রাঙ্গামাটি

দুমলং পর্বত

দুমলং (Dumlong) বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত একটি পর্বতশৃঙ্গ। বেসরকারিভাবে এটিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলে দাবী করা হয়। যদিও জিপিএস রিডিং এ জত্লং বা মদক মুয়াল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত। এ পর্বতের উচ্চতা ৩,৩১৫ ফুট। এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বোচ্চ পর্বত ও দেশের ১০০০ মিটারের অধিক উচ্চতার ৩ টি পর্বতের মধ্যে একটি। দুমলং এর তিনটি চূড়া রয়েছে। মূল চুড়ার উত্তর ও পশ্চিমে রয়েছে অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার চূড়া।

এটি রাংত্লাং পর্বতমালার অংশ। রেংত্লাং এর সর্বোচ্চ চুড়া হিসেবে একে রেংত্লাং নামেই ডাকা হতো এক সময়। রেংত্লাং এর এই চুড়াটা স্থানীয়রা দুমলং নামেই ডাকে। দুমলং মুলত একটি ঝিরিবা ছোট পাহাড়ি নদী , যেটা পাহাড়ের গা বেয়ে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে রাইখান নদীতে মিশে গেছে। এই ধারাটির উৎস হিসেবে চুড়াটাকেও দুমলং বলা হয়। গুগুল আর্থে এটাকেই দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চুড়া হিসেবে দেখায়।

উচ্চতার বিবরণ

  • পরিমাপ: আধুনিক জিপিএস (GPS) রিডিং অনুযায়ী দুমলং-এর উচ্চতা ১,০১০ মিটার (৩,৩১৪ ফুট)।
  • মর্যাদা: এটি রাঙামাটি জেলার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। সামগ্রিকভাবে এটিকে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া হিসেবে গণ্য করা হয় (অনেকে এটিকে দেশের ২য় সর্বোচ্চ চূড়াও দাবি করেন)।
  • চূড়া: দুমলং-এর মোট ৩টি চূড়া রয়েছে। মূল বা প্রধান চূড়াটির উত্তর ও পশ্চিম পাশে তুলনামূলক কম উচ্চতার বাকি দুটি চূড়া অবস্থিত।
  • কোর্ডিনেট: দুমলং এর অবস্থানের কোর্ডিনেট 22.0414° N, 92.5839° E

দুমলং যাওয়ার উপায় ও ট্রেকিং রুট

দুমলং রাংগামাটি জেলার বিলাইছড়িতে হলেও এখানের মানুষের সাথে যোগাযোগ বান্দরবন জেলার রুমা বাজারের সাথে কারন বিলাইছড়ি যেতে অনেক সময় লাগে আর রুমা যেতে লাগে মাত্র এক দিন। দুমলং জয় করা অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য কারণ এর ট্রেইলটি ঘন বাঁশঝাড়, জঙ্গল, খাড়া পাহাড় এবং বুনো ঝিরিপথে ভরা। অভিযাত্রীরা সাধারণত বান্দরবানের রুমা রুটটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন।

  1. রুমা-বগামুখ রুট (সবচেয়ে প্রচলিত): ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান > রুমা বাজার > বগামুখ পাড়া > আনন্দ পাড়া (বাইপাস) > পুকুর পাড়া > প্রাঞ্জং পাড়া > সুরাহ পাড়া > দুমলং চূড়া।
  2. পুকুরপাড়া রুট: প্রথমে বগা লেক বা রুমা হয়ে বিখ্যাত রাইক্ষ্যং পুকুর সংলগ্ন ‘পুকুরপাড়া’ গ্রামে পৌঁছাতে হয়। পুকুরপাড়া মূলত এই ট্রেকিং এর মূল বেসক্যাম্প হিসেবে কাজ করে। সেখান থেকে স্থানীয় বম বা তঞ্চঙ্গ্যা গাইড নিয়ে ৩-৪ ঘণ্টার ঘন জঙ্গল ও খাড়া পাহাড় ডিঙিয়ে মূল চূড়ায় পৌঁছানো যায়।
  3. বিলাইছড়ি রুট: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ হয়ে নৌপথে বিলাইছড়ি উপজেলা দিয়েও এই ট্রেইলে প্রবেশ করা যায়, তবে এই রুটটি দীর্ঘ এবং অত্যন্ত বুনো।

থাকার ব্যবস্থা

বগা লেক এ রেষ্ট হাউজ রিজার্ভেশন-এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন (লারাম বম – ০১৫৫২৩৭৬৫৫১)। তবে নেটওয়ার্ক স্বল্পতার কারনে বেশীরভাগ সময়ই নাম্বাটিতে সংযোগ করানো যায় না। এখানে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যাধুনিক রেস্ট হাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে। কিছূ দিনের মধ্যেই হয়তো সেখানে রাত্রিযাপন করার সুযোগ ঘটবে পযর্টকদের।

ভ্রমণের কিছু জরুরি টিপস

  • ট্রেইলে পানির প্রধান উৎস পাহাড়ি ঝিরি, তাই পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও স্যালাইন সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
  • জোঁক এবং ম্যালেরিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচতে ওডোমস ক্রিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সাথে রাখুন।
  • এটি একটি নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এলাকা হওয়ায় ভ্রমণের আগে রুমা বা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী (সেনাবাহিনী) ক্যাম্প থেকে অনুমতি (পারমিশন) নিতে হবে এবং স্থানীয় গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।
Leave a Comment
Share