রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি

জন
৪ মিনিটস
জন

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ((Rabindranath Tagore’s Kacharibari)) সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় অবস্থিত যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈত্রিক জমিদার বাড়ি। ১৮৪২ সালে এই বাড়িটি নিলামে উঠলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজদের কাছ থেকে ১৩ টাকা ১০ আনায় বাড়িটি কিনেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৯ সালের দিকে প্রথম এই কুঠিবাড়িতে আগমন করেন এবং কিছুকাল তার কর্মবহুল জীবন অতিবাহিত করেন।

তিনি ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭ বছর এখানে জমিদারির কাজে এখানে অবস্থান করেছেন। এখানে থাকাকালেই তিনি রচনা করেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ সোনার তরী, বৈষ্ণব কবিতা, দুই পাখি, আকাশের চাঁদ, হৃদয়, যমুনা, চিত্রা, চৈতালী ইত্যাদি। নোবেল পাওয়া গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের কাজও তিনি এখানেই শুরু করেন। পোস্টমাস্টার গল্পের রতন চরিত্র তিনি এখানে বসেই লিখেছিলেন। চিত্রা, শীতে ও বসন্তে, নগর সঙ্গীতে এবং চৈতালির ২৮ টি কবিতা, ছিন্ন পত্রাবলীর ৩৮ টি কবিতা, পঞ্চভূতের অংশবিশেষ এবং বিসর্জন নাটকের কিছু অংশ তিনি এখানে থাকতে লিখেছিলেন।

শাহজাদপুর রবীন্দ্রনাথ এর অত্যন্ত প্রিয় একটি স্থান ছিল। এখানে চারিদিকের সবুজ ডালপালা, পাখির ডাক, কামিনীফুলের গন্ধ সবকিছুই তার অন্তরীয় ক্ষুধা পুর্ণ করে দিত। ১৮৯৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শাহজাদপুর থেকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি স্পষ্টতই বলেছেন, “অনেক কাল বোটের মধ্যে বাস করে হঠাৎ সাজাদপুরের বাড়িতে এসে উত্তীর্ন হলে বড়ো ভাল লাগে।” …….. “হঠাৎ বুঝতে পারি, এতোদিন বৃহৎ আকাশের জন্যে ভিতরে ভিতরে যে ক্ষুধা ছিল, সেটা এখানে এসে পেট ভরে পূর্ণ ক’রে নেওয়া গেল।”……. “এখানে যেমন আমার মনে লেখার ভাব ও ইচ্ছা আসে এমন কোথাও না। ” (ছিন্নপত্র সংখ্যা – ২৪১)।

১৯৫৮ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িটি গৌরবময় স্মৃতিরূপে সংরক্ষিত করা হয়। ১৯৬৯ সালে একে পূরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে খুব ভালভাবে রক্ষনাবেক্ষন করা হয়।

পূর্বের দ্বিতল ভবনটি রবীন্দ্র যাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত। এর নীচে আর দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটবেলা থেকে মৃত্যুশয্যায় ছবি সহ নানা বয়স আর নানা ভঙ্গিমার ছবি আছে। এছাড়াও তার বিভিন্ন শিল্পকর্ম আর তার ব্যবহার্য আসবাবপত্র এখানে আছে। যেমন, কাঠের খরম, পিয়ানো, হারমনিয়াম, কাঠের চেয়ার, টেবিল, সোফাসেট, পালংক, পালকি ইত্যাদি। এই প্রাঙ্গনে নির্মিত হয়েছে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম।

রবীন্দ্রনাথ কে স্মরণ করে প্রতি বছর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই কাছারি বাড়িতে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়।

এখানে ফাঁকা স্থান ও সুন্দর বাগান আছে। বাগানে ছবি তোলা সহ আশে পাশে ঘুরে সুন্দর সময় কাটানো যায়। পরিতৃপ্ত মনে যখন কাছারি বাড়ি দেখা শেষ করে বের হব তখন মনে হল, একদিন তোমারই বাটে (পথ/রাস্তা) তোমার পায়ের চিহ্ন যখন পড়বেনা, তখনও, হাজারো বাংগালীর কৌতূহলী ও গর্বিত পদচিহ্ন তোমার বাটে ইতিওতি ঘুরেফিরে বেড়াবে।

প্রবেশমূল্য

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি তে ঢুকতে নামমাত্র ২০ টাকা মূল্যের টিকেট কিনতে হয়। বিদেশিদের জন্য যা কিছুটা বেশী। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্যে ১০০ টাকা এবং সার্কভুক্ত না হলে বিদেশী নাগরিকদের জন্য সেটা ২০০ টাকা। মোটর সাইকেল পার্কিং ১০ টাকা আর গাড়ি পার্কিং ফি ৫০ টাকা।

সময়সূচী

রবিবার এবং সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত অন্যান্য দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি যাওয়ার উপায়

সিরাজগঞ্জ যাওয়ার জন্য মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত প্রতি ৩০ মিনিট পরপর অভি এবং এসআই এই কোম্পানির বাস ছাড়ে। ভাড়া ২৫০ টাকা জনপ্রতি। তবে যারা এসি বাসে যেতে চান তারা মিরপুর ২ এ চলে যাবেন। ওখান থেকে ঢাকা লাইন / এস আই কোম্পানির এসি বাস ছাড়ে। ভাড়া ৩৫০ টাকা। এছাড়া আপনি উওরবঙের যেকোন বাসেই যেতে পারেন, তবে আপনাকে নামতে হবে শাহজাদপুর। সেখান থেকে অটোতে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি।

সিরাজগঞ্জে কোথায় থাকবেন

সিরাজগঞ্জ শহরে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেলগুলো হলো- শহরের স্বাধীনতা স্কোয়ারে হোটেল আল হামরা, (০১৭৪৫৬২৯২৬৪, ০৭৫১-৬৪৪১১) এসি এক শয্যা কক্ষ ৫০০ টাকা, এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ৭০০ টাকা, নন-এসি এক শয্যা কক্ষ ৪৫০, নন-এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ২৫০ টাকা পর্যন্ত। শেখ মুজিব রোড হোটেল অনিক (০১৭২১৭১৯২৩৫, ০৭৫১-৬২৪৪২) এসি এক শয্যা কক্ষ ৪৫০ টাকা, এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ৭০০ টাকা, নন-এসি এক শয্যা কক্ষ ১৫০, নন-এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ২৫০ টাকা মাত্র।

দিক নির্দেশনা