রোগী
  • M-4: M-3 রোগীর অ্যাটেনডেন্ট

BoI-এর “Medical Treatment in India” পেজে স্পষ্ট বলা আছে, বাংলাদেশি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ জন মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা পেতে পারেন। (অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য এই সংখ্যা ২ জন।) তবে হাসপাতালগুলো নিজেদের নিয়মে আরও কম অ্যাটেনডেন্ট রাখতে বলতে পারে। যেমন, কোনো কোনো হাসপাতালের চিঠিতে মাত্র ১–২ জনের নাম দেওয়া হয়। তাই হাসপাতালের চিঠিতে কতজন অ্যাটেনডেন্টের নাম আছে, তা আগে দেখে নিন।

শিশু রোগী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারী

  • HCI ঢাকার তালিকা অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর সঙ্গে বাবা-মা বা অভিভাবককে অবশ্যই মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যেতে হবে।
  • রোগী শিশু হলে বাবা-মা M-2 ভিসার আবেদন করবেন। M-2 ভিসাধারীর ওপর নির্ভরশীল অন্য ভাইবোন বা ছোট শিশু X-Misc ভিসার আবেদন করতে পারে।
  • অপ্রাপ্তবয়স্কের Visa Undertaking Form-এ বাবা-মা দুজনকেই স্বাক্ষর করতে হয়।
সম্পর্কের প্রমাণ

রোগী ও অ্যাটেনডেন্টের সম্পর্ক প্রমাণের নির্দিষ্ট কোনো কাগজের নাম অফিসিয়াল তালিকায় নেই। তবে হাসপাতালের চিঠিতে অ্যাটেনডেন্টের নাম থাকা, আর NID, জন্মনিবন্ধন বা কাবিননামার কপি সঙ্গে রাখলে কাজে আসে। এগুলো অফিসিয়াল কন্ডিশন নয়, পরামর্শ।

অঙ্গ প্রতিস্থাপন (কিডনি, লিভার ইত্যাদি)

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র লাগবে (HCI ঢাকা, আগস্ট ২০২৬-এর তালিকা)। দাতার কাগজপত্রও আলাদাভাবে লাগে। কী কী লাগবে, তা হাসপাতালের ট্রান্সপ্লান্ট কো-অর্ডিনেটরের কাছ থেকে জেনে নিন।

বর্তমান আবেদন পরিস্থিতি ও e-Medical ভিসা

IVAC-এ অ্যাপয়েন্টমেন্ট

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় হাইকমিশনার ২৫ জুন ২০২৬ জানিয়েছেন যে ২৮ জুন ২০২৬ থেকে সব ধরনের ভিসার আবেদন আবার নেওয়া হচ্ছে। জরুরি মেডিকেল ভিসাও মানবিক বিবেচনায় দেওয়া চলবে। কিন্তু ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখেও IVAC-এর হোমপেজে একটি পুরোনো “Advisory 1” দেখা যাচ্ছে। সেখানে লেখা, জরুরি মেডিকেল ও জরুরি প্রয়োজনের ভিসার জন্য সীমিত সংখ্যক অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। তাই আবেদনের আগে appointment.ivacbd.com-এ গিয়ে দেখুন কোন তারিখে স্লট খালি আছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশিরা কি e-Medical ভিসা নিতে পারবেন?

এখানে দুটি অফিসিয়াল উৎসের তথ্য আলাদা, তাই সাবধানে পড়ুন:

  • ভারত সরকারের e-Visa পোর্টালের ফি তালিকায় (১৫ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশের নাম আছে। সেখানে e-Medical ও e-Medical Attendant ভিসার ফি “00” লেখা, আর e-Business ভিসার ঘরে “-“।
  • অন্যদিকে HCI ঢাকা ও IVAC-এর তালিকায় বাংলাদেশিদের জন্য শুধু নিয়মিত (পেপার) ভিসার পদ্ধতি দেওয়া আছে, অর্থাৎ IVAC-এ সশরীরে জমা ও বায়োমেট্রিক। আমাদের যাচাই করা কোনো HCI বা IVAC নোটিশে বাংলাদেশিদের জন্য e-Medical ভিসা চালুর ঘোষণা পাইনি।

তাই e-Visa পোর্টালে বাংলাদেশ থেকে সত্যিই আবেদন করা যাচ্ছে কি না, তা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। কোনো ওয়েবসাইট বা এজেন্ট “অনলাইনে e-Medical ভিসা” করে দেওয়ার কথা বললে শুধু ভারত সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল indianvisaonline.gov.in/evisa ব্যবহার করুন। ভুয়া e-Visa ওয়েবসাইট নিয়ে HCI ঢাকা আগেই সতর্ক করেছে। নিশ্চিত না হলে IVAC-এর নিয়মিত পদ্ধতিতেই আবেদন করুন।

ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসার কাগজপত্রের পূর্ণ তালিকা

নিচের তালিকাটি HCI ঢাকার “Visa Documents: Category-wise” (আগস্ট ২০২৬) আর IVAC-এর মেডিকেল ভিসা পেজ মিলিয়ে তৈরি। “আবশ্যিক” মানে অফিসিয়াল তালিকায় আছে, “শর্তসাপেক্ষ” মানে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে লাগে, আর “পরামর্শ” মানে আমাদের সুপারিশ (অফিসিয়াল শর্ত নয়)। HCI জানিয়েছে, এই তালিকা চূড়ান্ত নয়, তারা আরও কাগজ চাইতে পারে।

রোগী (M-1) ও অ্যাটেনডেন্ট (M-2): সাধারণ কাগজ
কাগজধরনবিস্তারিত
মূল পাসপোর্টআবশ্যিকআবেদন জমার দিন থেকে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ, অন্তত ২টি ফাঁকা পাতা। পাসপোর্টের ২ ও ৩ নম্বর পাতার কপি।
সব পুরোনো পাসপোর্টআবশ্যিকনা দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ ধরা হয়। হারালে GD-র কপি দিন।
ছবিআবশ্যিকসাম্প্রতিক ২x২ ইঞ্চি রঙিন ছবি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরো মুখ। অনলাইন ফর্মেও আপলোড করতে হয়।
NID বা জন্মনিবন্ধনের কপিআবশ্যিকযেটি প্রযোজ্য। জন্মতারিখ ও জন্মস্থান পাসপোর্টের সঙ্গে মিলতে হবে।
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণআবশ্যিকবিদ্যুৎ, গ্যাস বা ল্যান্ডফোন বিলের কপি। ফর্মে লেখা ঠিকানা বিলের সঙ্গে মিলতে হবে।
আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণআবশ্যিক (যেকোনো একটি)গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অথবা ২০০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ডলার এনডোর্সমেন্ট (৩ মাসের বেশি পুরোনো নয়), অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি ও ডিপোজিট স্টেটমেন্ট।
পেশার প্রমাণআবশ্যিক (প্রযোজ্যটি)সরকারি চাকরিজীবী: GO কপি। বেসরকারি চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার সার্টিফিকেট। ব্যবসায়ী: সরকারি নিবন্ধন বা ট্রেড লাইসেন্স, ইংরেজিতে না হলে ইংরেজি অনুবাদসহ। ছাত্র: প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড। অবসরপ্রাপ্ত: অবসরের কাগজ।
অনলাইন আবেদন ফর্মের প্রিন্টআবশ্যিকBGD দিয়ে শুরু হওয়া রেজিস্ট্রেশন বা ওয়েব ফাইল নম্বরসহ, স্বাক্ষর করা।
Visa Undertaking Formআবশ্যিকIVAC-এর “Other Forms” থেকে নির্ধারিত ফরম্যাট ডাউনলোড করুন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে বাবা-মা দুজনের স্বাক্ষর লাগবে।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট কপিশর্তসাপেক্ষমুক্তিযোদ্ধা আবেদনকারীর জন্য
Defence Personnel ফর্মশর্তসাপেক্ষবর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক, আধাসামরিক বা পুলিশ সদস্যের জন্য
শুধু রোগীর (M-1) জন্য চিকিৎসার কাগজ
কাগজধরনবিস্তারিত
বাংলাদেশি ডাক্তারের মেডিকেল কাগজ ও রিপোর্টআবশ্যিকরোগের বিবরণসহ স্থানীয় ডাক্তারের কাগজ ও পরীক্ষার রিপোর্ট। IVAC অনুযায়ী মূল কাগজ। প্রথমবার চিকিৎসার জন্য গেলে বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশও দিতে হয়।
ভারতের হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারআবশ্যিকসরকারি হাসপাতাল, অথবা ICMR, NABH, MCI বা CGHS স্বীকৃত হাসপাতালের চিঠি। IVAC অনুযায়ী চিঠিতে নির্দিষ্ট তারিখ থাকতে হবে।
ইনভাইটেশন লেটারের কপিআবশ্যিকহাসপাতালের দেওয়া মেডিকেল ইনভাইটেশন লেটার
ভারতে চলমান চিকিৎসার সুপারিশশর্তসাপেক্ষআগে থেকে ভারতে চিকিৎসা চললে, সেখানকার ডাক্তারের সুপারিশ বা ফলো-আপের চিঠি
৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা সলভেন্সি সার্টিফিকেটশর্তসাপেক্ষভর্তি বা দীর্ঘ চিকিৎসার ক্ষেত্রে চাওয়া হতে পারে
আইন মন্ত্রণালয় ও MOFA-র ছাড়পত্রশর্তসাপেক্ষঅঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে
হাসপাতালের খরচের হিসাব (estimate)পরামর্শঅফিসিয়াল তালিকায় নেই, তবে আর্থিক পরিকল্পনা আর প্রশ্নের উত্তর দিতে কাজে আসে
অ্যাটেনডেন্টের (M-2) জন্য বাড়তি কাগজ
  • সাধারণ কাগজগুলো (পাসপোর্ট, ছবি, NID, ঠিকানা, আর্থিক ও পেশার প্রমাণ) অ্যাটেনডেন্টকেও আলাদাভাবে দিতে হয়।
  • রোগীর হাসপাতালের চিঠির কপি (চিঠিতে অ্যাটেনডেন্টের নাম থাকলে ভালো)। এটি পরামর্শ।
  • রোগী ও অ্যাটেনডেন্টের আবেদন আলাদা ফর্মে হয়, আর প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়।
দুটি অফিসিয়াল পেজের মধ্যে অমিল

IVAC-এর সাধারণ “Kind of Visas & Documents” পেজে আর্থিক প্রমাণ হিসেবে লেখা আছে গত ৩ মাসের স্টেটমেন্ট, অথবা ১৫০ ডলারের এনডোর্সমেন্ট (১ মাসের বেশি পুরোনো নয়)। কিন্তু HCI ঢাকার আগস্ট ২০২৬-এর মেডিকেল ভিসার তালিকায় আছে ৬ মাসের স্টেটমেন্ট, অথবা ২০০ ডলার (৩ মাসের মধ্যে)। নিরাপদ থাকতে কড়া শর্তগুলোই মানুন: ৬ মাসের স্টেটমেন্ট দিন, আর এনডোর্সমেন্ট করালে অন্তত ২০০ ডলারের এবং ১ মাসের মধ্যে করান। মনে রাখবেন, ভুয়া ডলার এনডোর্সমেন্ট বা ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়।

অনুবাদ

অফিসিয়াল তালিকায় ইংরেজি অনুবাদের কথা স্পষ্ট বলা আছে শুধু ব্যবসার নিবন্ধনের কাগজের ক্ষেত্রে। বাংলা মেডিকেল রিপোর্ট বা অন্য কাগজের ইংরেজি অনুবাদ সঙ্গে রাখা কাজে আসে, তবে এটি পরামর্শ, অফিসিয়াল শর্ত নয়।

ছবি ও পাসপোর্টের নিয়ম
  • IVAC অনুযায়ী ছবি হবে ২x২ ইঞ্চি (৩৫০x৩৫০ পিক্সেল), রঙিন, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরো মুখ, আর ৩ মাসের বেশি পুরোনো নয়।
  • অনলাইন ফর্মে আপলোড করা ডিজিটাল ছবি আর ফর্মে লাগানো রঙিন ছবি একই হতে হবে। ছবি আঠা দিয়ে লাগাবেন, পিন বা স্টেপল করবেন না।
  • পাসপোর্টে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ আর ২টি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে।
  • বাংলাদেশি নাগরিকের যদি বিদেশি পাসপোর্টও থাকে, তাহলে বিদেশি পাসপোর্ট দিয়েই আবেদন করতে হবে।
  • HCI ঢাকার “ICAO compliant photo” নোটিশটি ভারতীয় নাগরিকদের পাসপোর্ট সেবার জন্য, ভিসার জন্য নয়।
ডাক্তারের রেফারেল ও ভারতীয় হাসপাতালের চিঠি

মেডিকেল ভিসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ভারতের হাসপাতালের চিঠি। IVAC-এর পরামর্শ অনুযায়ী, যে হাসপাতালের নামে ভিসা দেওয়া হয়, শুধু সেখানেই চিকিৎসা নিতে হবে। FRRO-র অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল বদলালে ভিসার নিয়ম ভঙ্গ হয়, আর ভবিষ্যতে ভারতে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

  1. বাংলাদেশের ডাক্তারের কাছ থেকে রোগের বিবরণ আর (প্রথমবার হলে) বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশ নিন।
  2. রিপোর্টগুলো ভারতের হাসপাতালের আন্তর্জাতিক রোগী বিভাগে পাঠান। হাসপাতাল রিপোর্ট দেখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ইনভাইটেশন লেটার দেয়।
  3. চিঠিতে রোগীর নাম ও পাসপোর্ট নম্বর, অ্যাপয়েন্টমেন্টের নির্দিষ্ট তারিখ, বিভাগ আর অ্যাটেনডেন্টদের নাম ঠিকঠাক আছে কি না মিলিয়ে নিন। নাম আর পাসপোর্ট নম্বর হুবহু পাসপোর্টের মতো হতে হবে।
  4. হাসপাতালটি সরকারি অথবা ICMR, NABH, MCI বা CGHS স্বীকৃত কি না নিশ্চিত হোন।

হাসপাতালভিত্তিক বিস্তারিত গাইড: অ্যাপোলো হাসপাতাল চেন্নাই, সিএমসি ভেলোর ও টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মুম্বাই।

অনলাইন ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম

বাংলাদেশিদের নিয়মিত ভিসার ফর্ম পূরণ করতে হয় indianvisa-bangladesh.nic.in/visa ঠিকানায় (IVAC-এর “How To Fill Application” পেজ অনুযায়ী)। ফর্ম পূরণের সময় খেয়াল রাখুন:

  • ব্যক্তিগত তথ্য: নাম ও অন্যান্য তথ্য হুবহু পাসপোর্টের মতো লিখুন।
  • পাসপোর্টের তথ্য: নম্বর, ইস্যুর স্থান, ইস্যু ও মেয়াদ শেষের তারিখ বর্তমান পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন।
  • যোগাযোগের তথ্য: বর্তমান ঠিকানা ইউটিলিটি বিলের সঙ্গে মিলতে হবে। সঠিক ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিন।
  • পরিবারের তথ্য: ফাঁকা রাখবেন না। আগের নাগরিকত্বের ঘরটি পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
  • আগের ভ্রমণ: আগের ভারতীয় ভিসার নম্বর ও ইস্যুর তারিখ সঠিকভাবে লিখুন।
  • পেশা, থাকার জায়গা ও রেফারেন্স: সঠিক পেশা আর ভারতে থাকার ঠিকানা দিন। ভারত ও বাংলাদেশে একজন করে রেফারেন্স দিতে হয়, এই ঘর ফাঁকা রাখা যাবে না।
  • মিশন নির্বাচন: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বা সিলেটের মধ্যে আপনার এলাকার মিশন বেছে নিন। আবেদন জমা আর ফি দেওয়ার কেন্দ্র একই হতে হবে।
  • প্রবেশপথ (Port of Entry): যে বিমানবন্দর বা স্থলবন্দর দিয়ে যাবেন, তা বেছে নিন। পরে বাড়তি বন্দর যোগ করতে IVAC-এর “Endorsement of Additional Ports” ফর্মে আবেদন করা যায়। এতে সর্বোচ্চ ২টি বন্দর যোগ করা যায়, আর ভিসার মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস বাকি থাকতে হয়।
  • ফর্ম জমা দেওয়ার পর ওয়েব ফাইল নম্বরটি লিখে রাখুন। ফর্মের ওপরের ডান কোণে ও শেষ পাতায় স্বাক্ষর করুন।

ধাপে ধাপে মেডিকেল ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া

  1. কাগজ তৈরি করুন: ডাক্তারের কাগজ, হাসপাতালের চিঠি আর ওপরের তালিকার সব কাগজ গুছিয়ে নিন।
  2. অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন: রোগী ও প্রতিজন অ্যাটেনডেন্টের জন্য আলাদা ফর্ম। Visa Undertaking Form পূরণ ও স্ক্যান করে নির্দেশনা অনুযায়ী আপলোড করুন।
  3. অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন ও ফি দিন: appointment.ivacbd.com-এ স্লট বুক করে প্রসেসিং ফি পরিশোধ করুন। সাইটের নোটিশ অনুযায়ী বুকিং খোলা থাকে রবি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা, আর শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা। আপলোড করা ওয়েব ফাইল হতে হবে আসল ভিসা আবেদনের PDF, আর ৩০ দিনের বেশি পুরোনো নয়।
  4. IVAC-এ সশরীরে জমা দিন: নির্ধারিত দিনে আবেদনকারী নিজে যাবেন, কারণ জমার সময় ১০ আঙুলের ছাপ আর ছবি নেওয়া হয়। IVAC-এর চেকলিস্টে বলা আছে, ফর্ম পূরণের ৮ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। তাই এই দুই সময়সীমার মধ্যে যেটি আগে শেষ হয়, সেটিই মেনে চলুন।
  5. প্রশ্নের উত্তর দিন: ভিসা কর্মকর্তা কাগজ দেখে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন বা বাড়তি কাগজ চাইতে পারেন।
  6. আবেদনের অবস্থা দেখুন: IVAC-এর Passport Track লিংকে।
  7. পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন: রসিদে লেখা তারিখে বা তার পরে, নির্ধারিত সময়ে।

IVAC কেন্দ্র, সময়সূচি ও কোন জেলায় কোথায় জমা দেয়া যাবে

কেন্দ্রঠিকানাআবেদন জমাপাসপোর্ট ফেরত
IVAC ঢাকা (JFP)যমুনা ফিউচার পার্ক, ফ্লোর G1, সাউথ কোর্ট, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯সকাল ৯টা–বিকেল ৩টা (বাংলাদেশি পাসপোর্ট)সকাল ১০টা–বিকেল ৪টা
IVAC চট্টগ্রাম১৮৭২, সিডিএ অ্যাভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, সিটি সেন্টার, ২য় তলাসকাল ৯টা–দুপুর ১টাবিকেল ৩টা–৫টা
IVAC রাজশাহীমরিয়ম আলী টাওয়ার, পুরাতন বিলসিমলা, গ্রেটার রোড, বর্ণালী মোড়সকাল ৯টা–দুপুর ২টাবিকেল ৩টা–৫টা
IVAC খুলনারাহাত সেন্টার, ৭১ সৈয়দ আলী হোসেন সড়ক, ছোট বয়রাসকাল ৯টা–দুপুর ১:৩০টাবিকেল ৩টা–৪টা
IVAC সিলেটরহিম টাওয়ার, সুবহানীঘাট, বিশ্বরোডসকাল ৯টা থেকে (IVAC সাইটে শেষ সময় “11:00 PM” লেখা, সম্ভবত ভুল; নিশ্চিত হয়ে নিন)দুপুর ২টা–৪টা

IVAC-এর জেলাভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী মোটামুটি এভাবে জমা দেওয়া হয় (বিস্তারিত তালিকা IVAC সাইটে):

  • ঢাকা: ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশাল বিভাগ এবং যশোর অঞ্চলের জেলাগুলো
  • চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিভাগ
  • রাজশাহী: রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এবং কুষ্টিয়া
  • খুলনা: খুলনা ও বাগেরহাট
  • সিলেট: সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ

একটি সমস্যা হলো, IVAC-এর অন্য একটি নির্দেশনায় কিছু জেলার জন্য আলাদা মিশনের কথা বলা আছে (যেমন ময়মনসিংহের জন্য ঢাকা)। ফর্মে মিশন বেছে নেওয়ার আগে IVAC-এর বর্তমান জেলা তালিকা দেখে নিন।

IVAC-এ যা নেওয়া যাবে না
  • মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস
  • যেকোনো ব্যাগ। শুধু কাগজপত্র রাখার একটি প্লাস্টিক ব্যাগ নেওয়া যায়।
  • সিল করা খাম, দাহ্য বা ধারালো জিনিস
  • আত্মীয় বা বন্ধু ভেতরে যেতে পারেন না। শ্রবণ-প্রতিবন্ধী আবেদনকারীর সঙ্গে দোভাষী যেতে পারেন, আর শারীরিক প্রতিবন্ধী আবেদনকারীকে IVAC-এর কর্মীরা সাহায্য করেন।
  • IVAC-এ এসব জিনিস রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই।

ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসার ফি ও খরচ

খরচপরিমাণউৎস ও তারিখ
ভারত সরকারের ভিসা ফি০ (বাংলাদেশিদের জন্য ফ্রি)IVAC “Visa Fees – For Bangladeshi Nationals”; HCI-র Advisory 3
IVAC ভিসা প্রসেসিং ফিপ্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা, সব চার্জসহ, অফেরতযোগ্যIVAC নোটিশ, ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা দ্রুত ভিসার জন্য বাড়তি টাকানেই। কেউ চাইলে তা প্রতারণা।IVAC Advisory 3

উদাহরণ: রোগী আর ২ জন অ্যাটেনডেন্ট মিলে ৩টি আবেদন, তাই প্রসেসিং ফি ৩ x ১,৫০০ = ৪,৫০০ টাকা। রোগী আর ৩ জন অ্যাটেনডেন্ট হলে ৪ x ১,৫০০ = ৬,০০০ টাকা। ছবি তোলা, প্রিন্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ডলার এনডোর্সমেন্টের খরচ আলাদা, আর এগুলো অফিসিয়াল ফির অংশ নয়।

ফি কোন মাধ্যমে দেওয়া যায় (কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি), তা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাইটে পেমেন্টের সময় দেখানো হয়। আমরা আলাদাভাবে যাচাই করতে পারিনি। ভিসা না পেলেও প্রসেসিং ফি ফেরত দেওয়া হয় না।

প্রসেসিং সময়, ভিসার মেয়াদ ও এন্ট্রি

  • প্রসেসিং সময়: HCI বা IVAC কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা দেয় না। পাসপোর্ট ফেরতের তারিখ জমার রসিদে লেখা থাকে। “৩–৭ দিনে নিশ্চিত ভিসা” জাতীয় দাবি অফিসিয়াল নয়।
  • মেয়াদ, এন্ট্রি ও প্রবেশপথ: নিয়মিত মেডিকেল ভিসায় এগুলো দূতাবাস ঠিক করে, আর ভিসা স্টিকারে লেখা থাকে। তাই স্টিকারে মেয়াদ, এন্ট্রির সংখ্যা, প্রবেশপথ আর হাসপাতালের নাম মিলিয়ে নিন।
  • e-Visa পোর্টালের মেয়াদ: সেখানে e-Medical (e-M1) ভিসার মেয়াদ ভারতে প্রবেশের দিন থেকে ১ বছর, মাল্টিপল এন্ট্রি লেখা আছে। এটি শুধু e-Visa-র জন্য প্রযোজ্য, IVAC থেকে দেওয়া নিয়মিত ভিসায় নয়।
  • মেয়াদ বাড়ানো: ভারতে থাকা অবস্থায় মেয়াদ বাড়াতে হলে e-FRRO পোর্টালে আবেদন করতে হয়, সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসা চলমান থাকার প্রমাণ লাগে।

জরুরি চিকিৎসার আবেদন

IVAC জানিয়েছে, জরুরি মেডিকেল প্রয়োজনের জন্য সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট রাখা হয়েছে। দ্রুত ভিসার জন্য কোনো অফিসিয়াল “এক্সপ্রেস ফি” নেই। জরুরি অবস্থার প্রমাণ হিসেবে হাসপাতালের চিঠিতে চিকিৎসার জরুরি তারিখ, আর স্থানীয় ডাক্তারের লেখা রোগের গুরুত্ব সঙ্গে রাখুন। তবে ভিসা কত দ্রুত দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত HCI-র।

পাসপোর্ট সংগ্রহ ও রসিদ হারালে

  • রসিদে লেখা তারিখে বা তার পরে, পাসপোর্ট ফেরতের নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট তুলুন।
  • পরিবারের একজন সদস্য (স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন, বাবা-মা) নিজের মূল পাসপোর্ট দেখিয়ে অন্যদের পাসপোর্ট তুলতে পারেন। কিন্তু একই পেজে “Delivery on authorization not allowed”ও লেখা আছে, অর্থাৎ পরিবারের বাইরের কাউকে অনুমতিপত্র দিয়ে পাঠানো যাবে না।
  • রসিদ হারালে থানায় জিডি করুন। তারপর জিডির মূল কপি, ১টি ছবি আর একটি আবেদন কাউন্টারে জমা দিলে পাসপোর্ট দেওয়া হয়।

যে কারণে আবেদন বাতিল বা দেরি হতে পারে

HCI ঢাকা ও IVAC-এর তালিকা অনুযায়ী নিচের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে:

  • কাগজ অপর্যাপ্ত, অসম্পূর্ণ বা ভুয়া হলে (ভুয়া ডলার এনডোর্সমেন্ট বা ব্যাংক স্টেটমেন্টও এর মধ্যে পড়ে)
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করলে
  • জীবনঘাতী ছোঁয়াচে রোগ থাকলে, মাদক সংশ্লিষ্টতা, ফৌজদারি মামলা, অথবা অন্য কোনো দেশ থেকে বহিষ্কারের ইতিহাস থাকলে
  • কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় অন্য যেকোনো কারণে। কারণ জানানো বাধ্যতামূলক নয়।

জমা দেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন (IVAC-এর চেকলিস্ট):

  • পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের বেশি আর ২টি ফাঁকা পাতা আছে
  • ফর্মে পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যু ও মেয়াদের তারিখ আর নাম সঠিক
  • প্রিন্ট করা ফর্মে স্ক্যান করা ছবি দেখা যাচ্ছে
  • পুরোনো পাসপোর্ট সংযুক্ত, হারিয়ে গেলে জিডির কপি
  • আগের ভিসার তথ্য সঠিক, ভারত ও বাংলাদেশের রেফারেন্স পূরণ করা
  • বর্তমান ঠিকানা ইউটিলিটি বিলের সঙ্গে মেলে, পেশার তথ্য সঠিক
  • জন্মতারিখ NID বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মেলে

ভিসা পাওয়ার পর: ভ্রমণ, প্রবেশ ও ভারতে নিবন্ধন

ভ্রমণের সময় সঙ্গে রাখুন
  • ভিসাসহ পাসপোর্ট আর পুরোনো পাসপোর্ট
  • হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ইনভাইটেশন লেটার আর সব মেডিকেল রিপোর্ট
  • ভারতে থাকার ঠিকানার কাগজ আর ফেরার পরিকল্পনা
  • শুধু ভিসায় লেখা প্রবেশপথ দিয়েই প্রবেশ করুন।
e-Arrival Card

IVAC-এর নোটিশ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে বিদেশিরা ভারতে পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে অনলাইনে Disembarkation Card (e-Arrival Card) জমা দিতে পারেন। এটি করা যায় boi.gov.in, indianvisaonline.gov.in অথবা “Indian Visa Su-Swagatam” অ্যাপে। নোটিশে বলা হয়েছিল, কাগজের কার্ড আরও ৬ মাস বা পরবর্তী নোটিশ পর্যন্ত চলবে। এখন কাগজের কার্ড চলছে কি না, যাত্রার আগে দেখে নিন। ভিসা থাকলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা প্রবেশ আটকাতে পারেন, বা চাইলে মেডিকেল পরীক্ষা করাতে পারেন।

FRRO নিবন্ধন: বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা

এ বিষয়ে অফিসিয়াল উৎসগুলোর তথ্য পুরোপুরি এক নয়:

  • BoI-এর পেজে বলা হয়েছে, যাদের মেডিকেল বা মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসার মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি, তাদের ভারতে পৌঁছানোর ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। এখানে শুধু পাকিস্তানিদের জন্য আলাদা নিয়ম আছে।
  • IVAC-এর পেজে লেখা, মেডিকেল ভিসায় পৌঁছানোর ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, সেখানে মেয়াদের কোনো শর্ত উল্লেখ নেই।

তাই আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, তা জানতে ভিসা স্টিকারে লেখা নির্দেশনা দেখুন, অথবা e-FRRO পোর্টালে বা হাসপাতালের আন্তর্জাতিক রোগী বিভাগে জিজ্ঞেস করুন। মনে রাখবেন, নিবন্ধন না করলে বা দেরি করলে জরিমানা হতে পারে, আর ভবিষ্যতে ভিসা পেতে সমস্যা হতে পারে।

হাসপাতাল বদল ও মেয়াদ বাড়ানো
  • ভিসায় লেখা হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে হলে আগে FRRO-র অনুমতি নিতে হবে। এই অনুমতি কেস বিবেচনায় এবং কাগজপত্রের প্রমাণ দেখে দেওয়া হয় (BoI ও IVAC)।
  • মেয়াদ বাড়ানো, এক্সিট পারমিটসহ অন্যান্য সেবার আবেদন e-FRRO পোর্টালে করতে হয়।
দালাল ও প্রতারণা থেকে সাবধান
  • HCI বা সহকারী হাইকমিশনের কেউ ব্যক্তিগত ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেন না।
  • ১,৫০০ টাকা প্রসেসিং ফি ছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা দ্রুত ভিসার জন্য আর কোনো টাকা লাগে না।
  • সন্দেহজনক কোনো যোগাযোগ পেলে IVAC-এর Advisory 3-এ দেওয়া নম্বরে জানান: 01325089975। IVAC কল সেন্টার: 09612 333 666 ও 09614 333 666।

ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশিদের ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসার ফি কত?

ভারত সরকার বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কোনো ভিসা ফি নেয় না। তবে IVAC প্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা প্রসেসিং ফি নেয় (সব চার্জসহ, অফেরতযোগ্য), যা ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর।

রোগীর সঙ্গে কতজন অ্যাটেনডেন্ট যেতে পারবেন?

ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের নিয়মে বাংলাদেশি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ জন মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা পেতে পারেন। প্রত্যেককে আলাদা আবেদন করতে হবে, আর হাসপাতালের নিয়মও মানতে হবে।

মেডিকেল ভিসা পেতে কতদিন লাগে?

HCI বা IVAC কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা দেয় না। পাসপোর্ট ফেরতের তারিখ জমার রসিদে লেখা থাকে।

বাংলাদেশিরা কি অনলাইনে e-Medical ভিসা নিতে পারেন?

e-Visa পোর্টালের ফি তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও HCI ঢাকা ও IVAC এখনো নিয়মিত পদ্ধতিতে IVAC-এ জমা দেওয়ার কথাই বলে। আমরা e-Medical ভিসা চালুর কোনো অফিসিয়াল ঘোষণা যাচাই করতে পারিনি, তাই নিশ্চিত না হলে নিয়মিত পদ্ধতিতেই আবেদন করুন।

ভিসায় লেখা হাসপাতাল ছাড়া অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে?

FRRO-র অনুমতি ছাড়া নয়। অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল বদলালে ভিসার নিয়ম ভঙ্গ হয়, আর ভবিষ্যতে ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

আরও পড়ুন: ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

দ্রষ্টব্য: এই লেখার তথ্য ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত HCI ঢাকা, IVAC বাংলাদেশ, ভারত সরকারের ভিসা পোর্টাল ও ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে নেওয়া। ২০২৭ সালের জন্য আলাদা নিয়ম বা ফি এখনো ঘোষণা হয়নি। নিয়ম, ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের অবস্থা যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই HCI ঢাকা, IVAC ও আপনার হাসপাতালের কাছ থেকে যাচাই করে নিন। এই গাইড অফিসিয়াল নির্দেশনা বা আইনি পরামর্শের বিকল্প নয়, আর ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের।

Leave a Comment
Share