স্বপ্নদ্বীপ

12

স্বপ্নদ্বীপ (Shawapnadip) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা এক দ্বীপের নাম। হাজারো তাঁরা অথবা পুর্নিমার রাতে জোছনা বিলাসের জন্য কিংবা কোন এক সন্ধ্যায় সুর্যাস্তের সাথে মেঘ রোদ্দুরের খেলা উপভোগের জন্য অগ্রীম বুকিং দিয়ে চলে যেতে পারেন স্বপ্নদ্বীপ। বিষন্নতা, মানসিক চাপ কিংবা কংক্রিটের জঞ্জাল থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে ঘুরে আসতে পারেন স্বপ্নদ্বীপ থেকে। ঢাকার আশেপাশে এবং যান্ত্রিক কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির অনেক কাছে থেকে উপভোগ করতে পারেন দারূন কিছু সময়।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দি নামক ফেরী ঘাট থেকে স্বপ্নদ্বীপে আসা যাওয়ার নৌকা ভ্রমনই একজন প্রকৃতি প্রেমী বা ভ্রমন পিপাসুর মন ভরিয়ে দিতে পারে। এখান থেকে নিয়মিত ভাবে স্বপ্নদ্বীপে নৌকা আসা যাওয়া করছে। একই সাথে দৈনন্দিন জীবনের কোলাহলের বাহিরে বন্ধুদেরকে কিংবা প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে একটা ভাল সময় কাটাতে স্বপ্নদ্বীপের জুড়ি নেই। যারা ক্যাম্পিং করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য তাবুতে থাকবার সুযোগ, সাথে ওয়াশ রূম সুবিধাও আছে। ভাবতে হবে না সকাল কিংবা দুপুর এর খাবারের কথা কিংবা বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাক্স বা ড্রিংক্স নিয়েও আর ভাবতে হবে না। খাওয়া দাওয়ার যে কোন বিষয়ে প্রি অর্ডার করে ফেলুন শুধু একটা ফোন করেই অথবা তাদের ফেইসবুকে একটা মেসেজ দিয়েও কনফার্ম করতে পারেন।

বেশি বেশি সবুজ দেখুন, সবুজের মাঝে থাকুন, মাঝে মধ্যে হারিয়ে যান সবুজ প্রকৃতির মাঝে!

কি আছে স্বপ্নদ্বীপে

বিভিন্ন ধরনের সুবিধাদির মধ্যে রয়েছে বোটিং, কায়াকিং সুবিধা। আপনি চাইলে কায়াক, রাবার বোট, ম্যানুয়াল বোট কিংবা প্যাডেল বোট ব্যবহার করতে পারবেন। নিরাপদে জলে নামার জন্য লাইফ জ্যাকেট তো রয়েছেই। এছাড়া বাচ্চাদের জন্য রয়েছে বেবী জোন যেখানে রয়েছে দোলনা, স্লিপার, ঢেকি, চরকি প্রভৃতি।

নৌকা ভ্রমন, কিংবা হাজার তারার সাথে তাবুতে রাত্রি যাপন অথবা সাতার কিংবা ঘুড়ি উড়ানো আর নানা রকম খেলাধুলার মাঝে হারিয়ে যেতে স্বপ্নদ্বীপের জুড়ি নেই।

খাবারের সুবিধা

স্বপ্নদ্বীপ প্রি-অর্ডার দিলে যে কোন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা যাব। আরাম করে বসে খাওয়ার জন্য আছে মনোরম পরিবেশে বিশাল বেনকুইট হল। খাবার তৈরির জন্য আছে বাবুর্চি ও রান্না ঘর আর সাথে আছে রান্নার সরঞ্জাম (বড় হাড়ি-পাতিল) এবং ডেকোরেশনের সব ধরনের ব্যবস্থা।

স্বপ্নদ্বীপ থাকার সুবিধা

স্বপ্নদ্বীপে রাত্রীযাপনের জন্য আছে উডেন ফ্লোরের ব্যাম্বু কটেজ। এছাড়া যারা তাবুতে রাত কাটাতে পছন্দ করেন তাদের জন্য টেন্ট এর সু-ব্যবস্থা।

স্বপ্নদ্বীপ যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে স্বপ্নদ্বীপ এর দূরত্ব মাত্র ৪২ কিলোমিটার যা ঘন্টা দেড়েকের পথ। নিজস্ব পরিবহনে যেতে চাইলে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার দিয়ে কাচপুর ব্রিজ হয়ে মদনপুর চৌরাস্তার থেকে বাম দিকে সোজা আড়াইহাজার উপজেলার মধ্য দিয়ে মেঘনা নদীর বিশনন্দি নামক ফেরী ঘাট। যারা লোকাল পরিবহনে যেতে চান তাঁরা নিচের রুট ফলো করতে পারেন।

রুট ১ঃ সায়েদাবাদ থেকে অভিলাস পরিবহন বাস ছাড়ে। ভাড়া ৬৫ টাকা। এটা মদন পুর দিয়ে যাবে। অথবা গুলিস্তান থেকে দোয়েল /সদেশ পরিবহনে মদনপুর (ভাড়া ৪৫ টাকা) নেমে আড়াইহাজার এর সি এন জি ৫০ টাকা।

রুট ২ঃ কলাবাগান থেকে মেঘলা পরিবহন বাস ছাড়ে। ভুলতা/গাউসিয়া। ভাড়া ৬৫ টাকা। গাউসিয়া নেমে একটু সামনে যেয়ে লোকাল সি এন জিতে আড়াইহাজার বাজার। ভাড়া ৩০ টাকা।

রুট ৩ঃ কুরিল ফ্লাইওভার এর ৩০০ ফিট ক্রসিং থেকে লোকাল ট্যাক্সিতে গাউসিয়া। ভাড়া ৮০ টাকা। গাউসিয়া নেমে একটু সামনে যেয়ে লোকাল সি এন জিতে আড়াইহাজার বাজার। ভাড়া ৩০ টাকা।

 আড়াইহাজার বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে বিশনন্দি নামক ফেরী ঘাট। ফেরী ঘাট থেকে দ্বীপের নিজস্ব নৌকা বা ঘাট থেকে ভাড়া করা নৌকায় মাত্র ২০ মিনিটের একটা রিফ্রেশিং জার্নি করলেই আপনি পৌছে যাবেন স্বপ্নদ্বীপ।

বুকিং এবং যোগাযোগ

স্বপ্নদ্বীপে পারিবারিক, কর্পোরেট, সাংগঠনিক প্রোগ্রাম, বিয়ে বা জন্মদিনের অনুষ্ঠান, পিকনিক কিংবা মিলনমেলার আয়োজন অথবা যে কোন প্রোগ্রামের জন্য বুকিং দিতে চাইলে কল দিতে হবে এই নাম্বার গুলোতে – ০১৭০৭০০২৭৫০ এবং ০১৭০৭০০২৭৪৯

আপনাদের প্রয়োজনীয় যে কোন প্রোগ্রাম সফল আয়োজন করতে স্বপ্নদ্বীপ বদ্ধপরিকর।

×

যেখানে সেখানে পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলবেন না। প্রকৃতিকে নিজের মত থাকতে দিন।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।