ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং শান্ত নিসর্গের খোঁজে যারা ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য মাগুরা জেলার এক অনন্য গন্তব্য হতে পারে ‘সিদ্ধেশ্বরী মঠ’। মাগুরা শহর থেকে মাত্র দেড় মাইল (প্রায় ৩ কি.মি.) উত্তরে আঠারখাদা গ্রামে শান্ত নবগঙ্গা নদীর তীরে এই সুপ্রাচীন মঠটির অবস্থান, যা ‘আঠারখাদা সিদ্ধেশ্বরী মঠ’ নামেও বেশ পরিচিত।
এই মঠের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সাধু অমলানন্দ কর্তৃক স্থাপিত অপূর্ব মৃন্ময়ী কালিকা প্রতিমা। নীলবরণী শ্যামা মায়ের কাঁধে দুটি শব (মৃত শিশু) এবং তিনি শিবের বক্ষে নৃত্যরতা—মায়ের এমন ভীষণ অথচ দিব্য মূর্তির দেখা বর্তমানকালে আর কোথাও সচরাচর মেলে না। এছাড়া নবগঙ্গা নদীর তীরের শান্ত পরিবেশ আপনার মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেবে।
একটি জরুরি তথ্য
অনেকেই নলডাঙ্গার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের সাথে মাগুরার এই মঠকে মিলিয়ে ফেলেন। মাগুরার এই মঠটি অতি প্রাচীন, যার প্রতিষ্ঠাকাল অজানা। অন্যদিকে, নলডাঙ্গার মন্দিরটি মোগল আমলে মাগুরার এই মঠেরই অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল।
ঢাকা থেকে মাগুরা: ঢাকা থেকে হানিফ, সোহাগ, ঈগল, দ্রুতি সহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে সরাসরি মাগুরায় আসা যায়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও মাগুরায় পর্যটকদের থাকার জন্য খুব ভালো মানের বা উল্লেখ করার মতো বেসরকারি আবাসিক হোটেল নেই। যে কয়েকটি হোটেল আছে, সেগুলোর মান বেশ হতাশাজনক। তবুও রাত্রিযাপনের প্রয়োজন হলে নিচের বিকল্পগুলো দেখতে পারেন:
১. হোটেল চলন্তিকা (সাগর বিশ্বাস) – মাগুরা সদর। ২. ছায়াবীথি (জেলা পরিষদ) – মাগুরা সদর। ৩. জেলা পরিষদ ডাকবাংলো – মাগুরা। ৪. মাগুরা সার্কিট হাউজ – মাগুরা সদর।
ভ্রমণ টিপস: বেসরকারি হোটেলের মান আশানুরূপ না হওয়ায়, পরিবার নিয়ে গেলে পূর্বানুমতি সাপেক্ষে সার্কিট হাউজ বা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে বুকিং দিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Leave a Comment