ইলিশের দেশে

ভালো লেগেছে
7

ঢাকা থেকে লঞ্চে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে চার ঘণ্টা। দিনে দিনেও ঢাকা থেকে চাঁদপুর বেড়িয়ে আসা যায়। আবার আসা-যাওয়ার দুই রাতই কাটিয়ে দেওয়া যায় লঞ্চে। যেমন ঢাকা সদরঘাট থেকে রাত ১২টার লঞ্চে রওনা দিলে সকালবেলা চাঁদপুর এ পৌঁছাবেন। সারা দিন কাটিয়ে আবার রাত ১২টার লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া যাবে। এতে চাঁদপুর এ গিয়ে কোনো হোটেল ভাড়া করার প্রয়োজন হবে না। আর যদি জ্যোৎ স্না রাত হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই।

সদরঘাট থেকে ছেড়ে মেঘনা নদী পৌঁছুতে সময় লাগে ঘণ্টা দুইয়ের মতো। এখান থেকে চাঁদপুর পৌঁছানো পর্যন্ত বাকি ২ ঘণ্টা সময়ের পুরোটাই দেখা যাবে ইলিশ ধরার দৃশ্য। রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যে চলতে থাকে জেলেদের ইলিশ ধরা।

চাঁদপুরে ইলিশ কিনতে চাইলে

চাঁদপুর গেলে অনেকেই ইলিশ কিনতে চান। সেজন্যে বড় স্টেশন চলে যেতে হবে। ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য বাজার থেকেই সুন্দর করে বরফ দিয়ে প্যাকেট করে দেবে। নিশ্চিন্তে ইলিশ নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবেন। আর মাছ কেনার সময় রূপালি রং দেখে কিনবেন। চাঁদপুর বড় স্টেশন মোকামের বেশিরভাগ ইলিশই চাঁদপুরের নয়। এখানে বরিশাল, ভোলা কিংবা সামুদ্রিক ইলিশই বেশি। চাঁদপুরের ইলিশ চেনার সবচেয়ে সহজ একটি উপায় আছে। এখানকার ইলিশ একেবারে রুপালি রং। আর অন্যান্য জায়গার ইলিশে রুপালি রংয়ের সঙ্গে লালচে আভা আছে। নোনাপানির ইলিশে রুপালি রংয়ের সঙ্গে লালচে আভা থাকে। মিষ্টিপানি বা নদীর ইলিশের রং চকচকে রুপালি হয়।

চাঁদপুর যাওয়ার উপায়

ঢাকা-চাঁদপুর রুটে প্রতিদিন চলাচল করে এমভি তাকওয়া, এমভি সোনারতরী, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি ঈগল, এমভি আল বোরাক, এমভি তুতুল, এমভি রফরফ প্রভৃতি। এসব লঞ্চে ঢাকা-চাঁদপুর অথবা চাঁদপুর-ঢাকার ভাড়া প্রথম শ্রেণির সিঙ্গেল কেবিন ৩০০-৫৫০ টাকা। প্রথম শ্রেণির ডাবল কেবিন ৬০০-১০০০ টাকা। তৃতীয় শ্রেণির ভাড়া জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা। ঢাকার সদরঘাট থেকে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এসব লঞ্চ চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সারা দিনই চাঁদপুর এর বাস ছাড়ে। এছাড়া ট্রেনেও যাওয়া যাবে।

ইলিশ কোথায় খাবেন

চাঁদপুর নেমে রিকশা করে চাঁদপুর বড় ষ্টেশন এবং সেখান থেকে ট্রলার অথবা নৌকায় ৩০ মিনিটের মধ্যে চলে যাবেন রাজরাজেশ্বর চরে। এই চরের খুব কাছেই মেঘনা নদী, পদ্মা আর ডাকাতিয়া নদীর মোহনা কোড়ালিয়ার মুখে মিলছে। ঘাট থেকে ৫ মিনিট হাটলেই মনু মিয়ার হোটেল। কাছাকাছি গেলেই ইলিশের গন্ধে মাতোয়ারা হবার আশঙ্কা আছে। শুধু ইলিশ মাছের ভাজি কিংবা রান্না ইলিশ নয় আপনি সেখানে ইলিশের ডিমও খেতে পারবেন আর ইলিশপুরের (ইলশাহাট) ইলিশ মাছ কেনার জন্য সন্ধ্যা এবং খুব ভোর বেলায় গেলেই ভালো।

কোথায় থাকবেন

ইলিশ খেতে যেতে চাইলে দিনে দিনে ফেরা যায়, তাই থাকার চিন্তা খুব একটা করতে হয় না। এরপরও চাঁদপুরে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার জন্য উন্নত মানের হোটেল সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল তাজমহল, হোটেল জোনাকী, হোটেল শ্যামলী অন্যতম।

×

করোনার প্রাদুর্ভাব বেরে যাওয়ায় অনেক ট্যুরিষ্ট প্লেস গুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই সেখানে ভ্রমণের প্ল্যান করলে আগে থেকে ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে যাবেন।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. date:07/07/2018