রাঙামাটির মনোরম প্রকৃতির মাঝে, কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশির বেষ্টিত সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এক অপূর্ব লুকায়িত রত্ন হল টুকটুক ইকো ভিলেজ (Tuk Tuk Eco Village)। শহুরে জীবনের গ্লানি ভুলে প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য। পরিবার, বন্ধুবান্ধব অথবা প্রিয়জনের সাথে একটি অবিস্মরণীয় ছুটি কাটানোর জন্য টুকটুক ইকো ভিলেজ হতে পারে আপনার পছন্দের তালিকার শীর্ষে।
পঞ্চাশ একরের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত টুকটুক ইকো ভিলেজ, অসংখ্য টিলা-উপটিলায় বিভক্ত। এই পর্যটন কেন্দ্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কাঠের তৈরি আকর্ষণীয় কটেজ। অ্যাটাচড বাথরুম এবং ব্যালকনি সমৃদ্ধ এই কটেজগুলোতে আরামদায়ক থাকার সুব্যবস্থা। জানালার বাইরে কাপ্তাই হ্রদের জলরাশির উপর পূর্ণিমার চাঁদের রূপালী আলোর বিচ্ছুরণ – এক কাব্যিক দৃশ্য যা মনকে মুগ্ধ করে। রাতের বেলায় পাহাড়ি বন থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝি পোকার অবিরাম সুর এবং নাম জানা-অজানা পশু-পাখির কলতানে ঘুম পাখির মতো ডানা মেলে মনকে নিয়ে যায় স্বপ্নের রাজ্যে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে চব্বিশ ঘন্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রকৃতির সান্নিধ্যে আড্ডা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে পনেরোটি গোলঘর। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ এবং কাঠের সেতু। পাহাড়ি গাছপালার মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফল, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। লাল ও সাদা গোলাপ এবং আফ্রিকান গাদায় ভরপুর পার্কে প্রবেশ করলেই মন জুড়িয়ে যায় সুমিষ্ট পুষ্প সুবাসে।
টুক টুক ইকো ভিলেজে রয়েছে অনেক রকমের বিনোদনের ব্যবস্থা। আপনি এখানে করতে পারেন:
রাঙামাটি জেলা সদর থেকে টুকটুক ইকো ভিলেজে যাওয়া অনেক সহজ। রাঙামাটি শহর থেকে টুকটুক ইকো ভিলেজে যাওয়ার জন্য শহরের রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে রয়েছে তাদের নিজস্ব বোটের ব্যবস্থা। জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা।
টুকটুক ইকো ভিলেজে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কটেজ, যার মধ্যে রয়েছে ভিভিআইপি, ভিআইপি, হানিমুন, ডিলাক্স এবং টুকটুক স্পেশাল কটেজ। এই কটেজগুলো কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি কটেজেই রয়েছে অ্যাটাচড বাথরুম এবং ব্যালকনি। কটেজের ভাড়া ১২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। এখানে আপনি পাবেন নিরাপদ আবাসন, পরিচ্ছন্ন ও টাটকা খাবারের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা।
টুকটুকে রয়েছে একটি বৃহৎ রেস্তোরাঁ যেখানে একসাথে ২০০ জন অতিথি আপ্যায়ন করা যায়। এখানে আদিবাসী ও বাংলা খাবারের পাশাপাশি পাওয়া যায় চাইনিজ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল খাবার। কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণের পর এই রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া হতে পারে একটি বিশেষ অনুভূতি।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
টুক টুক ইকো ভিলেজ একটি অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। এখানে আপনি প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাবেন এবং জীবনের একটি নতুন অধ্যায় রচনা করবেন। একবার গেলে বারবার যেতে ইচ্ছে করবে এই মনোরম স্থানে।
Leave a Comment