সুপ্তধারা ঝর্ণা

ভালো লেগেছে
2

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্ট ব্লকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুশোভিত চিরসবুজ বনাঞ্চলের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে সুপ্তধারা নামের এই ঝর্ণাটি অবস্থিত। ইকোপার্কটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথের পূর্ব পাশে অবস্থিত। বর্ষাকাল ছাড়া বছরের বাকি সময় এই ঝর্ণায় পানি থাকে না। তাই শুস্ক মৌসুমে দূর থেকে দেখলে মনে হবে ঝর্ণায় কোন পানি নেই। তবে, ঝর্ণার কাছে গেলে সামান্য কিছু পানি পরতে দেখবেন। যদি বর্ষাকালে এখানে আসেন তবে ঝর্নাটিকে পানিতে পরিপূর্ণ অবস্থায় দেখতে পাবেন এবং ঝর্ণার সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন।

এই ঝর্ণাটির খুব কাছেই আরেকটি ঝর্ণা রয়েছে যা সহস্রধারা ঝর্ণা নামে পরিচিত।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে এসি, ননএসি বাস ছাড়ে সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে। আরামদায়ক এবং নির্ভর যোগ্য সার্ভিস গুলো হল এস.আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভূতি। সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে। চট্টগ্রাম থেকে বাসগুলো মাদারবাড়ী, কদমতলী বাসষ্টেশন থেকে ছাড়ে। তা ছাড়াও অলঙ্কার থেকে কিছু ছোট গাড়ী ছাড়ে ( স্থানী ভাবে মেক্সী নামে পরিচিত) সেগুলো করেও আসা যাবে।

এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়েঁ আসা দ্রুতগামী ট্রেন “ঢাকা মেইল” সীতাকুণ্ডে থামে, এটি ঢাকা থেকে ছাড়ে রাত ১১টায় এবং সীতাকুণ্ডে পৌঁছে পরদিন সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায়। অন্যান্য আন্তঃ নগর ট্রেন গুলো সরাসরি চট্টগ্রামে চলে যায়। শুধুমাত্র শিবর্তুদশী মেলার সময় সীতাকুণ্ডে থামে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে আপনি নিজ উদ্যোগে পারিবারিক ভাবে সিএনজি অটো রিক্সাতে করে ঘুরে আসতে পারবেন ভাড়া নিবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আপনি যদি পাবলিক বাসে যেতে চান তবে আপনাকে নগরির অলংকার কিংবা এ কে খান মোড় থেকে বাসে উঠতে হবে ভাড়া নিবে ২০ টাকা প্রতি জন।

কোথায় থাকবেন

চট্টগ্রামে নানান মানের হোটেল আছে। নীচে কয়েকটি বাজেট হোটেলে নাম ঠিকানা দেয়া হলো। এগুলোই সবই মান সম্পন্ন কিন্তু কম বাজেটের হোটেল।

১. হোটেল প‌্যারামাউন্ট, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : নুতন ট্রেন স্টেশনের ঠিক বিপরীতে । আমাদের মতে বাজেটে সেরা হোটেল এটি। সুন্দর লোকেশন, প্রশস্ত করিডোর (এত বড় কড়িডোর ফাইভ স্টার হোটেলেও থাকেনা)। রুমগুলোও ভালো। ভাড়া নান এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা। বুকিং এর জন্য : ০৩১-২৮৫৬৭৭১, ০১৭১-৩২৪৮৭৫৪

২. হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : এটাও অনেক সুন্দর হোটেল। ছিমছাম, পরিছন্ন্ হোটেল। ভাড়া : নন এসি : ১০০০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল। এসি : ১৭২৫ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫

৩. হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার, চট্টড়্রাম : একটি পারিবারিক পরিবেশের মাঝারি মানের হোটেল। ছাদের ওপর একটি সুন্দর রেস্টুরেন্ট আছে। রাতের বেলা সেখানে বসলে আসতে ইচ্ছে করবেনা। ভাড়া : ৭০০ টাকা থেকে শুরু। এসি ১৩০০ টাকা। বুকিং এর জন্য -০৩১-০৬১৪০০৪

৪. হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও,আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম। একটু বেশী ভাড়ার হোটেল। তবে যারা নাসিরাবাদ/ও আর নিজাম রোড এলাকায় থাকতে চান তাদের জন্য আদর্শ। ভাড়া : ২৫০০/৩০০০ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭৫৫ ৫৬৪৩৮২

৫. হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম : আগ্রাবাদে থাকার জন্য ভালো হোটেল। ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা। বুকিং এর জন্য: ০১৮২-০১৪১৯৯৫, ০১৭৩১-৮৮৬৯৯৭

×

পৃথিবীটা আমাদের এবং এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দ্বায়িত্বও আমাদের। সুতরাং আসুন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে আমরা সবাই বিরত থাকি ও পরিবেশটা সুন্দর রাখি।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. সুপ্তধারা ঝর্ণাটি আসলে ছবির মত দেখতে, অসাধারণ একটি ঝর্ণা। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে অবস্থিত সুপ্তধারার ট্রেইলটা মোটামুটি সহজ। চেষ্টা করলে যে কেউই এই ঝর্ণায় যেতে পারবেন। প্রায় সাড়ে চারশ সিড়ি বেয়ে নেমে ছোট্ট একটি ঝিরি পেরুলেই দেখা মিলবে এই ঝর্ণার। এই ঝর্ণাটির উপরের স্টেপেও উঠা যায়। সীতাকুন্ড ইকোপার্কের গেইটের সামনেই নেমে ১০ মিনিট পায়ে হেটে পার্কের মেইন গেইটের সামনে গিয়ে ২০ টাকা করে টিকেট কেটে পার্কের ভিতরে ঢুকতে ১০ মিনিট হাটলেই চোখে পড়বে সুপ্তধারা ঝর্ণার সিড়ি।

  2. রূপবতী ও মায়াবতী ঝর্নার অনন্য উদাহরন। ছবির মত দেখতে সুন্দর অসাধারণ এক ঝর্ণা। সুপ্তধারার ট্রেইলটা মোটামুটি সহজ। চেষ্টা করলে যে কেউ এই ঝর্ণায় যেতে পারবেন। প্রায় সাড়ে চারশ সিড়ি বেয়ে নেমে ছোট্ট একটি ঝিরি পেরুলেই দেখা মিলবে এই ঝর্ণার।

  3. সীতাকুন্ড বাজার নামলেই ১০ টাকা অটো ভাড়া করে চলে যাবেন সীতাকুন্ড ইকো পার্ক, চাইলে ভিতরে হেটে যেতে পারবেন অথবা সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা করে ২ টা ঝর্না ঘুরে আসতে পারবেন। খুব একটা কষ্ট সাধ্যে না হলেও ৪০০/৫০০ সিড়িঁ ভেংগে আপনাকে ঝর্না কাছে পৌছাতে হবে। পানি বেশী থাকলে সুপ্তধারা ঝর্না অসাধারন লাগে। ইকো পার্কে অবশ্যেই টিকেট করে ঢুকতে হয়।