সোনাইছড়ি ট্রেইল

ভালো লেগেছে
4
ট্রিপ
১ দিন
খরচ
১৫০০ টাকা
ট্রেকিং এর কাঠিন্যতা
সহজ

সোনাইছড়ি ট্রেইল (Sonaichhari Trail) চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই পাহাড় রেঞ্জ এর হাদি ফকিরহাট বাজার এলাকায় অবস্থিত যা ডে ট্রিপের জন্যে আদর্শ একটি জায়গা। এই ট্রেইল বারৈয়াঢালা অভয়ারণ্যের আওতাভুক্ত। বৈচিত্র্যময় এই ট্রেইল পুরোমাত্রায় বুনো এবং পাথুরে! বর্ষায় এর দূর্গমতা বেড়ে যায় অনেক বেশি। তিন্দুর মত বড় বড় পাথর, বাদুজ্জাকুমের ভয়াবহতা টেনে নিয়ে যায় অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের।বৃষ্টি বা বর্ষায় বেশ পিচ্ছিল হয়ে যায় পাথরের বড় বড় বোল্ডারগুলো। খাড়া পাহাড়, পিচ্ছিল ঝিরি পথ, বাদুড় ভর্তি বাদুইজ্জাখুম এবং ট্রেইলের শেষ মাথায় সোনাইছড়ি ঝর্না পাবেন এই ট্রেইলে। চট্টগ্রাম এলাকার সবচেয়ে সুন্দর ট্রেইল এটাই যার দৈর্ঘ্য ২৮ কিলোমিটার। এই ট্রেইলের বাদুইজ্জাখুম বা বাঁদুরে কুম এক সংকীর্ণ অথচ বিস্তৃত গভীর কুম, যার দুপাশের পাথুরে দেয়াল খাড়া ১০০-১৫০ ফুট উচু! উপরের গাছপালা ঠিকরে আলো তেমন আসেনা, ভেতরে হাজার হাজার বাঁদুরের ডানা ঝাপ্টানো আর কিচকিচ চিৎকারে কান পাতা দেয়! আর সেইরকম বাজে গন্ধ সৃষ্টি করে রেখেছে ভয়াবহ এক ভুতুরে আবহ!

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে উঠে হাদি ফকিরহাট বাজারে নেমে যেতে হবে। এছাড়া ট্রেনে চড়ে সীতাকুণ্ড নেমে হাদি ফকিরহাট আসা যায়। সেখান থেকে হাদি ফকিরহাট জামে মসজিদ এর গলি ধরে হেঁটে অথবা সিএনজি নিয়ে বড়-পাথর যেতে হবে। সেখান থেকেই ট্রেইল শুরু। হাদি ফকিরহাট গ্রাম শেষে পাহাড়ের শুরু থেকে সোনাইছড়ি ট্রেইল এর শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে পারে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা। এক দিনেই এই এলাকা ঘুরে দেখা সম্ভব।

কোথায় থাকবেন

এই ভ্রমণ একদিনের তাই থাকার দরকার পড়বে না তবু নিতান্তই রাতে থাকতে চাইলে মীরসরাই বা সীতাকুন্ডে নিন্মমানের হোটেল পাবেন। সীতাকুণ্ড বাজার গেলে সেখানে হোটেল সাইমুন আছে। ভালো হোটেলে থাকতে চাইলে চট্টগ্রাম চলে যেতে হবে।

যা যা সাথে নিতে হবে

  • ছোট ব্যাকপ্যাক
  • অতিরিক্ত ১সেট ড্রেস
  • ভালো গ্রীপ করে এমন বেল্টসহ জুতা (চামড়ার জুতা, কনভার্স, কেইডস পরে যাওয়া উচিত না)
  • থ্রী কোয়ার্টার প্যান্ট
  • গামছা
  • ক্যাপ
  • পানির বোতল
×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. প্রকৃতির বুঁনো সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে সোনাইছড়ি ট্রেইটি হবে আপনার জন্য। প্রতি কদমে রয়েছে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। একদিনের ট্রেইল হিসেবে এটি তুলনাহীন। তবে বর্ষার মৌসুমে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এই ট্রেইলে যাওয়ার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত হবে বলে মনে করি। জুতা (বেল্টসহ ও বেল্ট ছাড়া) নিয়ে যাওয়া খুবববব কষ্টকর। খালি পায়ে গেলে এ্যাংলেট নিয়ে যাবেন। বাদুজ্জাখুম নামক জায়গায় অনেকককক জোঁকের দেখা পাবেন। তবে ভীত হলে চলবে না। কারণ এই জায়গাটা অতিক্রম করার পর আর তেমন কোন জোঁক দেখিনি। লবণ সাথে থাকা বাধ্যতামূলক। তারপরের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অসাধারণ। অনেক বড় বড় পাথর, পাহাড়ের বিশালতা ও ঝিরিপথ এর সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বাদুজ্জাখুম থেকে প্রায় 45 মিনিট হাঁটার পর দেখা মিলবে ঝর্ণার । খুব ছোট ঝর্ণা হলেও এর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আপনার হৃদয়ে দাগ কাটবে। ট্রেইটিতে এখনো খুব বেশী মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি বলে মনে হয়েছে। সাথে গাইড নিয়ে যাওয়া উচিত হবে কারণ পথিমধ্যে আপনি কারো সাহায্য নাও পেতে পারেন। গাইড একটু চৌকশ হলে ভালো যাতে আগেই আপনাকে জোঁক এর ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করতে বলে। ট্রেইটিতে যাওয়ার পূর্বে স্থানীয় একটি হোটেলে দুপুরের খাওয়ার অর্ডার দিয়ে যেতে পারেন( মোঃ জয়নাল, 01817254592)। ভদ্রলোকটিকে আন্তরিক মনে হয়েছে। আপনার, আমার ও সবার ভ্রমণ হোক আনন্দময়।

  2. সীতাকুন্ড – মীরসরাই জোনের সবচেয়ে কঠিন ট্রেইল বর্ষায় যাওয়া কোনভাবেই ঠিক নয়,তবে শীতে গেলে দারুন ভিউ পাবেন গিরি পথ, বড় বড় বল্ডার পাথর, খুম সহ অসাধারন কিছুর এডভেঞ্চার ফিল নিয়ে আসতে পারবেন।

  3. একদিনে এর মধ্যে ট্রাকিং,এডভেঞ্চার সবই পাবেন এই ট্রেইলে। এই ট্রেইলে বিশাল বিশাল সাইজের পাথর পাড়ি দিলে অন্যরকম অনুভুতি হবে।
    এই ট্রেইলে দুই পাহাড়ের গিরিপথে অসংখ্য বাদুড়ের ডানা ঝাপটে উড়াউড়ি করে।

  4. দারুন একটা ট্রেইল।