মেহার কালীবাড়ি
শাহরাস্তির একটি পরিচিত ধর্মীয় স্থান। স্থানীয় সংস্কৃতি ও স্থাপনা দেখতে চাইলে মন্দিরের দর্শনার্থীর নিয়ম মেনে যান।
হযরত রাস্তি শাহ (রহ.)-এর মাজার, শ্রীপুর (ফাইল ছবি)। ছবির সূত্র: শাহরাস্তি উপজেলা পোর্টাল।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে হযরত রাস্তি শাহ (রহ.)-এর মাজার অবস্থিত। মাজার, পাশের দিঘি আর স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে এটি শাহরাস্তির একটি পরিচিত দর্শনীয় স্থান। চাঁদপুর বা কুমিল্লার কাছাকাছি থেকে দিনের ভ্রমণে আসতে পারেন।
ঢাকা থেকে এলে শুধু চাঁদপুর শহরে পৌঁছানোর সময় হিসাব করলেই হবে না। মাজারটি শাহরাস্তিতে, তাই লঞ্চঘাট বা শহর থেকে বাই রোডে অনেকটাই জার্নি আছে। আগে যাতায়াতের রুট ঠিক করে নিলে একই দিনে মাজার ও আশপাশের দুই একটি জায়গা দেখা সহজ হবে।
হযরত রাস্তি শাহ (রহ.) এই এলাকার ইসলাম প্রচারের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর নামেই শাহরাস্তি উপজেলার নামকরণ। শ্রীপুরে তাঁর স্মৃতি ঘিরে গড়ে ওঠা মাজারে স্থানীয় মানুষ ও বাইরের দর্শনার্থীরা আসেন। মাজারের পাশে বড় দিঘি রয়েছে। প্রাঙ্গণের ধর্মীয় পরিবেশ ও দিঘির পাড় মিলিয়ে ধীরে সময় নিয়ে দেখতে পারেন। জায়গাটি স্থানীয় মানুষের উপাসনা ও শ্রদ্ধার অংশ, তাই ভ্রমণের সময় সেই পরিবেশ বজায় রাখুন।
প্রথমে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা খাদেমের কাছ থেকে দর্শনার্থীর নিয়ম জেনে নিন। মাজারে গিয়ে নিজের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সময় কাটান। এরপর অনুমোদিত পথ ধরে দিঘির পাশ দেখুন। শিশু বা বয়স্ক কেউ সঙ্গে থাকলে সিঁড়ি ও পাড়ে ধীরে চলুন।
ছবি তোলার আগে কোথায় ছবি তোলা যায় তা জেনে নিন। প্রার্থনারত মানুষ বা অন্য দর্শনার্থীর ছবি তাঁদের অনুমতি ছাড়া তুলবেন না। দিঘিতে নামা বা সাঁতারকে এই ভ্রমণের অংশ রাখবেন না।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা–চাঁদপুর রুটের বাসে শাহরাস্তির দিকে আসতে পারেন। সায়েদাবাদ এলাকার কাউন্টারে টিকিট কাটার সময় শাহরাস্তি বা মেহার এলাকায় নামার কথা বলুন। আপনার বাস কোন পথে যাবে এবং কোন স্টপ থেকে শ্রীপুরে স্থানীয় গাড়ি পাওয়া সুবিধাজনক, তা আগে ঠিক করে নিন।
শাহরাস্তি পৌঁছে সিএনজি অটোরিকশা, অটো বা রিকশায় শ্রীপুরের মাজারে যান। চালককে স্পষ্ট করে “শাহরাস্তির শ্রীপুরে রাস্তি শাহের মাজার” বলুন। যাওয়া-আসা একসঙ্গে গাড়ি নিলে অপেক্ষার সময়সহ মোট ভাড়া আগে ঠিক করুন।
ঢাকার সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের লঞ্চে আসতে পারেন। চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে শহরের বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তির দিকের গাড়ি ধরুন। শাহরাস্তি থেকে শেষ অংশের জন্য স্থানীয় গাড়ি নিন। লঞ্চঘাট থেকে সরাসরি রিকশায় মাজারে চলে যাবেন—এভাবে পরিকল্পনা করবেন না।
নদীপথে চাঁদপুর আসার ধারণা পাবেন আমাদের চাঁদপুর লঞ্চ ভ্রমণের গাইডে। মাজার ঘুরে একই দিনে লঞ্চে ফিরলে শাহরাস্তি থেকে ঘাটে ফেরার জন্য বাড়তি সময় রাখুন এবং যাত্রার দিনের লঞ্চের সময় কাউন্টারে জেনে নিন।
কুমিল্লা–চাঁদপুর সড়ক ধরে শাহরাস্তি এসে স্থানীয় গাড়িতে শ্রীপুর যান। ছোট দল হলে শহর থেকে রিজার্ভ গাড়িও নিতে পারেন। অন্য স্পট রাখলে শুরুতেই চালককে পুরো রুট জানিয়ে দিন।
সাধারণ দর্শনের জন্য দিনের আলোয় যান। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে তুলনামূলক কম গরমে যাতায়াত আরামদায়ক। বর্ষায় ছাতা ও ভালো গ্রিপের জুতা সঙ্গে রাখুন।
মাঘ মাসের শেষ বৃহস্পতিবারের বার্ষিক সম্মেলন বা ওরসের সময় ভিড় বাড়ে। আয়োজন দেখতে চাইলে নির্দিষ্ট বছরের সময় ও যাতায়াতের ব্যবস্থা আয়োজকদের কাছে জেনে নিন। শান্ত পরিবেশে মাজার দেখতে চাইলে অন্য দিন বেছে নিতে পারেন।
শালীন পোশাক পরুন এবং জুতা রাখার স্থানীয় নিয়ম মানুন। প্রবেশের কোনো বর্তমান নিয়ম বা ফি থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে জানুন। দান বা মানতকে নির্ধারিত দর্শন-টিকিটের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলবেন না।
শুধু মাজার দেখতে এলে দিনে দিনে ঘুরে ফেরা সুবিধাজনক। রাত থাকতে হলে শাহরাস্তি বা হাজীগঞ্জে রুমের ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করুন। লঞ্চে আসা-যাওয়া করলে চাঁদপুর শহরেও থাকতে পারেন, তবে পরদিন শাহরাস্তি যাতায়াতের সময় আলাদা রাখুন।
শাহরাস্তি বা হাজীগঞ্জের বাজারের রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে পারবেন। পরিবার নিয়ে গেলে বসার জায়গা, খাবারের দাম ও রান্নার সময় আগে দেখে নিন। মাজার প্রাঙ্গণে খাবার নেওয়া বা খাওয়ার কোনো নিয়ম থাকলে সেটিও মানুন।
চাঁদপুর, কুমিল্লা বা কাছের এলাকা থেকে দিনের ভ্রমণে এই পরিকল্পনা কাজে লাগবে। ঢাকা থেকে এলে মূল যাতায়াতের সময় আলাদা রাখুন।
সকালে রওনা হয়ে শাহরাস্তি আসুন। সেখান থেকে শ্রীপুরের মাজার পর্যন্ত স্থানীয় গাড়ি ঠিক করুন।
প্রথমে দর্শনার্থীর নিয়ম জেনে মাজারে যান। নিজের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সময় কাটিয়ে দিঘির পাশ দেখুন।
শাহরাস্তি বা হাজীগঞ্জে খাবার খান। সময় থাকলে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ বা বলাখাল জমিদার বাড়ির মধ্যে একটি বেছে নিন।
বাসে বা লঞ্চে ফিরলে ছাড়ার সময়ের আগে কাউন্টার বা ঘাটে পৌঁছান। শাহরাস্তি থেকে চাঁদপুর শহরে ফেরার সময় আলাদা রাখুন।
শাহরাস্তির আশপাশ ও হাজীগঞ্জের পথে সময় মিলিয়ে একটি বাড়তি জায়গা রাখতে পারেন।
শাহরাস্তির একটি পরিচিত ধর্মীয় স্থান। স্থানীয় সংস্কৃতি ও স্থাপনা দেখতে চাইলে মন্দিরের দর্শনার্থীর নিয়ম মেনে যান।
চাঁদপুর–শাহরাস্তি যাতায়াতের সঙ্গে এই মসজিদটি দেখতে পারেন। নামাজের সময় ও মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধা খেয়াল রাখুন।
হাজীগঞ্জের পথে জমিদারবাড়ির পুরোনো স্থাপত্য দেখতে পারেন। বসতবাড়ির অংশে ঢোকা ও ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে মাজারটি অবস্থিত। গাড়ি ঠিক করার সময় শাহরাস্তির শ্রীপুর মাজারের কথা বলুন।
সড়কপথে কুমিল্লা–চাঁদপুর রুটে শাহরাস্তি এসে স্থানীয় গাড়িতে শ্রীপুর যেতে পারেন। লঞ্চে এলে চাঁদপুর শহর থেকে হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তির গাড়ি নিয়ে তারপর মাজারে যান।
না। মাজারটি জেলা শহরের লঞ্চঘাটের পাশে নয়; শাহরাস্তি উপজেলায়। চাঁদপুর শহর থেকে সড়কপথের জন্য আলাদা সময় রাখুন।
নিজের পরিকল্পনায় মাজার ও দিঘির পাশের জন্য ৩০–৬০ মিনিট রাখতে পারেন। এটি প্রস্তাবিত সময়; ওরস বা বেশি ভিড়ের দিনে বাড়তি সময় রাখুন।
মাঘ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বার্ষিক সম্মেলনের রীতি রয়েছে। নির্দিষ্ট বছরের আয়োজন, সময় ও যাতায়াতের ব্যবস্থা আয়োজকদের কাছ থেকে আগে নিশ্চিত করুন।
দর্শনার্থীর বর্তমান প্রবেশব্যবস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে জেনে নিন। মানত বা দান ব্যক্তিগত ধর্মীয় সিদ্ধান্ত; এগুলোকে দর্শনের নির্ধারিত টিকিটের দাম ধরে নেবেন না।
শালীন পোশাক পরুন, জুতা রাখার নিয়ম মানুন এবং দিঘির ধারে শিশুদের সঙ্গে থাকুন। ছবি তোলার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ছবিতে থাকা মানুষের অনুমতি নিন।
দিনে দিনে এলে মাজারের কাছে থাকার দরকার হয় না। রাত থাকলে শাহরাস্তি বা হাজীগঞ্জে রুমের ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করুন; চাঁদপুর শহরেও থাকতে পারেন।
Leave a Comment