পাবনা

সুচিত্রা সেনের বাড়ি

পাবনা শহরের গোপালপুর এলাকার হেমসাগর লেনে অবস্থিত সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি (Suchitra Sen’s House), যেখানে একসময় তার শৈশব, কৈশোরের স্মৃতি গাঁথা ছিল, সেই বাড়িটি এখন “সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা” হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। মহানায়িকার অনুরাগীদের জন্য এটি এক তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।

বাড়ির বিবরণ

একতলা বিশিষ্ট এই পাকা বাড়িটিতে পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। বিশাল উঠান পার হয়ে সিঁড়ি বারান্দা দিয়ে প্রবেশ করতে হয় মূল ঘরগুলিতে। ঘরের দেয়াল জুড়ে ছোট-বড় ফ্রেমে বাঁধানো সুচিত্রা সেনের বিভিন্ন সময়ের ছবি, যা তার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের কথা বলে। দেয়ালে ঝুলছে নানা কথার ফেস্টুন। পটভূমিতে বাজছে তার অভিনীত সিনেমার গান, যা পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

স্মৃতি সংগ্রহশালা

পাবনা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই বাড়িটিকে সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এখানে সুচিত্রা সেনের ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী, ছবি, পুরস্কার, চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি সংরক্ষিত আছে। এ সবকিছু মিলিয়ে সুচিত্রা সেনের জীবন ও কর্মের একটি সম্পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

সুচিত্রার শৈশব ও কৈশোর

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল এই বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন পাবনা মিউনিসিপ্যালিটির কর্মচারী। সুচিত্রা সেন তার শৈশব এবং কৈশোরের সময় এই বাড়িতেই কাটিয়েছেন। পাবনার মহাকালী পাঠশালা এবং পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন।

টিকিট মূল্য

প্রধান ফটকে গিয়ে ১০ টাকার বিনিময়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

খোলা-বন্ধের সময়সূচী

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখতে পারবেন।

সুচিত্রা সেনের বাড়ি যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে পাবনা জেলার গোপালপুরের হেমসাগর লেনে অবস্থিত সুচিত্রা সেনের বাড়ি যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে। আপনার পছন্দ, সুবিধা এবং বাজেট অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

বাসে

ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন অনেকগুলি বাস ছেড়ে যায়। হানিফ, শ্যামলী, এনা, এস আর ট্রাভেলস সহ বিভিন্ন পরিবহনের নন-এসি, এসি এবং বিলাসবহুল বাস সার্ভিস পাবেন। পাবনা পৌঁছাতে সাধারণত ৪-৫ ঘন্টা সময় লাগে। পাবনা শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা বা রিকশা করে গোপালপুরের হেমসাগর লেনে সুচিত্রা সেনের বাড়ি যেতে পারেন। পাবনা শহর থেকে গোপালপুরের দূরত্ব খুব বেশি নয়, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করলেই সহজেই পৌঁছে যাবেন।

ট্রেনে

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে পাবনা রেলপথে যাতায়াত অপেক্ষাকৃত কম ঝামেলার। ট্রেনে পাবনা পৌঁছাতে ৫-৬ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। পাবনা রেলস্টেশন থেকে সিএনজি, অটোরিকশা বা রিকশা যোগে গোপালপুরের হেমসাগর লেনে সুচিত্রা সেনের বাড়ি যেতে পারেন।

ঢাকা টু পাবনা ট্রেনের সময়সূচী
ট্রেন নংনামছুটির দিনথেকেপ্রস্থানপ্রতিআগমন
৭১৫কাপোতাক্ষ এক্সপ্রেসশনিবারঈশ্বরদীসকাল ১১:৫৫রাজশাহীদুপুর ১:১০
৭১৬কাপোতাক্ষ এক্সপ্রেসশনিবারঈশ্বরদীদুপুর ৩:৩০খুলনারাত ৮:৫০
৭২৫সুন্দরবন এক্সপ্রেসমঙ্গলবারঈশ্বরদীরাত ১২:৩৫ঢাকাসকাল ৫:৪০
৭২৬সুন্দরবন এক্সপ্রেসবুধবারঈশ্বরদীসকাল ১১:৩০খুলনাবিকেল ৪:২০
৭২৭রুপশা এক্সপ্রেসবৃহস্পতিবারঈশ্বরদীদুপুর ১২:৫০সৈয়দপুরবিকেল ৫:১৫
৭২৮রুপশা এক্সপ্রেসবৃহস্পতিবারঈশ্বরদীদুপুর ১২:৫০খুলনাসন্ধ্যা ৬:০০
৭৪৭সিমন্ত এক্সপ্রেসনাঈশ্বরদীরাত ২:০০ সৈয়দপুরসকাল ৬:২০
৭৪৮সিমন্ত এক্সপ্রেসনাঈশ্বরদীসকাল ১১:৩৫খুলনাসকাল ৪:৩০

ব্যক্তিগত গাড়িতে

ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকা থেকে আরিচা ঘাট হয়ে ফেরি পার হয়ে পাবনা যেতে পারেন। এই রুটে যাতায়াত অপেক্ষাকৃত সময়সাপেক্ষ হলেও আপনার নিজের গাড়িতে যাতায়াত অনেক স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। ঢাকা থেকে পাবনা গাড়িতে যেতে প্রায় ৬-৭ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। পাবনা শহর থেকে গোপালপুর যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সাহায্য নিতে পারেন।

যে পদ্ধতিতেই যান না কেন, পাবনা পৌঁছানোর পর স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেই সুচিত্রা সেনের বাড়ির ঠিকানা সহজেই পেয়ে যাবেন। স্থানীয় লোকজন খুবই সহায়ক এবং তারা আপনাকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে। মনে রাখবেন, সুচিত্রা সেনের বাড়িটি বর্তমানে একটি মেমোরিয়াল হিসেবে সংরক্ষিত আছে। তাই সেখানে যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং অনুমতি নিয়ে নেওয়া উচিত।

সুচিত্রা সেনের বাড়ি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি বাংলা চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাড়ি তার স্মৃতি বহন করে এবং তার অনুরাগীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।

Leave a Comment
Share
ট্যাগঃ pabnasuchitra sen