সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ প্রাকৃতিক সম্পদ — তুরং ছড়া। স্থানীয়ভাবে যেটি “কূলী ছড়া (Turong Chora)” নামেও পরিচিত। মেঘালয়ের পাহাড় চিরে নেমে আসা হিমশীতল স্বচ্ছ জলধারা, ধবধবে নুড়িপাথরের বিছানা এবং ঘন সবুজ বনের সমন্বয়ে এটি যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করেছে।
তুরং ছড়া বা উৎমা ছড়ার আশেপাশে কোনো রিসোর্ট বা হোটেল নেই। এটি সম্পূর্ণ একদিনের ভ্রমণ (Day Trip) হিসেবে পরিচিত। রাতে থাকার জন্য সিলেট শহরে হোটেল বুক করুন:
বাজেট হোটেল (দরগাহ গেইট এলাকা): ৫০০–১,৫০০ টাকা
মিড-রেঞ্জ হোটেল: ১,৫০০–৪,০০০ টাকা
লাক্সারি রিসোর্ট (শহরতলী): ৪,০০০+ টাকা
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সীমান্ত সতর্কতা
তুরং ছড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বর্ডার পিলার ১২৬০ এর কাছে অবস্থিত। ছড়ার ভেতরে একটি ছোট বাঁশের সাঁকো আছে — তার ওপারেই ভারতীয় সীমানা। কোনো অবস্থাতেই নো-ম্যানস ল্যান্ড বা ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করবেন না। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এখানে সদা সতর্ক।
পোশাক ও প্রস্তুতি
পাথুরে ও কাদার পথে হাঁটার জন্য ট্রেকিং স্যান্ডেল বা নন-স্লিপ জুতো পরুন
হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন; অতিরিক্ত একসেট কাপড় সঙ্গে নিন
সানস্ক্রিন ও ছাতা সঙ্গে রাখুন
খাবার ও পানীয়
তুরং ছড়ার কাছে কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ নেই
চরারবাজার বা দয়ারবাজার থেকেই পর্যাপ্ত খাবার পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে নিন
সময় ব্যবস্থাপনা
ভোরবেলা রওনা দিন যাতে সূর্যাস্তের আগেই ফিরতে পারেন
সন্ধ্যার পর এই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে যানবাহন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়
পরিবেশ রক্ষা
প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো আবর্জনা ছড়া বা গ্রামে ফেলবেন না
ছড়ার পানি ও পাথর নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন
ফুল-পাতা না ছিঁড়ে প্রকৃতিকে অক্ষত রাখুন
কাছাকাছি গন্তব্য
তুরুং ছড়া এর কাছাকাছি ঘুরে দেখার জায়গা
তুরুং ছড়া থেকে সহজেই ঘুরে আসা যায় এমন জনপ্রিয় গন্তব্যগুলো।
তুরং ছড়া কেবল একটি পর্যটনস্থল নয় — এটি প্রকৃতির সাথে একটি নিবিড় যোগসূত্র। কোলাহলমুক্ত এই বনভূমিতে পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনার শব্দ, পাথরের উপর বসে ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে থাকার অনুভূতি — এই সব মিলিয়ে তুরং ছড়া হয়ে উঠতে পারে আপনার অন্যতম সেরা ভ্রমণস্মৃতি।
Leave a Comment