তারুয়া সমুদ্র সৈকত

ভালো লেগেছে
1

তারুয়া সমুদ্র সৈকত (Tarua Sea Beach) ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলার সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত ঢালচরের সর্ব দক্ষিণের ভূখন্ড। প্রায় ৭ কি.মি. দীর্ঘ এই তারুয়া সমুদ্র সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে বিসস্তৃর্ণ চারণভূমি, যার শেষ হয়েছে তারুয়া সৈকত সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বনে। হরিণ, বণ্য মহিষ, বানর, লাল কাকড়া সহ বৈচিত্র্যময় প্রাণীর বসবাস এই দ্বীপে। প্রকৃতির নিখাদ নির্জনতা এবং মোহনীয়তা যেসব মানুষকে আন্দোলিত করে, নতুন করে বেচে থাকার উদ্দিপনা জোগায় তাঁর সকল উপকরণই তারুয়া সমুদ্র সৈকতে উপস্থিত। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এই সৌন্দর্য সাজিয়েছে, আপন ভঙ্গিমায়।

শহুরে একঘেয়েমি ক্লান্তিকর সময় গুলোকে যারা সুযোগ পেলে ছুটি দিতে এতোটুকু কার্পণ্য করেন না, তাদের জন্যে খুব কম খরচ আর নিরাপদে ঘুরে আসার যায়গা হতে পারে ভোলা জেলার ঢালচরের এই তারুয়া সমুদ্র সৈকত। যারা ছবি তুলতে পছন্দ করেন তাদের জন্যে তো এক অনন্য স্থান। লবণাক্ত বনাঞ্চল এবং কাছাকাছি স্থানের মাটির চারিত্রিক পার্থক্য আপনাকে বিমোহিত করবে। মরা গাছের শুকনো গুড়িগুলো যেন এক একটা ফসিল আর ভেজা গুড়িগুলোকে যেন মনে হয় প্রবাল পাথর। যারা ক্যাম্পিং ভালবাসেন তাদের জন্যেও হতে পারে একটি অসাধারন আর নিরাপদ স্থান। তবে ক্যাম্পিং করলে অবশ্যই স্থানীয় মানুষকে জানিয়ে করবেন, তাদের কাছ থেকে সাহায্যও নিতে পারেন, এরা খুব সরল ভাবে আপনার প্রয়োজনে এগিয়ে আসবে।

ইতিহাস ও নামকরণ

প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে উঠে সবুজের এই ঢালচর এলাকা। স্থানীয়রা যখন এই এলাকায় মাছ ধরতে আসতেন তখন শত শত তারুয়া নামের এক প্রকার মাছ উঠে আসতো তাদের জালে। ধারনা করা হয়, সে কারণেই এ এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছে তারুয়া। যা এখন সবার কাছে সমুদ্র সৈকত নামে পরিচিত।

কি কি দেখবেন

তারুয়া সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন, গো চারণভূমি, জেলে নৌকায় চড়ে মৎসাভিযান, বনের মহিষ, শেয়ালের হুক্কা-হুয়া কোরাস, হাজারও অতিথি পাখি। তারুয়া সমুদ্র সৈকতে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ, ল্যান্ডিং ষ্টেশন বানানো হয়েছে যেখানে ট্রলার ও ছোট লঞ্চ ভীড়তে পারবে। এছাড়া সৈকতের বিস্তীর্ণ প্রান্তর-জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি ভিন্ন সৌন্দর্য সৃষ্টি করে।

তারুয়া সৈকত যাওয়ার উপায় এবং খরচ

ঢাকার সদরঘাট থেকে ফারহান ৫ অথবা ৬ এবং তাশরিফ ৪ অথবা ৩ একই দিনে যথাক্রমে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫মিনিটে এবং রাত ৮টা ৩০মিনিটে বেতুয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ভাড়া ডেকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। নাস্তা সেরে অটোতে চেপে চলে যেতে হবে চর কচ্ছপিয়া, ভাড়া জনপ্রতি ১০০ – ১২০ টাকা। মটর সাইকেলে গেলে ২০০-২৫০ টাকা ভাড়া পড়বে। এক বাইকে ২জন যেতে পারবেন। চর কচ্ছপিয়া থেকে ট্রলারে করে যেতে চর কুকরি মুকরি, ভাড়া ৪০ টাকা। তবে লোকাল ট্রলারে যেতে চাইলে সকাল ১১:৪৫ এর মধ্যে ঘাটে থাকতে হবে। চর কুকরি মুকরিতে পৌছানোর পরে ট্রলারে করে ঢাল চর যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবেন খুব সহজেই সহজেই।

এছাড়া কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে বিকেল ৩টায় সারাদিনে মাত্র ১টি লঞ্চ ঢালচরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৭০টাকা।

আপনি চাইলে চর ফ্যাশন থেকেও যেতে পারেন। চর ফ্যাশন বাজার থেকে কচ্ছপিয়া ঘাট বাস কিংবা অটোতে যেতে হবে, সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক। এরপর কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে ২.৩০ ঘন্টায় তারুয়া/ঢাল চর। নৌকা ভাড়া ৩৫০০-৪৫০০ টাকা।

খাওয়া দাওয়া

মহিষের দুধের ছানা ঢালচরের বেশ ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার। তাছাড়া পাবেন, মহিষের দুধে তৈরি দই, রসগোল্লা। প্রাণভরে সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন। রূপালী ইলিশ, খালের টাটকা গলদা চিংড়ী, জালি ডাব, নারকেল দিয়ে রান্না করা কাঁকড়া, খেজুরের রস ইত্যাদি।

থাকার ব্যবস্থা

ঢালচরের স্থানীয় মানুষজন খুবই অতিথিপরায়ণ। আপনি চাইলে এমন কোন পরিবারের সাথে কথা বলে তাদের সাথে থাকতে পারেন। তাছাড়া কুকরি মুকরিতে ইউনিয়ন পরিষদের একটি গেস্ট হাউজ আছে। পূর্বানুমতি নিয়ে এখানেও থাকতে পারেন।

সবচেয়ে ভালো হয়, ক্যাম্প করে থাকলে। তারুয়া সমুদ্র সৈকত এর সাথে রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত ঘাস এর সবুজ মাঠ। এটা বেশ মজার এবং এডভেঞ্চারের দুর্দান্ত স্বাদ পাওয়া যায় এতে।

×

করোনার প্রাদুর্ভাব বেরে যাওয়ায় অনেক ট্যুরিষ্ট প্লেস গুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই সেখানে ভ্রমণের প্ল্যান করলে আগে থেকে ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে যাবেন।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।