সীতা পাহাড় (Shita Pahar) রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় রাইখালী ইউনিয়নে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়ে প্রায় ৫৫টি মারমা পরিবারের বসবাস। কর্ণফুলী নদী ও কাপ্তাই লেকের মাঝে ঘেরা এই পাহাড় ট্রেকার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের “লুকানো স্বর্গ”।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
- পাহাড়ের চূড়া থেকে কাপ্তাই লেকের বিশাল নীল জলরাশি এবং চারপাশের সবুজ পাহাড়ের প্যানোরামিক দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে
- পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে
- আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জুম চাষের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার সাথে পরিচিত হওয়া যায়
ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক গুরুত্ব
- স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, বনবাসকালে রাম ও লক্ষ্মণ এখানে অবস্থান করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়
- এখানে একটি সীতা মন্দির ও সীতার ঘাট রয়েছে
- এই এলাকায় বাংলাদেশের প্রথম সেগুন (Teak) বাগান তৈরি করা হয়েছিল
- ১৯৯৯ সালে এই রিজার্ভের একটি বড় অংশ কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়
ভ্রমণের সেরা সময়
- শীতকাল (অক্টোবর – মার্চ): ট্রেকিং ও নৌকা ভ্রমণের জন্য আদর্শ
- বর্ষাকাল (জুন – সেপ্টেম্বর): সবুজ প্রকৃতি ও ঝরনা উপভোগের জন্য চমৎকার, তবে পথ পিচ্ছিল থাকে
কাপ্তাইয়ের সীতা পাহাড় যাওয়ার উপায়
| রুট | যানবাহন | সময় | আনুমানিক ভাড়া |
|---|---|---|---|
| ঢাকা → কাপ্তাই | সরাসরি বাস | ৭-৮ ঘণ্টা | ৫৫০–৯০০ টাকা |
| চট্টগ্রাম → কাপ্তাই | বাস (বদ্দারহাট) | ২ ঘণ্টা | ৮০–১৫০ টাকা |
| কাপ্তাই → সীতা পাহাড় | সিএনজি + নৌকা | — | ২০-৫০ টাকা |
প্রশান্তি পার্ক থেকে সীতা পাহাড় যাওয়ার উপায়
আপনি যদি কাপ্তাই হোটেলে স্টে করেন তাহলে সেখান থেকে সিএনজি বা অন্য পরিবহনে কাপ্তাই প্রশান্তি পার্ক চলে আসতে হবে। আর যদি সরাসরি ঢাকা থেকে আসেন, তাহলে বাসের সুপার ভাইজারকে বলে দিতে হবে যেনো আপনাকে প্রশান্তি পার্কের সামনে নামিয়ে দেয়।
প্রশান্তি পার্কে পৌছে নৌকা/ট্রলারে কর্ণফুলী পার হয়ে নদীর ওপারে যেতে হবে। সাধারনত নৌকা করে নদী পার হতে ২০ টাকা ভাড়া নেয়, লোক কম হলে ৫০ টাকা করে নিতে পারে। ওপার পৌছে নৌকার মাঝির নাম্বার রেখে দিবেন, ফেরার সময় ফোন দিলে উনি চলে আসবে আবার। এরপর পাহাড়ে ট্রেকিং শুরু করুন।
কোথায় থাকবেন
সীতা পাহাড়ের চূড়ায় কোনো হোটেল নেই। কাপ্তাই শহরে রাত্রিযাপন করে দিনে দিনে ট্রেকিং করাই সবচেয়ে ভালো।
| হোটেল/রিসোর্ট | বিশেষত্ব |
|---|---|
| নিসর্গ পড হাউস | বাংলাদেশের প্রথম পড হাউস, নদীর তীরে |
| লেকশোর রিসোর্ট | কাপ্তাই লেকের পাড়ে সুন্দর পরিবেশ |
| অরণ্যক হলিডে রিসোর্ট | সেনাবাহিনী পরিচালিত, নিরাপদ ও পরিপাটি |
| ডিভাইন লেক আইল্যান্ড | লেকের মাঝে অনন্য অভিজ্ঞতা |
| হোটেল গ্রিন ক্যাসেল/পার্ল | বাজেট ট্র্যাভেলারদের জন্য উপযুক্ত |
| পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স | বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত |
যেসব জিনিস সাথে নিবেন
- ভালো গ্রিপের ট্রেকিং জুতো (অবশ্যই)
- পর্যাপ্ত খাবার পানি (পাহাড়ে পাওয়া যাবে না)
- স্যালাইন, গ্লুকোজ, শুকনো খাবার (খেজুর, বিস্কুট, চকলেট)
- ফার্স্ট এইড কিট
- বৃষ্টির জন্য রেইনকোট বা পঞ্চো
- হালকা ও আরামদায়ক পোশাক
একই ট্রিপে ঘুরতে পারেন
- কাপ্তাই লেক — দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ
- শুভলং ঝর্ণা — নৌকায় যাওয়া যায়
- কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান — বন্যপ্রাণী ও পিকনিক স্পট
- শেখ রাসেল ইকো পার্ক — ক্যাবল কার রাইড
সতর্কতা
- পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন থাকুন
- আদিবাসীদের ছবি তোলার আগে অনুমতি নেওয়া উচিত
সকলের প্রতি অনুরোধ, এই বর্ষায় এডভেঞ্চার এর নেশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখবেন, জীবন একটাই, আর একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। তাই আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।