- পাতা তোলার মৌসুম
- ফটোগ্রাফির সেরা সময়
- কম বৃষ্টিপাত
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শ্রীপুর চা বাগান (Sreepur Tea Garden) বাংলাদেশের অন্যতম মনোমুগ্ধকর পর্যটন গন্তব্য। উঁচু-নিচু সবুজ টিলা, লালচে মাটি, নীল আকাশের নিচে চায়ের গালিচা আর দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি — এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এই চা বাগানের কাছেই দুই দেশের (বাংলাদেশ ও ভারত) এর মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় সহজেই। শ্রীপুর পিকনিক স্পটের পাশ শ্রীপুর চা বাগান। চা বাগানের একটু সামনেই রাংপানি পর্যটন স্পট। অর্থাৎ একসাথে ৩ টি স্পট ঘোরা হয়ে যাবে।
এটি জাফলং ও তামাবিল যাওয়ার পথেই পড়ে, তাই একই ট্রিপে একাধিক গন্তব্য কভার করা সহজ।
সিলেট সারা বছরই সুন্দর, তবে কিছু ঋতুতে প্রকৃতি আরও মনোরম হয়ে ওঠে।
শীতকালে ভ্রমণ করলে আপনি সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা পাবেন। আবহাওয়া মনোরম এবং সব গন্তব্য সহজে ভ্রমণযোগ্য থাকে।
ঢাকা থেকে শ্রীপুর চা বাগানে যেতে হলে প্রথমে সিলেটে পৌঁছাতে হবে। ঢাকার ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সিলেটগামী বাসে ৫–৬ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়, যেখানে ভাড়া সাধারণত ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন বা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে ৬–৭ ঘণ্টায় সিলেট যাওয়া যায়। দ্রুত যাতায়াতের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে মাত্র ৪৫ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব।
সিলেট শহর থেকে শ্রীপুর চা বাগানে যেতে কদমতলী, বন্দরবাজার বা শিবগঞ্জ এলাকা থেকে জাফলং বা জৈন্তাপুরগামী বাসে শ্রীপুর বাজার পর্যন্ত যাওয়া যায়, যার ভাড়া সাধারণত ৫০–৮০ টাকা। এরপর শ্রীপুর বাজার থেকে চা বাগানটি মাত্র ১৫ মিনিটের হাঁটা পথ। চাইলে জৈন্তাপুর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় শ্রীপুর বাজারে যাওয়া যায়, যার ভাড়া প্রায় ৮০–১২০ টাকা। আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য সিলেট শহর থেকে প্রাইভেট কার বা রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া করে সরাসরি শ্রীপুর চা বাগানে যাওয়া যায়, যার ভাড়া সাধারণত ১,৫০০–২,৫০০ টাকার মধ্যে। শ্রীপুর চা বাগান সারা বছরই ভ্রমণের উপযোগী হলেও অক্টোবর থেকে মার্চ সময়টি আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে সবচেয়ে উপভোগ্য।
শ্রীপুর চা বাগানের আশেপাশে আবাসিক সুবিধা খুবই সীমিত, তাই অধিকাংশ পর্যটক দিনে ঘুরে এসে সেদিনই সিলেট শহরে ফিরে যান। রাতযাপনের জন্য সিলেট শহরই সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্প। দরগাহ গেট, জিন্দাবাজার এবং আম্বরখানা এলাকায় বিভিন্ন বাজেটের হোটেল ও আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে পর্যটকেরা নিজেদের বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী থাকার জায়গা বেছে নিতে পারেন। এছাড়া যারা শ্রীপুর চা বাগান ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে চান, তারা জাফলং বা জৈন্তাপুর এলাকায় অবস্থিত সাধারণ মানের গেস্টহাউসেও অবস্থান করতে পারেন।
শ্রীপুর চা বাগানে ভ্রমণের সময় খাবারের জন্য সীমিত ব্যবস্থা রয়েছে। বাগানের ভেতরে বা আশেপাশের ছোট টং দোকানগুলোতে চা, বিস্কুট এবং হালকা নাস্তা পাওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ খাবারের জন্য শ্রীপুর বাজার বা জৈন্তাপুর বাজারের স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতে সাধারণ বাংলা খাবার পরিবেশন করা হয়। আর উন্নত মানের খাবারের অভিজ্ঞতা চাইলে সিলেট শহর অথবা জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন রেস্তোরাঁগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
শ্রীপুর চা বাগান থেকে সহজেই ঘুরে আসা যায় এমন জনপ্রিয় গন্তব্যগুলো।
ডাউকি নদী, পাথর সংগ্রহ, সীমান্ত দৃশ্য
দূরত্ব ২৫-৩০ কিমি
(শ্রীপুর চা বাগান থেকে)
জাফলংয়ের কাছে অপূর্ব ঝরনা
দূরত্ব ৪০-৪৫ কিমি
(শ্রীপুর চা বাগান থেকে)
ফিরোজা নীল জলের নদী, নৌকা ভ্রমণ
দূরত্ব ৩৫-৪০ কিমি
(শ্রীপুর চা বাগান থেকে)
বাংলাদেশ-ভারত জিরো পয়েন্ট
দূরত্ব ১৫-২০ কিমি
(শ্রীপুর চা বাগান থেকে)
চা বাগানের পাশেই অবস্থিত
দূরত্ব ২০-২৫ কিমি
(শ্রীপুর চা বাগান থেকে)
| খাত | আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| সিলেট থেকে যাতায়াত (বাস+সিএনজি) | ২৫০–৪০০ টাকা |
| প্রাইভেট কার রিজার্ভ (শেয়ার করলে) | ৫০০–৮০০ টাকা |
| খাওয়া-দাওয়া | ৩০০–৫০০ টাকা |
| মোট (দিনের ট্রিপ) | ৬০০–১৫০০ টাকা |
Leave a Comment