ঠেগামুখ

জন
৩ মিনিটস
জন

ঠেগামুখ (Thegamukh) বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী শেষ গ্রাম। ভারত সীমান্ত ঘেষা দুর্গম জনপদ ঠেগামুখ রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন থেগামুখ। ঠেগামুখের পশ্চিমে বাংলাদেশ আর পূর্ব পাশে ভারতের মিজোরাম প্রদেশ। এ এলাকাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বলা যায় এক বাক্যে।

পাহাড় থেকে বয়ে আসা ঠেগা ছড়া যা এখানে এসে কর্ণফুলিতে মিলিত হয়েছে। তাই এই ছড়ার নামেই ঠেগার নামকরণ করা হয়েছে ঠেগামুখ। নদীর দুপাশে, দুই সীমান্তে, দুই দেশেই চাকমা ও মারমা নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস তাই  সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট। কাঁটাতারের বেড়া বা ছোট কর্ণফুলীর দূরত্ব এখানে বাধা হতে পারেনি।

ঠেগামুখ দুর্গম এলাকা হলেও সীমান্তঘেরা এই গ্রাম ছিমছাম, বেশ সাজানো-গোছানো। এখানে ১০০ পরিবারের বসবাস। তার মানে সব মিলে এখানে ১০০টির মতো বাড়ি বা ঘর আছে। একটা চমৎকার বাজার আছে। এখানকার কারবারি বা গ্রামপ্রধানের নাম পুলিন চাকমা।সপ্তাহের বুধ ও শুক্রবার ঠেগামুখে হাট বসে। সেই দুই দিন এলাকা বেশ সরগরম থাকে। হাটে আসা ক্রেতার বেশির ভাগই ওপার মিজোরামের। ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা। স্কাই টিভির অ্যানটেনা প্রতিটি ঘরে ঘরে।

ঠেগামুখ যাওয়ার উপায়

ইঞ্জিন চালিত বোট দিয়ে রাঙামাটি থেকে বরকল উপজেলা সদরে যেতে সময় লাগবে পাঁচ ঘণ্টার মতো। দুপুরের আগে পোউছাতে পারলে ওইদিনই বরকল থেকে ট্রলারে করে যেতে পারবেন ছোট হরিণা, সময় লাগবে এক্ষেত্রেও ৪-৫ ঘন্টা। ছোট হরিণা থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে ঠেগামুখ সীমান্ত। আর যদি বিকেলের পরে পোউছান বরকল, সেক্ষেত্রে বরকলেই রাত্রিযাপন করে খুব সকাল সকাল ছোট হরিণার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন।

ছোট হরিণা থেকে স্থানীয় ভাষায় বার্মিজ বোট দিয়ে আপনাকে ঠেগামুখ অভিমুখে যাত্রা করতে হবে। বার্মিজ বোটে ঠেগামুখে যেতে সময় লাগবে দুই-তিন ঘণ্টার কাছাকাছি। তবে বলে রাখা ভালো, যতো তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন আবার ততো তাড়াতাড়ি আপনি বরকল সদরে ফিরে আসতে পারবেন। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সময়ের ব্যাপারে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে।

কোথায় থাকবেন

ছোট হরিণায় থাকার তেমন ভালো আয়োজন নেই। থাকতে হবে দোতলা বোর্ডিংয়ে। শৌচাগারের সুবিধা নেই। তবে খাবারের ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। বাজারের বাথুয়ায় রাখাইনে খাবারের ষোলোয়ানা বাঙালি স্বাদ পাওয়া যায়।

আগেই যদি ছোট হরিণায় বিজিবি ক্যাম্পে থাকার অনুমতি নিতে পারেন তাহলে ক্যাম্পে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তাই ভালো হয় যেদিন রাঙামাটি শহর থেকে ভোরে বরকল সদরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সেখানে আবাসিক বোডিংয়ে রাত্রিযাপন করবেন। সেখানে স্থানীয় হোটেরগুলোতে ভুড়ি ভোজনের কাজটিও সেরে নেবেন এবং পরদিন  বিজিবির অনুমতি পেলে ভোরে বার্মিজ বোট নিয়ে ঠেগামুখ যাত্রা শুরু করা যাবে এবং সন্ধ্যা নামার আগে আপনাকে বরকল সদরে ফিরে আসতে হবে।

তবে বলে রাখা ভাল, ছোট হরিণা থেকে ঠেগামুখ পর্যন্ত পানি সংকট এবং খাবার সংকটে পড়তে পারেন। কেননা সেখানে কোনো খাবার রেস্তোরা নেই। তাই খাবার আগে সংগ্রহ করে নিতে হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবি-বিএসএফ’র ক্যাম্পের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে সবাইকেই।

তবে মনে রাখবেন, চাইলেও আপনি ওই এলাকায় যেতে পারবেন না। ঠেগামুখ যেতে হলে বিজিবি থেকে আপনাকে আগেই অনুমতি নিতে হবে। তারপর তারাই আপনাকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাবে এবং নিয়ে আসবে।

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এখনও কেউ মন্তব্য করেনি।