তাড়াশ ভবন

ভালো লেগেছে
0

তাড়াশ ভবন (Tarash Bhaban) বাংলাদেশের পাবনা জেলা সদরের গোলাপপুর এর এ. হামিদ রোডে অবস্থিত একটি বিশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। পাবনা শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য আর স্থাপত্যের অনন্য অমর কীর্তি এ ভবনটি তাড়াশের রাজবাড়ী নামেও অনেকের কাছে সুপরিচিত। ১৮০০ শতাব্দীতে পাবনার সবচেয়ে বড় জমিদার বনমালী রায় বাহাদুর তাড়াশ ভবন স্থাপন করেন। তবে বনমালী রায়ের পূর্বপুরুষরা প্রথমে পাবনায় বসবাস করতেন না। এটি বনমালী রায় নিজের জমিদারির অবসর সময় যাপনের জন্য তৈরী করেছিলেন। তাড়াশ ভবন স্থাপনের কয়েক বছর পর জমিদার বনমালী রায় ও বনওয়ারীলাল রায় তাড়াশ ভবনের পাশেই বনমালী ইনস্টিটিউট, টাউন হল জগন্নাথদেবের মন্দির ইত্যাদি প্রতিষ্টা করেন।

তাড়াশ ভাবনটি দ্বিতলবিশিষ্ট এবং আয়তাকার প্রকৃতির একটি প্রাচীন গ্রীক ধাচের পূরাকীর্তি বা স্থাপত্যশিল্প। এই ভবনটির দোতালার কহ্মটি চারটি সুডৌল বৃত্তাকার স্তম্ভ সংযোগে গঠিত। ভবনটি দৈর্ঘ্যে ৩০.৪০ মিটার (১০০ফুট) এবং প্রস্থে ১৮.২৮ মিটার (৬০ ফুট)।ভবনটিতে চারটি কোরিনথিয়ান স্তম্ভের উপরে আকর্ষনীয় দ্বিতল গাড়িবারান্দা রয়েছে।

তাড়াশ ভবনের মূল এতিহ্য হল এর বিশালাকার প্রবেশ তোরণ যা রায় বাহাদুর গেট। প্রাসাদাকার এ ভবনটির সামনে প্রবেশ তোরণের দুপাশে দুটি করে মোট চারটি স্তম্ভ এবং মাঝে বিশালাকৃতির অর্ধবৃত্তাকার খিলানে প্রবেশ পথটি সৃষ্টি করা হয়েছে। কথিত রয়েছে, বনমালী রায়ের ২টি হাতি ছিল এবং হাতির প্রবেশ পথে যেন তোরণ বাধা না পায় সেজন্য প্রবেশ তোরণকে এতটা বৃহদাকারভাবে গঠন করা হয়।

১৯ শতকের শেষ দিকে তাড়াশ ভবনকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় এবং জায়গাটির দেখাশোনার দায়িত্ব বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের (আপাতত পাবনা পৌরসভা) উপরে।

বগুড়া জেলার চান্দাইকোনার কাছে ‘কোদলা’ গ্রামে বাসুদেব নামক কায়স্থ জমিদার ছিলেন যিনি তাড়াশ রাজবংশের পূর্বপুরুষ। জমিদার বাসুদেব নবাব মুর্শিদকুলি খানের রাজস্ব বিভাগে চাকরি করতেন। নবাব মুর্শিদকুলি খান তার সততা ও গুনে মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘রায় চৌধুরী’ খেতাব দেন এবং এভাবেই গঠিত হয় তাড়াশ জমিদার বংশের জমিদারিত্ব। শোনা যায়, ১৯৪২ সালে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় তখন এই আতঙ্কে জমিদার পরিবার তাড়াশ ভবনে অবস্থান নিয়েছিলেন অনেকদিনের জন্য।

কিভাবে যাবেন

পাবনার বাইপাস টার্মিনাল হতে সরাসরি তাড়াশ ভবন যে কোন যানবাহনে যেতে পারবেন। রিক্সা কিংবা অটোতে উঠে সরাসরি তাড়াশ জমিদার বাড়ি বা তাড়াশ ভবন বললেই নিয়ে যাবে সেখানে। রিক্সায় যেতে সময় লাগে ১৫মিনিট ও ভাড়া ২৫-৩০ টাকা। অটোতে সময় লাগবে ৭-১০মিনিট ও ভাড়া ১৫ টাকা।

কোথায় থাকবেন

  • হোটেল প্রবাসী ইন্টার ন্যাশনাল, রুপকথা রোড, পাবনা ৬৬০০, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০১৭৪৯১৪৮৬৮৫
  • হোটেল পার্ক (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে), আব্দুল হামিদ রোড। ফোন: ০৭৩১-৬৪০৯৬
  • হোটেল শিলটন, আব্দুল হামিদ রোড, পাবনা। ফোন: ০৭৩১-৬২০০৬,০১৭১২-৪৩৩২৪৯
  • ছায়ানীড় হোটেল, রুপকথা রোড, পাবনা। ফোন: ০৭৩১-৬৬১০০, ৬৫৩৯০
  • প্রাইম গেস্ট হাউস (গাড়ি পারকিং এর ব্যাবস্থা আছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে), আব্দুল হামিদ রোড, পাবনা। ফোন: ০৭৩১ -৬৫৭০১, ০৭৩১-৬৬৯০১
  • মিড নাইট মুন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট (আবাসিক হোটেল, গাড়ি পারকিং এর ব্যাবস্থা আছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে), আব্দুল হামিদ রোড, পাবনা। ফোন: ০৭৩১ -৬৫৭৮৭
  • স্বাগতম হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে), রুপকথা রোড, পাবনা। ফোন: ০৭৩১ -৬৪০২৯,০৭৩১-৬৫৮৬১
×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।