নিঝুম দ্বীপ (Nijhum Dwip), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা ছোট্ট একটি ভূ-খণ্ড। বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরি এই চারটি প্রধান দ্বীপ ও বেশ কয়েকটি ছোট চরের সমন্বয়ে নিঝুম দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ১৪,০৫০ একর। নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) ধরা পড়তো বিধায় জেলেরা এই দ্বীপের নাম দেয় ইছামতির দ্বীপ। এই দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালির ঢিবি বা টিলার মত ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বালুয়ার চর বলেও ডাকতো যা পরবর্তীতে বল্লার চরে রূপান্তরিত হয়। দ্বীপটি সম্পূর্ণ নিরব হওয়ায় এর নামকরণ করা হয় নিঝুম দ্বীপ। দ্বীপের প্রধান সড়ক একটি। দ্বীপের এক পাশে থেকে আরেক পাশে সোজা চলে গেছে। বাজার আছে তিনটি এর মত। নিঝুম দ্বীপের মূল জনবসতির নাম হলো নামা বাজার। নিঝুম দ্বীপে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ নেই। নামা বাজার এলাকায় রিসোর্ট ও কিছু দোকানে সৌরবিদ্যুৎ ও জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। দ্বীপের ভেতর যাতায়াতের জন্য রিক্সা এবং মোটর সাইকেল রয়েছে। তবে মোটর সাইকেলই বেশি। অনেক দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যায়। দ্বীপে ঘুরার জন্য এ মোটর সাইকেল ভাড়া করা যায়। এ ক্ষেত্রে দুটি লাভ। মোটর সাইকেল যে চালাবে, সে গাইডের কাজ ও করবে। মোটর সাইকেল চালাতে পারলে নিজে নিজে চালানো যায়।
আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হন, তাহলে তো কথাই নেই। মূল দ্বীপসহ আশপাশের দ্বীপগুলোতে শীতকালে আসে হাজার হাজার অতিথি পাখি। এদের মধ্যে আছে সরালি, লেনজা, জিরিয়া, পিয়ং, চখাচখি, রাঙ্গামুড়ি, ভূতিহাঁসসহ নানারকম হাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, জিরিয়া, বাটান, গুলিন্দাসহ জলচর নানা পাখি, হরেক রকমের গাংচিল, কাস্তেচরা ইত্যাদি। কদাচিৎ আসে পেলিক্যান। আর বছরজুড়ে সামুদ্রিক ঈগল, শঙ্খচিল, বকসহ নানা স্থানীয় পাখি তো আছেই। দ্বীপের আশপাশের জঙ্গলেই আছে হরিণ, শেয়াল, বন্য শূকর, নানা রকম সাপ ও বানর।
পাখি বা হরিণ দেখতে হলে খুব ভোরে উঠতে হবে। হরিণ মূল দ্বীপেই স্থানীয় গাইডদের সাথে গিয়ে দেখে আসতে পারবেন। একসময় নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা কয়েক হাজার ছিল (১৯৯৬ সালের শুমারিতে প্রায় ২২ হাজার উল্লেখ আছে), তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংখ্যা অনেক কমেছে বলে প্রথম আলোসহ স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এখন কয়েক হাজারেরও কম, কোনো কোনো হিসাবে দুই হাজারের নিচে। তারপরও ভোরে বা বিকেলে চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চরে হরিণের পাল এখনও দেখা যায়। হরিণ দেখতে হলে বনে ঢুকলে নিঃশব্দে চলাচল করতে হবে। সামান্য হৈ চৈ করলে এখানে হরিণের দেখা মেলা দুস্কর। জঙ্গলে ট্রেকিং এর সময় যথা সম্ভব সবাই হালকা রঙের সুতি পোশাক পড়বেন। বন্য প্রাণীদের দৃষ্টি খুব প্রখর। অতি উজ্জ্বল পোশাকের কারণে দূর থেকেই আপনার আগমন টের পেয়ে যাবে ওরা। হরিণের দল দেখতে বা ছবি তুলতে চৌধুরী খালের শেষ মাথা ভালো, ওই দিকটায় হরিণ বেশি দেখা যায়। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোন বনে এত কাছাকাছি থেকে এত বেশি চিত্রা হরিণ দেখা যায় না।
পাখি দেখতে হলে ট্রলারে করে পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে যেতে হবে, পেরোতে হবে অনেকটা কাদা। কবিরাজের চর ও দমার চর পাখি দেখার জন্য বেশ উত্তম জায়গা। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি।
আপনি যদি হাতে সময় নিয়ে যান তবে ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে ভোলার ঢালচর, চর কুকরি – মুকরি থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়—নদী শান্ত থাকে, হরিণ ও পরিযায়ী পাখি দেখার সুযোগ বেশি। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্তও যাওয়া যায়। অন্য সময়, বিশেষ করে জুন–সেপ্টেম্বর বর্ষায়, মেঘনা নদী ও সাগর উত্তাল থাকে; সতর্ক সংকেত থাকলে লঞ্চ-ট্রলারে উঠবেন না।
নৌপথে (সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট)
ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার সহজ রুটটি হলো – সদরঘাট থেকে লঞ্চে হাতিয়ার তমরুদি (তমরদ্দি) ঘাট। এ পথে একাধিক লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করে। সাধারণত এমভি তাসরিফ-১ বিকেল ৫:৩০-এ এবং এমভি তাসরিফ-২ সন্ধ্যা ৬:০০-এ ছাড়ে; এমভি পানামা-২, এমভি টিপু-৫, এমভি ফারহান-৩ ও ফারহান-৪ও প্রায় একই সময়ে চলে। লঞ্চগুলো পরদিন সকাল ৭–৯টার দিকে তমরদ্দিতে পৌঁছায় (জোয়ার-ভাটায় দেরি হতে পারে)।
২০২৫–২০২৬ সালের আনুমানিক ভাড়া: ডেক জনপ্রতি প্রায় ৪০০–৬০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০–২,২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২,২০০–৩,৫০০ টাকা, ভিআইপি কেবিন ৪,০০০–৬,০০০ টাকা। কাউন্টারে ভাড়া নিশ্চিত করে নিন; শীতের বৃহস্পতিবারে কেবিন আগে শেষ হয়ে যায়।
তমরদ্দি থেকে মোটরসাইকেল বা সিএনজিতে মোক্তারিয়া (মুকতারা) ঘাট ১–১.৫ ঘণ্টা। দুজনের বাইক ভাড়া ৪০০–৬০০ টাকা। মোক্তারিয়া থেকে ট্রলারে চ্যানেল পার হলেই নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা—১০–১৫ মিনিট, জনপ্রতি আনুমানিক ২০–৩০ টাকা। এটা নিঝুম দ্বীপের এক প্রান্ত; আসল গন্তব্য অন্য প্রান্তের নামা বাজার। বন্দরটিলা থেকে নামা বাজার মোটরসাইকেল বা অটোতে প্রায় আধা ঘণ্টা—জনপ্রতি আনুমানিক ৫০–২৫০ টাকা (দূরত্ব ও দরকষাকষি অনুযায়ী)।
তমরদ্দি থেকে ঢাকায় ফেরত লঞ্চ সাধারণত দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাড়ে; ঘাটে আগে সময় নিশ্চিত করে নিন।
সড়ক পথে (দিনের বেলায়)
ঢাকার সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী বা কমলাপুর এলাকা থেকে নোয়াখালীর সোনাপুরগামী বাস পাওয়া যায় (একুশে, হিমাচল, লাল সবুজসহ বিভিন্ন পরিবহন)। নন-এসি আনুমানিক ৪০০–৫৫০ টাকা, এসি প্রায় ৬৫০ টাকা থেকে শুরু; সময় প্রায় ৪–৬ ঘণ্টা। সোনাপুর থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে চেয়ারম্যান ঘাট। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার বা স্পিডবোটে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট (প্রায় ১.৫–২ ঘণ্টা)। সি-ট্রাক ভাড়া জনপ্রতি আনুমানিক ১৪৫ টাকা, ট্রলার প্রায় ২০০ টাকা, স্পিডবোট প্রায় ৩৫০ টাকা; সি-ট্রাক সাধারণত সকাল সাড়ে আটটার দিকে ছাড়ে (জোয়ার অনুযায়ী সময় বদলাতে পারে)। নলচিরা থেকে মোটরসাইকেলে মোক্তারিয়া ঘাট—দুজনের ভাড়া আনুমানিক ৪০০–৪৫০ টাকা। মোক্তারিয়া থেকে ট্রলারে বন্দরটিলা (জনপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা), তারপর মোটরসাইকেলে নামার বাজার (জনপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা)। তবে সময়ের বিবর্তনে ভাড়ার ক্ষেত্রে তারতম্য হতে পারে। তাই যাতায়াতের শুরুতেই পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভাড়া জেনে নিয়ে বাহনে চড়বেন।
ট্রেনে
কমলাপুর থেকে উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) সাধারণত বিকেল প্রায় ৩:১০–৩:২০-এ ছাড়ে এবং সন্ধ্যায় নোয়াখালী/মাইজদী পৌঁছায় (মঙ্গলবার বন্ধ)। নোয়াখালী থেকে ঢাকার উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১) সকাল ৬:০০-এ ছাড়ে (বুধবার বন্ধ)। ভাড়া শ্রেণিভেদে আনুমানিক ২৫০–৫৫০ টাকা। নোয়াখালী সোনাপুর পৌঁছে সেখান থেকে যেতে হবে চেয়ারম্যান ঘাট। বাস, টেম্পু বা সিএনজিতে দক্ষিণে সুধারামের শেষ প্রান্তে চর মজিদ/চেয়ারম্যান ঘাট। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক বা ট্রলারে হাতিয়ার নলচিরা, তারপর মোক্তারিয়া হয়ে নিঝুম দ্বীপ। ঘাট থেকে নদীপথে হাতিয়া অথবা নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে জোয়ারের জন্য।
ট্রেনের সময়সূচি এখানে দেখে নিন
(Bangladesh Railway/Train Time Schedule)
চট্টগ্রাম থেকে বাসে নোয়াখালীর সোনাপুর যেতে হবে (ভাড়া আনুমানিক ২০০–৪০০ টাকা; যাওয়ার আগে কাউন্টারে নিশ্চিত হোন)। সোনাপুর থেকে সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট, তারপর সি-ট্রাক/ট্রলারে হাতিয়ার নলচিরা, মোটরসাইকেলে মোক্তারিয়া, ট্রলারে বন্দরটিলা, আবার মোটরসাইকেলে নামার বাজার—উপরের সড়কপথের মতোই।
এছাড়া যারা নৌপথে যেতে চান – চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে হাতিয়ার জাহাজ/লঞ্চ আছে। সাধারণত সকাল ৮টায় ছাড়ে, ডেক ভাড়া আনুমানিক ২০০ টাকা। সময়টা একটু বেশি লাগলেও যাত্রাটা বেশ রোমাঞ্চকর। হাতিয়া নেমে মোক্তারিয়া ঘাটে চলে যাবেন। খেয়া পার হলেই নিঝুম দ্বীপ।
নিচের হিসাব ২০২৫–২০২৬ সালের। ভাড়া ঋতু, জোয়ার ও বারগেইন ক্যাপাবিলিটি অনুযায়ী উঠা নামা করে। দ্বীপে এটিএম নেই—পর্যাপ্ত নগদ টাকা নিয়ে যান।
যাওয়া (ঢাকা → নিঝুম দ্বীপ, লঞ্চ রুট, জনপ্রতি আনুমানিক)
| খাত | আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| লঞ্চ ডেক (একপথ) | ৪০০–৬০০ টাকা |
| লঞ্চ সিঙ্গেল/ডাবল কেবিন (একপথ) | ১,২০০–৩,৫০০ টাকা |
| তমরদ্দি → মোক্তারিয়া (বাইক, দুজন ভাগাভাগি) | ২০০–৩০০ টাকা/জন |
| মোক্তারিয়া → বন্দরটিলা খেয়া | ২০–৩০ টাকা |
| বন্দরটিলা → নামার বাজার | ৫০–২৫০ টাকা |
ফেরা (নিঝুম দ্বীপ → ঢাকা, একই রুট উল্টো)
| খাত | আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| নামার বাজার → বন্দরটিলা → মোক্তারিয়া → তমরদ্দি | ২৭০–৫৮০ টাকা |
| লঞ্চ ডেক (একপথ) | ৪০০–৬০০ টাকা |
| লঞ্চ কেবিন (একপথ) | ১,২০০–৩,৫০০ টাকা |
পুরো ট্রিপ (৪ জনের দল, দ্বীপে ২ রাত + লঞ্চে ২ রাত, জনপ্রতি আনুমানিক)
| খাত | বাজেট (ডেক) | আরামে (কেবিন) |
|---|---|---|
| লঞ্চ যাওয়া–আসা | ৮০০–১,২০০ টাকা | ২,৫০০–৩,৫০০ টাকা |
| হাতিয়া ও দ্বীপের ভেতরে বাইক/খেয়া (যাওয়া–আসা) | ৮০০–১,০০০ টাকা | ৮০০–১,০০০ টাকা |
| থাকা ২ রাত (ভাগাভাগি) | ১,০০০–১,৫০০ টাকা | ১,৫০০–২,৫০০ টাকা |
| হরিণ দেখার ট্রলার (ভাগাভাগি) | ৩০০–৫০০ টাকা | ৩০০–৫০০ টাকা |
| খাবার | ১,২০০–১,৫০০ টাকা | ১,৫০০–২,০০০ টাকা |
| মোট | ৪,১০০–৫,৭০০ টাকা | ৬,৬০০–৯,৫০০ টাকা |
নিঝুম দ্বীপের লঞ্চভিত্তিক ৩–৪ দিনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা। সময় জোয়ার-ভাটা ও লঞ্চ সূচি অনুযায়ী বদলাতে পারে।
সদরঘাট থেকে লঞ্চ:
বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সদরঘাট থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চে উঠুন। কেবিন আগে বুক করুন; ডেকে গেলে মাদুর, চাদর ও গরম কাপড় নিন। রাত নদীতে কাটবে।
তমরদ্দি → নামার বাজার, সূর্যাস্ত:
সকালে তমরদ্দি নেমে মোটরসাইকেল বা সিএনজিতে মোক্তারিয়া, ট্রলারে বন্দরটিলা, তারপর নামার বাজারে রিসোর্ট বা হোটেলে চেক-ইন। দুপুরে তাজা মাছ খেয়ে বিশ্রাম। বিকেলে নামার বাজার সৈকতে সূর্যাস্ত দেখুন।
চৌধুরী খাল, কবিরাজের চর ও কেওড়া বন:
ভোরে বা বিকেলে ট্রলার নিয়ে চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চরে হরিণ ও মহিষের পাল দেখুন। দুপুরে জেলেপাড়া বা নামার বাজারে খাবার। বিকেলে কেওড়া ম্যানগ্রোভ বনে চুপচাপ হাঁটুন। রাতে তারাভরা আকাশ উপভোগ করুন।
সূর্যোদয় ও ঢাকা ফেরা:
ভোরে সূর্যোদয় দেখে তমরদ্দি ফিরুন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকের লঞ্চে উঠুন; সোমবার ভোরে সদরঘাট পৌঁছাবেন। ফেরার লঞ্চের সময় তমরদ্দি ঘাটে আগে নিশ্চিত করুন।
নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য নামার বাজারের অন্যতম পরিচিত জায়গা হলো অবকাশ পর্যটনের নিঝুম রিসোর্ট (Nijhum Resort)। ২০২৬ সালেও এটি চালু আছে বলে অনলাইন রিভিউ ও তালিকায় দেখা যায়। রুম ভাড়া আনুমানিক ১,৫০০–৩,৫০০ টাকা প্রতি রাত (রুম ক্যাটাগরি ও মৌসুম অনুযায়ী)। শীতকালে আগে বুকিং করুন। অফ সিজনে (প্রায় ১৫ এপ্রিল–৩০ সেপ্টেম্বর) ছাড় পাওয়া যেতে পারে—যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন। বিদ্যুৎ জেনারেটর ও সোলার প্যানেল নির্ভর; সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলে।
নিঝুম রিসোর্ট যোগাযোগ (যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন): অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা। মোবাইল নম্বরগুলো সময়ের সাথে বদলাতে পারে—বুকিংয়ের আগে ফোন করে নিশ্চিত করুন। বুকিং নম্বর: ০১৮২৬-৭১৮৮২০। দ্বীপের পুরনো যোগাযোগ নম্বর (সবুজ ভাই): ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪, ০১৮৪৫-৫৫৮৮৯৯, ০১৭৩৮-২৩০৬৫৫—এগুলোও যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
এখানকার স্থানীয় বাজারে খুব সস্তায় অল্প দামে চার পাঁচটি আবাসিক বোডিং আছে। তাছাড়া বন বিভাগের একটি চমৎকার বাংলো আছে। পাশেই আছে জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলো। এগুলোতে আগে ভাগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা যায়। তাছাড়া রেড-ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সাইক্লোন সেন্টারেও থাকার ব্যবস্থা করা যায়।
নিঝুম রিসোর্টে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। নামার বাজারে তেমন ভালো কোন খাবার হোটেল নেই। যেগুলো আছে সেগুলোতে খেতে পারেন, তবে আগেই কথা বলে নেবেন। এতে তাজা খাবার পাওয়া যাবে। মাছ-ভাত বা স্থানীয় থালা আনুমানিক ১০০–২৫০ টাকার মধ্যে পড়তে পারে (মৌসুম ও মেন্যু অনুযায়ী)।
লোকাল কিছু খাবারের হোটেল আছে। যেমন- হোটেল সি-বার্ড, দ্বীপ হোটেল এবং ভাই-ভাই হোটেল। এখানে আপনি মাছ, মুরগি,হাস, কাকড়া, শুটকি খেতে পারবেন। তবে ভালো মিষ্টি জাতীয় খাবার পাবেন না।
এছাড়া নিজেরাও বাজার করে রান্না করে খেতে পারেন। নিঝুম দ্বীপ থেকে ফেরার পথে এখানকার বিখ্যাত শুঁটকি কিনে নিতে পারেন।
নিঝুম দ্বীপ এ ক্যাম্পিং (Camping) এর সুবিধা প্রচুর। পুরো দ্বীপে আপনার পছন্দের জায়গায় তাঁবু টানাতে পারবেন। জন্তু জানোয়ারের তেমন কোনো ভয় নাই, শুধু বুনো মহিষ থেকে সাবধান। ক্যাম্পিং এর জন্যে সবচেয়ে ভালো যায়গা হলো নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট এর পাশের খাল পার হয়ে সাগর পাড়ের বিশাল (৫/৬ মাইল) খোলা মাঠটি। ক্যাম্পিং এর মোটামুটি সব কিছুই এখানে পাওয়া যাবে। তেমন কিছুই নেয়া লাগবে না। এরপরও যদি কিছু লাগে তাহলে জাহাজমারা বাজারে পাওয়া যাবে। স্থানীয়দের জানিয়ে দলবেঁধে ক্যাম্প করুন; উচ্চ জোয়ারের রেখার ওপরে তাঁবু টানান।
এছাড়াও নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান এলাকায় ক্যাম্পিং এর জন্যে তাবু ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া ঘোরার জন্যে ফাইবার বোটও ভাড়া পাওয়া যায় যার ধারন ক্ষমতা ৪০ জন।
যোগাযোগ (পুরনো নম্বর—যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন):
নামার বাজার ও বন্দরটিলা এলাকায় গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়; বনের ভেতর ও দূরের চরে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ নেই—রিসোর্ট ও দোকানে সৌরবিদ্যুৎ/জেনারেটর সীমিত সময় চলে।
লঞ্চের ডেকে গিয়ে চারজন মিলে থাকলে জনপ্রতি আনুমানিক ৪,০০০–৬,০০০ টাকা। কেবিন ও ভালো রিসোর্টে প্রায় ৭,০০০–১০,০০০ টাকা। এটা ২০২৫–২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব।
হ্যাঁ, তবে আগের মতো সহজে সব জায়গায় নয়। ভোরে বা বিকেলে চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চরে নৌকায় গেলে সম্ভাবনা বেশি। সংখ্যা কমেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সবচেয়ে সহজ: সদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে হাতিয়ার তমরদ্দি, তারপর মোটরসাইকেল ও খেয়া পেরিয়ে নামার বাজার। বিকল্প: বাসে সোনাপুর → চেয়ারম্যান ঘাট → সি-ট্রাকে নলচিরা → মোক্তারিয়া → নিঝুম দ্বীপ।
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। অক্টোবর–মার্চও যাওয়া যায়। বর্ষায় (জুন–সেপ্টেম্বর) নদী উত্তাল; সতর্ক সংকেত থাকলে যাবেন না।
জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ নেই; সোলার ও জেনারেটর সীমিত সময় চলে। বাজার এলাকায় গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক পাওয়া যায়। পাওয়ার ব্যাংক নিন।
২০২৬ সালের অনলাইন তালিকা ও রিভিউ অনুযায়ী নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট চালু আছে। ভাড়া ও ফোন নম্বর যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
হ্যাঁ। নামার বাজার সৈকতের কাছে তাঁবু টানানো জনপ্রিয়। স্থানীয়দের জানিয়ে দলবেঁধে থাকুন; বুনো মহিষ ও জোয়ার থেকে সাবধান।
Leave a Comment