তেরমুখ ব্রীজ

ভালো লেগেছে
8
ট্রিপ
১ দিন
খরচ
২০০ টাকা

তেরমুখ ব্রীজ (Termukh Bridge) ঢাকার উত্তরখানের রায়েরদিয়া লিংক রোডে অবস্থিত। কালীগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার উত্তরা আসার সহজ মাধ্যম হিসেবে এই তেরমুখ ব্রীজটি ব্যবহৃত হয়। নদী, আকাশ, গ্রামীণ পরিবেশ আর সবুজের এক অপূর্ব মেলা এই তেরমুখ ব্রীজ। বর্ষাকালে এই ব্রীজের উপর থেকে দেখা যায় তুরাগ নদীর সৌন্দর্য এবং একইসাথে উপভোগ করা যায় নদীতে বয়ে চলা সারি সারি নৌকা, বালু ভর্তি ট্রলার আর ছোট ছোট স্টীমার গুলোতে দলবেধে যাত্রীদের পিকনিক করার আনন্দ উল্লাস।

ঢাকার যান্ত্রিক জীবন আর ব্যস্ততম শহরে কতই না ব্যস্ত থাকি আমরা, তবে এই ব্যস্ততার মধ্যে একদিনেই ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার মধ্যেই মনোরম পরিবেশে অবস্থিত তেরমুখ ব্রীজ থেকে। সাপ্তাহিক ছুটিতে সকাল ও বিকাল এই সময়টাতে এখানে জনসাধারণের সমাগম দেখা যায়। একটি ছোট ডে ট্রিপ কিংবা একবেলা আউটিং এর জন্যে একদম আদর্শ একটা জায়গা। তবে বর্ষাকালে এই ব্রীজে তুলনামূলক ভাবে লোকজনের আনাগোনা একটু বেশিই দেখা যায় কারণ এই সময়ে তুরাগ নদী পানিতে ভরপুর থাকে একইসাথে তুরাগ নদীর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

গ্রামীণ পরিবেশে ব্রীজটি থাকায় সকাল ও বিকাল এই সময়টাতে ব্রীজের আশপাশে গ্রামের তরতাজা শাক-সবজি এবং গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায় তারই সাথে ঘুরতে আশা অনেকেই বাড়ি ফেরার সময় এখান থেকে কিনে নিয়ে যায়। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে ব্রীজটি গ্রামীণ পরিবেশে হওয়ায় সন্ধ্যার পর এখানে তেমন কেউই থাকে না এবং এই জায়গাটা নিরিবিলি হয়ে যায়।

তেরমুখ ব্রীজ এর ওপাশে উজামপুর। উজামপুরের দিককার রাস্তা অনেক ভাল। ব্রীজের ওপাশের সরু আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে শেষ পর্যন্ত গেলে উলুখোলা বাজার পর্যন্ত যাওয়া যায়। উলুখোলা বাজার হাইওয়েতে পরে। এই রাস্তার শেষে বামের দিকে মীরেরবাজার এবং অন্য দিকে ৩০০ ফিট ও কাঞ্চন ব্রিজ।

সন্ধ্যার পর লোকজনের আনাগোনা নেই বলে এই রোডে খুব কমই গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়। তাই চেষ্টা করবেন সন্ধ্যা নেমে আসার আগেই এখান থেকে ফিরে যাওয়ার।

তেরমুখ ব্রীজ ভ্রমণের সেরা সময়

তেরমুখ ব্রীজে ভ্রমণের সেরা সময় হলো বর্ষাকাল। এই সময়টাতে তুরাগ নদীতে পানি থাকে, তাই নৌকায় ঘুরে মজা পাওয়া যাবে বেশী। আর বর্ষাকালে সব কিছু সবুজ এবং প্রাণবন্ত লাগে। এই সময়ে গরমটাও অনেক কম অনুভূত হয়। এছাড়া শীতকালটাতেও আপনি ভ্রমণে যেতে পারেন। ব্রীজের গোড়ায় অনেকেই শীতকালীন সবজি নিয়ে বসে, সাথে নদীর তাজা মাছতো আছেই।

তেরমুখ ব্রীজ কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে প্রথমে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর আসতে হবে। আব্দুল্লাহপুর থেকে তেরমুখ ব্রীজের দুরুত্ব ৬ কিঃ মিঃ। সেখানে নেমে বীর মুক্তিযুদ্ধা কুতুব উদ্দিন আহমেদ সড়কে প্রবেশ করতে হবে। তারপর সেখানে ব্যাটারি চালিত অটো/ইজিবাইক, রিকশা এবং লেগুনা/টমটম দেখা যাবে। তাদেরকে তেরমুখ ব্রীজের কথা বললেই সেখানে নিয়ে যাবে।

তেরমুখ সেতু যাওয়ার সময় ট্রান্সমিটার, আটিপাড়া, কুড়িপাড়া, মাস্টারপাড়া, চাঁনপাড়া, মৈনারটেক স্থান পরবে।

খাওয়ার ব্যবস্থা

সেখানে হালকা বা শুকনো খাবার পাওয়া যায়। তবে ভারী খাবার খাওয়ার জন্য তেরমুখ সেতুর সামনে ছায়াদ্বীপ রেস্টুরেন্ট এন্ড ক্যাফ নামে একটি রেস্টুরেন্টের দোকান রয়েছে। সেখানে মোটামুটি ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়।

ভ্রমণ খরচ

ভাড়া পড়বে ব্যাটারি চালিত অটোতে জনপ্রতি ৪০-৫০ টাকা, টমটমে জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা এবং রিকশাতে ৭০-১০০ টাকা। তবে এখানকার রাস্তা মোটামুটি ভালো আপনারা চাইলে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আসতে পারেন।

লেখকঃ মোঃ তন্ময় হাসান সিয়াম
×

করোনার প্রাদুর্ভাব বেরে যাওয়ায় অনেক ট্যুরিষ্ট প্লেস গুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই সেখানে ভ্রমণের প্ল্যান করলে আগে থেকে ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে যাবেন।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।