শকুনি লেক

ভালো লেগেছে
0

শকুনি লেক (Shokuni Lake) মাদারীপুর জেলা সদরে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মানবসৃষ্ট দীঘি। তটভূমিসহ শকুনি দীঘির আয়তন ১,০১,১৭২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ৪৮৬ মিটার ও প্রস্থ ১৯৮ মিটার। ১৯৪৩ সালে মাদারিপুর শহরকে প্রমত্তা আড়িয়াল খাঁ নদের পাড় থেকে নতুন করে স্থাপনের জন্য দক্ষিণে সরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ দীঘিটি খনন করা হয়। কাগজপত্রে এর নাম ‘শকুনি দীঘি’ হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মাদারিপুর লেক’ হিসেবে সুপরিচিত।

ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯৪৩ সালে লেকটি খনন করে এর চারপাশে নতুন শহর স্থাপন করা হয়। ঐ সময় এ অঞ্চলে মাটিকাটা শ্রমিকের অভাব থাকায় এই লেক খনন করার জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিহার ও ঔরিষ্যা অঞ্চল থেকে ২ হাজার শ্রমিক ভাড়া করে আনে। ৯ মাসে এর খনন কাজ সম্পন্ন হয়।

এই লেকের আশে-পাশেই আছে, জেলা সার্কিট হাউজ, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশু পার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, কফিশপ, মাদারিপুর ঘড়ি নামে একটি ওয়াচ টাওয়ার ইত্যাদি।

শান্ত শীতল এই দিঘির চারিধারেই টুরিস্টদের বসার জন্য খুব সুন্দর ব্যবস্থা আছে। দিন গড়িয়ে যতই বিকেল সন্ধা হতে থাকে জনসমাগম ততই বাড়তে থাকে। এই দিঘির পাড়ে এক বেলা পরিবারসহ কাটালে মন্দ লাগবেনা। সন্ধা বেলা ওয়াচ টাওয়ার থেকে দিঘির অসম্ভব শান্ত জল বা আশে-পাশের আলো-আঁধারির খেলা ভালই লাগবে। আর সাথে যদি ক্যাফে হাউজের এক কাপ কফি থাকে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। দিঘির পাড়েই ডিসি অফিস, পুলিশ স্টেশন থাকায় এই এলাকা বেশ নিরাপদ, নিশ্চিতেই ভ্রমন করতে পারেন।

শকুনি লেক দেখার সাথে সাথে আড়িয়াল খাঁ নদীর উপড় নব-নর্মিত সুন্দর ব্রিজটাও দেখে আসতে পারেন। ব্রিজের নাম ‘আসমত আলী খান সেতু’। সুন্দর চকচকে চওড়া রাস্তা আর ব্রিজ দেখে খুব ভাল লাগবে। এছাড়া সেখানকার দুই একটা ভাস্কর্য দেখে ভাল লেগেছে।

যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে গাবতলি বা কেরানীগঞ্জ (নয়া বাজারের ব্রীজের ওপারে) থেকে মাদারীপুর এর সরাসরি বাস পাওয়া যায়। গাবতলি থেকে বরিশালগামী যে কোন বাসে মস্তফাপুর নেমে বাস বা অটো রিক্সায় করে মাদারীপুর সদরে আসা যায়।

কেরানীগঞ্জ থেকে সার্বিক বাসে মাদারীপুর সদরের ভাড়া ২০০ টাকা জন প্রতি (নরমাল ২/৩ সিটের), ২৫০ টাকা জন প্রতি  (চেয়ার)। সকাল ৫ টা থেকে ৩০ মিনিট পর পর বাস পাওয়া যায়।এছারাও সায়দাবাদ থেকে সোনালি বাস ও কেরানীগঞ্জ থেকে চন্দ্রা বাস ও একি রুটে চলে। ভাড়া সার্বিকের চেয়ে সামান্য কম। এই বাস গুলো মাওয়া ঘাটে নামিয়ে দিবে এবং তাদের খরচে লঞ্চে করে নদী পার করে কাওরাকান্দি এনে আবার তাদেরই আরেকটা বাসে তুলে দিবে। ভাঙ্গা হয়ে এটা মাদারীপুর যাবে। আপনাকে অতিরিক্ত কোন ভাড়া দিতে হবে না। মাদারীপুর যেতে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় লাগে।

গাবতলি থেকে সার্বিক, চন্দ্রা, সুবর্ণ বাস চলে। সার্বিকই ভাল। চেয়ারে ৩০০ টাকা শুনেছি। আমি এই রূট দিয়ে যাইনা, সময় বেশী, ভাড়া বেশী, তবে নদীর পথ অনেক কম। মাত্র ৩০ মিনিট। যারা নদী ভয় পান তারা এদিক দিয়ে যেতে পারেন। এটা গাবতলি থেকে আরিচা গিয়ে নামাবে এবং নদী পার করে দৌলতদিয়া ঘাটে আবার তাদের বাসে তুলে দিবে। এটা ফরিদপুর সদর হয়ে মাদারীপুর যাবে।

আরেকটা উপায়ে যাওয়া যায়, ভেঙ্গে ভেঙ্গে। গুলিস্তান থেকে মাওয়ার বাসে ৭০ টাকা ভাড়া। সী বোটে নদী পার হতে পারেন ২০০ টাকা ভাড়া। ওপার থেকে মাদারিপুরের বাসে যাওয়া যায়। অথবা ভাঙ্গার বাসে ভাঙ্গা এসে সেখান থেকে মাদারীপুর।

মাদারীপুর শহর থেকে রিকশা অথবা যেকোনো মোটরচালিত বাহনে করে আপনি এই লেকে পৌছাতে পারবেন।

থাকার ব্যাবস্থা

মাদারীপুরে থাকার জন্য ভাল মানের হোটেল হচ্ছে হোটেল সার্বিক। মন্ত্রীর বাসার পাশেই এই হোটেলের অবস্থান। হোটেল মাতৃভূমি আছে, যা পুরাতন বাসস্টান্ড এর পাশেই অবস্থিত।সার্বিক হোটেলে সিঙ্গেল থেকে শুরু করে স্যুটও ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া আরেকটু কমে থাকতে চাইলে হোটেল সুমন, হোটেল সৈকত আছে বাদামতলায়। পুরান বাজারে আরও কিছু হোটেল আছে কমের মধ্যে।

×

পৃথিবীটা আমাদের এবং এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দ্বায়িত্বও আমাদের। সুতরাং আসুন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে আমরা সবাই বিরত থাকি ও পরিবেশটা সুন্দর রাখি।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।