শেখ সাদী জামে মসজিদ

0

শেখ সাদী জামে মসজিদ (Sheikh Sadi Jame Masjid) বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্ধুর গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ ও বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। শেখ সাদী জামে মসজিদে সংযুক্ত একটি ফরাসি শিলালিপি রয়েছে। উক্ত শিলালিপির তথ্য অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৬৫১ সালে জনৈক শাইখ সাদী মসজিদটি নির্মাণ করনে। শিলালিপি থেকে এটিও জানা যায় যে, সাদীর পিতার নাম শাইখ শিরু। শেখ সাদি জামে মসজিদ থেকে একটু দূরেই শেখ মাহমুদ শাহ মসজিদ। স্থানীয় সূত্রমতে জানা যায়, শেখ সাদি জামে মসজিদ করার ২০ বছর পরে শেখ মাহমুদ শাহ মসজিদটি নির্মিত হয়। শাহ মাহমুদ ও শেখ সাদি দুই ভাই এবং দুজনই ব্যবসায়ী ছিলেন।

অবকাঠামো

শেখ সাদী মসজিদটিতে ষাটগম্বুজ মসজিদের মত কিছুটা কারুকার্য রয়েছে। মসজিদটি দেখতে বর্গকার যা উঁচু একখন্ড জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটির গম্বুজ দেতে বর্গাকার ও প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ২৫ ফুট। পুরো মসজিদটির দেয়ালে মোট ৫টি প্রবেশপথ রয়েছে যার মধ্যে পূর্বদেয়ালে ৩টি, উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ১টি করে। সবগুলো প্রবেশপথের আকার ধনুকের ন্যায়। প্রতিটি দেয়ালেই টেরাকোটার নকশা করা রয়েছে।

শেখ সাদী মসজিদটির আয়তন চতুর্দিকেই ৭.৬২ মিটার। এর পশ্চিম দেয়ালে ৩টি মিহরাব রয়েছে যার মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির। প্রবেশপথ ও পুরো ইমারতের উপর রয়েছে পোড়ামাটির আস্তর যাতে বিভিন্ন নকশাও বিদ্যমান রয়েছে।

এগারসিন্দুর শেখ সাদী জামে মসজিদ যাওয়ার উপায়

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে অনন্যা ও অনন্যা ক্ল্যাসিক নামে দুটি বাস সার্ভিস চালু আছে। প্রথমটি লোকাল, দ্বিতীয়টি সিটিং সার্ভিস। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার থানাঘাট মোড় পর্যন্ত অনন্যা ক্ল্যাসিকের ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। অনন্যার ভাড়া ১০০ টাকা। প্রতি ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর গাড়ি ছাড়ে। পাকুন্দিয়ার থানার ঘাট মোড়ে নেমে যেকোন অটোরিক্সাকে বললে নিয়ে যাবে শেখ সাদী জামে মসজিদ।

এছাড়া যারা কিশোরগঞ্জ সদর থেকে যেতে চান, তাঁরা কিশোরগঞ্জের নগুয়া সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা অটোগাড়ি যোগে ৩০ টাকা ভাড়ায় পাকুন্দিয়া বাজার চলে যাবেন। এখানে সিএনজি পরিবর্তন করে নতুন সিএনজি বা অটোরিক্সা যোগে মসজিদে যেতে পারবেন। এখেত্রেও ভাড়া পড়বে ৩০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

কিশোরগঞ্জ শহরে বিভিন্ন মান ও দামের আবাসিক হোটেল আছে। বিলাসবহুল হোটেলের মধ্যে রয়েছে ক্যাসেল সালাম ও উজান ভাটি। উজান ভাটির এসি কক্ষের প্রতি রাতে ডাবল বেডের ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা। নন–এসির ভাড়া ৮০০ টাকা। এ ছাড়া গাঙচিল, রিভারভিউ, নিরালা, আল মোবারকসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেল আছে। এসব হোটেলের সিঙ্গেল বেডে রাত্রিযাপনের খরচ ন্যূনতম ২৫০ টাকা, ডাবল বেডে ৩৫০ টাকা।

দিক নির্দেশনা