শর্শদি, ফেনী

শর্শদি

০
জন
ধরন পোস্ট
অবস্থান ফেনী
পড়ার সময় ৩ মিনিটস

ফেনীতে অবস্থিত ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ এর দ্বিতীয় রাজধানী শর্শদি। বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ। তিনি ১৩৩৮ থেকে ১৩৪৯ সাল বাংলার সুলতান ছিলেন। তাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও। বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম এর পর ত্রিপুরা ও আরাকান রাজ্য জয়ের পর এতদঞ্চলে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন দেখা দিলে তিনি ফেনী জেলার শর্শদি (Sarishadi) রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করেন।

পূর্ববঙ্গের স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের দ্বিতীয় রাজধানী শর্শদির অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনাই কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে একটি মসজিদ। মোঘল স্থাপত্যের নিদর্শন এই মসজিদে ফুটে উঠেছে উপমহাদেশের ইসলামিক স্থাপত্যের ঐতিহ্য! প্রায় ৪৫০ বছর আগের এই মসজিদটির গায়ে ইটের উপর খাঁজ কেটে কেটে তৈরি করা হয়েছে সুনিপুন নকশা। লতা পাতা অঙ্কন করা হয়েছে সুনিপুন হাতে। গম্বুজের নিচে রয়েছে শৈল্পিক আবহ। দারুন কারুকার্যময় এই মসজিদের উপরে ৩ টি গম্বুজ বেষ্টিত, মসজিদের ঢোকার সম্মুখে দেয়াল ও চুন সুরকির শৈল্পিক আবহে নির্মিত।পুরো মসজিদটি চুন, সুরকি আর ইটের তৈরি।

বর্তমান স্থাপনাগুলোয় সাধারণত ছয় ইঞ্চি পুরু ওয়াল দেয়া হয়। দুর্গের আদলে নির্মিত এই মসজিদের ওয়াল প্রায় পাঁচ ফুট পুরু। মসজিদটিতে এখন বাংলাদেশ প্রত্নতত্ন অধিদপ্তর ও জাদুঘরের অধিনে ন্যাস্ত একটি পুরাকির্তি সংরক্ষিত এলাকা। বাংলাদেশে ৪৭ টি প্রাচিন মসজিদকে প্রত্নতত্ন অধিদপ্তরের অধিনে নেয়া হয়েছে তার মধ্যে একটি এই মসজিদ। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এর রক্ষণাবেক্ষণে একটি নোটিশ ছাড়া প্রত্নতত্ন অধিদপ্তরের আর কোন কর্মকান্ডের নিদর্শন পাওয়া যায় না। এমনকি মসজিদের নাম বা ইতিহাস নিয়ে কোন তথ্য কোথাও লিপিবদ্ধ নাই।

মসজিদটির সামনে দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলে গেছে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সড়ক। সড়কের পুর্ব দিকে রয়েছে ‘কল্লা শাহ্‌র’ মাজার নামে একটি প্রাচিন স্থাপনা। এটারও কোন নেমপ্লেট বা ইতিহাস লিখা নেই। মাজার থেকে একশ গজ দূরে রয়েছে বিশাল মহামানিক্যের দীঘি। ত্রিপুরার রাজা প্রতাপ মানিক্য এই দিঘিটি খনন করেন। প্রতাপ মানিক্যের বাবা ছিলেন মহারাজা ধর্মমানিক্য। যিনি খনন করেন কুমিল্লার ঐতিহাসিক ধর্মসাগর দীঘি।

ধর্মমানিক্যের বাবা মহামানিক্যের হাতেই ত্রিপুরা রাজবংশের সূচনা হয়। প্রতাপ মানিক্য ঠাকুরদা মহামানিক্যের নামেই এই দিঘির নাম করন করেন। স্থানীয় প্রবীণরা ছাড়া এই দিঘির নাম খুব কম মানুষই জানে। লোকে চিনে শর্শদি দিঘি নামে। অপূর্ব এই দিঘিটি বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ দিঘিগুলোর মধ্যে একটি। স্থানীয় এক প্রবীণ জানান- এই দিঘিটি ২২ দ্রোন, ২৩ কানি জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। ৪০ কানিতে এক দ্রোন আর ১২০ ডিসিমে (শতক) এক কানি। সেই হিসাবে দীঘিটি ১লাখ ৮ হাজার ৩৬০ শতক জায়গার উপর অবস্থিত। অনেকেই ফেনীর বিখ্যাত বিজয় সিংহ দীঘি দেখে থাকবেন। বিশাল এই দীঘিটি ৩৭ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত আর মহামানিক্যের দীঘির আয়তন ১ হাজার ৮৪ একর।
বর্তমানে যে দিঘিটি দেখা যায় এটি দিঘির চার ভাগের একভাগ। বাকি অংশ সরকারের উদাসীনতায় বেহাত হয়ে দুষ্ট চক্রের হাতে চলে গেছে। এই চার ভাগের এক ভাগকে আবার চারভাগ করে চারটি দীঘি করে কারা যেন লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছে। দীঘির দক্ষিনে প্রায় দুই একর জায়গা ভরাট করে সাইড ওয়াল নির্মান করা হচ্ছে।

আমাদের ঐতিহ্য আর প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণ ও অবিকৃত রাখার সার্থে অনতি বিলম্বে দিঘীটিকে দখলমুক্ত করা দরকার। অন্যাথায় প্রাচীন নিদর্শনটি কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

শর্শদি যাওয়ার উপায়

দেশের যে কোন জায়গা থেকে প্রথমে ফেনীর মহীপাল যেতে পারেন। মহীপাল থেকে ৪ কিলো উত্তরে মোহাম্মদ আলী বাজার এবং সেখান থেকে একটু ভিতরেই শর্শদি। সিএনজি ভাড়া ২০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

রাত্রি যাপন করতে চাইলে ফেনীতেই নানা হোটেল, মোটেল ও ডাকবাংলো রয়েছে।

তথ্যঃ গিয়াস উদ্দিন লিটন
ই-মেইলঃ [email protected]

গন্তব্য

Sarishadi, Bangladesh

পথ ও দিকনির্দেশ দেখতে ম্যাপ খুলুন।

গুগল ম্যাপে দেখুন

ADAR BEPARI / TRAVEL WEAR

ভ্রমণের গল্প থাকুক পোশাকেও।

সব টি-শার্ট দেখুন