টাঙ্গুয়ার হাওর

ভালো লেগেছে
10
ট্রিপ
২ দিন
খরচ
২৫০০ টাকা

টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor) বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রুপ জলমহালগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা এবং তাহিরপুর উপজেলাস্থিত জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ মিঠা পানির এ হাওর বাংলাদেশের ২য় রামসার এলাকা, প্রথমটি সুন্দরবন। ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলি মুখরিত টাঙ্গুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম। বর্তমানে মোট জলমহাল সংখ্যা ৫১টি এবং মোট আয়তন ৬,৯১২.২০ একর। তবে নলখাগড়া বন, হিজল করচ বনসহ বর্ষাকালে সমগ্র হাওরটির আয়তন দাড়ায় প্রায় ২০.০০০ একর। বর্ষায় এর পুরোটাই পানিতে ডুবে থাকলেও শীতে পানি কমতে থাকে। এর বড় একটা অংশ তখন শুকিয়ে যায় যায়।

টাঙ্গুয়ার হাওর প্রকৃতির অকৃপণ দানে সমৃদ্ধ। এ হাওর শুধু একটি জলমহাল বা মাছ প্রতিপালন, সংরক্ষণ ও আহরণেরই স্থান নয়। এটি একটি মাদার ফিশারী। হিজল করচের দৃষ্টি নন্দন সারি এ হাওরকে করেছে মোহনীয়। এ ছাড়াও নলখাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলঞ্চা, শতমূলি, শীতলপাটি, স্বর্ণলতা, বনতুলসী ইত্যাদি সহ দু’শ প্রজাতিরও বেশী গাছগাছালী রয়েছে এ প্রতিবেশ অঞ্চলে। বর্তমানে এ হাওরে রয়েছে ছোট বড় ১৪১ প্রজাতির ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির কচ্ছপ, ৭ প্রজাতির গিরগিটি এবং ২১ প্রজাতির সাপ। নলখাগড়া বন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। শীত মৌসুমে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ব্যাপক পাখির আগমন ও অবস্থানে মুখরিত হয় টাঙ্গুয়ার হাওর। বিলুপ্ত প্রায় প্যালাসেস ঈগল, বৃহদাকার গ্রে-কিংষ্টর্ক, শকুন এবং বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি ছিল টাঙ্গুয়ার হাওরের অবিস্মরণীয় দৃশ্য। স্থানীয় জাতের পাখি পানকৌড়ি, কালেম, বৈদর, ডাহুক নানা প্রকার বালিহাঁস, গাংচিল, বক, সারস প্রভৃতির সমাহারও বিস্ময়কর। সাধারণ হিসাবে বিগত শীত মৌসুমের প্রতিটিতে ২০/২৫ লক্ষ পাখি টাঙ্গুয়ার হাওরে ছিল বলে অনুমান করা হয়। কোন কোন স্থানে কিলোমিটারের বেশী এলাকা জুড়ে শুধু পাখিদের ভেসে থাকতে দেখা যায়। টাঙ্গুয়ার হাওর মাছ-পাখী এবং উদ্ভিদের পরস্পর নির্ভরশীল এক অনন্য ইকোসিস্টেম। মাছের অভয়াশ্রম হিসাবে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশী।

টাংগুয়ার হাওর এর প্রধান দুটি পাখির অভয়ারণ্য হল লেউচ্ছামারা ও বেরবেড়িয়ার বিল। টাঙ্গুয়ার হাওরের ঠিক মাঝখানটায় সুন্দর বিল হাতিরগাতা। এর চারপাশে রয়েছে বিলগুলো। শীতে হাতিরগাতার বেশিরভাগ এলাকাই শুকিয়ে যায়। কথিত আছে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজরা শীতে শুকিয়ে যাওয়া মাঠে হাতি চড়াতে আসতেন বলেই এই নাম পেয়েছে জায়গাটি।

কিভাবে যাওয়া যায়

প্রথমে আপনাকে যেতে হবে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে। ঢাকা থেকে সড়ক পথে সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়। সায়দাবাদ থেকে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এনা পরিবহন, মামুন পরিবহনের নন এসি বাস যায় সুনামগঞ্জ। ভাড়া এসি ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা। সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাহেববাজার ঘাট পর্যন্ত রিকশায়। বর্ষাকালে শহরের সাহেব বাড়ি নৌকা ঘাট থেকে ইঞ্জিন বোট বা স্পীড বোট যোগে সরাসরি টাঙ্গুয়া যাওয়া যায়। ইঞ্জিন বোটে ৫ ঘন্টায় এবং স্পীড বোটে ২ ঘন্টা সময় লাগে। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিন বোটে খরচ হয় ২,৫০০/- থেকে ৩,০০০/- টাকা পক্ষান্তরে স্পীড বোডে খরচ হয় ৭,৫০০/- থেকে ৮,০০০/- টাকা। রাতে থাকার জন্য নৌকা ভাড়া করলে প্রয়োজনীয় বাজারসদাই করে নেবেন। সেক্ষেত্রে লোকাল ট্রলার বা ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ভাড়া পরবে ৫০০০ টাকার মতো। আর মডিফাইড ইঞ্জিন চালিত নৌকা যে গুলোতে হাই কমোডসহ বাথরুম, ছাদে তেরপলসহ অনেক সুবিধা আছে, ভাড়া পড়বে ছুটির দিন গুলোতে ১৫-১৬০০০ টাকার মতো। অন্যান্য দিন গুলোতে সেটা ১০-১২০০০ টাকায় পেতে পারেন।

সিলেট থেকে কেউ সুনামগঞ্জ যেতে চাইলে সেক্ষেত্রে তাকে কুমারগাও বাসস্ট্যাণ্ড থেকে বাসে উঠতে হবে। বাস ভাড়া ১০০ টাকা।

অথবা সুনামগঞ্জ শহরের আগে শুরমা সেতু থেকে লেগুনা কিংবা মোটরবাইকে যেতে হবে তাহিরপুর কিংবা সোলেমানপুর। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সোলেমানপুর যাওয়াই উত্তম কারণ তাহিরপুর থেকে সোলেমানপুরের বৌলাই নদীতে এ সময়ে নাব্যতা কমে যায়।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর

হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন রাত ১১ঃ৫০ কমলাপুর থেকে ছেড়ে যায়। সকাল সাড়ে ছয়টায় ট্রেন মোহনগঞ্জ গিয়ে পৌছায়। সেখানে নাস্তা করে বাইকে করে চলে যেতে হবে মধ্যনগর বাজার লঞ্চঘাটে, ভাড়া ২০০-২২০ টাকা, ২ জন যেতে পারবেন। সিএনজি করে গেলে ভাড়া জনপ্রতি ৭০ টাকা। সেখান থেকে সকাল ৮ঃ৩০ টায় তাহিরপুরের উদ্দেশ্যে স্পিডবোট ছেড়ে যায় প্রতি ৩০ মিনিট পর পর। চাইলে ট্রলার ভাড়া করেও যেতে পারেন। মধ্যনগর বাজারের আখড়া ঘাট থেকে ট্রলার রিজার্ভ করতে হবে। দামাদমি করে ট্রলার নিতে হবে। ট্রলার নেওয়ার সময় মাঝিকে চুলা, বাসন, ছাদে টানানোর জন্য সামিয়ানা, লাইফজ্যাকেট আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। না থাকলে মাঝিকে আনতে বলবেন। মানুষ অনুযায়ী ভাড়া নির্ভর করে। সাধারনত ভাড়া ১৫০০-৩০০০ টাকার মধ্যে থাকে। আনুমানিক ৩-৩ঃ৩০ ঘন্টা ট্রলার জার্নির পরে টাঙ্গুয়ার হাওর এর ওয়াচ টাওয়ার পৌছে যাবেন।

কোথায় থাকবেন

বেসরকারী ব্যবস্থায়পনায় টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নেই, তবে সরকারী ব্যবস্থাপনায় ৩ কিঃ মিঃ উত্তর-পূর্বে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজে অবস্থান করা যায়। গ্রীষ্মকালে শহরের সাহেব বাড়ি খেয়া ঘাট পার হয়ে অপর পার থেকে প্রথমে মোটর সাইকেল যোগে ২ ঘন্টায় শ্রীপুর বাজার/ডাম্পের বাজার যেতে হয়। ভাড়া ২০০ টাকা। সেখান থেকে ভাড়াটে নৌকায় টাঙ্গুয়া ঘুরে আসা যায়। সেক্ষেত্রে ভাড়া বাবদ ব্যয় হতে পারে ৩০০-৪০০/- টাকা।

এছাড়া সুনামগঞ্জে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকার মধ্যে থাকার জন্যে হোটেল ভাড়া পাবেন।

  • হোটেল নূর-পূর্ববাজার স্টেশন রোড সুনামগঞ্জ
  • হোটেল সারপিনিয়া-জগন্নাথবাড়ী রোড, সুনামগঞ্জ।
  • হোটেল নূরানী, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড , সুনামগঞ্জ।
  • হোটেল মিজান, পূর্ব বাজার-সুনামগঞ্জ।
  • হোটেল প্যালেস, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড
  • সুরমা ভ্যালী আবাসিক রিসোর্ট

প্রয়োজনীয় কিছু ফোন নাম্বার

  • ফজলু ভাই (মাঝি) – ০১৭১৯৬৫৯৪৪৫
  • হাবলু ভাই (ট্রলারের মালিক) – ০১৭৪১২৪৮৭৬১
  • কাইয়ুম (ডাক বাংলো, তাহিরপুর) – ০১৭৩৬৪৪৭৪৭৬
  • জুয়েল (মাঝি) – 017 8351 3339
  • সেজুল (মাঝি) – 017 9580 5832
×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. nice information.

  2. রাতটা যদি হয় পূর্ণ চাদের আলোয় আলোকিত, চারপাশটা খুবই মোহময় লাগে। স্বর্গীয় একটা ফিলিংস আসে।

  3. বর্ষাকালে চারদিকে দিগন্ত বিস্তৃত অথৈ জলরাশি। উত্তরের ভারতের মেঘালয় পাহাড় বেষ্টিত এই বিশাল হাওরের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে আরো কয়েকগুন। বর্ষাকালের শেষের দিকে টাঙ্গুয়ার হাওরকে বেশি চমৎকার লাগে। তখন আকাশ থাকে পরিস্কার নীল, আকাশের নীল এর সাথে হাওরের সচ্ছ জল হয়ে উঠে অন্যরকম নীলে। আর জলা বনের হিজল, করচ গাছের সারিগুলো দেখলে আপনি পাবেন অন্যরকম এক ভ্রমণ আনন্দ। এই সময়টাতে হাওর অনেকটা শান্ত থাকে পানিও কমতে শুরু করে। তাই এই সময়টা ভ্রমনের জন্য উৎকৃষ্ট সময় বলা যায়।

  4. নীলের অসীমে হারিয়ে যেতে চাইলে এর থেকে ভালো কোন অপশন নেই।

  5. তারা ভরা আকাশ থেকে একটা তারা মিটিমিটি করে খসে পড়ার দৃশ্য কতটা নয়নাভিরাম তা স্বচক্ষে না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না।