ইলিশের দেশে

ভালো লেগেছে
0
Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

ঢাকা থেকে লঞ্চে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে চার ঘণ্টা। দিনে দিনেও ঢাকা থেকে চাঁদপুর বেড়িয়ে আসা যায়। আবার আসা-যাওয়ার দুই রাতই কাটিয়ে দেওয়া যায় লঞ্চে। যেমন ঢাকা সদরঘাট থেকে রাত ১২টার লঞ্চে রওনা দিলে সকালবেলা চাঁদপুর এ পৌঁছাবেন। সারা দিন কাটিয়ে আবার রাত ১২টার লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া যাবে। এতে চাঁদপুর এ গিয়ে কোনো হোটেল ভাড়া করার প্রয়োজন হবে না। আর যদি জ্যোৎ স্না রাত হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই।

ঢাকা থেকে লঞ্চে চাঁদপুর পৌঁছাতে সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। সদরঘাট থেকে ছেড়ে মেঘনা নদী পৌঁছুতে সময় লাগে ঘণ্টা দুইয়ের মতো। এখান থেকে চাঁদপুর পৌঁছানো পর্যন্ত বাকি ২ ঘণ্টা সময়ের পুরোটাই দেখা যাবে ইলিশ ধরার দৃশ্য। রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যে চলতে থাকে জেলেদের ইলিশ ধরা।

ইলিশ কিনতে চাইলে

চাঁদপুর গেলে অনেকেই ইলিশ কিনতে চান। সেজন্যে বড় স্টেশন চলে যেতে হবে। ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য বাজার থেকেই সুন্দর করে বরফ দিয়ে প্যাকেট করে দেবে। নিশ্চিন্তে ইলিশ নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবেন। আর মাছ কেনার সময় রূপালি রং দেখে কিনবেন। চাঁদপুর বড় স্টেশন মোকামের বেশিরভাগ ইলিশই চাঁদপুরের নয়। এখানে বরিশাল, ভোলা কিংবা সামুদ্রিক ইলিশই বেশি। চাঁদপুরের ইলিশ চেনার সবচেয়ে সহজ একটি উপায় আছে। এখানকার ইলিশ একেবারে রুপালি রং। আর অন্যান্য জায়গার ইলিশে রুপালি রংয়ের সঙ্গে লালচে আভা আছে। নোনাপানির ইলিশে রুপালি রংয়ের সঙ্গে লালচে আভা থাকে। মিষ্টিপানি বা নদীর ইলিশের রং চকচকে রুপালি হয়।

চাঁদপুর যাওয়ার উপায়ঃ

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সারা দিনই চাঁদপুর এর বাস ছাড়ে। এছাড়া ট্রেনেও যাওয়া যাবে।

ঢাকা-চাঁদপুর রুটে প্রতিদিন চলাচল করে এমভি তাকওয়া, এমভি সোনারতরী, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি ঈগল, এমভি আল বোরাক, এমভি তুতুল, এমভি রফরফ প্রভৃতি। এসব লঞ্চে ঢাকা-চাঁদপুর অথবা চাঁদপুর-ঢাকার ভাড়া প্রথম শ্রেণির একক কেবিন ৩০০-৫৫০ টাকা। প্রথম শ্রেণির দ্বৈত কেবিন ৬শ’-১ হাজার টাকা। তৃতীয় শ্রেণির ভাড়া জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা। ঢাকার সদরঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এসব লঞ্চ চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

রাত ৯ টা থেকে ঢাকায় ফেরার লঞ্চ ছাড়ে।

ইলিশ কোথায় খাবেনঃ

চাঁদপুর নেমে রিকশা করে চাঁদপুর বড় ষ্টেশন এবং সেখান থেকে ট্রলার অথবা নৌকায় ৩০ মিনিটের মধ্যে চলে যাবেন রাজরাজেশ্বর চরে। এই চরের খুব কাছেই মেঘনা নদী, পদ্মা আর ডাকাতিয়া নদীর মোহনা কোড়ালিয়ার মুখে মিলছে। ঘাট থেকে ৫ মিনিট হাটলেই মনু মিয়ার হোটেল। কাছাকাছি গেলেই ইলিশের গন্ধে মাতোয়ারা হবার আশঙ্কা আছে। শুধু ইলিশ মাছের ভাজি কিংবা রান্না ইলিশ নয় আপনি সেখানে ইলিশের ডিমও খেতে পারবেন আর ইলিশপুরের (ইলশাহাট) ইলিশ মাছ কেনার জন্য সন্ধ্যা এবং খুব ভোর বেলায় গেলেই ভালো।

কোথায় থাকবেনঃ

ইলিশ খেতে যেতে চাইলে দিনে দিনে ফেরা যায়, তাই থাকার চিন্তা খুব একটা করতে হয় না। এরপরও চাঁদপুরে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার জন্য উন্নত মানের হোটেল সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল তাজমহল, হোটেল জোনাকী, হোটেল শ্যামলী অন্যতম।

  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares
দিক নির্দেশনা

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

দেশের স্থানসমূহঃ

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. আপনাদের দেখানে পথে রাজরাজেশ্বর চরে গিয়ে দেখলাম মনু মিয়ার হোটেল নামে কোন হোটেল নেই । শুধু তাই নয় পুরো রাজরাজেশ্বর চরে কোন ভাত খাওয়ার হোটেলে ই নেই। আপনাদের এই ধরনের বিভ্রান্ত মূলক তথ্যর কারনে সফর সঙ্গীদের কাছে হেনস্তা হতে হয়েছে যা খুবই দুঃখ জনক।

    date:07/07/2018

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না